Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

প্যাসিভ স্মোকিংয়ে ক্যানসার ঝুঁকিতে আমরা সবাই!

প্যাসিভ স্মোকিংয়ে ক্যানসার ঝুঁকিতে আমরা সবাই!
প্যাসিভ স্মোকিংয়ের ভয়াবহতা অনেক বেশি, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

হুট করেই সাবের খানের ক্যানসার ধরা পড়লো।

একেবারে থ্রোট ক্যানসার। সাবের খানের তো বটেই, এমন ঘটনায় পুরো পরিবারের মাথায় হাত। যে মানুষটা কোনদিন একবারের জন্যেও ধূমপান করেননি, কোনভাবেই তামাক গ্রহণ করেননি তার সাথে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে!

শুধু সাবের খান একা নন খুঁজলে ক্যানসার আক্রান্ত এমন অনেককেই পাওয়া যাবে যারা, জীবনেও ধূমপানের মতো বাজে অভ্যাসের আশেপাশে থাকেননি। অথচ জীবনের একটা পর্যায়ে এসে দেখা দিয়েছে ক্যানসারের মতো ভয়াল রোগের থাবা।

ভাগ্যের পরিহাসের নয়, সাবের সাহেব সেকেন্ডহ্যান্ড স্মোকিং তথা প্যাসিভ স্মোকিং এর শিকার।

কী এই প্যাসিভ স্মোকিং?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/10/1562758382657.jpg

ধূমপায়ীদের ধূমপানের ধোঁয়া নিঃশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করা হলো প্যাসিভ স্মোকিং তথা সেকেন্ডহ্যান্ড স্মোকিং। এই প্যাসিভ স্মোকিংয়ের মাধ্যমে একজন অধূমপায়ীও ফুসফুসের ক্যানসার, স্বরনালির (Larynx) ক্যানসার ও আপার থ্রোট (Pharynx) ক্যানসারের শিকার হতে পারেন। অর্থাৎ ধূমপায়ী শুধু নিজেকে নন, ক্যানসারের ঝুঁকিতে ফেলে দেন তার আশেপাশের সবাইকেও।

ক্যানসারের পাশাপাশি প্যাসিভ স্মোকিং ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমনারি ডিজিজ (COPD) নামক ফুসফুসের রোগ, স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ায়।

আরও একট বিষয়। নিশ্চয় খেয়াল করেছেন, ধূমপায়ীদের পরিধেয় পোশাক থেকে সিগারেটের উৎকট গন্ধ পাওয়া যায়। ধূমপায়ীদের পোশাকে শুধু এই গন্ধই নয়, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাবও রয়ে যায়। ধূমপানের সবচেয়ে বাজে ব্যাপারটি হলো, এটা খুব দ্রুতই অদৃশ্য হয়ে যায়। কিন্তু ধূমপায়ীর চারপাশে, তার ত্বকে, পোশাকে এর ক্ষতিকর প্রভাব রেখে যায়। যা থেকে ক্ষতি হতে পারে তার সংস্পর্শে আসা অধূমপায়ী ব্যক্তিদের।

প্যাসিভ স্মোকিংয়ের ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে কারা?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/10/1562758449465.jpg

ধূমপায়ীদের আশেপাশের সকলেই এর ঝুঁকিতে থাকে। একদম শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ সকলেই প্যাসিভ স্মোকিং এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে থাকে শিশুরা।

হামাগুড়ি দিতে পারে এমন শিশুদের শরীরে খুব সহজেই ধূমপানের নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার শুরু করে এবং ক্ষতিকর উপাদান শোষিত হয়। প্যাসিভ স্মোকিং এর ভয়াবহতার ফলে শিশুদের মাঝে শ্বাসযন্ত্রের ইনফেকশন, শ্বাসকষ্ট, ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের পাশাপাশি সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রম (SIDS) বা কট (COT) ডেথ এর সম্ভবনাও বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ঘুমের মাঝে কোন নির্দিষ্ট কারণ ব্যতীত হুট করেই শিশুর মৃত্যু ঘটে।

কী ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দেয় প্যাসিভ স্মোকিংয়ের ফলে?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/10/1562758473027.jpg

একজন ধূমপায়ী যতখানি ক্যানসার তৈরিকারী উপাদানের সংস্পর্শে আসে, অধূমপায়ীও সমপরিমাণ ঝুঁকিতে থাকে। জেনে রাখুন, সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকিংয়কে Class-A Carcinogen (ক্যানসার তৈরিকারী উপাদান) হিসেবে ধরা হয়। কোনভাবেই এই বিষয়টি নিরাপত্তার সীমানায় আসবে না। এখানে প্যাসিভ স্মোকিংয়ের কয়েকটি স্বাস্থ্যহানীর বিষয় তুলে ধরা হলো।

