Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

শিশুদের জন্য খেলাধুলা কেন প্রয়োজন?  

শিশুদের জন্য খেলাধুলা কেন প্রয়োজন?  
খেলাধুলার সাথে আনন্দ নিয়ে বেড়ে উঠুক শিশুরা, ছবি: সংগৃহীত
লাইফস্টাইল ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আগেকার সময়ে শিশুদের শৈশবের শুরুটা গড়ে উঠত এলাকার ও আশেপাশের পাড়ার সঙ্গীদের সাথে।

বিকেল হলেই যেন এলাকা মেতে উঠত হৈ-হুল্লোড়ে। কিন্তু বর্তমানে সময়ে হারিয়ে গেছে সেই আনন্দময় শৈশব, সাথে হারিয়ে গেছে খেলাধুলাও। প্রযুক্তি নির্ভর যুগে এসেছে ডিজিটাল খেলাধুলা। তবে তা আর আগের মত শারীরিক সুস্থতার জন্য কার্যকরী নয়।

বাসায় বসে মোবাইল, ট্যাব, কম্পিউটারে গেমস খেলায় কোনো শারীরিক উন্নতি হয়না, বরং মানসিকসহ শরীরের নানান নেতিবাচক সমস্যা দেখা দেয়।  

পড়ালেখা কিংবা কাজের চাপে খেলার সুযোগ পায়না এখনকার শিশুরা। যতটুকু অবসর সময় পাওয়া হয়, তা সবাই আলস্যে মোবাইল ব্যবহারের মধ্যে কাটাতে পছন্দ করে। খুব কম সংখ্যকই খেলাধুলার পাশাপাশি বই পড়তে বা সৃজনশীল কাজ করতে পছন্দ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের খেলাধুলা করা বাধ্যতামূলক। খেলাধুলার ভেতরে যে আনন্দ থাকে তা শিশুমনের পরিপূর্ণ বিকাশে সহায়ক। খেলার জন্য বড় মাঠের প্রয়োজন নেই। বাসার সামনে অল্প জায়গা হলেও খেলা যায় বা কিছু শারীরিক কার্যক্রম যেমন- হাঁটাহাঁটি, দৌড়াদৌড়ি, দড়িলাফ দেওয়া যায়। এসকল শরীরের ক্লান্তি, একঘেয়েমি, বিষণ্ণতা, মানসিক চাপ দূরে সরিয়ে মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/20/1561010859526.jpg

খেলাধুলা শিশুদের জন্য কতটা প্রয়োজন?

১. খেলাধুলায় উপস্থিত বুদ্ধি বৃদ্ধি পায়।

২. শারীরিক বৃদ্ধি স্বাভাবিক রাখতে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৩. পরিকল্পনা, দূরদর্শিতা ও পড়াশোনার প্রতি শিশুর আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে কয়েকজন মিলে একসাথে খেলার পরিবেশ অনেকখানি সাহায্য করে। পাশাপাশি সৃজনশীলতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 

৪. ক্রিকেট, ফুটবলের মতো ছুটাছুটি করার সুযোগ রয়েছে এমন খেলার মাধ্যমে শারীরিক কাঠামো মজবুত হয়। নানা ধরনের নৈপুণ্য, দক্ষতা আয়ত্তে আসে।

৫. খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুরা পড়াশুনা, আচার-আচরন, বুধিমত্তাতে এগিয়ে থাকে।

৬. সকলের সাথে মিলেমিশে খেললে সামাজিক আচরন, সম্পর্ক দৃঢ় হয়।

৭. কল্পনাশক্তি, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা, চিন্তাশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।   

শারীরিক কার্যক্রম শুধু শিশুদের জন্য নয়, শিশু থেকে শুরু করে পূর্ণবয়স্ক মানুষের শারীরিক সুস্থতার জন্যেও নিত্যদিন ব্যায়াম করা প্রয়োজন। তাই কাজের পাশাপাশি নিজেকেও সময় দিন, এতে শরীর ভাল থাকলে কাজও ভাল হবে। 

পড়ালেখার পাশাপাশি অভিভাবকসহ সকলের উচিৎ বিকেলে কিছুটা সময় হাতে নিয়ে আশেপাশে ঘুরতে, খেলতে বা হালকা কিছু শারীরিক ব্যায়াম-হাঁটাহাঁটি, প্রতিবেশীদের সাথে গল্প করতে বেরিয়ে পরা। এতে স্বাস্থ্য ও মন উভয়ই প্রফুল্ল থাকবে।

আরও পড়ুন: ছুটির দিনে অস্বাস্থ্যকর খাবারে বাড়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

আরও পড়ুন: কী থাকবে সকালের নাস্তায়?

