Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

প্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় ‘ভেগান’

প্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় ‘ভেগান’
ভেগান খাদ্যাভ্যাসে রক্ষা পাবে প্রাণী ও পরিবেশ, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

একদিকে অনেকের যেমন প্রতিবেলায় মাছ কিংবা মাংস ছাড়া খাওয়া হয় না,

অন্যদিকে অনেকেই মাছ-মাংস একেবারেই এড়িয়ে চলেন। নিরামিষাশী বা ভেজিটেরিয়ান মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। দেশের বাইরে তো বটেই, দেশের ভেতরে ইদানিং নিরামিষাশী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আমাদের দেশে ভেজিটেরিয়ান হওয়ার ধারণাটা খুব বেশিদিনের পুরনো নয়। সেক্ষেত্রে বলতেই হয়, 'ভেগানিজম’ (Veganism) বা ‘ভেগান’ (Vegan) হওয়ার ধারণাটি একেবারেই নতুন। আমাদের দেশে খুঁজলে ভেগান মানুষ পাওয়া যাবে হাতে গুণে কয়েকজন। বেশিরভাগই নিরামিষাশী তথা ভেজিটেরিয়ান।

কারা ভেগান?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/08/1562569155509.jpg

ভেজিটেরিয়ানরা মাছ ও মাংস গ্রহণ করেন না। তবে দুধ, দুগ্ধজাত খাদ্য, ডিম, মধু প্রভৃতি গ্রহণ করেন। এদিকে ভেগান ব্যক্তিরা প্রাণী ও প্রাণীজাত কোন ধরনের খাদ্যদ্রব্যই গ্রহণ করেন না। সম্পূর্ণভাবে উদ্ভিজ খাদ্য উপাদান তথা ‘প্ল্যান্ট বেজড ফুড’ এর উপরে নির্ভরশীল ভেগান ব্যক্তিরা।

মধু, দুধ, ডিম সকলই ভেগান ডায়েটের বহির্ভূত। শুধু খাদ্য উপাদান নয়, ভেগানদের লাইফস্টাইলের ভেতরেও প্রাণীজাত কোন পণ্য থাকে না। তারা প্রাণীর চামড়া থেকে তৈরি পোশাক, ব্যাগ, অনুষঙ্গ, মেকআপ পণ্য ব্যবহার করেন না।

গবেষকেরা জানাচ্ছেন, শুধুমাত্র গ্রেট ব্রিটেনে ২০০৬ সালে ভেগান ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ১৫০,০০০ জন। যা ২০১৬ সাল নাগাদ এসে দাঁড়িয়েছে ৫৪০,০০০ জনে!

ভেগানিজম কেন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে?

পাশ্চাত্যে ভেগান মানুষের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই বলা যায়, বাড়ছে এই ধারণার জনপ্রিয়তাও। শুধুমাত্র সাধারণ মানুষ নন, সেলেব্রেটিরাও ভেগান হচ্ছেন এবং প্রকাশ্যে জানাচ্ছে তাদের ভেগান জীবনের খুঁটিনাটি সম্পর্কে।

পরিচিত টেনিস তারকা ভেনাস উইলিয়ামস থেকে শুরু করে হাল সময়ে জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী আরিয়ানা গ্র্যান্ডে ও মাইলি সাইরাসও ভেগান এবং তারা এই বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে খোলাখুলিভাবে কথা বলেন। হাজারো মানুষের প্রিয় তারকা যখন কোন একটি খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথা বলবে, তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করবে- স্বাভাবিকভাবেই তার প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/08/1562568782656.jpg

এমনকি বিগত কয়েক বছরে সাধারণ রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে ও সংখ্যায় বৃদ্ধি পাচ্ছে ভেগান রেস্টুরেন্ট। যেনতেন কোন রেস্টুরেন্ট নয়, কেএফসির মতো বিশ্বব্যাপী সমাদৃত চেইন রেস্টুরেন্ট চলতি বছরের জুনে মার্কিন যুক্তরাজ্যে ভেগান বার্গার এনেছে তাদের মেন্যুতে।

কেন মানুষ ভেগান হচ্ছে?

