Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

গরমে ঠান্ডার সমস্যা এড়াতে করণীয়

গরমে ঠান্ডার সমস্যা এড়াতে করণীয়
গরমকালেও নানা কারণে দেখা দিতে পারে ঠান্ডাজনিত সমস্যা, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

ঠান্ডার সমস্যাটি শুধু শীতকাল কিংবা বর্ষাকালে নয়, দেখা দেয় গ্রীষ্মকালেও।

যদিও শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়ার দরুন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস তুলনামূলক দ্রুত ছড়িয়ে থাকে বলেই শীতকালে ঠান্ডার সমস্যার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়, গরমেও ঠান্ডার সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে নানান কারণে।

প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ার দরুন শরীরে তুলনামূলক বেশি ঘাম হয়। বারংবার ঘাম হওয়া ও ঘাম শরীরে শুকিয়া যাওয়া ও অন্যান্য অনিয়মের ফলে সহজেই ঠান্ডার সমস্যায় আক্রান্ত হতে হয়। গরমে ঠান্ডার সমস্যা এড়াতে যা জানা প্রয়োজন এখানে তুলে ধরা হলো।

গরম আবহাওয়া থেকে অতিরিক্ত ঠান্ডা স্থানে যাওয়া

গরম আবহাওয়ায় বাইরে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটলে শরীর ঘেমে যায়। ঘর্মাক্ত অবস্থায় এয়ার কন্ডিশন্ড স্থানে যাওয়া ও সেখানে দীর্ঘসময় থাকার অভ্যাসটি পরিহার করতে হবে। এতে করে ঘাম শরীরে স্বাভাবিক না শুকিয়ে ঠান্ডা হয়ে শুকায়। যা ঠান্ডার সমস্যাটি তৈরি করার জন্য দায়ী। চেষ্টা করতে হবে ফ্যানের শুকনো বাতাসে ঘাম শুকিয়ে নেওয়ার। এতে ঠান্ডার প্রকোপ দেখা দেওয়ার সম্ভবনা থাকে না।

অতিরিক্ত শীতল পানি পরিহার করা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/15/1557904491092.jpg
অতিরিক্ত শীতল পানি পান করার অভ্যাসটি পরিহার করতে হবে

 

গরমে স্বাভাবিকভাবেই প্রবল পিপায় শীতল পানি পান করতে ইচ্ছা করবে। এতেই দেখা দেয় বিপত্তি। অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ার মাঝে বরফ দেওয়া শীতল পানি পানের ফলে দেখা দেয় অসামঞ্জস্যতা। শরীর গরম আবহাওয়ার মাঝে শীতল পানি গ্রহণে প্রস্তুত থাকে না বলে, এ সময়ে শরীর খুবই নাজুক অবস্থায় থাকে। যার দরুন সহজেই ঠান্ডার সমস্যাটি দেখা দেয়।

পোশাক বদলে ফেলা

হরমোনজনিত ও বংশগতভাবে অনেকেই হালকা গরম আবহাওয়াতেও অন্যান্যদের চাইতে তুলনামূলক বেশি ঘামেন। যার দরুন খুব অল্প সময়ের মাঝেই পুরো পোশাক ঘামে ভিজে ওঠে। এমন অবস্থায় চেষ্টা করতে হবে যতদ্রুত সম্ভব পোশাকটি বদলে ফেলতে। অতিরিক্ত ভেজা পোশাক দীর্ঘসময় গায়ে পরে থাকলে ঠান্ডার সমস্যাটি এড়ানো কষ্টকর হয়ে যাবে।

নিয়মিত হাত পরিষ্কার করা

শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের মাঝে তফাৎ রয়েছে। এমনকি তাদের বিস্তারের প্রক্রিয়াতেও রয়েছে ফারাক। গ্রীষ্মকালীন ঠান্ডা এড়াতে নিয়মিত হাত পরিষ্কারের অভ্যাসটি ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে। বিশেষ করে কোন কিছু খাওয়ার আগে অবশ্যই হাত ধুয়ে নিতে হবে।

অ্যালার্জির সমস্যা সম্পর্কে অবগত হতে হবে

গ্রীষ্মকালে বহু ধরনের অ্যালার্জির সমস্যা থেকেও ঠান্ডার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ডাস্ট অ্যালার্জি, সান অ্যালার্জি, পোলেন অ্যালার্জির মতো শুষ্ক আবহাওয়ার অ্যালার্জির সমস্যা বেড়ে যায় গ্রীষ্মকালে। এই ধরনের অ্যালার্জির সমস্যা সম্পর্কে অবগত হতে হবে এবং সেইরূপ চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

আগের ভাইরাস শরীরে থেকে যাওয়া

অনেকেরই ক্রনিক ঠান্ডাজনিত সমস্যা থাকে। ফলে একবার ঠান্ডার সমস্যা দেখা দিলে তার রেশ রয়ে যায় অনেকদন পর্যন্ত। শীতকালে ঠান্ডার সমস্যাটি অনেক সময় প্রলম্বিত হয়ে গরম সময়েও চলে আসে। কিছুক্ষেত্রে তার লক্ষণ স্পষ্ট হয়, কিছুক্ষেত্র তা লুকায়িত থাকে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে ও নিয়ম মানতে হবে।

আরও পড়ুন: রোজায় মাথাব্যথার সমস্যাটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে?

