Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পালং শাকের সাত উপকারিতা

পালং শাকের সাত উপকারিতা
ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখবে পালং শাক, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

রমজান মাসে খাদ্যাভাসের সময়ে কিছুটা পরিবর্তন আসার ফলে, খাদ্য তালিকাতেও চলে আসে বড়সড় পরিবর্তন।

এই পরিবর্তের ফলে সবজি-শাক খাওয়ার পরিমাণ কমে যায় অনেকটা। যার ফলে খাদ্য পরিপাকজনিত অথবা কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের মতো সমস্যাগুলো দেখা দিয়ে থাকে অহরহ। 

এমন ধরনের সমস্যা তো বটেই রমজান মাসসহ পুরো বছর জুড়ে সুস্থ থাকতে খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে পালং শাক। উপকারী এই প্রাকৃতিক উপাদানটির সাতটি মূল উপকারিতা তুলে ধরা হলো।  

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে

অবিশ্বাস্য কম মাত্রার কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ পালং শাক ডায়বেটিস আক্রান্ত রোগীদের জন্য সুপার ফুড হিসেবে ধরা হয়। এতে CHO এর মাত্রা কম থাকায় আধা কাপ শাক থেকে পাওয়া যাবে নামমাত্র পরিমাণ গ্লাইসেমিক লোড। রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রতিবেলার খাবারে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের মাত্রা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা আঁশ রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

চোখের জন্য উপকারী

পালং শাকে থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণ বেটা ক্যারোটিন, লুটেইন ও জ্যানথিন চোখের জন্য ভীষণ উপকারী। এই উপাদানগুলো চোখনে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন তথা দুর্বল দৃষ্টিশক্তির সমস্যা থেকে প্রতিরোধে কাজ করে। এছাড়া চোখের ভেতর জ্বালাপোড়া ও চোখ ফুলে যাওয়ার সমস্যাগুলো কমাতেও ভূমিকা রাখে পালং শাক।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557735565734.jpg
চোখ সুস্থ রাখবে পালং শাক

 

সাহায্য করে ওজন কমাতে

ওজন কমানোর জন্য পুরো ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ কমাতে চাইলে খাদ্যাভাসে নিম্নমাত্রার ক্যালোরিযুক্ত খাবার রাখার চেষ্টা করতে হবে। উচ্চমাত্রার ক্যালোরিযুক্ত খাবারের পরিবর্তে নিম্নমাত্রার ক্যালোরিযুক্ত খাবার রাখতে হবে তালিকায় এবং কম ক্যালোরিযুক্ত খাবারের মাঝে পালং শাক অনন্য। দেড় কাপ পালং শাক থেকে পাওয়া যাবে ২৬ ক্যালোরি। যা রীতিমত অবিশ্বাস্য।

লোহিত রক্ত কণিকা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে

আমাদের শরীরে নতুন কোষ, বিশেষ করে লোহিত রক্ত কণিকা তৈরিতে অবদান রাখে পালং শাকে থাকা ফলেট তথা ভিটামিন-বি৯। এছাড়াও ডিএনএর পরিবর্তন প্রতিরোধ করে এই ভিটামিন। যা ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে। মাথা ঘোরার সমস্যা, বমিভাব দেখা দিলে কিংবা ত্বকের সমস্যায় আমরা ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খেয়ে থাকি। অথচ ফলেট সমৃদ্ধ পালং শাক নিয়মতি খেলে এই সমস্যাগুলোও এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।

মস্তিষ্ক ও নার্ভাস সিস্টেমের সুস্থতায়

বেশিরভাগ প্রাকৃতিক শাক-সবজিই ভিটামিন-বি৬ সমৃদ্ধ। যা নার্ভাস সিস্টেমকে সুস্থ রাখতে কাজ করে। এছাড়া এতে থাকা পটাশিয়াম মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল, মনোযোগ ও মস্তিষ্কের জ্ঞানীয় কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সবুজ শাকের মধ্যে পালং শাক থেকে পাওয়া যায় নায়াসিন। যা সামগ্রিকভাবে মস্তিষ্কের সুস্থতায় অবদান রাখে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557735670717.jpg
পালং শাকে ভালো থাকে হৃদযন্ত্র 

 

ভালো রাখে হৃদযন্ত্র

উপকারী এই খাদ্য উপাদানে থাকা ফলিক অ্যাসিড হোমোসিস্টেন এর মাত্রা কমাতে কাজ করে, যা হৃদরোগ তৈরির জন্য দায়ী। পালং শাকে রয়েছে লুটেইন (Lutein) নামক এক প্রকারের বিশেষ পিগমেন্ট। যা হৃদযন্ত্র সম্পর্কিত সমস্যা প্রতিরোধে কাজ করে। এটা একইসাথে খারাপ কোলেস্টেরলের (LDL) ও ফ্যাটের মাত্রা কমায়।

শক্তি প্রদান করে

ভাবুন তো একবার শাক থেকে যদি শারীরিক শক্তি পাওয়া যায়, তবে কেমন হয়! পালং শাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন বি১ ও থায়ামিন থাকে, যা গ্লুকোজ মেটাবলিজমের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এছাটা এটা অন্যান্য খাদ্য উপাদান থেকে শক্তি সঞ্চিত করে এটিপি (Adenosine Triphosphate) এ রূপান্তরিত করে। এছাড়া রিবোফ্লাভিন খ্যাত ভিটামিন-বি২ শরীরে শক্তি উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন: অজানা গুণে ভরপুর সহজলভ্য লাউ