সম্পূর্ণ ভেগান হয়ে যাওয়ার পেছনে মূলত বেশ কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে। তার মাঝে প্রধান কয়েকটি কারণ এখানে জানানো হলো।

প্রাণীর প্রতি নির্মমতা

কিছু ব্যক্তিরা ভেগান হয়ে যাচ্ছেন প্রাণীকে ভালোবাসেন বলে ও প্রাণীর প্রতি নির্মমতা বন্ধ করতে। ভেগানরা শুধু প্রাণীদের খাওয়ার বিষয়েই নয়, তাদের কাছ থেকে ডিম ও দুধ পাওয়ার জন্য যেভাবে তাদের ব্যবহার করে বড় বড় ফ্যাক্টরি ও ফার্মগুলো, সেটার বিষয়েও আলোকপাত করে থাকে।

পরিবেশের ক্ষতি

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/08/1562568892351.jpg

ভেগানরা দাবি করেন, ফার্মের গরু থেকে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হয়। সেটা কীভাবে? ফার্মে কৃত্রিম পদ্ধতিতে স্বাভাবিকের চাইতে অনেক বেশি গরু উৎপাদন করা হয়। এক একটি গরু থেকে প্রায় ৪০০ লিটার বোতল পরিমাণ মিথেন গ্যাস নিঃসৃত হয়। যা পরিবেশের উপরে ক্ষতিকর প্রভাব তৈরি করছে। স্বাভাবিক মাত্রায় গরু যদি প্রকৃতিতে থাকতো, তবে তাদের থেকে নিঃসৃত মিথেন গ্যাস প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো, বাড়তি চাপ তৈরি করতো না। এছাড়া ফার্ম ও ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করার জন্য বড় বড় স্থানে স্থাপনা তৈরি করতে হচ্ছে। যেটা পরিবেশের উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দিচ্ছে।

স্বাস্থ্যগত কারণ

বেশকিছু ভেগান ব্যক্তিরা জানিয়েছে, স্বাস্থ্যগত কারণে তারা মাংস খাওয়া পরিহার করেছেন। যদিও কিছু ভেগানরা নির্দিষ্ট খাদ্য উপাদান থেকে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়ার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

তবে এমন সন্দেহের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ ডায়েটিক অ্যাসোসিয়েশনের পুষ্টিবিদেরা জানিয়েছেন, ব্যালেন্সড ভেগান ডায়েট মেনে চলা সম্ভব শিশু ও বয়স্কদের। উদ্ভিজ খাদ্য উপাদান থেকেই শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সময় পুষ্টি উপাদান যথাযথভাবে পাওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন: নকল মাংসে তৈরি পিৎজা!

আরও পড়ুন: কোন দেশে কী খেয়ে দিন শুরু হয়

আপনার মতামত লিখুন :

ভিন্ন স্বাদে নারিকেল-ভ্যানিলা আইসক্রিম

ভিন্ন স্বাদে নারিকেল-ভ্যানিলা আইসক্রিম
নারিকেল-ভ্যানিলা আইসক্রিম, ছবি: সংগৃহীত

আইসক্রিমের মাঝে ভ্যানিলা ফ্লেভারটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ও প্রচলিত। একদম সাদামাটা ভ্যানিলা ফ্লেভারের মাঝে টুইস্ট আনতে চাইলে এভারে যোগ করতে পারেন নারিকেলের ফ্লেভার। ভ্যানিলার সাথে নারিকেলের ফ্লেভারের সংমিশ্রণে ঘরে তৈরি আইসক্রিম খুব সহজেই এই গরমে রিফ্রেশিং ভাব তৈরি করবে।

নারিকেল-ভ্যানিলা আইসক্রিম তৈরিতে যা লাগবে

১. দুই কাপ নারিকেল দুধ।

২. দুই কাপ পনির।

৩. আধা কাপ চিনি।

৪. ১/৪ কাপ নারিকেল কুঁচি।

৫. দুই টেবিল চামচ নারিকেল কুঁচি ভাজা।

৬. দুই চা চামচ ভ্যানিলা এসেন্স।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563804441997.JPG

নারিকেল-ভ্যানিলা আইসক্রিম যেভাবে তৈরি করতে হবে

১. একটি পাত্রে নারিকেল দুধ, চিনি, ও পনির কুঁচি একসাথে ভালোভাবে হুইস্ক তথা ফেটাতে হবে। সকল উপাদান মিশে ঘন ক্রিমি মিশ্রণ তৈরি হবে।

