Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পানিশূন্যতা রোধে কী করা প্রয়োজন?

পানিশূন্যতা রোধে কী করা প্রয়োজন?
পানিশূন্যতা রোধে নিয়ম মানা প্রয়োজন, ছবি: সংগৃহীত
লাইফস্টাইল ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

শরীর পানিশূন্য হয়ে যাওয়া বা পানি স্বল্পতা দেখা দেওয়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ডিহাইড্রেশন বলা হয়।

শরীরে যখন প্রয়োজনের তুলনায় পানির পরিমাণ অনেকখানি কমে যায় তখন ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়।

যেকোন সময়েই এই পানিশূন্যতার সমস্যাটি দেখা দিতে পারে। তবে গ্রীষ্মকালে এই সমস্যাটির প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। শিশু থেকে বয়স্ক ব্যক্তি, সকলেই এই সমস্যায় ভুগতে পারে।

পানি শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সচল রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তের ভারসাম্য বজায় রাখে। এছাড়াও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ নানা শারীরিক কার্যক্রমের জন্য তরল উপাদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

বিভিন্ন উপায়ে শরীর থেকে তরল তথা পানি নিঃসৃত হয়। যেমন-  অতিমাত্রায় ঘাম, মলমূত্র-ত্যাগ ইত্যাদি। গরমকালে যেহেতু ঘাম অনেকটা বেশি হয়, এ সময়ে সকলের উচিৎ কিছু নিয়ম মেনে চলা। নতুবা সামান্য অবহেলার জন্য বড় ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

যেসব কারণে পানিশূন্যতা হতে পারে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/19/1560938434154.jpg

১. খাওয়া-দাওয়ার অনিয়ম।  

২. পানিসহ তরল জাতীয় খাদ্য না খাওয়া।

৩. অতিমাত্রায় রৌদ্রে থাকা।    

৪. অতিরিক্ত মলমূত্র ত্যাগ করা কিংবা ডায়রিয়া জাতীয় সমস্যা হওয়া।

৫. শরীরের তাপমাত্রা অত্যাধিক বেড়ে গেলে অথবা জ্বর হলে।

৬. ডায়বেটিস বা কোনো কারণে ওষুধ বেশি খেলে।

৭. রোজা রাখলে শরীরে পানির পরিমাণ কমে আসে।

৮. খেলাধুলা বা শারীরিক কাজকর্মে ঘাম হলে।

শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণসমূহ

১. শরীরে দুর্বলভাব দেখা দেওয়া ও ঘুমঘুম লাগা।

২. মুখের ভেতরের অংশ শুকিয়ে আসা।

৩. বমিভাব দেখা দেওয়া।

৪. দৃষ্টিশক্তি ঘোলাটে হয়ে আসা।

৫. মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দেওয়া।

৬. অতিরিক্ত তৃষ্ণাভাব দেখা দেওয়া।

৭. মূত্র হলুদ হওয়া।

৮. ত্বক শুষ্ক হয়ে ওঠা।

৯. প্রেসার কমে যাওয়া।

পানিশূন্যতা রোধের উপায়সমূহ

১. দিনে কমপক্ষে (৮- ১০ গ্লাস) বা দুই লিটার পরিমাণ পানি পান করতে হবে।

২. ঠাণ্ডা বা শীতল পরিবেশে থাকার চেষ্টা করতে হবে। একটানা রোদে বেশিক্ষণ না থেকে বাতাসযুক্ত জায়গায় অবস্থান করতে হবে।

৩. খেলাধুলা বা ব্যায়াম গরম আবহাওয়ায় কিছুটা কম করতে হবে।

৪. সবসময় পানির বোতল সাথে রাখতে হবে ও স্যালাইন পানিসহ ফলের শরবত পান করতে হবে।

৫. ঢিলে-ঢালা পোশাক পরিধান করতে হবে। শিশুদেরকে হালকা ও নরম কাপড়ের পোশাক পরাতে হবে।

এছাড়াও পানিশূন্যতা রোধে কিছু সবজি ও ফল খাওয়া প্রয়োজন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/19/1560938491297.jpg

শসা: এতে ৯৫ শতাংশ পানি এবং ক্যালরি মুক্ত ।

গাজর: ৯০ শতাংশ পানিযুক্ত গাজর খুব উচ্চ পুষ্টিমান সমৃদ্ধ খাবার এবং গাজরে প্রচুর পরিমাণ বিটা-ক্যারোটিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে ।

