Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

মেকআপ ব্যবহারে মলিন ত্বক?

মেকআপ ব্যবহারে মলিন ত্বক?
মেকআপ পরবর্তী সময়ে ত্বকের সঠিক যত্ন খুবই জরুরি, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

যিনি একেবারেই সাজেন না, ঈদের সময়টিতেও আলতো ফেস পাউডার ও লিপস্টিক ব্যবহার করেন।

উৎসবের আমেজে সাজ সাজ রব শুধু চারপাশে নয়, নিজের মাঝেও বিরাজ করে।

ঈদের কয়েকটি দিন প্রায় প্রতি বেলাতেই মেকআপ পণ্য ব্যবহার করা হয়। পরপর কয়েকদিন মেকআপ ব্যবহারের ফলে খুব স্বাভাবিক নিয়মেই ত্বকের উপর নেতিবাচক প্রভাবের সৃষ্টি হয়। ত্বক তুলনামূলক খসখসে ও নিষ্প্রাণ হয়ে ওঠে। পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত ব্রণের প্রাদুর্ভাবও দেখা দেয়।

এই সমস্যাগুলো দূরে রাখতে প্রয়োজন ত্বকের সঠিক পরিচর্যা ও যত্ন। বিশেষত ভারি মেকআপের পরবর্তী সময়ে ত্বক সঠিকভাবে পরিষ্কার করা খুবই জরুরি। আজকের ফিচারে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো মেকআপ পরবর্তী সময়ে ত্বকের যত্নে কি করা প্রয়োজন।

ক্লিনজিং

ত্বককে প্রস্তুত করার জন্য অবশ্যই প্রথমে ভালো কোন ক্লিনজার দিয়ে মুখ, গলা ও ঘাড়ের ত্বক পরিষ্কার করে নিতে হবে।

এক্সফলিয়েটিং

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/08/1559976596919.jpg

সাধারণভাবে মুখের ত্বক ধোয়া হলেও ত্বকের গভীর থেকে ময়লা ও মেকআপের অবশিষ্টাংশ দূর করার জন্য এক্সফলিয়েট করা খুবই জরুরি। এক্সফলিয়েশনের জন্য বাজার থেকে কেনা অথবা ঘরে  তৈরি এক্সফলিয়েটর ব্যবহার করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে মধু, লেবুর রস ও চিনি একসাথে মিশিয়ে নিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে চিনি যেন গলে না যায়। এই এক্সফলিয়েটর ত্বকের ভেতর থেকে ময়লা বের করে আনার পাশাপাশি ত্বকের উপকারেও কাজ করবে।

ময়েশ্চারাইজিং

এক্সফলিয়েশনের পর ত্বকে সঠিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা খুবই জরুরি। মেকআপ ব্যবহারের ফলে এমনিতেও ত্বক শুষ্ক হয়ে ওঠে। এক্সফলিয়েশনের ফলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল অনেকটাই দূর হয়ে যায়। ফলে ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারায়। ময়েশ্চারাইজার হিসেবে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের ক্রিম ব্যবহার করেন। তবে নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল ও আমন্ড অয়েলও ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। ময়েশ্চারাইজার মুখে মিনিট পাঁচেক সময় নিয়ে ম্যাসাজ করে সারা রাত রেখে দিতে হবে।

সুদিং

ত্বকের স্বাভাবিক প্রকৃতি ফিরিয়ে আনতে সুদিং খুবই প্রয়োজনীয় একটি ধাপ। এ ধাপে ত্বক ময়েশ্চারাইজেশনের পরদিন সকালে তিনটি প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে হবে। দই, হলুদ গুঁড়া ও মধুর সমন্বয়ে তৈরি এই ফেসপ্যাকটি ত্বককে নতুনভাবে তৈরি হতে, ত্বকের প্রদাহ, ইরিটেশন, ব্লেমিশ, ব্রণের প্রাদুর্ভাব দূর করতে কাজ করবে। এছাড়া মেকআপ পণ্যের ব্যবহারে ত্বকয়ে যদি কোন ক্ষতিকর প্রভাব তৈরির সম্ভবনা তাহকে সেটাও দূর করতে কাজ করে।

উপরোক্ত সকল ধাপ ঠিকঠাকভাবে শেষ করার পর কয়েকদিন ত্বককে রেস্টে রাখতে হবে। অর্থাৎ আর কোন ধাপের পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন হবে না। ত্বক এ সময়ের মাঝে নিজ থেকেই আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। তবে বাইরে বেশি যাওয়া হলে হালকা ঘরানার ক্লিনজিং দিয়ে মুখের ত্বক পরিষ্কার করে নিতে হবে এবং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমবে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারে

আরও পড়ুন: সৌন্দর্যচর্চায় মধুর চমৎকার চার ব্যবহার

আপনার মতামত লিখুন :

আঙুরের সাতকাহন 

আঙুরের সাতকাহন 
আঙ্গুর ফল

আঙুর ফলের গোড়াপত্তন শুরু হয়েছে হাজার বছর আগে। সুস্বাদু ও সুমিষ্ট এই ফলের বাহারি রঙের মাত্রায় রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। উচ্চ ভিটামিন সমৃদ্ধ  এই ফল আপনার হার্টকে রাখে সুস্থ।

আঙুরের সাত গুণাবলি--

 

গ্যাস্ট্রিকের প্রদাহ থেকে মুক্তি-

দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রিক থেকে শুরু হয় বাতের ব্যথা। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য। রোগের সূত্রপাত হিসেবে ধরা হয় গ্যাস্ট্রিকের প্রদাহকে। দেহের প্রতিরক্ষাকারী কোষগুলোকে নষ্ট করে, ক্যানসার কিংবা হার্টের রোগে ভোগায় এই প্রদাহ। গবেষণা বলছে, আঙুর হতে পারে গ্যাসের ব্যথার স্থায়ী সমাধান।

২৪ জন পুরুষের মধ্যে চালানো একটি জরিপে দেখা যায়, প্রতিদিন ১.৫ কাপ আঙুরের রস অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণে আঙুরের গুঁড়া শরীরের গ্যাসের প্রদাহকে কমিয়ে দেয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452636554.jpg

বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়-

এক গবেষণায় দেখা যায়, তিন মাস ধরে প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম করে আঙুর ফল ১১১ জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে খাওয়ানোর ফলে তাদের স্মৃতি, মনোযোগ এবং  বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটেছে।

এমনকি প্রতিদিন আঙুর ফল আপনার মেজাজকে রাখে নিয়ন্ত্রণে। পাশাপাশি ব্লাড সুগারের মাত্রাকেও পরিমিত পর্যায়ে রাখতে সাহায্য করে।

হাড়ের ক্ষয় রোধ করে:

হাড়ে লবণের মাত্রাকে ঠিক রেখে ক্ষয়রোধ করতে সাহায্য করে আঙুর ফল। হাড়ে প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452652760.jpg

ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া  ধবংসকারী:

দেহের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ইনফেকশন ঘটায়, এমন ভাইরাস ধ্বংস করতে সাহায্য করে আঙুর ফল। প্রতিদিন খেলে ভিটামিন সি-এর অভাব পূরণ হয়। ফলে মৌসুমি ঠাণ্ডা কাশি কিংবা জ্বর আপনাকে কাবু করতে পারবে না। এমনকি আঙুর ডায়রিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা বৃদ্ধি-

ক্যানসার, হৃদরোগ কিংবা ডায়াবেটিসের মতো রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে আঙুর ফল। বেটাকেরোটিন, লুটিন ,এলাজিক এসিড সমৃদ্ধ এই ফল দীর্ঘস্থায়ী রোগকেও প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452669126.jpg

তারুণ্য ধরে রাখে-

আঙুর ফলের পুষ্টিগুণ তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের বলিরেখা দূর করে আঙুর। স্বাস্থ্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ করে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতেও সাহায্য করে।

আঙুরে প্রোটিন সমৃদ্ধ ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার,  এবং অ্যান্টি অক্সিজেন রয়েছে। সুতরাং তুমি তোমার সকাল কিংবা বিকেলের নাস্তায় রাখতে পারো আঙুর ফল। এমনকি গ্রীষ্মের দিনগুলোতে ঠাণ্ডা আঙুর হতে পারে দারুণ একটা নাস্তা।

সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস

সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস
ক্যাকটাস গাছ, ছবি: সংগৃহীত

ঘরের শোভা বর্ধনের জন্য কিংবা ভালোবেসে, শখের বশে গড়ে তোলা হয় ক্যাকটাসের সংগ্রহ।

নানা প্রজাতির, আকৃতির, ঘরানার ক্যাকটাস প্রীতি বেশি দেখা যায় শহুরে এলাকার মানুষদের মাঝে। ঘরের সাথে লাগোয়া বারান্দায় কিংবা প্রশস্ত জানালা ঘেঁসে ছোট-মাঝারি টবে বানান নিজস্ব ক্যাকটাস বাগান।

সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত দেখাশোনা করা হলে প্রতিটি ক্যাকটাসের গাছ খুব ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। ক্ষেত্র বিশেষে ও বিশেষ প্রজাতির ক্যাকটাসের ক্ষেত্রে ক্যাকটাসে বর্ণীল ফুলের দেখাও দেয়।

তবে সমস্যা হলো- ক্যাকটাস কষ্ট সহিষ্ণু উদ্ভিদ হলেও, অসাবধানতার দরুন ক্যাকটাস মরে যায়। প্রিয় জিনিসটি চোখের সাথে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাওয়া খুবই কষ্টের। যত্নে গড়ে তোলা প্রিয় ক্যাকটাসটির পরিচর্যায় ও যত্নে যে বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখা প্রয়োজন, এখানে তার কয়েকটি আলোচনায় রাখা হলো।

দ্রুত পানি দেওয়া

বেখেয়ালে প্রায় সময় ক্যাকটাসে দীর্ঘদিন পানি দেওয়া হয় না। এতে ক্যাকটাস শুকিয়ে যায়, কুঁচকে যায়, মরমর দেখায়। এমনটা হলে যত দ্রুত সম্ভব গাছে পানি দিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে ক্যাকটাসের টবের নিচের অংশের ছিদ্র দিয়ে বাড়তি পানি যেন বেরিয়ে যেতে পারে। একইসাথে ক্যাকটাসটিকে খোলামেলা আলো ও বাতাসযুক্ত স্থানে রাখতে হবে।

নষ্ট হয়ে যাওয়া অংশ কেটে ফেলা

ক্যাকটাসটির কোন অংশ যদি নষ্ট হয়ে যায় বা পচে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয় তবে উক অংশটি সযত্নে কেটে বাদ দিয়ে দিতে হবে। নতুবা উক্ত স্থান থেকে ভালো অংশেও পচন ধরে যাবে। ক্যাকটাসের কোন অংশে যদি ফাংগাসের মতো দেখা দেয়, বাদামী বা কালচে হয়ে আসে তবে বুঝতে হবে উক্ত স্থানে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561448789213.jpg

সরু অংশ রোদে রাখা

ক্যাকটাসের জন্য রোদের আলো অপরিহার্য। ক্যাকটাস যত বাড়তে থাকে, ছড়াতে থাকে তার শাখাপ্রশাখা। অনেক সময় একই টবে ক্যাকটাস অনেক বেশি বড় হয়ে গেলে ক্যাকটাসের ছোট অংশ রোদের আলো ঠিকমতো পায় না। সে অংশগুলোকে রোদের আলো দেওয়ার জন্য বেশি করে রোদের দিকে মুখ করে রাখতে হবে।

মাটি শুষ্ক হলেই পানি

বাড়তি পরিচর্যার ফলে অনেকেই ক্যাকটাসের টবে এক-দুই দিন পরপরেই পানি দিতে থাকেন। এতে করে ক্যাকটাসের গোড়া থেকে পচন ধরে যায়। খেয়াল রাখতে হবে, ক্যাকটাসের টবে মাটি একেবারে শুকিয়ে গেলে তবেই তাতে পানি দিতে হবে। তার আগে নয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561448770099.jpg

বড় টবে স্থানান্তরিত করা

ক্যাকটাস বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ছড়াতে থাকে তার শাখাপ্রশাখা এবং সেই সকল শাখাও বড় হতে থাকে। এভাবে ছোট ক্যাকটাসটিই এক সময় বিশাল আকৃতি ধারণ করে। ক্যাকটাস যত বড় হবে, তার জন্য তত বড় ও প্রশস্ত টবের প্রয়োজন হবে। নতুবা অপর্যাপ্ত স্থানের দরুন ক্যাকটাস ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাবে।

ক্যাকটাসের শরীর পরিষ্কার করা

ক্যাকটাসের শরীর জুড়ে কাঁটা থাকার দরুন এতে খুব সহজেই ধুলা-ময়লা চুল আটকে যায়। ধুলা-ময়লার স্তর পুরু হয়ে গেলে অনেক সময় ক্যাকটাস রোদের আলো শোষণ করে সালোকসংশ্লেষণ করতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই ক্যাকটাসের টবে যেদিন পানি দেওয়া হবে, সেদিন পানির ঝাপটা দিয়ে ক্যাকটাসের পাতা ও শাখাপ্রশাখাগুলো পরিস্কার করে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ঘরে তৈরি সারে সতেজ গাছ

আরও পড়ুন: খোসা ছাড়ানো আলু বাদামি হয়ে যাচ্ছে?

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র