Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

খাবার খাওয়ার পরে চা পান: ভালো নাকি খারাপ?

খাবার খাওয়ার পরে চা পান: ভালো নাকি খারাপ?
খাবার খাওয়ার পর চা পানের অভ্যাস থাকে অনেকের, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

চা প্রেমীদের কাছে চায়ের চাইতে প্রিয় পানীয় আর কিছুই হতে পারে না।

ধোঁয়াওঠা গরম এক কাপ পছন্দনীয় চায়ের সাথেই যত সখ্যতা। মন খারাপে, আনন্দে, পারিবারিক মিলনে, বন্ধুদের আড্ডায় চা না হলে অপরিপূর্ণ থাকে পুরো আয়োজন।

এদিকে যাদের চা পানের প্রতি আসক্তি রয়েছে, প্রতিবেলা খাবার খাওয়ার পরেই চায়ের প্রয়োজন হয় তাদের। এমন অনেকেই আছেন, সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের ভরপেট খাওয়ার পরপরই চা পান করেন। এই অভ্যাসটি বহু আগে থেকেই চালু হয়ে আসছে অনেকের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে। কিন্তু এই অভ্যাসটি সম্পর্কে কোন প্রশ্ন কি কখনো মাথায় এসেছে?

আদৌ এই অভ্যাসটি স্বাস্থ্যকর কি? খাবার খাওয়ার পরপরই গরম চা পানে কোন স্বাস্থ্যগত ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা আছে কি? এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা উঠে আসবে আজকের এই ফিচারে।

কিছু গবেষণার ফল জানাচ্ছে, খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর গ্রিন টি পান করা ভালো অভ্যাস। ভরপেট খাবার খাওয়ার পর উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও পলিফেনলযুক্ত গ্রিন টি পানের ইতিবাচক দিকগুলো জেনে নিন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/22/1561195154842.jpg

১. খাবার খাওয়ার পর হারবাল চা অথবা গ্রিন টি অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। কারণ এই চা খাদ্য পরিপাকজনিত বেশ কিছু এনজাইম নিঃসরণ বৃদ্ধি করে। যার মাঝে রয়েছে- গ্যাস্ট্রিক রস, স্যালাইভা ইত্যাদি।

২. গ্রিন টিতে থাকা পলিফেনলিক উপাদান পেপসিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। পেপসিনের বৃদ্ধি ডায়েটারি প্রোটিন ভাঙার ক্ষেত্রে উপকারী ভূমিকা পালন করে।

৩. বেশ কিছু জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রিন টিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট খাদ্য পরিপাকের সাথে সংযুক্ত। এমনকি, খাদ্য পরিপাকের ক্ষেত্রে গ্রিন টিকে উত্তম উপাদান হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। ইন্টেসটাইনাল গ্যাস ও বাওয়েল সিনড্রোম (পেটের সমস্যা) দূর করতেও গ্রিন টি উপকারী।

৪. হারবাল চা অথবা গ্রিন টি গ্রহণকৃত খাদ্যের পুষ্টিগুণ শরীরে ভালোভাবে শোষিত হতে সাহায্য করে।

এবারে আসা যাক আসল কথা। বেশিরভাগ মানুষ হারবাল চা বা গ্রিন টি পান করতে পছন্দ করেন না। চা মানেই হলো দুধ চা অথবা রঙ চা। এক্ষেত্রে জেনে নিন খাবার খাওয়ার পর এই চা পানে কি ধরণের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

চায়ে থাকা ট্যানিনের উপস্থিতি

এই সকল চায়ে ট্যানিন আয়রন, জিংক ও ক্যালসিয়ামের মতো মিনারেল শোষণের গতি ধীর করে দেয়। ফলে শরীরে এই সকল পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ট্যানিনের ফলে কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যাও দেখা দেয়।

