Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

ঈদের ঝামেলা কমবে সঠিক পরিকল্পনাতে

ঈদের ঝামেলা কমবে সঠিক পরিকল্পনাতে
আগে থেকেই পেঁয়াজের বেরেস্তা তৈরি করে রাখুন, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের দিন আসতে হাতে গুণে এক-দুই দিন বাকি মোটে।

ঈদ মানে যেমন আনন্দ, সাজ সাজ রব, ঠিক তেমনিভাবে ঈদ মানেই বাড়তি কাজের চাপ। ঘরদুয়ার গোছগাছ করা, রান্নার আয়োজন করা, মেহমানদের আপ্যায়ন করা, কম কথা নয় কিন্তু।

সবদিক সামাল দিতে স্বাভাবিকভাবেই হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু একটু পরিকল্পনা করে ঈদে দুই দিন হাতে থাকতেই, কয়েকটি কাজ সেরে নিতে পারলে ঝামেলা কমে যাবে অর্ধেকের বেশি। কোন কাজগুলো আজকে দিনের মাঝে করে নিলে ঈদের দিন বেশ খানিকটা রিল্যাক্সে সময় কাটান যাবে, সেটা দেখে নিন।

রান্নাবান্নায় যা আগে থেকে করতে হবে

আজকে দিনের মাঝেই প্রয়োজনীয় সকল মশলার জোগাড় করে রাখুন। সেটা হতে পারে গুঁড়া মশলা, আস্ত মশলা কিংবা বাটা মশলা। প্রয়োজন ও রেসিপি অনুযায়ী যে সকল মশলার গুঁড়া কিংবা বাটা লাগবে, সে মশলা গুলো বেটে ও গুঁড়া করে নিতে হবে। এতে করে ঈদের দিনে রান্নায় অনেক সময় বেঁচে যাবে। সকল মশলা সংগ্রহে থাকলে হাতের কাছে গুছিয়ে রাখুন। নয়তো প্রয়োজনের সময়ে সঠিক মশলা খুঁজতে সময় নষ্ট হবে।

ঈদের রান্নায় অনেক বড় একটি অংশ হল পেঁয়াজের বেরেস্তা। পোলাও, মাংসে দেওয়ার জন্য বেরেস্তা তৈরিতে অনেকটা পরিশ্রম ও সময় নষ্ট হয়। একদিন হাতে রেখেই পর্যাপ্ত পরিমাণ বেরেস্তা তৈরি করে শুকনো বক্সে সংরক্ষণ করা যায়। এতে রান্নায় ঝামেলা কমে যাবে অনেকখানি।

মাছ-মাংস আগে থেকেই কেটে-বেছে রেফ্রিজারেটরে রেখে দিন। প্রয়োজনে মেরিনেট করে রাখুন আগে থেকেই। এতে করে মাংস নরম ও সুস্বাদু হবে।

বটি, ছুরি, চপিং বোর্ড এর মতো রান্নায় প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গগুলো গুছিয়ে রাখতে হবে হাতের কাছে। সেই সাথে বেকিং এর প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গগুলো একসাথে রাখতে হবে। এতে করে ঈদের দিন কোন খাবার বেক করার প্রয়োজন হলে খোঁজাখুঁজি করতে হবে না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/03/1559556880538.jpg

ঘর গোছাতে আগে থেকে যা করতে হবে

ঘর গোছানোর আগে পরিষ্কার করে নিতে হবে। অনেকেই উল্টো কাজটি করেন। ফলে দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়। ঘর পরিষ্কার করার পর থালাবাসন পরিষ্কারে মনোনিবেশ করতে হবে। শোকেসে কাঁচের থালাবাসন ও শোপিসগুলো যেন একদম চকচকে হয়ে যায়, সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে।

অনেকের ঘরেই বড়-ছোট স্টাফড টয় থাকে। দীর্ঘদিন বাইরে থাকার ফলে এতে ময়লার আস্তরণ পড়ে যায়। এ ধরনের পুতুলগুলো পরিষ্কার করে নিতে হবে। নতুবা পরিষ্কার ও গোছানো ঘরের ভেতর খুব বেমানান দেখাবে।

ঘর সাজানোর অনুষঙ্গ হিসেবে ফুলদানি থাকলে তাতে কাগজের হলে পরিষ্কার ও সত্যিকারের হলে ফ্রেশ ফুল রাখার চেষ্টা করুন। ফ্রেশ ফুলের ক্ষেত্রে ঈদের দিনে ফুল রাখতে পারলে ভালো হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/03/1559556931081.jpg

একটা ঘরের সবচেয়ে বড় অংশ নির্ভর করে বিছানা-বালিশের চাদর, দরজা-জানালার পর্দা ও সোফা-কুশনের কভারের উপরে। ঈদ উপলক্ষে অনেকেই দামি ও বিশেষ পর্দা ও চাদর তুলে রাখেন। হাতে সময় নিয়েই এগুলো ব্যবহার করতে হবে। নতুবা ঈদের দিনে এই সকল কাজে প্রচুর সময় নষ্ট হবে।

ওয়াল ম্যাট, ফ্লোর ম্যাটগুলো সময় সুযোগ বুঝে পরিষ্কার করে নিতে হবে। পাশাপাশি দেয়ালে ঝোলান ছবির ফ্রেমগুলোও মুছে নিতে হবে।

ঈদে আয়োজনে এই বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখতে পারলে অধিকাংশ ঝামেলাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: শাক, পেঁয়াজ ও টমেটো কীভাবে সংরক্ষণ করবেন ডিপ ফ্রিজে?

