Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

যোগব্যায়ামের সাথে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা

যোগব্যায়ামের সাথে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা
শরীর ও মন উভয়ই ভালো থাকবে যোগব্যায়ামে, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

আজ (২১ জুন) পুরো বিশ্ব জুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব যোগ দিবস।

আমাদের দেশে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় বিশ্ব যোগ দিবস পালন করলো ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে কয়েক হাজার মানুষের যোগব্যায়ামে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন হয়।

অনুষ্ঠানে শরীর, মন ও আত্মার জন্য যোগব্যায়ামের উপকারিতা তুলে ধরা হয়। জানানো হয় প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে তার ইতিবাচক প্রভাব।

অনেকেই প্রতিদিনের ব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে শরীরচর্চা করেন। তবে শরীরচর্চার পাশপাশি অথবা শুধু যোগব্যায়াম করার উপকারিতাগুলো জানা থাকলে, নিজ থেকেই আগ্রহী হওয়া যায় এর ব্যাপারে। আজকের ফিচারে তুলে ধরা হলো যোগব্যায়ামের অসাধারণ অনেকটি ইতিবাচক দিক।

রক্ত চলাচলের মাত্রা বৃদ্ধি করে

নিয়মিত যোগব্যায়াম করার ফলে রক্ত চলাচলের হার বৃদ্ধি পায় এবং নিয়মিত থাকে। প্রশান্তিদায়ক এই এক্সারসাইজের মাধ্যমে পুরো শরীর তো বটেই, হাত ও পায়ের রক্ত চলাচল উন্নত হয়। এছাড়া শারীরিক চলাচল ও যোগব্যায়ামের বিভিন্ন পজিশনের দরুন হার্টবিট বৃদ্ধি পায়। যা হৃদযন্ত্র থেকে রক্ত পাম্প করে পুরো শরীরে ছড়িয়ে দিতে বেশি কার্যকরি হয়।

বৃদ্ধি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

যোগব্যায়াম করার সময় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ কন্ট্র্যাক্ট ও স্ট্রেস করতে হয়। এতে করে পেশীতে শিথিলতা আসে। যা লিম্ফ (Lymph) এর নিঃসরণ বৃদ্ধিতে কাজ করে। লিম্ফ হল এক প্রকার তরল, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে। এই লিম্ফ ইনফেকশনের বিরুদ্ধে, ও শরীরের টক্সিক উপাদানের বিরুদ্ধে কাজ করে।

কমায় রক্তচাপের সমস্যা

যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাটি আছে, ওষুধ সেবনের চাইতেও ভালো ও দ্রুত ফল পাবেন নিয়মিত যোগব্যায়াম করলে। বিট্রিশ মেডিক্যাল জার্নাল দ্য ল্যানচেটে প্রকাশিত দুইটি ভিন্ন ভিন্ন গবেষণার ফল বলছে, প্রত্যহ শবাসন (ইয়োগার ধরণ) রক্ত চাপকে প্রশমিত করতে কাজ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/21/1561101759065.jpg

কমায় রক্তে চিনির মাত্রা

যোগব্যায়াম রক্তে চিনির মাত্রা ও খারাও কোলেস্টেরলের মাত্রা (LDL) কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরলের (HDL) মাত্রা বৃদ্ধি করে। পরীক্ষা থেকে দেখা গেছে, বেশ কয়েকভাবে রক্তে চিনির মাত্রা কমায় যোগব্যায়াম। যার মাঝে প্রধান হলো- কর্টিসল ও অ্যাড্রেলাইনের মাত্রা কমানোর মাধ্যমে রক্তে চিনির মাত্রা কমানো। এতে করে অনাকাঙ্ক্ষিত ওজনকেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।

সুরক্ষিত রাখে মেরুদণ্ডকে

আমাদের শরীরের হাড়ের মাঝে সবচেয়ে বেশি চাপ ও স্ট্রেসের মুখোমুখি হয় মেরুদণ্ড। যোগব্যায়ামের বেশ কিছু ভঙ্গীর জন্য শরীরকে বাঁকাতে হয়, ঝুঁকাতে হয় এবং সে অবস্থায় ধরে রাখতে হয়। যার প্রভাবে মেরুদণ্ড অনেকটাই সঠিক স্থানে চলে আসে এবং হাড় ও হাড়ের জয়েন্টগুলো মজবুত হয়।

মনোযোগ বৃদ্ধি করে

যোগব্যায়ামের সবচেয়ে জরুরি ও প্রধান উপাদান হলো- বর্তমানে মনোযোগ নিবন্ধ করা। গবেষণা জানাচ্ছে, নিয়মিত যোগব্যায়ামের চর্চা স্মৃতিশক্তি, সময়ের প্রতিফলন, সমন্বয়ের সাথে জ্ঞানীয় বুদ্ধিবৃত্তি বৃদ্ধিতেও অবদান রাখে।

মন ভালো ও প্রফুল্ল রাখে

যোগব্যায়ামের প্রভাবে শুধু শারীরিক সুস্থতায় নয়, মানসিক সুস্থতাও পাওয়া যায়। ভালোভাবে বললে, যোগব্যায়ামের ফলে শরীরের ছোট-বড় অসুস্থতা যেমন দূর হয়, তেমনিভাবে দূর হয় মানসিক অশান্তি, অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা অবসন্নতা। ফিরে আসে স্থিরতা। এই মানসিক স্থির ভাব মন থেকে বিষণ্ণতাকে ফেলে দেয়। যা মনকে প্রফুল্লও আনন্দিত রাখতে কাজ করে।

আরও পড়ুন: সাত উপকারিতার এক যোগাসন

আপনার মতামত লিখুন :

ভালো হয়নি পরীক্ষার ফল!

