Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

কোন দেশে কী খেয়ে দিন শুরু হয়

কোন দেশে কী খেয়ে দিন শুরু হয়
সুইজারল্যান্ডের ব্রেকফাস্ট, ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সংস্কৃতি ভেদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সকালের নাস্তা হয়ে থাকে বিভিন্ন রকম। চলুন জেনে নেওয়া যাক উন্নত, অনুন্নত ও উন্নয়নশীল কয়েকটি দেশের মানুষ কী খেয়ে দিন শুরু করেন।

সুইজারল্যান্ড
অন্যতম উন্নত এই দেশে ব্রেকফাস্টে সাধারণত বিরচুরেমুসেলি (birchermüesli) নামক ঐতিহ্যবাহী একটি খাবার খাওয়া হয়। এটি মূলত ফলমূল ও বাদামের সাথে জইয়ের (oats) মিশ্রন। এটি ঘন দইয়ের সাথে পরিবেশন করা হয়।

তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে এদেশের মানুষ ব্রেকফাস্ট না করে বেশ বেলা করে সকাল ও দুপুরের খাবার একবারে খায়। এদিন রোস্তেয়ি (আলুর প্যানকেক), পনির এবং টেবিলের মাঝখানে থাকে জোফ (zopf)। এটি ডিম-পাউরুটি বিশেষ একটি খাবার, যা অনেকটাই রুটির মত। এই খাবার মধু, মাখন ও জ্যামের সাথে খাওয়া হয়।

ইথিওপিয়া
আফ্রিকার এই দেশে সাধারণত জাও খেয়ে দিন শুরু করা হয়। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নামে ও ভাবে ভুট্টদানা খাওয়া হয়। এর মধ্যে জেনফো (genfo) অন্যতম।

Ethiopia-Breakfast

এটি হচ্ছে সেদ্ধ আটার ঘন মিশ্রন, যা পরে দলা পাকানো হয়। এটির মাঝখানে খানিকটা জায়গা রাখা হয়, যার মধ্যে মাখন ও বিভিন্ন মসলা দেওয়া হয়। মাঝে মাঝে এটির চারপাশে দই রেখে পরিবেশন করা হয়।

জাপান
দিনের অন্যান্য খাবরের চেয়ে জাপানি ব্রেকফাস্টের রকম ও রস কমে গেছে। বেশিরভাগ সকালেই তারা ঐতিহ্যবাহী খাবরের কিছু খেয়ে দিন শুরু করেন। বিভিন্ন মাছ যেমন স্যালমন, ম্যাকরল, মিসো স্যুপ, লবণ মিশ্রিত সবজি এবং ভাত রয়েছে এই তালিকায়। তবে মিষ্টি দিয়ে পাতলা করে ডিম ভাজিও বেশ জনপ্রিয়।

অস্ট্রেলিয়া
বিভিন্ন শস্য, আভাকাডো, সুস্বাদু টোস্ট এবং দেশটির ক্যাফে কালচারের নানা আইটেম থাকে অস্ট্রেলীয় ব্রেকফাস্টে। স্থানীয়ভাবে ব্রেকি (brekkie) নামে পরিচিত তাদের সকালের নাস্তা স্বর্গীয় বলে মনে হতে পারে!

Australian-breakfasts

এদেশের দিন শুরু হয় তরতাজা শস্য এবং পুষ্টি সমন্বয় করে তৈরি খাবার দিয়ে। গম জাতীয় শস্য, ডিম ও মসলাযুক্ত সবজি এবং ভাতও খাওয়া হয়। এগুলো ফল দিয়ে পরিবেশিত হয়। সাথে দৈনিক দুধ পান ভোলেন না দেশটির নাগরিকরা।

আর্জেন্টিনা
মেডিয়ালুনাস (medialunas), পেস্ট্রি, বোম্বাস (bombas) ও বোলাস ডি ফ্রেইলি (bolas de fraille) এদেশের জনপ্রিয় ব্রেকফাস্ট আইটেম। ডোনাট ও ঘন চকলেটও কম প্রচলিত না। অনেকে পেস্ট্রি ক্রিম ও ভ্যানিলার কাস্টারও খেয়ে থাকেন। তবে সব খাবারের সাথে এক কাপ কফি থাকবেই।

যুক্তরাষ্ট্র
বাটারমিল্ক মার্কিন মুল্লুকের বহুল প্রচলিত ব্রেকফাস্ট। সাথে থাকে মচমচে করে ভাজা শুকরের মাংস। কিছুটা লবণাক্ত ও সুমিষ্ট এই নাস্তা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে খুব প্রিয়। এটিকে আরও সুস্বাদু করে তোলার জন্য অনেক সময় চকলেট, মাখন ইত্যাদি দিয়ে পরিবেশন করা হয়।