ফুসফুসের ক্যানসার

স্বাভাবিকভাবেই প্যাসিভ স্মোকিংয়ের প্রধান ফলাফল হিসেবে আসবে ফুসফুসের ক্যানসার। ধূমপায়ী ব্যক্তির সাথে বসবাস করা অঅধূমপায়ীর ফুসফুসের ক্যানসার দেখা দেওয়ার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায় ২০-৩০ শতাংশ।

অন্যান্য ক্যানসার

প্যাসিভ স্মোকিংয়ের ফলে ফুসফুসের ক্যানসারের পাশাপাশি নেক ক্যানসার, ব্লাডার ক্যানসার, কিডনি ক্যানসার, খাদ্যনালীর ক্যানসার, পরিপাকতন্ত্রের ক্যানসার এবং Acute Myelogenous Leukemia (AML) দেখা দেওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়। ২০১৮ সালের একটি গবেষণা জানাচ্ছে, চীনে সার্ভিক্যাল ক্যানসার দেখা দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে প্যাসিভ স্মোকিংকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

হৃদরোগের সম্ভবনা

শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতি বছর প্যাসিভ স্মোকিং থেকে হৃদরোগের ফলে মারা যান ৩৪,০০০ জন এবং স্ট্রোকের ফলে মারা যান ৮০০০ জন। সময়ের সাথে যে সংখ্যাটি বৃদ্ধি পাচ্ছে সমানভাবেই। প্যাসিভ স্মোকিং হৃদরোগের ঝুঁকি ২৫-৩০ শতাংশ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি ২০-৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/10/1562758502658.jpg

গর্ভকালীন জটিলতা

গর্ভাবস্থায় প্যাসিভ স্মোকিংয়ের ফলে মিসক্যারেজ, স্টিলবার্থ ও স্বল্প ওজনের শিশু জন্ম নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। এছাড়া ধূমপায়ী বাবা, ধূমপায়ী মা ও প্যাসিভ স্মোকিং মায়ের ফলে গর্ভস্থ শিশুর হৃদরোগের সম্ভবনা তৈরি হয়।

দেখা দেয় বিষণ্ণতা

অনেকেই হয়তো এই বিষয়টি সম্পর্কে একেবারেই অবগত নন। কিন্তু চলতি বছরের একটি বিষদ গবেষণার তথ্য বলছে, সেকেন্ডহ্যান্ড স্মোকিংয়ের ফলে ৫৭ শতাংশ ক্ষেত্রে বিষণ্ণতা তৈরি হয়।

এখানে তো গুটি কয়েক ক্ষতিকর দিকের কথা তুলে ধরা হলো। আদতে প্যাসিভ স্মোকিংয়ের ক্ষতির মাত্রা আরও অনেক বেশি। যার সবচেয়ে চূড়ান্ত ও ভয়াবহ রূপ হলো ক্যানসার দেখা দেওয়া।

তাই প্রথমেই ধূমপায়ীদের নিজ থেকে সতর্ক হতে হবে। সচেতন হতে হবে। নিজের পরিবারের মানুষদের সুস্বাস্থ্যে কথা বিবেচনা করে হলেও, এই বাজে অভ্যাসটি ত্যাগ করতে হবে। নতুবা নিজের সাথে সাথে প্রিয় মানুষদেরও স্বাস্থ্য ঝুঁকির মাঝে পরে যাবে খুব সহজেই।

আরও পড়ুন: ধূমপানে অন্ধত্ব!

আরও পড়ুন: দীর্ঘায়ু পেতে এড়াতে হবে ৮ খাবার

আপনার মতামত লিখুন :

ভিন্ন স্বাদে নারিকেল-ভ্যানিলা আইসক্রিম

ভিন্ন স্বাদে নারিকেল-ভ্যানিলা আইসক্রিম
নারিকেল-ভ্যানিলা আইসক্রিম, ছবি: সংগৃহীত

আইসক্রিমের মাঝে ভ্যানিলা ফ্লেভারটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ও প্রচলিত। একদম সাদামাটা ভ্যানিলা ফ্লেভারের মাঝে টুইস্ট আনতে চাইলে এভারে যোগ করতে পারেন নারিকেলের ফ্লেভার। ভ্যানিলার সাথে নারিকেলের ফ্লেভারের সংমিশ্রণে ঘরে তৈরি আইসক্রিম খুব সহজেই এই গরমে রিফ্রেশিং ভাব তৈরি করবে।