টমেটো: এই ফলটিতে পানির পরিমান প্রায় ৯৫ শতাংশ। এতে প্রচুর লাইকোপিন সহ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে।

তরমুজ: স্বাদু এই ফলটির প্রায় ৯১ শতাংশই পানি। মিষ্টি ফলে ক্যালোরি থাকে খুবই অল্প পরিমাণ।

স্ট্রবেরি: অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই ফলে ৯১ শতাংশ পানি আছে।

পানিশূন্যতার নানাবিধ কারণ থাকতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনিয়মের ফলে এই সমস্যাটি দেখা দেয়। কিন্তু সমস্যার প্রকোপ বেশি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

আরও পড়ুন: পছন্দ না হলেও, যে সকল কারণে সবজি খাওয়া প্রয়োজন

আরও পড়ুন: এখন প্রয়োজন শসায় তৈরি ডিটক্স ওয়াটার

আপনার মতামত লিখুন :

ভিন্নমাত্রায় কাসুন্দি ইলিশ

ভিন্নমাত্রায় কাসুন্দি ইলিশ
কাসুন্দি ইলিশ, ছবি: সংগৃহীত

মাছের বাজারে এখন ইলিশের দাপট।

এ সুযোগে ইলিশ মাছের পছন্দসই রেসিপি রাঁধার পাশাপাশি একটু ব্যতিক্রম রেসিপিও রেঁধে নিতে পারেন। আমাদের দেশে সর্ষে ইলিশ বা সরিষা ইলিশ অতি জনপ্রিয় ও প্রচলিত একটি ইলিশের রেসিপি। এবারে সেই সরিষা ইলিশের মতোই ঝাঁজ নিয়ে ভিন্ন ঘরানায় তৈরি করুন কাসুন্দি ইলিশ। কাসুন্দির ঝাঁজ ও হালকা টকভাব সহজেই ইলিশে যোগ করবে ভিন্নমাত্রা।

কাসুন্দি ইলিশ তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563883624853.JPG

১. মাথা ও লেজসহ ইলিশ মাছের ছয়টি বড় টুকরা।

২. চার টেবিল চামচ কাসুন্দি।

৩. ১০০ গ্রাম পরিমাণ টকদই।

৪. দুই টেবিল চামচ পেস্তা বাটা।

৫. ৫-৬টি কাঁচামরিচ ফালি।

৬. আধা চা চামচ রসুন বাটা।

৭. এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া।

৮. চার টেবিল চামচ সরিষা তেল।

৯. স্বাদমতো লবণ।

কাসুন্দি ইলিশ যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563883641018.JPG

১. মাছের টুকরোগুলো ভালোভাবে কেটে ও ধুয়ে এতে লবণ ও হলুদ গুঁড়া মাখিয়ে মেরিনেট করে রেখে দিতে হবে।

২. মাছের অন্যান্য টুকরাগুলো ভাজার প্রয়োজন নেই। তবে মাথা ও লেজের অংশ কিছুটা ভেজে নিতে হবে।

৩. ভিন্ন একটি পাত্রে কাসুন্দি, পেস্তা বাটা, টকদই, লবণ ও হলুদ গুঁড়া একসাথে ভালোভাবে মেশাতে হবে।

৪. চুলাতে কড়াই বসিয়ে সরিষার তেল গরম করে এতে কাসুন্দির-দইয়ের মিশ্রণ ও রসুন বাটা দিয়ে নাড়তে হবে। কিছুক্ষণ নাড়ার পর এতে কাঁচামরিচ ফালি ও স্বাদমতো লবণ দিতে হবে।

৫. মিনিট পাঁচেক নাড়ার পর মাছের টুকরোগুলো দিয়ে অল্প আঁচে পনের মিনিটের জন্য কড়াইয়ের মুখ ঢেকে রাখতে হবে।

৬. পনের মিনিট পর কড়াইয়ের ঢাকনা খুলে মাছগুলো সাবধানের সাথে উল্টে দিয়ে আবারো পনের মিনিটের জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৭. এর মাঝে মাছ সিদ্ধ হয়ে আসবে এবং ঝোল টেনে আসবে। প্রয়োজনে আধা কাপ পানি দেওয়া যাবে।

মাছ মাখামাখা হয়ে আসলে নামিয়ে ভাতের সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: মাছের রেজালায় স্বাদের বদল

আরও পড়ুন: ভেটকি মাছের বেগম বাহার

পরিবারের বয়োবৃদ্ধ সদস্যের মানসিক সুস্থতায়

পরিবারের বয়োবৃদ্ধ সদস্যের মানসিক সুস্থতায়
বয়স্ক ব্যক্তিদের সাথে সময় কাটানো তাদের মানসিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে, ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের একদম বয়স্ক মানুষটি হন সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে কাছের ও ভালোবাসার।

