Alexa

মাখনের বিকল্পে কী ব্যবহার করা যাবে?

মাখনের বিকল্পে কী ব্যবহার করা যাবে?

মাখন খুব বেশি না খাওয়াই স্বাস্থ্যকর, ছবি: সংগৃহীত

আসছে ঈদে রান্নাবান্না হবে বেশ আয়োজন করেই।

রাজকীয় পোলাও-কোর্মা কিংবা কাচ্চি থেকে শুরু করে সকাল বিকালের নাশতার খাবারের জন্যেও থাকবে নানান পদ। নিয়মানুসারে মুখরোচক এই খাবারগুলো তৈরিতে ব্যবহৃত হবে তেল ও মাখন। বিশেষত চায়নিজ ও মেক্সিকান ঘরানার রান্নায় মাখনের ব্যবহার থাকে সবচেয়ে বেশি। মাখন ব্যতীত এই সকল খাবারের আসল স্বাদটা যেন প্রকাশই পায় না।

পরিমিত মাত্রায় মাখন গ্রহণে সমস্যা না থাকলেও, বেশি পরিমাণে মাখন খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুব একটা ভালো নয়। বিশেষত যারা ল্যাকটোস ইনটলারেন্ট (দুধ পরিপাক হয় না), তারা মাখন ও মাখনজাত কোন খাবারই খেতে পারেন না। খাবার তৈরিতে মাখনের বিকল্প হিসেবে যে উপাদানগুলো সহজেই ব্যবহার করা যাবে, তার কয়েকটি আজকের ফিচারে তুলে ধরা হলো।

অলিভ অয়েল

স্বাস্থ্যকর মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ অলিভ অয়েল হলো সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর ও উপকারী একটি প্রাকৃতিক উপাদান। অলিভ অয়েলে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের ভেতর থেকে কাজ করে চুল ও ত্বকের উপকার করে। পাশাপাশি হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতেও কাজ করে। সবজি ভাজা, সবজি সতে করা কিংবা সালাদে ড্রিজিলিং করার জন্যে খুব দারুণ হবে অলিভ অয়েল। চাইলে অন্য যেকোন খাবার ভাজাভুজিতেও স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করা যাবে এই তেলটি।

নারিকেল তেল

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/31/1559302830225.jpg

চুল ও ত্বকের সার্বিক পরিচর্যার পাশাপাশি ভীষণ পরিচিত এই তেলটি ব্যবহার করা যাবে মাখনের পরিবর্তে। চিন্তা নেই, রান্নায় নারিকেল তেল ব্যবহার করা হলে, এটাও মাখনের মতো খাবারে সুস্বাদ যোগ করে।

এবারে জানুন এর উপকারিতা। পর্যাপ্ত পরিমাণ স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকা এটা শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে কাজ করে। এছাড়া নারিকেল তেল গ্রহণে মস্তিষ্ক কাজ করার শক্তি পায়। ফলে হুটহাট ঘুমভাব দেখা দেওয়ার সমস্যাটি কমে যায়।

সাধারণত কোন খাবার বেক করার জন্যে নারিকেল তেল ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। তবে সালাদ তৈরি ও ডিম ভাজার ক্ষেত্রেও নারিকেল তেল ভিন্নমাত্রা যোগ করবে।

ঘি

বাংলাদেশে এমন কোন বাড়ি কি খুঁজে পাওয়া যাবে, যে বাসায় ঘি নেই! তেল না থাকলেও ঘি পাওয়া যাবেই। নিশ্চয় এই তালিকায় ঘিয়ের নাম দেখেই বুঝতে পারছেন, মাখনের পরিবর্তে খুব সুন্দরভাবেই ব্যবহার করা যাবে সুমিষ্ট গন্ধযুক্ত ঘি। মাখনের মতোই ঘন ও ফ্লেভারফুল ঘি ব্যবহারে, মাখনের মতোই বাড়তি স্বাদ যুক্ত হবে খাবারে।

এখানে একটা বিষয় জানিয়ে রাখি। অনেকেই ভাবছেন দুধ থেকেই তো ঘি তৈরি হয় তবে ঘি নিশ্চয় দুগ্ধজাত পণ্য। সেক্ষেত্রে জেনে রাখুন, ঘি সম্পূর্ণ ল্যাকটোস (দুধ) ফ্রি একটি খাদ্য উপাদান। যারা ল্যাকটোস ইনটলারেন্ট, তাড়াও নিশ্চিন্তে ঘি গ্রহণ করতে পারবেন। এমনকি এতে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের প্রদাহ দূর করতেও সাহায্য করে।

সবজি, মাংস কিংবা বেকিং এর ক্ষেত্রে ঘি ব্যবহার করা যাবে খুব সহজেই। খেয়াল রাখতে হবে, খাবারে মাখন যতটুকু ব্যবহার করতে হয়, ঘি তার চাইতে কিছুটা কম পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে।

আরও পড়ুন: মাখন ব্যবহারের চমৎকার চার টিপস

আরও পড়ুন: মাখনের প্যাকেটটি ফেলে দেবেন না!

আপনার মতামত লিখুন :