আরও পড়ুন: ছুটি নির্বিঘ্নে কাটাতে বাজার করে ফেলুন আজই!

আপনার মতামত লিখুন :

আঙুরের সাতকাহন 

আঙুরের সাতকাহন 
আঙ্গুর ফল

আঙুর ফলের গোড়াপত্তন শুরু হয়েছে হাজার বছর আগে। সুস্বাদু ও সুমিষ্ট এই ফলের বাহারি রঙের মাত্রায় রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। উচ্চ ভিটামিন সমৃদ্ধ  এই ফল আপনার হার্টকে রাখে সুস্থ।

আঙুরের সাত গুণাবলি--

 

গ্যাস্ট্রিকের প্রদাহ থেকে মুক্তি-

দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রিক থেকে শুরু হয় বাতের ব্যথা। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য। রোগের সূত্রপাত হিসেবে ধরা হয় গ্যাস্ট্রিকের প্রদাহকে। দেহের প্রতিরক্ষাকারী কোষগুলোকে নষ্ট করে, ক্যানসার কিংবা হার্টের রোগে ভোগায় এই প্রদাহ। গবেষণা বলছে, আঙুর হতে পারে গ্যাসের ব্যথার স্থায়ী সমাধান।

২৪ জন পুরুষের মধ্যে চালানো একটি জরিপে দেখা যায়, প্রতিদিন ১.৫ কাপ আঙুরের রস অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণে আঙুরের গুঁড়া শরীরের গ্যাসের প্রদাহকে কমিয়ে দেয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452636554.jpg

বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়-

এক গবেষণায় দেখা যায়, তিন মাস ধরে প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম করে আঙুর ফল ১১১ জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে খাওয়ানোর ফলে তাদের স্মৃতি, মনোযোগ এবং  বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটেছে।

এমনকি প্রতিদিন আঙুর ফল আপনার মেজাজকে রাখে নিয়ন্ত্রণে। পাশাপাশি ব্লাড সুগারের মাত্রাকেও পরিমিত পর্যায়ে রাখতে সাহায্য করে।

হাড়ের ক্ষয় রোধ করে:

হাড়ে লবণের মাত্রাকে ঠিক রেখে ক্ষয়রোধ করতে সাহায্য করে আঙুর ফল। হাড়ে প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452652760.jpg

ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া  ধবংসকারী:

দেহের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ইনফেকশন ঘটায়, এমন ভাইরাস ধ্বংস করতে সাহায্য করে আঙুর ফল। প্রতিদিন খেলে ভিটামিন সি-এর অভাব পূরণ হয়। ফলে মৌসুমি ঠাণ্ডা কাশি কিংবা জ্বর আপনাকে কাবু করতে পারবে না। এমনকি আঙুর ডায়রিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা বৃদ্ধি-

ক্যানসার, হৃদরোগ কিংবা ডায়াবেটিসের মতো রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে আঙুর ফল। বেটাকেরোটিন, লুটিন ,এলাজিক এসিড সমৃদ্ধ এই ফল দীর্ঘস্থায়ী রোগকেও প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452669126.jpg

তারুণ্য ধরে রাখে-

আঙুর ফলের পুষ্টিগুণ তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের বলিরেখা দূর করে আঙুর। স্বাস্থ্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ করে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতেও সাহায্য করে।

আঙুরে প্রোটিন সমৃদ্ধ ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার,  এবং অ্যান্টি অক্সিজেন রয়েছে। সুতরাং তুমি তোমার সকাল কিংবা বিকেলের নাস্তায় রাখতে পারো আঙুর ফল। এমনকি গ্রীষ্মের দিনগুলোতে ঠাণ্ডা আঙুর হতে পারে দারুণ একটা নাস্তা।

সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস

সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস
ক্যাকটাস গাছ, ছবি: সংগৃহীত

ঘরের শোভা বর্ধনের জন্য কিংবা ভালোবেসে, শখের বশে গড়ে তোলা হয় ক্যাকটাসের সংগ্রহ।

নানা প্রজাতির, আকৃতির, ঘরানার ক্যাকটাস প্রীতি বেশি দেখা যায় শহুরে এলাকার মানুষদের মাঝে। ঘরের সাথে লাগোয়া বারান্দায় কিংবা প্রশস্ত জানালা ঘেঁসে ছোট-মাঝারি টবে বানান নিজস্ব ক্যাকটাস বাগান।

সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত দেখাশোনা করা হলে প্রতিটি ক্যাকটাসের গাছ খুব ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। ক্ষেত্র বিশেষে ও বিশেষ প্রজাতির ক্যাকটাসের ক্ষেত্রে ক্যাকটাসে বর্ণীল ফুলের দেখাও দেয়।

তবে সমস্যা হলো- ক্যাকটাস কষ্ট সহিষ্ণু উদ্ভিদ হলেও, অসাবধানতার দরুন ক্যাকটাস মরে যায়। প্রিয় জিনিসটি চোখের সাথে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাওয়া খুবই কষ্টের। যত্নে গড়ে তোলা প্রিয় ক্যাকটাসটির পরিচর্যায় ও যত্নে যে বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখা প্রয়োজন, এখানে তার কয়েকটি আলোচনায় রাখা হলো।

দ্রুত পানি দেওয়া

বেখেয়ালে প্রায় সময় ক্যাকটাসে দীর্ঘদিন পানি দেওয়া হয় না। এতে ক্যাকটাস শুকিয়ে যায়, কুঁচকে যায়, মরমর দেখায়। এমনটা হলে যত দ্রুত সম্ভব গাছে পানি দিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে ক্যাকটাসের টবের নিচের অংশের ছিদ্র দিয়ে বাড়তি পানি যেন বেরিয়ে যেতে পারে। একইসাথে ক্যাকটাসটিকে খোলামেলা আলো ও বাতাসযুক্ত স্থানে রাখতে হবে।

নষ্ট হয়ে যাওয়া অংশ কেটে ফেলা

ক্যাকটাসটির কোন অংশ যদি নষ্ট হয়ে যায় বা পচে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয় তবে উক অংশটি সযত্নে কেটে বাদ দিয়ে দিতে হবে। নতুবা উক্ত স্থান থেকে ভালো অংশেও পচন ধরে যাবে। ক্যাকটাসের কোন অংশে যদি ফাংগাসের মতো দেখা দেয়, বাদামী বা কালচে হয়ে আসে তবে বুঝতে হবে উক্ত স্থানে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561448789213.jpg

সরু অংশ রোদে রাখা

ক্যাকটাসের জন্য রোদের আলো অপরিহার্য। ক্যাকটাস যত বাড়তে থাকে, ছড়াতে থাকে তার শাখাপ্রশাখা। অনেক সময় একই টবে ক্যাকটাস অনেক বেশি বড় হয়ে গেলে ক্যাকটাসের ছোট অংশ রোদের আলো ঠিকমতো পায় না। সে অংশগুলোকে রোদের আলো দেওয়ার জন্য বেশি করে রোদের দিকে মুখ করে রাখতে হবে।

মাটি শুষ্ক হলেই পানি

বাড়তি পরিচর্যার ফলে অনেকেই ক্যাকটাসের টবে এক-দুই দিন পরপরেই পানি দিতে থাকেন। এতে করে ক্যাকটাসের গোড়া থেকে পচন ধরে যায়। খেয়াল রাখতে হবে, ক্যাকটাসের টবে মাটি একেবারে শুকিয়ে গেলে তবেই তাতে পানি দিতে হবে। তার আগে নয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561448770099.jpg

বড় টবে স্থানান্তরিত করা

ক্যাকটাস বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ছড়াতে থাকে তার শাখাপ্রশাখা এবং সেই সকল শাখাও বড় হতে থাকে। এভাবে ছোট ক্যাকটাসটিই এক সময় বিশাল আকৃতি ধারণ করে। ক্যাকটাস যত বড় হবে, তার জন্য তত বড় ও প্রশস্ত টবের প্রয়োজন হবে। নতুবা অপর্যাপ্ত স্থানের দরুন ক্যাকটাস ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাবে।

ক্যাকটাসের শরীর পরিষ্কার করা

ক্যাকটাসের শরীর জুড়ে কাঁটা থাকার দরুন এতে খুব সহজেই ধুলা-ময়লা চুল আটকে যায়। ধুলা-ময়লার স্তর পুরু হয়ে গেলে অনেক সময় ক্যাকটাস রোদের আলো শোষণ করে সালোকসংশ্লেষণ করতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই ক্যাকটাসের টবে যেদিন পানি দেওয়া হবে, সেদিন পানির ঝাপটা দিয়ে ক্যাকটাসের পাতা ও শাখাপ্রশাখাগুলো পরিস্কার করে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ঘরে তৈরি সারে সতেজ গাছ

আরও পড়ুন: খোসা ছাড়ানো আলু বাদামি হয়ে যাচ্ছে?

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র