Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

এখন প্রয়োজন শসায় তৈরি ডিটক্স ওয়াটার

এখন প্রয়োজন শসায় তৈরি ডিটক্স ওয়াটার
শসায় তৈরি ডিটক্স ওয়াটার, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

শেষ হয়ে যাচ্ছে ঈদের ছুটি।

অবসর পালন শেষে আবারো ফিরে আসছে কর্মব্যস্ততা। কঠোরভাবে ডায়েট মেনে চলা মানুষটিও উৎসবের এই সময়টিতে খাবার খাওয়ার বিষয়ে ছাড় দেন। ঈদের খাবার আয়োজন মানেই হলো ভরপেট মজাদার খাবার খাওয়া। দুঃখজনক হলো, প্রায় সকল মজাদার খাবারই হয়ে থাকে উচ্চ ক্যালোরি, উচ্চ ফ্যাটযুক্ত তৈলাক্ত ও লবণযুক্ত।

সাধারণত এই সকল খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয় কারণ, এই খাবারগুলো দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা তৈরির পাশাপাশি স্বাস্থ্যের উপরেও তার ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। মাখন, ডালডা, চিনি ও লবণযুক্ত খাবারগুলো খাওয়ার পরে পরিপাক হয়ে গেলেও তাদের টক্সিন উপাদানগুলো শরীরে রয়ে যায়।

শরীর থেকে এই নেতিবাচক প্রভাব ও টক্সিন উপাদানগুলো বের করে ফেলতেই প্রয়োজন শসার তৈরি ডিটক্স ওয়াটার পান করা।

কীভাবে এই ডিটক্স ওয়াটার তৈরি করতে হয়?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/08/1559989349354.jpg

ডিটক্স ওয়াটার তৈরিতে প্রয়োজন হবে এক জগ পানি, একটি বড় শসা, ১০-১২টি পুদিনা পাতা কুঁচি ও একটি লেবুর রস। শসা গোল চাকতি করে কেটে কেটে এবং পুদিনা পাতা কুঁচি করে জগের পানিতে মিশিয়ে রেফ্রিজারেটরে সারা রাতের জন্য রেখে দিতে হবে। পরদিন সকাল থেকে সারাদিন ভর এই পানিটি পান করতে হবে। প্রতিবার এক গ্লাস পরিমাণ ডিটক্স ওয়াটার পানের সময় আধা চা চামচ পরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে। যদি অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকে তবে লেবুর রস না মেশালেও হবে।

শসার ডিটক্স ওয়াটারের অন্যান্য উপকারিতা

শসার তৈরি চমৎকার এই ডিটক্স ওয়াটারটি শরীর থেকে টক্সিন উপাদান বের করার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রদান করে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য উপকারিতা এখানে তুলে ধরা হলো।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে

শসাতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ইলেকট্রলাইট তথা পটাশিয়াম, যা রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে। শসার ডিটক্স ওয়াটার পানে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণ পটাশিয়াম পায়, যা শরীরে থাকা বাড়তি সোডিয়ামকে দূর করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/08/1559989364934.jpg

শরীরে আর্দ্রতা ধরে রাখে

নিশ্চয় খেয়াল করেছেন ভরপেট কাচ্চি কিংবা পোলাও খাওয়ার পর ঘনঘন তেষ্টা পায়। তৈলাক্ত, মশলাদার ও লবণযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে এমনটা হয়ে থাকে। টক্সিন উপাদান বের করার জন্য প্রতিদিন যদি ৬-৮ গ্লাস শসার ডিটক্স ওয়াটার পান করা যায় তবে কোনভাবেই পানিস্বল্পতা দেখা দেওয়ার সম্ভবনা থাকে না এবং শরীর তার প্রয়োজনীয় আর্দ্রতায় থাকবে।

পাওয়া যাবে পর্যাপ্ত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহ

ফ্রি রেডিক্যালের ফলে আমাদের শরীরে যে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয়, সেটা কমাতে ও প্রতিরোধ করতে কাজ করে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। শসাতে থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-সি, বেটা ক্যারোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, মলিবডেনাম ও অন্যান্য ফ্ল্যাভনয়েড অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সরবরাহ করে থাকে।

ভেতর থেকে ত্বককে সুস্থ রাখে

ত্বকের সুস্থতায় পরিচর্যা অপরিহার্য। তবে ত্বকের ভেতর থেকে সুস্থতা প্রদানের জন্য ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা ও শরীর থেকে টক্সিন উপাদান বের করা খুবই জরুরি। শসার ডিটক্স ওয়াটার পানে যা খুব সহজ হয়ে যায়। এছাড়া শসাতে থাকা প্যানটোথেনিক অ্যাসিড তথা ভিটামিন বি-৫ ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমাতে কাজ করে। ফলে বলা যায়, ডিটক্স ওয়াটার ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে কার্যকর।

আরও পড়ুন: পছন্দ না হলেও, যে সকল কারণে সবজি খাওয়া প্রয়োজন

আরও পড়ুন: নাশতায় যে খাবারটি ওজন কমাতে সাহায্য করবে

আপনার মতামত লিখুন :

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক
টি ট্রি অয়েল

বিভিন্ন ধরনের এসেনশিয়াল অয়েলের মাঝে টি ট্রি অয়েল সবচেয়ে পরিচিত ও প্রচলিত একটি।

