Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

মেকআপ ব্যবহারে মলিন ত্বক?

মেকআপ ব্যবহারে মলিন ত্বক?
মেকআপ পরবর্তী সময়ে ত্বকের সঠিক যত্ন খুবই জরুরি, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

যিনি একেবারেই সাজেন না, ঈদের সময়টিতেও আলতো ফেস পাউডার ও লিপস্টিক ব্যবহার করেন।

উৎসবের আমেজে সাজ সাজ রব শুধু চারপাশে নয়, নিজের মাঝেও বিরাজ করে।

ঈদের কয়েকটি দিন প্রায় প্রতি বেলাতেই মেকআপ পণ্য ব্যবহার করা হয়। পরপর কয়েকদিন মেকআপ ব্যবহারের ফলে খুব স্বাভাবিক নিয়মেই ত্বকের উপর নেতিবাচক প্রভাবের সৃষ্টি হয়। ত্বক তুলনামূলক খসখসে ও নিষ্প্রাণ হয়ে ওঠে। পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত ব্রণের প্রাদুর্ভাবও দেখা দেয়।

এই সমস্যাগুলো দূরে রাখতে প্রয়োজন ত্বকের সঠিক পরিচর্যা ও যত্ন। বিশেষত ভারি মেকআপের পরবর্তী সময়ে ত্বক সঠিকভাবে পরিষ্কার করা খুবই জরুরি। আজকের ফিচারে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো মেকআপ পরবর্তী সময়ে ত্বকের যত্নে কি করা প্রয়োজন।

ক্লিনজিং

ত্বককে প্রস্তুত করার জন্য অবশ্যই প্রথমে ভালো কোন ক্লিনজার দিয়ে মুখ, গলা ও ঘাড়ের ত্বক পরিষ্কার করে নিতে হবে।

এক্সফলিয়েটিং

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/08/1559976596919.jpg

সাধারণভাবে মুখের ত্বক ধোয়া হলেও ত্বকের গভীর থেকে ময়লা ও মেকআপের অবশিষ্টাংশ দূর করার জন্য এক্সফলিয়েট করা খুবই জরুরি। এক্সফলিয়েশনের জন্য বাজার থেকে কেনা অথবা ঘরে  তৈরি এক্সফলিয়েটর ব্যবহার করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে মধু, লেবুর রস ও চিনি একসাথে মিশিয়ে নিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে চিনি যেন গলে না যায়। এই এক্সফলিয়েটর ত্বকের ভেতর থেকে ময়লা বের করে আনার পাশাপাশি ত্বকের উপকারেও কাজ করবে।

ময়েশ্চারাইজিং

এক্সফলিয়েশনের পর ত্বকে সঠিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা খুবই জরুরি। মেকআপ ব্যবহারের ফলে এমনিতেও ত্বক শুষ্ক হয়ে ওঠে। এক্সফলিয়েশনের ফলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল অনেকটাই দূর হয়ে যায়। ফলে ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারায়। ময়েশ্চারাইজার হিসেবে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের ক্রিম ব্যবহার করেন। তবে নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল ও আমন্ড অয়েলও ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। ময়েশ্চারাইজার মুখে মিনিট পাঁচেক সময় নিয়ে ম্যাসাজ করে সারা রাত রেখে দিতে হবে।

সুদিং

ত্বকের স্বাভাবিক প্রকৃতি ফিরিয়ে আনতে সুদিং খুবই প্রয়োজনীয় একটি ধাপ। এ ধাপে ত্বক ময়েশ্চারাইজেশনের পরদিন সকালে তিনটি প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে হবে। দই, হলুদ গুঁড়া ও মধুর সমন্বয়ে তৈরি এই ফেসপ্যাকটি ত্বককে নতুনভাবে তৈরি হতে, ত্বকের প্রদাহ, ইরিটেশন, ব্লেমিশ, ব্রণের প্রাদুর্ভাব দূর করতে কাজ করবে। এছাড়া মেকআপ পণ্যের ব্যবহারে ত্বকয়ে যদি কোন ক্ষতিকর প্রভাব তৈরির সম্ভবনা তাহকে সেটাও দূর করতে কাজ করে।

উপরোক্ত সকল ধাপ ঠিকঠাকভাবে শেষ করার পর কয়েকদিন ত্বককে রেস্টে রাখতে হবে। অর্থাৎ আর কোন ধাপের পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন হবে না। ত্বক এ সময়ের মাঝে নিজ থেকেই আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। তবে বাইরে বেশি যাওয়া হলে হালকা ঘরানার ক্লিনজিং দিয়ে মুখের ত্বক পরিষ্কার করে নিতে হবে এবং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমবে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারে

আরও পড়ুন: সৌন্দর্যচর্চায় মধুর চমৎকার চার ব্যবহার

আপনার মতামত লিখুন :

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক
টি ট্রি অয়েল

বিভিন্ন ধরনের এসেনশিয়াল অয়েলের মাঝে টি ট্রি অয়েল সবচেয়ে পরিচিত ও প্রচলিত একটি।