আপনার মতামত লিখুন :

ভিন্নমাত্রায় কাসুন্দি ইলিশ

ভিন্নমাত্রায় কাসুন্দি ইলিশ
কাসুন্দি ইলিশ, ছবি: সংগৃহীত

মাছের বাজারে এখন ইলিশের দাপট।

এ সুযোগে ইলিশ মাছের পছন্দসই রেসিপি রাঁধার পাশাপাশি একটু ব্যতিক্রম রেসিপিও রেঁধে নিতে পারেন। আমাদের দেশে সর্ষে ইলিশ বা সরিষা ইলিশ অতি জনপ্রিয় ও প্রচলিত একটি ইলিশের রেসিপি। এবারে সেই সরিষা ইলিশের মতোই ঝাঁজ নিয়ে ভিন্ন ঘরানায় তৈরি করুন কাসুন্দি ইলিশ। কাসুন্দির ঝাঁজ ও হালকা টকভাব সহজেই ইলিশে যোগ করবে ভিন্নমাত্রা।

কাসুন্দি ইলিশ তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563883624853.JPG

১. মাথা ও লেজসহ ইলিশ মাছের ছয়টি বড় টুকরা।

২. চার টেবিল চামচ কাসুন্দি।

৩. ১০০ গ্রাম পরিমাণ টকদই।

৪. দুই টেবিল চামচ পেস্তা বাটা।

৫. ৫-৬টি কাঁচামরিচ ফালি।

৬. আধা চা চামচ রসুন বাটা।

৭. এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া।

৮. চার টেবিল চামচ সরিষা তেল।

৯. স্বাদমতো লবণ।

কাসুন্দি ইলিশ যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563883641018.JPG

১. মাছের টুকরোগুলো ভালোভাবে কেটে ও ধুয়ে এতে লবণ ও হলুদ গুঁড়া মাখিয়ে মেরিনেট করে রেখে দিতে হবে।

২. মাছের অন্যান্য টুকরাগুলো ভাজার প্রয়োজন নেই। তবে মাথা ও লেজের অংশ কিছুটা ভেজে নিতে হবে।

৩. ভিন্ন একটি পাত্রে কাসুন্দি, পেস্তা বাটা, টকদই, লবণ ও হলুদ গুঁড়া একসাথে ভালোভাবে মেশাতে হবে।

৪. চুলাতে কড়াই বসিয়ে সরিষার তেল গরম করে এতে কাসুন্দির-দইয়ের মিশ্রণ ও রসুন বাটা দিয়ে নাড়তে হবে। কিছুক্ষণ নাড়ার পর এতে কাঁচামরিচ ফালি ও স্বাদমতো লবণ দিতে হবে।

৫. মিনিট পাঁচেক নাড়ার পর মাছের টুকরোগুলো দিয়ে অল্প আঁচে পনের মিনিটের জন্য কড়াইয়ের মুখ ঢেকে রাখতে হবে।

৬. পনের মিনিট পর কড়াইয়ের ঢাকনা খুলে মাছগুলো সাবধানের সাথে উল্টে দিয়ে আবারো পনের মিনিটের জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৭. এর মাঝে মাছ সিদ্ধ হয়ে আসবে এবং ঝোল টেনে আসবে। প্রয়োজনে আধা কাপ পানি দেওয়া যাবে।

মাছ মাখামাখা হয়ে আসলে নামিয়ে ভাতের সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: মাছের রেজালায় স্বাদের বদল

আরও পড়ুন: ভেটকি মাছের বেগম বাহার

পরিবারের বয়োবৃদ্ধ সদস্যের মানসিক সুস্থতায়

পরিবারের বয়োবৃদ্ধ সদস্যের মানসিক সুস্থতায়
বয়স্ক ব্যক্তিদের সাথে সময় কাটানো তাদের মানসিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে, ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের একদম বয়স্ক মানুষটি হন সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে কাছের ও ভালোবাসার।