নারিকেল-ভ্যানিলা আইসক্রিম তৈরিতে যা লাগবে

১. দুই কাপ নারিকেল দুধ।

২. দুই কাপ পনির।

৩. আধা কাপ চিনি।

৪. ১/৪ কাপ নারিকেল কুঁচি।

৫. দুই টেবিল চামচ নারিকেল কুঁচি ভাজা।

৬. দুই চা চামচ ভ্যানিলা এসেন্স।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563804441997.JPG

নারিকেল-ভ্যানিলা আইসক্রিম যেভাবে তৈরি করতে হবে

১. একটি পাত্রে নারিকেল দুধ, চিনি, ও পনির কুঁচি একসাথে ভালোভাবে হুইস্ক তথা ফেটাতে হবে। সকল উপাদান মিশে ঘন ক্রিমি মিশ্রণ তৈরি হবে।

২. ক্রিমি মিশ্রণে ভ্যানিলাক এসেন্স যোগ করে পুনরায় মিনিট পাঁচেকের জন্য মিশ্রণটি হুইস্ক করতে হবে। এতে করে পুরো মিশ্রণে ভ্যানিলা এসেন্স মিশে যাবে।

৩. মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে বাটিতে ঢেলে ডিপ ফ্রিজে তিন ঘণ্টার জন্য রেখে দিতে হবে। তিন ঘণ্টা পর ফ্রিজ থেকে বের করে এতে নারিকেলের কুঁচি মিশিয়ে পুনরায় ডিপ ফ্রিজে রেখে দিতে হবে সারারাতের জন্য।

পরদিন ফ্রিজ থেকে জমাটবাধা নারিকেল-ভ্যানিলা আইসক্রিম বের করে উপরে নারিকেল কুঁচি ভাজা ছড়িয়ে দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: চার উপাদানে খেজুর গুড়ের আইসক্রিম

আরও পড়ুন: এই গরমে আমের লাচ্ছি

দুই মিনিটে চোখের সাজ!

দুই মিনিটে চোখের সাজ!
সহজ নিয়মে অল্প সময়েই সাজিয়ে নেওয়া যাবে চোখকে, ছবি: সংগৃহীত

মুখের মাধুর্যের মাঝে চোখ জোড়া সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়।

আর তাইতো সাজের মাঝে চোখের সাজটাই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। বড় ধরনের কোন অনুষ্ঠান হোক কিংবা সাধারণ ক্লাস, শপিং কিংবা অফিসের জন্য বের হওয়া হোক, চোখে কাজল বা আইলাইনারের প্রলেপ থাকা চাই-ই চাই। আইলাইনের চাইতেও কাজলের চাহিদা ও ব্যবহার অনেক বেশি। কাজল ব্যবহারেই চোখের সাজের পরিপূর্ণতা প্রকাশ পায়।

কাজল ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্যাটস আই স্টাইলটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। ড্রামাটিক ঘরানার এই স্টাইলে যেন চোখের সৌন্দর্যটি আরও ভালোভাবে ফুটে ওঠে। কিন্তু সমস্যা হলো সময়ে!

ক্যাটস আই স্টাইলে কাজল দেওয়ার জন্য হাতে বেশ অনেকখানি সময় রাখা প্রয়োজন হয়। ফলে নিত্যদিন বাইরে বের হওয়ার আগে সময় করে কাজল দেওয়া হয়ে ওঠে না। কিন্তু চোখ একেবারেই কাজলবিহীন রাখতে না চাইলে সহজ সমাধানও রয়েছে। যার জন্য ব্যয় হবে মাত্র দুই মিনিট।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563797724291.jpg

দুই মিনিটের ভেতর চোখে কাজল দিতে চাইলে চোখের পাতার উপরে নয়, দিতে হবে চোখের পাতার নিচের অংশে, যেখানে চোখের পাপড়িগুলোর মূল থাকে। চোখের পাতা আঙ্গুলের সাহায্যে কিছুটা টেনে ধরে কাজলের তীক্ষ্ণ অংশটি পাতার নিচের অংশে টেনে দিতে হবে। একইভাবে চোখের নিচের পাতাতেও পাতার ভেতরের অংশতে কাজল দিতে হবে।

এতে করে চোখ আগের চাইতে অনেক বেশি ওয়েল ডিফাইন্ডড বা আঁকানো মনে হবে। এবারে কাজলের সাহায্যে চোখের উপরের পাপড়ির একদম শেষ অংশে কিছুটা টেনে নিতে হবে। এতে করে চোখ বড় ও টানটান মনে হবে।

এভাবে কাজল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই যত্নশীল ও সতর্ক হতে হবে। চোখে যেন আজলের খোঁচা না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া ভালোমানের কাজল ব্যতীত সস্তা কাজল ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: পারফেক্ট সাজে আকর্ষণীয় আপনি!

আরও পড়ুন: গুছিয়ে রাখুন মেকআপ সামগ্রী

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র