এই এসেনশিয়াল অয়েলের অসংখ্য উপকারিতার মাঝে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। শুধু ত্বক নয়, চুলের যত্নেও সমানভাবে ব্যবহৃত হয় টি ট্রি অয়েল। এছাড়াও ডিওডরেন্ট, পোকামাকড় দূর করতে ও মাউথওয়াশ হিসেবেও কার্যকর এই এসেনশিয়াল অয়েল।

টি ট্রি অয়েল ব্যবহার বিধি

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব কঠিন কোন বিধিনিষেধ নেই। তবে মনে রাখতে হবে, ত্বকে বা চুলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরাসরি এই তেল ব্যবহার করা যাবে না। ক্যারিয়ার তেল তথা নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে তবেই ব্যবহার করতে হবে এই এসেনশিয়াল অয়েল।

অনেকেই টি ট্রি অয়েল পরিমাণে অনেক বেশি নিয়ে ফেলে। এক্ষেত্রে ১-৩ ফোঁটা ব্যবহার করাই যথেষ্ট। অল্প পরিমাণ এসেনশিয়াল অয়েল থেকেও সম্পূর্ণ উপকারিতা পাওয়া যাবে।

তবে টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে অবশ্য। এই তেল চোখের আশেপাশের অংশ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এতে চোখের আশেপাশের অংশের ত্বকে জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। কারণ মুখমণ্ডলের এ অংশের ত্বক তুলনামূলক বেশি পাতলা হয়ে থাকে।

এছাড়া টি ট্রি অয়েল ব্যবহার পূর্বে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো, এই তেল ব্যবহারে ত্বকে কোন সমস্যা দেখা দেয় কিনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115011865.jpg

টি ট্রি অয়েলের উপকারিতা

এই এসেনশিয়াল অয়েলের বিবিধ উপকারিতার মাঝে মূল ও প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কমায়

যাদের ত্বক খুব শুষ্ক, তাদের জন্য টি ট্রি অয়েল খুব ভালো কাজ করবে। এই তেলটি শুষ্ক ত্বকের জ্বালাপোড়াভাব ও চুলকানির প্রাদুর্ভাব কমায়। বিশেষত এতে থাকা জিংক অক্সাইড শুষ্ক ত্বক ও একজিমার সমস্যা কমাতে কাজ করে।

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক উপাদান তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপকারী। একটি গবেষণা জানাচ্ছে,  সানস্ক্রিনের সাথে টি ট্রি অয়েল মিশ্রিত থাকলে ত্বকের তৈলাক্ততা কমে যায় অনেকখানি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115031078.jpg

ত্বকের প্রদাহ

উপকারী এই এসেনশিয়াল অয়েলের অ্যান্ট-ইনফ্ল্যামেটরি প্রভাব ত্বকের প্রদাহ, ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার সমস্যাকে কমিয়ে এনে আরাম প্রদান করে। এমনকি ত্বকের কোন অংশ ফুলে গেলে বা ত্বকে লালচে ভাব দেখা দিলে সেটা কমাতেও কাজ করে টি ট্রি অয়েল।

ক্ষত সারাতে টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ধর্ম ত্বকের কাটাছেঁড়া ও ক্ষত সারাতে খুব চমৎকার কাজ করে। ২০১৩ সালের একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে প্রতি ১০ জনের মাঝে ৯ জনের টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে ক্ষত দ্রুত ও অল্প সময়ের মাঝে ভালো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমবে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারে

আরও পড়ুন: ত্বকের ফাটা দাগ কমাতে ক্যাস্টর অয়েল

তিন উপাদানে ডিটক্সিফাইং পানীয়

তিন উপাদানে ডিটক্সিফাইং পানীয়
ডিটক্সিফাইং পানীয়

অন্যান্য সময়ের চাইতে ঈদের সময়টাতে তেল, চর্বি ও উচ্চমাত্রার ক্যালোরিযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া হয়।

এতে করে সহজেই শরীরের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পরে। এই ক্ষতিকর প্রভাব কাটানোর জন্য প্রয়োজন হয় ডিটক্সিফাইং পানীয়। যা শরীর থেকে ক্ষতিকর প্রভাবকে দূর করে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

এমন পানীয় তৈরিতে সাধারণত খুব বেশি উপাদান প্রয়োজন হয় না। আজকের বিশেষ ডিটক্সিফাইং পানীয়টি তৈরিতেও মাত্র তিনটি সহজলভ্য উপাদান প্রয়োজন হবে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই পানীয়টি পান করলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যাবে।

ডিটক্সিফাইং পানীয় তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566047849609.jpg

১. একটি বড় লেবুর রস।

২. ১-২ ইঞ্চি পরিমাণ আদা কুঁচি।

৩. এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া।

৪. দুই কাপ পরিমাণ পানি।

৫. এক চিমটি কালো গোলমরিচ গুঁড়া (ঐচ্ছিক)

ডিটক্সিফাইং পানীয় যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566047866015.jpg

পানি ফুটিয়ে নামিয়ে এতে লেবুর রস, আদা কুঁচি, হলুদ গুঁড়া ও গোলমরিচ গুঁড়া মিশিয়ে পুনরায় চুলায় বসিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। তৈরি হয়ে গেলে নামিয়ে কুসুম গরম থাককাকালী সময়ে পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে উপকারী পাঁচ পদের জুস

আরও পড়ুন: আহ, মশলা চা!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র