ভালো হয়নি পরীক্ষার ফল!
আশানুরূপ ফল না হলে ভেঙে পড়া যাবে না, ছবি: সুমন শেখ

পরীক্ষা, পরীক্ষার ফল, সিজিপিএ- এই শব্দগুলো সবসময়ই মনের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।

প্রস্তুতি যতই ভালো থাকুক না কেন, ঠিকই মনের মধ্যে খুঁতখুঁত করে, অশান্তি বোধ হয়। ব্যাপারটাই এমন অশান্তিদায়ক যে!

কিন্তু যতই এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হোক না কেন, নিয়মমাফিক ঠিক সময়ে পরীক্ষাও হবে, পরীক্ষার ফলাফলও বের হবে। নিজেকে শুধু পরীক্ষার জন্যে নয়, ফলাফল গ্রহণের জন্যেও প্রস্তুত করা প্রয়োজন। বলা যেতে পারে, এটাও পড়ালেখা ও পরীক্ষার মতো অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়।

ভালো ফলাফল সবার কাম্য হলেও ব্যতিক্রম ঘটনাও থাকে। আশানুরূপ ফল যতটা ভালোলাগা ও আনন্দ নিয়ে আসে, আশানুরূপ ফল না হলে তার চেয়ে বেশি হতাশা ও মনঃকষ্ট তৈরি করে। কিন্তু সবার আগে একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, এই ফলাফলেই সবকিছু থেমে যাবে না।

ফলাফল যদি আশানুরূপ না হয় সেক্ষেত্রে ভেঙে পড়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই বাজে সময়টাতে কিছু ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন ভবিষ্যৎ সময়ে উঠে দাঁড়ানোর জন্য।

নিজেকে শান্ত রাখা

ফলাফল যেমনই বা যতটাই খারাপ হোক না কেন, নিজেকে শান্ত রাখতে হবে অবশ্যই। স্বাভাবিকভাবে এ সময়ে একসাথে অনেক ধরনের অনুভূতি কাজ করবে, অশান্তি ও অস্থিরতা চরমে থাকবে। কিন্তু কোন কিছুই তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই ফলাফল গ্রহণের পর নিজেকে শান্ত রাখাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের মতো কাজ।

অন্যের ফলের সাথে তুলনা থেকে বিরত থাকা

ভুলেও এই কাজটি করা যাবে না। অন্ততপক্ষে ফলাফল গ্রহণের পর থেকে বেশ কিছুদিনের জন্য। এতে করে শুধু মানসিক চাপই বৃদ্ধি পাবে। সহপাঠীদের সাথে ফলাফল তুলনা ও বিশ্লেষণ করা খুবই সাধারণ একটি কাজ। কিন্তু নিজের মনমতো ফলাফল না হলে সেক্ষেত্রে এ কাজটি থেকে বিরত থাকাই ভালো হবে।

কারো সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করা

পরীক্ষা, পরীক্ষার ফলাফল, নিজের প্রত্যাশা- সবকিছু নিয়ে খোলাখুলিভাবে কারোর সাথে আলোচনা করতে পারলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যাবে। সেটা হতে পারে সহপাঠী, বন্ধু, বড় ভাই-বোন অথবা পরিবারের কেউ। তবে এমন কারো সাথে আলোচনা করতে হবে, যে অহেতুক ব্যঙ্গ না করে আপনার মানসিক অবস্থা বুঝে আপনাকে ভালো ও কার্যকর পরামর্শ দিতে পারবে।

নিজেকে নিজের সময় দেওয়া

ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলে বিষাদগ্রস্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। এ সময়ে যদি কারোর সঙ্গ ভালো না লাগে তবে একেবারে নিজের মতো করে সময় কাটালে উপকার হবে। প্রয়োজনে সামাজিক মাধ্যমগুলো থেকেও সাময়িক সময়ের জন্য দূরে থাকতে হবে। একান্তে নিজের মতো কিছু সময় কাটাতে পারলে নিজের সার্বিক পরিস্থিতি ভালোভাবে বোঝা যাবে।

পরবর্তী করণীয় নিয়ে পরিকল্পনা

একান্তে নিজের মতো সময় কাটানোর মাঝে মনের মাঝে ছক কেটে ফেলা যায় কি করা যেতে পারে পরবর্তী সময়ে। কারণ এই ফলাফলেই সবকিছুর শেষ নয়। বরং এখান থেকেই শুরু হবে বড় ধরনের যুদ্ধ ও প্রস্ততি।