American-breakfasts

রাশিয়া
সামুদ্রিক মাছের ডিম বা ক্যাভিয়ার হলো পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এই দেশটির প্রধান ব্রেকফাস্ট। আর সাপ্তাহিক ছুটির দিনে লাল বা কালো রঙের ক্যাভিয়ার নানাভাবে ওলাদি প্যানকেক (oladyi pancakes) আকারে খাওয়া হয়।

স্থানীয় সুমিষ্ট রাই রুটি (rye bread) দিয়েও খাওয়া হয় ক্যাভিয়ার। অনেক সময় মাখন দিয়ে মাখিয়েও খাওয়া হয় এটি। তবে প্রতিদিনের নাস্তার সাথে ব্ল্যাক টি অবশ্যই থাকে রাশিয়ানদের ব্রেকফাস্টে।

সূত্র: সিএনএন

আরও পড়ুন: দশ দেশের দশ ‘ঐতিহ্যবাহী’ খাবার

আরও পড়ুন: পৃথিবী বিখ্যাত পাঁচ ব্যয়বহুল কফি!

আপনার মতামত লিখুন :

আঙুরের সাতকাহন 

আঙুরের সাতকাহন 
আঙ্গুর ফল

আঙুর ফলের গোড়াপত্তন শুরু হয়েছে হাজার বছর আগে। সুস্বাদু ও সুমিষ্ট এই ফলের বাহারি রঙের মাত্রায় রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। উচ্চ ভিটামিন সমৃদ্ধ  এই ফল আপনার হার্টকে রাখে সুস্থ।

আঙুরের সাত গুণাবলি--

 

গ্যাস্ট্রিকের প্রদাহ থেকে মুক্তি-

দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রিক থেকে শুরু হয় বাতের ব্যথা। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য। রোগের সূত্রপাত হিসেবে ধরা হয় গ্যাস্ট্রিকের প্রদাহকে। দেহের প্রতিরক্ষাকারী কোষগুলোকে নষ্ট করে, ক্যানসার কিংবা হার্টের রোগে ভোগায় এই প্রদাহ। গবেষণা বলছে, আঙুর হতে পারে গ্যাসের ব্যথার স্থায়ী সমাধান।

২৪ জন পুরুষের মধ্যে চালানো একটি জরিপে দেখা যায়, প্রতিদিন ১.৫ কাপ আঙুরের রস অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণে আঙুরের গুঁড়া শরীরের গ্যাসের প্রদাহকে কমিয়ে দেয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452636554.jpg

বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়-

এক গবেষণায় দেখা যায়, তিন মাস ধরে প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম করে আঙুর ফল ১১১ জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে খাওয়ানোর ফলে তাদের স্মৃতি, মনোযোগ এবং  বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটেছে।

এমনকি প্রতিদিন আঙুর ফল আপনার মেজাজকে রাখে নিয়ন্ত্রণে। পাশাপাশি ব্লাড সুগারের মাত্রাকেও পরিমিত পর্যায়ে রাখতে সাহায্য করে।

হাড়ের ক্ষয় রোধ করে:

হাড়ে লবণের মাত্রাকে ঠিক রেখে ক্ষয়রোধ করতে সাহায্য করে আঙুর ফল। হাড়ে প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452652760.jpg

ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া  ধবংসকারী:

দেহের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ইনফেকশন ঘটায়, এমন ভাইরাস ধ্বংস করতে সাহায্য করে আঙুর ফল। প্রতিদিন খেলে ভিটামিন সি-এর অভাব পূরণ হয়। ফলে মৌসুমি ঠাণ্ডা কাশি কিংবা জ্বর আপনাকে কাবু করতে পারবে না। এমনকি আঙুর ডায়রিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা বৃদ্ধি-

ক্যানসার, হৃদরোগ কিংবা ডায়াবেটিসের মতো রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে আঙুর ফল। বেটাকেরোটিন, লুটিন ,এলাজিক এসিড সমৃদ্ধ এই ফল দীর্ঘস্থায়ী রোগকেও প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452669126.jpg

তারুণ্য ধরে রাখে-

আঙুর ফলের পুষ্টিগুণ তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের বলিরেখা দূর করে আঙুর। স্বাস্থ্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ করে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতেও সাহায্য করে।

আঙুরে প্রোটিন সমৃদ্ধ ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার,  এবং অ্যান্টি অক্সিজেন রয়েছে। সুতরাং তুমি তোমার সকাল কিংবা বিকেলের নাস্তায় রাখতে পারো আঙুর ফল। এমনকি গ্রীষ্মের দিনগুলোতে ঠাণ্ডা আঙুর হতে পারে দারুণ একটা নাস্তা।

সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস

সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস
ক্যাকটাস গাছ, ছবি: সংগৃহীত