আরও পড়ুন: আর নয় একই তেলে বারবার খাবার ভাজা

আপনার মতামত লিখুন :

খালি পেটে কফি পান নয়

খালি পেটে কফি পান নয়
ছবি: সংগৃহীত

বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই, কফির সুঘ্রাণ ও সুস্বাদের সাথে দিনের শুরু হওয়া অনেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক যেন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, কোন খাবার না খেয়েই কফির পেয়ালায় চুমুক বসান। কিন্তু একদম খালি পেটে কফি পান করা কতটা উপকারী? খালি পেটে কফি পানে কি তার উপকারিতাগুলো শরীর পরিপূর্ণভাবে পায়?

উত্তরে বলতে হবে, না। একদম খালি পেটে নয়, কফি পান করতে হবে হালকা কোন খাবার খাওয়ার পরেই। একদম খালি পেটে কফি পানের ফলে শরীরে কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কর্টিসল শরীরের মেটাবলিজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563462138926.jpg

এখন প্রশ্ন হলো, কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কি সমস্যা হবে? এখানে উত্তরে বলতে হবে, হ্যাঁ। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খালি পেটে কফি পানের ফলে কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ তৈরি করে ও বাড়িয়ে দেয়।

এতে করে খুব দ্রুত মুড বদলে যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়া কফি পাকস্থলিস্থ অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। যা অ্যাসিডিক প্রভাব তৈরি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

নিজেকে চাঙা রাখতে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও কফির উপকারিতাগুলো পেতে চাইলে সকালে নাশতা সেরে অথবা হালকা কিছু খেয়ে তবেই কফি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক কফি পানে ওজন কমে?

আরও পড়ুন: কতটুকু কফি পান নিরাপদ?

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
পানি জমলেই জন্ম নেবে মশা, ছবি: সংগৃহীত

মায়ের শীতল হাতের ছোঁয়া আর মমতামাখা ভালোবাসার চাদর জড়িয়েও কমানো যাচ্ছে না তিন বছর বয়সী ঐশীর জ্বর। হাসপাতালের বারান্দায় স্থান হয়েছে ঐশীর, অথচ মা কখনো তাকে খালি পায়ে মেঝেতে নামতে দিত না। ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে আসছে ঐশীর চেহারা, মাঝে মাঝে বমি করছে। অস্থির মা বারবার ছুটে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। মেয়ের পাশে অসহায় পিতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, বেদনায় পাণ্ডুর মুখ কিন্তু কাঁদতে পারছে না মেয়ের কষ্ট দেখে।

অথচ মায়ের সচেতনতার কমতি ছিলো না কিছুতেই। জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলে তিনিও সচেতন হয়ে উঠেন। সকাল সন্ধ্যা স্প্রে এবং সন্তান ঘুমালে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া তার আহার্যের মত নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। কিন্তু সাধের বারান্দাতে বাহারি ফুল গাছের সম্ভার তৈরি করেছিলেন। সেখানেই জন্ম নেয় ঘাতক এডিস মশা।

সেক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অ্যারোসল স্প্রে বা মশার কয়েলের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে মশারি। দুপুরের ভাতঘুমে আলসেমি করে মশারি ব্যবহার করে না অনেকেই। এই প্রথার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সাথে সন্ধ্যায় হতেই বন্ধ করে দিতে হবে জানাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563457264592.jpg

শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। নিজের ঘর ও উঠান থেকে শুরু করতে হবে পরিচ্ছন্নতা। কোন স্থানে কিছুতেই জমতে দেওয়া যাবে না পানি। জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যাক্ত ড্রাম, ফেলে দেওয়া বোতল, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে এক বা দুই দিনের জমে যাওয়া পানিতে জন্ম নেয় মশার লার্ভা। আর এক সপ্তাহের ভেতর হয়ে উঠে ঘাতক।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এডিস মশাবাহী ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। ৯৩ জন মারা যায় সেবার। সকলে সচেতন হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।

কিন্তু গত বছর থেকে আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু জ্বর। সরকারি হিসাবমতে গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর মাঝে মারা যায় ২৬ জন।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর একটু ভিন্ন। শক্তিশালী স্টেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত তৃতীয় প্রজাতির এডিস মশা ছড়াচ্ছে। জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ৫ মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ইতোমধ্য সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার সহাস্রাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারা গিয়েছে তিন জন। বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুন বেশি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিগতবার থেকে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেমন বেশি তেমনি রয়েছে ভিন্নতা। আগে ডেঙ্গু জ্বর হলে মাথা ব্যথা, চোখের পেছন অংশে ব্যথা হত। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন, ধরতেও সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

তাই সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিস, লিভার, কিডনী ও রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হলে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্য রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। বেশি করে পানি ও তরলজাত খাবার দিতে হবে রোগীকে।

এছাড়া এসপেরিন বা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেতে হবে। পান করতে হবে ডাবের পানি ও স্যালাইন।

সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন কিছু নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র