তার কাছেই যেন শত গল্প ও মায়ার ঝুলি জমে থাকে। কিন্তু বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে পড়া মানুষটিও একটা সময় পরে কেমন যেন দূরের হয়ে যান। হয়ে যান বিচ্ছিন্ন ও দুর্বোধ্য।

বয়স বৃদ্ধির সাথে অবধারিতভাবে দেখা দিতে শুরু করে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা। ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাড়ের ক্ষয়, কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যাসহ সাধারণ সমস্যাগুলোর সাথে যুক্ত হয় চেনা অথবা অচেনা ছোট-বড় আরও কয়েক ধরনের শারীরিক অসুস্থতা।

তবে বয়োবৃদ্ধদের শারীরিক সমস্যার সাথে দেখা দিতে শুরু করে মানসিক সমস্যাও। সেটা কেমন? খেয়াল করে দেখবেন, তারা সহজে কোন কিছু মনে রাখতে পারেন না। দুপুরে যদি জানতে চাওয়া হয়- সকালে কী খেয়েছেন, তবে সঠিকভাবে উত্তর দিতে পারবেন না। একইসাথে মানুষের নাম, চেহারা ভুলে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়।

এছাড়া দেখা দেয় অকারণে ও আকস্মিক মেজাজের পরিবর্তন। পুরনো কোন কথা মনে করে অঝোরে কান্নাকাটি করা, সামান্য কোন সমস্যায় অতিরিক্ত রেগে যাওয়া, খুঁতখুঁত করা, একই কথা বারবার বলার মতো লক্ষণগুলো বয়স বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত।

এ কারণে একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষের শারীরিক সুস্থতায় যত্ন নেওয়ার সঙ্গে মানসিক সুস্থতার জন্যেও যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ভারতের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বোপানা শ্রীধর জানাচ্ছেন কোন তিনটি বিষয়ের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

খাদ্যাভ্যাস

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563877234210.jpg

নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাস ও খাবারের পুষ্টির উপরে মানসিক সুস্থতা অনেকখানি নির্ভর করে। শ্রীধর পরামর্শ দেন, বয়স্কদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে কাজুবাদাম রাখার জন্য, যা মস্তিষ্কের সুস্থতায় অনেকখানি অবদান রাখে। এতে থাকা ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ অ্যাসিড সরাসরি মস্তিষ্কের সুস্থতা নিশ্চিতে কাজ করে। এছাড়া লো ফ্যাট খাদ্য উপাদান ও যথাসম্ভব প্রাকৃতিক উপাদান বেশি রাখার উপরেও জোর দেন তিনি।

শরীরচর্চা

বয়স্কদের জন্য শরীরচর্চার বিষয়টি কঠিন মনে হলেও, একদম হালকা ঘরানার ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজও তাদের জন্য অনেক বড় উপকারিতা বহন করবে। এতে করে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকা, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা, হাড়ের উপকারিতার মতো সুবিধার পাশপাশি মন প্রফুল্ল ও প্রশান্ত থাকবে। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি মনোযোগেও লক্ষণীয় পরিবর্তন আসবে।

যোগাযোগ

পাশ্চাত্যে একটি বিষয়ের প্রচলন রয়েছে। সমবয়সী অনেকে একসাথে দেখা করা, গল্প করা, সময় কাটানো, একেঅপরের সাথে যোগাযোগ করা। সামাজিকতার এই আয়োজনে অংশগ্রহণে বৃদ্ধদের আগ্রহী করা হয়। এতে করে তাদের মনঃ ভালো থাকে ও মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব পরে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে আমাদের দেশে বয়োবৃদ্ধরা বেশ একাকী সময় কাটান ও একা হয়ে পরেন। এতে করে তারা খুব অল্পতে বিষণ্ণ হয়ে পরেন এবং বৃদ্ধ বয়সের বিষণ্ণতা থেকেই দেখা যায় মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো। সেক্ষেত্রে পরিবারের সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে বয়োবৃদ্ধদের সাথে সময় কাটানো এবং তাদের একাকীত্ব দূর করার প্রতি।

আরও পড়ুন: আয়ুর্বেদে বাড়বে স্মৃতিশক্তি

আরও পড়ুন: পুষ্টির অভাবে বিষণ্ণতা দেখা দেয় কি?

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র