চায়ে থাকা ক্যাফেইনের উপস্থিতি

চায়ে থাকা ক্যাফেইন সম্পর্কে নতুনভাবে আর বলার কিছু নেই। ক্যাফেইন ঘুমের সমস্যা ঘটায়, এটাও নতুন কোন তথ্য নয়। এছাড়া স্টমাক আলসারের সমস্যা বৃদ্ধি করে ক্যাফেইন। অন্যদিকে হার্টবিট রেইটও বৃদ্ধি করে এই উপাদানটি।

সকল আলোচনা শেষে বলা যেতে পারে, খাবার খাওয়ার কিছু সময় বাদে গ্রিন টি পান করা গেলেও, দুধ চা কিংবা রঙ চা পান করা থেকে বিরত থাকাই হবে উত্তম পন্থা।

আরও পড়ুন: বদহজমের জন্য দায়ী যে খাবারটি

আরও পড়ুন: আর নয় একই তেলে বারবার খাবার ভাজা

আপনার মতামত লিখুন :

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান
নান, ছবি: সংগৃহীত

সকাল কিংবা বিকালের নাশতায় যারা নিয়মিত রুটি ও পরোটা খান, একটা সময় পরে তাদের রুটিতে অভক্তি দেখা দেয়।

এ সময়ে রুটির বদলে গরম নান খেতে মনে চায়। ফোলা ও গরম নানের সাথে সবজি কিংবা মাংসের ঝোল যেন অমৃতসম।

এই নান কেনার জন্য এলাকার রেস্টুরেন্টে দৌড়ঝাঁপ না করে ঘরে বসে চুলাতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার গরমাগরম নান। দেখে নিন নান তৈরির রেসিপিটি।

নান তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623276721.JPG

১. ১/৪ কাপ দই।

২. এক চা চামচ চিনি।

৩. এক চা চামচ বেকিং পাউডার।

৪. এক চিমটি বেকিং সোডা।

৫. দুই কাপ ময়দা।

৬. এক চা চামচ লবণ।

৭. দুই টেবিল চামচ তেল।

৮. ১/৪-১/৩ কাপ পানি।

৯. এক টেবিল চামচ কালোজিরা।

১০. ঘি অথবা মাখন।

নান যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623263865.JPG

১. একটি পাত্রে দই, এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ বেকিং পাউডার ও এক চিমটি বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশাতে হবে।

২. এতে দুই কাপ ময়দা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রণের মাঝখানে দুই টেবিল চামচ তেল অ ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ময়দার কাই তৈরি করতে হবে। ময়দার কাই শক্ত হলে পানি ও নরম হলে ময়দা মেশাতে হবে।

৩. ময়দার কাইটি মসৃণ হয়ে আসলে তার উপরে তেল মাখিয়ে পাত্রের মাঝখানে রেখে তার উপরে ভেজা অ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দুই ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৪. দুই ঘণ্টা পর ময়দার কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে। বেলার সময় তার উপরে কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং রুটির মতো গোলাকৃতির না করে লম্বাটে করে নিতে হবে। চাইলে হাত দিয়ে টেনে লম্বাটে করে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623299530.JPG

৫. এবারে চুলায় তাওয়া গরম করে নান দিয়ে দিতে হবে। একপাশ কিছুটা ভাজা হলে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেবে। এমন হলে নান উল্টে দিয়ে অপর পাশ ভাজতে হবে। এ পাশেও ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দিলে আবারো উল্টে দিতে হবে।

তাওয়া থেকে নামানোর আগে নানের উপরে ঘি অ ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: ঘিয়ে তৈরি মুচমুচে নিমকি

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!
কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিটি কর্মজীবীকে দিনের সিংহভাগ সময় কাটাতে হয় নিজ কর্মক্ষেত্রে।

কাজের চাপ, ব্যস্ততা, ডেডলাইন, মিটিংসহ সবকিছুর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে ক্লান্তি দেখা দেয় একটা সময়। সময়মতো বিশ্রাম নিলে এই ক্লান্তিভাব খুব দ্রুত কেটেও যায়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়।

