Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

গরমে খাদ্য তালিকায় হলুদ রাখার তিন তরিকা

গরমে খাদ্য তালিকায় হলুদ রাখার তিন তরিকা
গরমে সুস্থ থাকতে হলুদ গ্রহণ জরুরি, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

গ্রীষ্মকালে আমাদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন চলে আসে।

এ সময়ে শরবত, স্মুদি তথা পানীয় ঘরানার খাদ্য বেশি গ্রহণ করা হয়। সাথে থাকে রায়তা বা চাটনির আধিক্য। গরমে সুস্থ থাকতে এমন ঘরানার খাবারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে এই মৌসুমে কিছু প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদানের উপস্থিতি আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে রাখা উচিৎ, যা সুস্থতার পাশাপাশি স্বাস্থ্য উপকারিতাও প্রদান করবে। তেমন একটি খাদ্য উপাদান হলো হলুদ।

হলুদের উপকারিতাগুলো জানা আছে কি?

প্রদাহ-বিরোধী প্রকৃতিক এই উপাদানটি বাহ্যিক ব্যাথা দূর করতে কাজ করার পাশপাশি এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহ বয়সের হার কমানো, ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা, হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে।

এছাড়া হলুদ মস্তিষ্ক, জ্ঞানীয় ক্ষমতা ও আলঝেইমার প্রতিরোধে কাজ করে বলে প্রতিদিন হলুদ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকে ডাক্তাররা। এমনকি কিছু গবেষণা জানায়, ডায়বেটিসের সমস্যা কমাতেও কাজ করে চমৎকার এই উপাদানটি।

আরও দারুণ বিষয় হলো, হলুদে থাকা কারকিউমিন মেটাবলিজমের মাত্রা বৃদ্ধিতেও অবদান রাখে।

কেন বাড়তি হলুদ গ্রহণে জোর দেওয়া?

আমাদের দেশের বেশিরভাগ খাবার রান্নাতেই হলুদ ব্যবহার করা হয়। তবে আগুনের উচ্চ তাপে হলুদ তার কার্যকারিতা ও উপকারিতা অনেকটাই হারিয়ে ফেলে। সেক্ষেত্রে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় হলুদের উপস্থিতি বাড়ানোর তিনটি চমৎকার উপায় আজকের ফিচারে দেওয়া হলো।

কলা-আনারস ও হলুদের স্মুদি

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/10/1560163832286.JPG

গরমে এক গ্লাস ফ্রেশ ফলের ঠাণ্ডা স্মুদি শুধু পিপাসা নয়, ক্লান্তিও দূর করে। এই স্মুদিটি তৈরিতে প্রয়োজন হবে আনারসের টুকরা, একটি কলার টুকরা, এক চিমটি লবণ, এক চিমটি চিনি, আধা চা চামচ হলুদ গুঁড়া, এক কাপ পানি (যদি ঘরে থাকে তবে অ্যাপল জ্যুস)। এই সকল উপাদান একসাথে ব্লেন্ড করে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে মজারা স্মুদি।

পুদিনা পাতা ও হলুদের চাটনি

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/10/1560163884206.JPG

তেলে ভাজা খাবার অথবা ভারি কোন খাবারের সাথে প্রয়োজন হয় মজাদার চাটনি। পুদিনা পাতা ও হলুদের মিশ্রণে তৈরি চাটনি হতে পারে সবচেয়ে ভালো একটি উপায় খাদ্যাভ্যাসে হলুদ রাখার। ২০-২৫টি পুদিনা পাতা, ২-৩টি কাঁচামরিচ, আধা চা চামচ জিরা, আধা চা চামচ চিনি, স্বাদমতো লবণ, দুই কোয়া রসুন কুঁচি, আধা চা চামচ হলুদ একসাথে বেটে নিতে হবে। তবেই তৈরি হয়ে যাবে স্বাদবর্ধক পুদিনা-হলুদের চাটনি।

হলুদে তৈরি লেমনেড

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/10/1560163904579.JPG

গরমের সাথে লেমনেডের সম্পর্ক নতুন নয় মোটেও। লেবু, লবণ, আদা কুঁচিতে তৈরি এই লেমনেডে এক চিমটি হলুদ গুঁড়া যোগ করে নিলেই হয়ে যাবে কাঙ্ক্ষিত হলুদের লেমনেড। হলুদের গন্ধটি যদি এড়াতে চান তবে এতে মধু যোগ করতে হবে।

আরও পড়ুন: পেঁয়াজের যে ব্যবহারগুলো জানা নেই আপনার

আরও পড়ুন: মাখন ব্যবহারের চমৎকার চার টিপস

আপনার মতামত লিখুন :

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক
টি ট্রি অয়েল

বিভিন্ন ধরনের এসেনশিয়াল অয়েলের মাঝে টি ট্রি অয়েল সবচেয়ে পরিচিত ও প্রচলিত একটি।

এই এসেনশিয়াল অয়েলের অসংখ্য উপকারিতার মাঝে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। শুধু ত্বক নয়, চুলের যত্নেও সমানভাবে ব্যবহৃত হয় টি ট্রি অয়েল। এছাড়াও ডিওডরেন্ট, পোকামাকড় দূর করতে ও মাউথওয়াশ হিসেবেও কার্যকর এই এসেনশিয়াল অয়েল।