তার কাছেই যেন শত গল্প ও মায়ার ঝুলি জমে থাকে। কিন্তু বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে পড়া মানুষটিও একটা সময় পরে কেমন যেন দূরের হয়ে যান। হয়ে যান বিচ্ছিন্ন ও দুর্বোধ্য।

বয়স বৃদ্ধির সাথে অবধারিতভাবে দেখা দিতে শুরু করে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা। ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাড়ের ক্ষয়, কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যাসহ সাধারণ সমস্যাগুলোর সাথে যুক্ত হয় চেনা অথবা অচেনা ছোট-বড় আরও কয়েক ধরনের শারীরিক অসুস্থতা।

তবে বয়োবৃদ্ধদের শারীরিক সমস্যার সাথে দেখা দিতে শুরু করে মানসিক সমস্যাও। সেটা কেমন? খেয়াল করে দেখবেন, তারা সহজে কোন কিছু মনে রাখতে পারেন না। দুপুরে যদি জানতে চাওয়া হয়- সকালে কী খেয়েছেন, তবে সঠিকভাবে উত্তর দিতে পারবেন না। একইসাথে মানুষের নাম, চেহারা ভুলে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়।

এছাড়া দেখা দেয় অকারণে ও আকস্মিক মেজাজের পরিবর্তন। পুরনো কোন কথা মনে করে অঝোরে কান্নাকাটি করা, সামান্য কোন সমস্যায় অতিরিক্ত রেগে যাওয়া, খুঁতখুঁত করা, একই কথা বারবার বলার মতো লক্ষণগুলো বয়স বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত।

এ কারণে একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষের শারীরিক সুস্থতায় যত্ন নেওয়ার সঙ্গে মানসিক সুস্থতার জন্যেও যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ভারতের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বোপানা শ্রীধর জানাচ্ছেন কোন তিনটি বিষয়ের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

খাদ্যাভ্যাস

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563877234210.jpg

নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাস ও খাবারের পুষ্টির উপরে মানসিক সুস্থতা অনেকখানি নির্ভর করে। শ্রীধর পরামর্শ দেন, বয়স্কদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে কাজুবাদাম রাখার জন্য, যা মস্তিষ্কের সুস্থতায় অনেকখানি অবদান রাখে। এতে থাকা ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ অ্যাসিড সরাসরি মস্তিষ্কের সুস্থতা নিশ্চিতে কাজ করে। এছাড়া লো ফ্যাট খাদ্য উপাদান ও যথাসম্ভব প্রাকৃতিক উপাদান বেশি রাখার উপরেও জোর দেন তিনি।

শরীরচর্চা

বয়স্কদের জন্য শরীরচর্চার বিষয়টি কঠিন মনে হলেও, একদম হালকা ঘরানার ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজও তাদের জন্য অনেক বড় উপকারিতা বহন করবে। এতে করে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকা, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা, হাড়ের উপকারিতার মতো সুবিধার পাশপাশি মন প্রফুল্ল ও প্রশান্ত থাকবে। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি মনোযোগেও লক্ষণীয় পরিবর্তন আসবে।

যোগাযোগ

পাশ্চাত্যে একটি বিষয়ের প্রচলন রয়েছে। সমবয়সী অনেকে একসাথে দেখা করা, গল্প করা, সময় কাটানো, একেঅপরের সাথে যোগাযোগ করা। সামাজিকতার এই আয়োজনে অংশগ্রহণে বৃদ্ধদের আগ্রহী করা হয়। এতে করে তাদের মনঃ ভালো থাকে ও মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব পরে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে আমাদের দেশে বয়োবৃদ্ধরা বেশ একাকী সময় কাটান ও একা হয়ে পরেন। এতে করে তারা খুব অল্পতে বিষণ্ণ হয়ে পরেন এবং বৃদ্ধ বয়সের বিষণ্ণতা থেকেই দেখা যায় মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো। সেক্ষেত্রে পরিবারের সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে বয়োবৃদ্ধদের সাথে সময় কাটানো এবং তাদের একাকীত্ব দূর করার প্রতি।

আরও পড়ুন: আয়ুর্বেদে বাড়বে স্মৃতিশক্তি

আরও পড়ুন: পুষ্টির অভাবে বিষণ্ণতা দেখা দেয় কি?

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র