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য উপকারিতায় কার্পণ্যহীন করলা

আপনার মতামত লিখুন :

খালি পেটে কফি পান নয়

খালি পেটে কফি পান নয়
ছবি: সংগৃহীত

বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই, কফির সুঘ্রাণ ও সুস্বাদের সাথে দিনের শুরু হওয়া অনেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক যেন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, কোন খাবার না খেয়েই কফির পেয়ালায় চুমুক বসান। কিন্তু একদম খালি পেটে কফি পান করা কতটা উপকারী? খালি পেটে কফি পানে কি তার উপকারিতাগুলো শরীর পরিপূর্ণভাবে পায়?

উত্তরে বলতে হবে, না। একদম খালি পেটে নয়, কফি পান করতে হবে হালকা কোন খাবার খাওয়ার পরেই। একদম খালি পেটে কফি পানের ফলে শরীরে কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কর্টিসল শরীরের মেটাবলিজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563462138926.jpg

এখন প্রশ্ন হলো, কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কি সমস্যা হবে? এখানে উত্তরে বলতে হবে, হ্যাঁ। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খালি পেটে কফি পানের ফলে কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ তৈরি করে ও বাড়িয়ে দেয়।

এতে করে খুব দ্রুত মুড বদলে যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়া কফি পাকস্থলিস্থ অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। যা অ্যাসিডিক প্রভাব তৈরি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

নিজেকে চাঙা রাখতে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও কফির উপকারিতাগুলো পেতে চাইলে সকালে নাশতা সেরে অথবা হালকা কিছু খেয়ে তবেই কফি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক কফি পানে ওজন কমে?

আরও পড়ুন: কতটুকু কফি পান নিরাপদ?

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
পানি জমলেই জন্ম নেবে মশা, ছবি: সংগৃহীত

মায়ের শীতল হাতের ছোঁয়া আর মমতামাখা ভালোবাসার চাদর জড়িয়েও কমানো যাচ্ছে না তিন বছর বয়সী ঐশীর জ্বর। হাসপাতালের বারান্দায় স্থান হয়েছে ঐশীর, অথচ মা কখনো তাকে খালি পায়ে মেঝেতে নামতে দিত না। ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে আসছে ঐশীর চেহারা, মাঝে মাঝে বমি করছে। অস্থির মা বারবার ছুটে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। মেয়ের পাশে অসহায় পিতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, বেদনায় পাণ্ডুর মুখ কিন্তু কাঁদতে পারছে না মেয়ের কষ্ট দেখে।

অথচ মায়ের সচেতনতার কমতি ছিলো না কিছুতেই। জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলে তিনিও সচেতন হয়ে উঠেন। সকাল সন্ধ্যা স্প্রে এবং সন্তান ঘুমালে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া তার আহার্যের মত নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। কিন্তু সাধের বারান্দাতে বাহারি ফুল গাছের সম্ভার তৈরি করেছিলেন। সেখানেই জন্ম নেয় ঘাতক এডিস মশা।

সেক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অ্যারোসল স্প্রে বা মশার কয়েলের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে মশারি। দুপুরের ভাতঘুমে আলসেমি করে মশারি ব্যবহার করে না অনেকেই। এই প্রথার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সাথে সন্ধ্যায় হতেই বন্ধ করে দিতে হবে জানাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563457264592.jpg

শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। নিজের ঘর ও উঠান থেকে শুরু করতে হবে পরিচ্ছন্নতা। কোন স্থানে কিছুতেই জমতে দেওয়া যাবে না পানি। জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যাক্ত ড্রাম, ফেলে দেওয়া বোতল, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে এক বা দুই দিনের জমে যাওয়া পানিতে জন্ম নেয় মশার লার্ভা। আর এক সপ্তাহের ভেতর হয়ে উঠে ঘাতক।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এডিস মশাবাহী ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। ৯৩ জন মারা যায় সেবার। সকলে সচেতন হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।

কিন্তু গত বছর থেকে আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু জ্বর। সরকারি হিসাবমতে গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর মাঝে মারা যায় ২৬ জন।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর একটু ভিন্ন। শক্তিশালী স্টেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত তৃতীয় প্রজাতির এডিস মশা ছড়াচ্ছে। জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ৫ মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ইতোমধ্য সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার সহাস্রাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারা গিয়েছে তিন জন। বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুন বেশি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিগতবার থেকে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেমন বেশি তেমনি রয়েছে ভিন্নতা। আগে ডেঙ্গু জ্বর হলে মাথা ব্যথা, চোখের পেছন অংশে ব্যথা হত। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন, ধরতেও সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

তাই সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিস, লিভার, কিডনী ও রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হলে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্য রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। বেশি করে পানি ও তরলজাত খাবার দিতে হবে রোগীকে।

এছাড়া এসপেরিন বা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেতে হবে। পান করতে হবে ডাবের পানি ও স্যালাইন।

সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন কিছু নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র