ঘরের শোভা বর্ধনের জন্য কিংবা ভালোবেসে, শখের বশে গড়ে তোলা হয় ক্যাকটাসের সংগ্রহ।

নানা প্রজাতির, আকৃতির, ঘরানার ক্যাকটাস প্রীতি বেশি দেখা যায় শহুরে এলাকার মানুষদের মাঝে। ঘরের সাথে লাগোয়া বারান্দায় কিংবা প্রশস্ত জানালা ঘেঁসে ছোট-মাঝারি টবে বানান নিজস্ব ক্যাকটাস বাগান।

সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত দেখাশোনা করা হলে প্রতিটি ক্যাকটাসের গাছ খুব ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। ক্ষেত্র বিশেষে ও বিশেষ প্রজাতির ক্যাকটাসের ক্ষেত্রে ক্যাকটাসে বর্ণীল ফুলের দেখাও দেয়।

তবে সমস্যা হলো- ক্যাকটাস কষ্ট সহিষ্ণু উদ্ভিদ হলেও, অসাবধানতার দরুন ক্যাকটাস মরে যায়। প্রিয় জিনিসটি চোখের সাথে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাওয়া খুবই কষ্টের। যত্নে গড়ে তোলা প্রিয় ক্যাকটাসটির পরিচর্যায় ও যত্নে যে বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখা প্রয়োজন, এখানে তার কয়েকটি আলোচনায় রাখা হলো।

দ্রুত পানি দেওয়া

বেখেয়ালে প্রায় সময় ক্যাকটাসে দীর্ঘদিন পানি দেওয়া হয় না। এতে ক্যাকটাস শুকিয়ে যায়, কুঁচকে যায়, মরমর দেখায়। এমনটা হলে যত দ্রুত সম্ভব গাছে পানি দিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে ক্যাকটাসের টবের নিচের অংশের ছিদ্র দিয়ে বাড়তি পানি যেন বেরিয়ে যেতে পারে। একইসাথে ক্যাকটাসটিকে খোলামেলা আলো ও বাতাসযুক্ত স্থানে রাখতে হবে।

নষ্ট হয়ে যাওয়া অংশ কেটে ফেলা

ক্যাকটাসটির কোন অংশ যদি নষ্ট হয়ে যায় বা পচে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয় তবে উক অংশটি সযত্নে কেটে বাদ দিয়ে দিতে হবে। নতুবা উক্ত স্থান থেকে ভালো অংশেও পচন ধরে যাবে। ক্যাকটাসের কোন অংশে যদি ফাংগাসের মতো দেখা দেয়, বাদামী বা কালচে হয়ে আসে তবে বুঝতে হবে উক্ত স্থানে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561448789213.jpg

সরু অংশ রোদে রাখা

ক্যাকটাসের জন্য রোদের আলো অপরিহার্য। ক্যাকটাস যত বাড়তে থাকে, ছড়াতে থাকে তার শাখাপ্রশাখা। অনেক সময় একই টবে ক্যাকটাস অনেক বেশি বড় হয়ে গেলে ক্যাকটাসের ছোট অংশ রোদের আলো ঠিকমতো পায় না। সে অংশগুলোকে রোদের আলো দেওয়ার জন্য বেশি করে রোদের দিকে মুখ করে রাখতে হবে।

মাটি শুষ্ক হলেই পানি

বাড়তি পরিচর্যার ফলে অনেকেই ক্যাকটাসের টবে এক-দুই দিন পরপরেই পানি দিতে থাকেন। এতে করে ক্যাকটাসের গোড়া থেকে পচন ধরে যায়। খেয়াল রাখতে হবে, ক্যাকটাসের টবে মাটি একেবারে শুকিয়ে গেলে তবেই তাতে পানি দিতে হবে। তার আগে নয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561448770099.jpg

বড় টবে স্থানান্তরিত করা

ক্যাকটাস বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ছড়াতে থাকে তার শাখাপ্রশাখা এবং সেই সকল শাখাও বড় হতে থাকে। এভাবে ছোট ক্যাকটাসটিই এক সময় বিশাল আকৃতি ধারণ করে। ক্যাকটাস যত বড় হবে, তার জন্য তত বড় ও প্রশস্ত টবের প্রয়োজন হবে। নতুবা অপর্যাপ্ত স্থানের দরুন ক্যাকটাস ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাবে।

ক্যাকটাসের শরীর পরিষ্কার করা

ক্যাকটাসের শরীর জুড়ে কাঁটা থাকার দরুন এতে খুব সহজেই ধুলা-ময়লা চুল আটকে যায়। ধুলা-ময়লার স্তর পুরু হয়ে গেলে অনেক সময় ক্যাকটাস রোদের আলো শোষণ করে সালোকসংশ্লেষণ করতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই ক্যাকটাসের টবে যেদিন পানি দেওয়া হবে, সেদিন পানির ঝাপটা দিয়ে ক্যাকটাসের পাতা ও শাখাপ্রশাখাগুলো পরিস্কার করে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ঘরে তৈরি সারে সতেজ গাছ

আরও পড়ুন: খোসা ছাড়ানো আলু বাদামি হয়ে যাচ্ছে?

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র