বাবা-মায়ের সাথে আলোচনা করা

অপ্রত্যাশিত ফলাফলে শুধু নিজের নয়, সাথে বাবা-মায়েরও মন খারাপ হয়। তাদের সাথে সরাসরি এ বিষয় নিয়ে কথা বললে, আলোচনা করলে ইতিবাচক কোন দিক পাওয়া যাবে। অবশ্যই তাদের অভিজ্ঞতার ঝুলি ভারি। তাই তাদের পরামর্শ গ্রহণ করলেও উপকার পাওয়া যাবে।

তবে সব কিছুর শেষে একটা বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে, নিজেকে শক্ত রাখতে পারলেই উত্তরণ করা যাবে এই পরিস্থিতি থেকে।

আরও পড়ুন: মন ভালো হবে মুহূর্তেই!

রান্নাতে সুস্থ মস্তিষ্ক!

রান্নাতে সুস্থ মস্তিষ্ক!
প্রিয় খাবার রান্না শুধু মন নয়, ভালো রাখবে মস্তিষ্ককেও, ছবি: সংগৃহীত

আমাদের শরীরে অন্যান্য পেশীর মতো মস্তিষ্কও একইভাবে কাজ করে।

যে কারণে মস্তিষ্কের সুস্থতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে, প্রয়োজন হবে তাকে নিয়ে কাজ করা বা তাকে কাজ করানো। বেশ কয়েক ধরনের উপায় মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা যায়, যার মাঝে নিত্যদিনের রান্নাবান্নাও রয়েছে। আনন্দ নিয়ে প্রিয় খাবারটি রান্না করাও এক ধরনের মস্তিষ্কের ব্যায়ামের অন্তর্ভুক্ত!

তবে রান্নাবান্নাতে আগ্রহ না থাকলেও সমস্যা নেই, এর সাথে আরও কয়েক ধরনের ভিন্নমাত্রিক কার্যক্রম মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।  

বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখুন

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563339636913.jpg

ব্যস্ততার মাঝেও সময় করে নির্দিষ্ট কোন একটি বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখার ক্লাসে ভর্তি হয়ে যান। যেটা হতে পারে গিটার, বাঁশি অথবা পিয়ানো। বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখার মাধ্যমে মন প্রফুল্ল হয় ও মস্তিষ্কের উপর ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়।

মনে মনে অংক করুন

কিছু সময় ক্যালকুলেটরকে সরিয়ে নিজ মনে হিসাবনিকাশ সেরে নিতে হবে। মন বলতে বোঝানো হচ্ছে মাথা। ছোটখাটো যোগ-বিয়োগের ক্ষেত্রে নিজে নিজেই হিসাবগুলো করে নিতে হবে। যা মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম রাখতে ও দ্রুত কাজ করতে সাহায্য করে।

অতীতের কোন ঘটনা মনে করার চেষ্টা করুন

আগেকার সময়ে ঘটে যাওয়া ভালো ও আনন্দদায়ক কোন ঘটনার স্মৃতিচারণ মনকে ভালোই করবে না, সাথে মস্তিষ্কের চর্চাতেও ভূমিকা রাখবে। স্মৃতি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটির ফলে নিউরাল সংযোগ দৃঢ় হয়।

পছন্দের খাবার রান্না করুন

অনেকের কাছে অবাক হওয়ার মতো তথ্য হলেও, প্রিয় ও পছন্দের খাবার খুব আয়োজন করে রান্না করাও আপনার মস্তিষ্কের উপরে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে বলে জানাচ্ছে গবেষকেরা। রান্নার আয়োজনে রেসিপি অনুযায়ী সকল উপাদান সংগ্রহ করা, গুছিয়ে রাখা, পরিমাণ ঠিক রাখা, সময় ধরে জিনিসপত্র ব্যবহার করা, খাবারের দারুণ দৃশ্য, সুগন্ধ ও স্বাদ মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে ও কর্মক্ষম রাখতে কাজ করে। যা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের বিভিন্ন কাজে অবদান রাখে।

পাজল গেম খেলুন

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563339620109.jpg

মস্তিষ্কের পাশাপাশি চোখের কোঅর্ডিনেশনকে সমন্বিত রাখতে চাইলে পাজল গেম খেলতে হবে। মোবাইল বা ট্যাবে পাজল গেম না খেলে বাস্তবের পাজল বক্সের পাজল গেম খেলা হবে উত্তম পন্থা। এতে করে মস্তিষ্ক নানাভাবে চিন্তা করে, সংযোগ খোঁজার চেষ্টা করে, অমিলের ভেতর থেকে মিলকে খুঁজে বের করতে কাজ করে। যা সামগ্রিকভাবে মস্তিষ্কের উপর উপকারী প্রভাব বিস্তার করে।

নতুন ভাষা শেখা শুরু করুন

জানার তো কোন শেষ নেই। সেক্ষেত্রে পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন কোন ভাষা শেখা শুরু করুন। যা জ্ঞানীয় কার্যকারিতার পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে।

আরও পড়ুন: হিমশিম খাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে?

আরও পড়ুন: বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন?

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র