টি ট্রি অয়েল ব্যবহার বিধি

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব কঠিন কোন বিধিনিষেধ নেই। তবে মনে রাখতে হবে, ত্বকে বা চুলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরাসরি এই তেল ব্যবহার করা যাবে না। ক্যারিয়ার তেল তথা নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে তবেই ব্যবহার করতে হবে এই এসেনশিয়াল অয়েল।

অনেকেই টি ট্রি অয়েল পরিমাণে অনেক বেশি নিয়ে ফেলে। এক্ষেত্রে ১-৩ ফোঁটা ব্যবহার করাই যথেষ্ট। অল্প পরিমাণ এসেনশিয়াল অয়েল থেকেও সম্পূর্ণ উপকারিতা পাওয়া যাবে।

তবে টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে অবশ্য। এই তেল চোখের আশেপাশের অংশ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এতে চোখের আশেপাশের অংশের ত্বকে জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। কারণ মুখমণ্ডলের এ অংশের ত্বক তুলনামূলক বেশি পাতলা হয়ে থাকে।

এছাড়া টি ট্রি অয়েল ব্যবহার পূর্বে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো, এই তেল ব্যবহারে ত্বকে কোন সমস্যা দেখা দেয় কিনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115011865.jpg

টি ট্রি অয়েলের উপকারিতা

এই এসেনশিয়াল অয়েলের বিবিধ উপকারিতার মাঝে মূল ও প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কমায়

যাদের ত্বক খুব শুষ্ক, তাদের জন্য টি ট্রি অয়েল খুব ভালো কাজ করবে। এই তেলটি শুষ্ক ত্বকের জ্বালাপোড়াভাব ও চুলকানির প্রাদুর্ভাব কমায়। বিশেষত এতে থাকা জিংক অক্সাইড শুষ্ক ত্বক ও একজিমার সমস্যা কমাতে কাজ করে।

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক উপাদান তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপকারী। একটি গবেষণা জানাচ্ছে,  সানস্ক্রিনের সাথে টি ট্রি অয়েল মিশ্রিত থাকলে ত্বকের তৈলাক্ততা কমে যায় অনেকখানি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115031078.jpg

ত্বকের প্রদাহ

উপকারী এই এসেনশিয়াল অয়েলের অ্যান্ট-ইনফ্ল্যামেটরি প্রভাব ত্বকের প্রদাহ, ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার সমস্যাকে কমিয়ে এনে আরাম প্রদান করে। এমনকি ত্বকের কোন অংশ ফুলে গেলে বা ত্বকে লালচে ভাব দেখা দিলে সেটা কমাতেও কাজ করে টি ট্রি অয়েল।

ক্ষত সারাতে টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ধর্ম ত্বকের কাটাছেঁড়া ও ক্ষত সারাতে খুব চমৎকার কাজ করে। ২০১৩ সালের একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে প্রতি ১০ জনের মাঝে ৯ জনের টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে ক্ষত দ্রুত ও অল্প সময়ের মাঝে ভালো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমবে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারে

আরও পড়ুন: ত্বকের ফাটা দাগ কমাতে ক্যাস্টর অয়েল

তিন উপাদানে ডিটক্সিফাইং পানীয়

তিন উপাদানে ডিটক্সিফাইং পানীয়
ডিটক্সিফাইং পানীয়

অন্যান্য সময়ের চাইতে ঈদের সময়টাতে তেল, চর্বি ও উচ্চমাত্রার ক্যালোরিযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া হয়।

এতে করে সহজেই শরীরের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পরে। এই ক্ষতিকর প্রভাব কাটানোর জন্য প্রয়োজন হয় ডিটক্সিফাইং পানীয়। যা শরীর থেকে ক্ষতিকর প্রভাবকে দূর করে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

এমন পানীয় তৈরিতে সাধারণত খুব বেশি উপাদান প্রয়োজন হয় না। আজকের বিশেষ ডিটক্সিফাইং পানীয়টি তৈরিতেও মাত্র তিনটি সহজলভ্য উপাদান প্রয়োজন হবে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই পানীয়টি পান করলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যাবে।

ডিটক্সিফাইং পানীয় তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566047849609.jpg

১. একটি বড় লেবুর রস।

২. ১-২ ইঞ্চি পরিমাণ আদা কুঁচি।

৩. এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া।

৪. দুই কাপ পরিমাণ পানি।

৫. এক চিমটি কালো গোলমরিচ গুঁড়া (ঐচ্ছিক)

ডিটক্সিফাইং পানীয় যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566047866015.jpg

পানি ফুটিয়ে নামিয়ে এতে লেবুর রস, আদা কুঁচি, হলুদ গুঁড়া ও গোলমরিচ গুঁড়া মিশিয়ে পুনরায় চুলায় বসিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। তৈরি হয়ে গেলে নামিয়ে কুসুম গরম থাককাকালী সময়ে পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে উপকারী পাঁচ পদের জুস

আরও পড়ুন: আহ, মশলা চা!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র