কর্মোদ্যম ফুরিয়ে গেলে শারীরিক ক্লান্তির সাথে মানসিক ক্লান্তি প্রভাব বিস্তার করে। কাজ, ব্যস্ততা, ছুটে চলা- সবকিছুকেই অর্থহীন বোধ হতে থাকে। অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয় জীবনে চলার পথে। এমন অবস্থা চলতে একটা সময় জীবনের উপরে বিরক্তিবোধ কাজ করা শুরু করে।

কর্মোদ্যম হারিয়ে যাওয়া বা দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বেশ কয়েকটি কারণে দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রফেশনাল প্রেসক্রিপশন ফর লাইফের কোচ সুসান বিয়ালি হাস এমডি। বিগত কয়েক বছর ধরে এ বিষয়ে কাজ করে এবং বহু মানুষকে কাউন্সেলিং করে তিনি বুঝতে পেরেছেন কর্মক্ষেত্রে কর্মোদ্যমতা হারানো শুরু হয় খুব ছোট কিছু থেকেই।

নির্দিষ্ট কোন একটি কারণ

ভিন্ন ভিন্ন কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চাপ থাকে, কাজের ধরণ থাকে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। কোচ সুসান জানাচ্ছেন মূলত ছয়টি কারণ কাজ করে এক্ষেত্রে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, নিয়ন্ত্রণের অভাব, অপর্যাপ্ত উপহার, কর্মক্ষেত্রে কমিউনিটি সংক্রান্ত সমস্যা, অন্যায্য/ অনৈতিক চর্চা, নৈতিকতার অমিল। এ বিষয়গুলো খুব ধীরে ধীরে কাজের উপর অনাগ্রহ তৈরি করে এবং কর্মোদ্যমতা নষ্ট করে দেয়।

আপনিও কর্মোদ্যম হারিয়ে ফেলেন তবে চেষ্টা করুন কারণটি খুঁজে বের করার। কোন কারণে এমনটা হচ্ছে সেটা শনাক্ত করতে পারলে সেটা সমাধানে কাজ করতে পারবেন।

অন্যের কাজ করা

স্বাভাবিকভাবেই অফিসে নিজের কাজের চাপ থাকে অনেক বেশি। সেখানে অন্যের কাজের বোঝাও যদি মাথায় এসে ভর করে তবে সেটা শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি করে অনেক বেশি। আপনিও যদি এমনটা করে থাকেন তবে এই অভ্যাসটি খুব দ্রুত পরিহার করতে হবে।

ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মাঝে দেয়াল না থাকা

অফিসের কাজ বাসাতে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোন বিশ্রাম হয় না। মাথার ভেতর সর্বদা কাজের বিষয়গুলো ঘুরঘুর করতে থাকে, যার ফলে প্রচণ্ড মানসিক অশান্তি ও অস্থিরতা দেখা দেয়।

সেক্ষেত্রে কোচ সুসান পরামর্শ দেন- যতই কাজের চাপ থাকুক না কেন বা কাজ শেষ করার তাড়া থাকুক না কেন, কোনভাবেই অফিসের কাজ বাসাতে আনা যাবে না। বাসায় বসেও অফিসের কাজ করা ও অফিসে থাকার মাঝে আদতে কোন পার্থক্য থাকে না। এতে করে পরদিন পুনরায় অফিসে গেলেও বিন্দুমাত্র কর্মোদ্যমতা পাওয়া যায় না।

নিজের যত্ন না নেওয়া

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য চব্বিশ ঘণ্টার মাঝে অন্ততপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম বাধ্যতামূলক। এর কম হলে শরীর ও মন জুড়ে অপরিসীম ক্লান্তি ভর করে। এছাড়া নিজের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি হেলাফেলা করা হয়, তার প্রভাব সরাসরি দেখা দেয় কাজের উপর। সারাদিন অফিসে ডেস্কে বসে থেকেও মাথা কাজ করবে না, কাজে মন বসবে না। সেক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, নিজের অযত্নও কর্মোদ্যম ফুরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

আরও পড়ুন: কর্মক্ষেত্রে দূরে থাকুক আত্ম-সন্দেহ

আরও পড়ুন: সমস্যাটি যখন কর্মক্ষেত্রে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র