এই এসেনশিয়াল অয়েলের অসংখ্য উপকারিতার মাঝে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। শুধু ত্বক নয়, চুলের যত্নেও সমানভাবে ব্যবহৃত হয় টি ট্রি অয়েল। এছাড়াও ডিওডরেন্ট, পোকামাকড় দূর করতে ও মাউথওয়াশ হিসেবেও কার্যকর এই এসেনশিয়াল অয়েল।

টি ট্রি অয়েল ব্যবহার বিধি

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব কঠিন কোন বিধিনিষেধ নেই। তবে মনে রাখতে হবে, ত্বকে বা চুলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরাসরি এই তেল ব্যবহার করা যাবে না। ক্যারিয়ার তেল তথা নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে তবেই ব্যবহার করতে হবে এই এসেনশিয়াল অয়েল।

অনেকেই টি ট্রি অয়েল পরিমাণে অনেক বেশি নিয়ে ফেলে। এক্ষেত্রে ১-৩ ফোঁটা ব্যবহার করাই যথেষ্ট। অল্প পরিমাণ এসেনশিয়াল অয়েল থেকেও সম্পূর্ণ উপকারিতা পাওয়া যাবে।

তবে টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে অবশ্য। এই তেল চোখের আশেপাশের অংশ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এতে চোখের আশেপাশের অংশের ত্বকে জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। কারণ মুখমণ্ডলের এ অংশের ত্বক তুলনামূলক বেশি পাতলা হয়ে থাকে।

এছাড়া টি ট্রি অয়েল ব্যবহার পূর্বে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো, এই তেল ব্যবহারে ত্বকে কোন সমস্যা দেখা দেয় কিনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115011865.jpg

টি ট্রি অয়েলের উপকারিতা

এই এসেনশিয়াল অয়েলের বিবিধ উপকারিতার মাঝে মূল ও প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কমায়

যাদের ত্বক খুব শুষ্ক, তাদের জন্য টি ট্রি অয়েল খুব ভালো কাজ করবে। এই তেলটি শুষ্ক ত্বকের জ্বালাপোড়াভাব ও চুলকানির প্রাদুর্ভাব কমায়। বিশেষত এতে থাকা জিংক অক্সাইড শুষ্ক ত্বক ও একজিমার সমস্যা কমাতে কাজ করে।

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক উপাদান তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপকারী। একটি গবেষণা জানাচ্ছে,  সানস্ক্রিনের সাথে টি ট্রি অয়েল মিশ্রিত থাকলে ত্বকের তৈলাক্ততা কমে যায় অনেকখানি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115031078.jpg

ত্বকের প্রদাহ

উপকারী এই এসেনশিয়াল অয়েলের অ্যান্ট-ইনফ্ল্যামেটরি প্রভাব ত্বকের প্রদাহ, ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার সমস্যাকে কমিয়ে এনে আরাম প্রদান করে। এমনকি ত্বকের কোন অংশ ফুলে গেলে বা ত্বকে লালচে ভাব দেখা দিলে সেটা কমাতেও কাজ করে টি ট্রি অয়েল।

ক্ষত সারাতে টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ধর্ম ত্বকের কাটাছেঁড়া ও ক্ষত সারাতে খুব চমৎকার কাজ করে। ২০১৩ সালের একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে প্রতি ১০ জনের মাঝে ৯ জনের টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে ক্ষত দ্রুত ও অল্প সময়ের মাঝে ভালো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমবে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারে

আরও পড়ুন: ত্বকের ফাটা দাগ কমাতে ক্যাস্টর অয়েল

তিন উপাদানে ডিটক্সিফাইং পানীয়

তিন উপাদানে ডিটক্সিফাইং পানীয়
ডিটক্সিফাইং পানীয়

অন্যান্য সময়ের চাইতে ঈদের সময়টাতে তেল, চর্বি ও উচ্চমাত্রার ক্যালোরিযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া হয়।

এতে করে সহজেই শরীরের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পরে। এই ক্ষতিকর প্রভাব কাটানোর জন্য প্রয়োজন হয় ডিটক্সিফাইং পানীয়। যা শরীর থেকে ক্ষতিকর প্রভাবকে দূর করে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

এমন পানীয় তৈরিতে সাধারণত খুব বেশি উপাদান প্রয়োজন হয় না। আজকের বিশেষ ডিটক্সিফাইং পানীয়টি তৈরিতেও মাত্র তিনটি সহজলভ্য উপাদান প্রয়োজন হবে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই পানীয়টি পান করলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যাবে।

ডিটক্সিফাইং পানীয় তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566047849609.jpg

১. একটি বড় লেবুর রস।

২. ১-২ ইঞ্চি পরিমাণ আদা কুঁচি।

৩. এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া।

৪. দুই কাপ পরিমাণ পানি।

৫. এক চিমটি কালো গোলমরিচ গুঁড়া (ঐচ্ছিক)

ডিটক্সিফাইং পানীয় যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566047866015.jpg

পানি ফুটিয়ে নামিয়ে এতে লেবুর রস, আদা কুঁচি, হলুদ গুঁড়া ও গোলমরিচ গুঁড়া মিশিয়ে পুনরায় চুলায় বসিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। তৈরি হয়ে গেলে নামিয়ে কুসুম গরম থাককাকালী সময়ে পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে উপকারী পাঁচ পদের জুস

আরও পড়ুন: আহ, মশলা চা!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র