২. ক্রিমি মিশ্রণে ভ্যানিলাক এসেন্স যোগ করে পুনরায় মিনিট পাঁচেকের জন্য মিশ্রণটি হুইস্ক করতে হবে। এতে করে পুরো মিশ্রণে ভ্যানিলা এসেন্স মিশে যাবে।

৩. মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে বাটিতে ঢেলে ডিপ ফ্রিজে তিন ঘণ্টার জন্য রেখে দিতে হবে। তিন ঘণ্টা পর ফ্রিজ থেকে বের করে এতে নারিকেলের কুঁচি মিশিয়ে পুনরায় ডিপ ফ্রিজে রেখে দিতে হবে সারারাতের জন্য।

পরদিন ফ্রিজ থেকে জমাটবাধা নারিকেল-ভ্যানিলা আইসক্রিম বের করে উপরে নারিকেল কুঁচি ভাজা ছড়িয়ে দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: চার উপাদানে খেজুর গুড়ের আইসক্রিম

আরও পড়ুন: এই গরমে আমের লাচ্ছি

দুই মিনিটে চোখের সাজ!

দুই মিনিটে চোখের সাজ!
সহজ নিয়মে অল্প সময়েই সাজিয়ে নেওয়া যাবে চোখকে, ছবি: সংগৃহীত

মুখের মাধুর্যের মাঝে চোখ জোড়া সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়।

আর তাইতো সাজের মাঝে চোখের সাজটাই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। বড় ধরনের কোন অনুষ্ঠান হোক কিংবা সাধারণ ক্লাস, শপিং কিংবা অফিসের জন্য বের হওয়া হোক, চোখে কাজল বা আইলাইনারের প্রলেপ থাকা চাই-ই চাই। আইলাইনের চাইতেও কাজলের চাহিদা ও ব্যবহার অনেক বেশি। কাজল ব্যবহারেই চোখের সাজের পরিপূর্ণতা প্রকাশ পায়।

কাজল ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্যাটস আই স্টাইলটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। ড্রামাটিক ঘরানার এই স্টাইলে যেন চোখের সৌন্দর্যটি আরও ভালোভাবে ফুটে ওঠে। কিন্তু সমস্যা হলো সময়ে!

ক্যাটস আই স্টাইলে কাজল দেওয়ার জন্য হাতে বেশ অনেকখানি সময় রাখা প্রয়োজন হয়। ফলে নিত্যদিন বাইরে বের হওয়ার আগে সময় করে কাজল দেওয়া হয়ে ওঠে না। কিন্তু চোখ একেবারেই কাজলবিহীন রাখতে না চাইলে সহজ সমাধানও রয়েছে। যার জন্য ব্যয় হবে মাত্র দুই মিনিট।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563797724291.jpg

দুই মিনিটের ভেতর চোখে কাজল দিতে চাইলে চোখের পাতার উপরে নয়, দিতে হবে চোখের পাতার নিচের অংশে, যেখানে চোখের পাপড়িগুলোর মূল থাকে। চোখের পাতা আঙ্গুলের সাহায্যে কিছুটা টেনে ধরে কাজলের তীক্ষ্ণ অংশটি পাতার নিচের অংশে টেনে দিতে হবে। একইভাবে চোখের নিচের পাতাতেও পাতার ভেতরের অংশতে কাজল দিতে হবে।

এতে করে চোখ আগের চাইতে অনেক বেশি ওয়েল ডিফাইন্ডড বা আঁকানো মনে হবে। এবারে কাজলের সাহায্যে চোখের উপরের পাপড়ির একদম শেষ অংশে কিছুটা টেনে নিতে হবে। এতে করে চোখ বড় ও টানটান মনে হবে।

এভাবে কাজল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই যত্নশীল ও সতর্ক হতে হবে। চোখে যেন আজলের খোঁচা না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া ভালোমানের কাজল ব্যতীত সস্তা কাজল ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: পারফেক্ট সাজে আকর্ষণীয় আপনি!

আরও পড়ুন: গুছিয়ে রাখুন মেকআপ সামগ্রী

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র