Alexa

মা হোক ভালোবাসার, সারা বছরের 

মা হোক ভালোবাসার, সারা বছরের 

মা হোক বন্ধুর মতো, ছবি: সংগৃহীত

মা কথাটি অতি ছোট শব্দ হলেও এর পরিধি বিশাল। মাত্র এক অক্ষরের শব্দটি আমাদের যেভাবে তৃপ্ত করতে পারে, আর কিছু তা পারে না। চিরন্তন একটি আশ্রয়ের নাম হলো মা। এই মা শব্দের মধ্যে লুকিয়ে আছে মুঠোভরা স্নেহ, মমতা আর অকৃত্রিম স্নেহ। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এই মা, মায়ের বৈশিষ্ট্য আর ভালোবাসা কখনো বদলায় না।

মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্যেই বছরের একটা বিশেষ দিন দিন পালিত হয় পায়ের জন্য। সেটা হলো বিশ্ব মা দিবস। পুরো বিশ্বে দিবসটি পালিত হয় মায়ের প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে দিয়ে। তবে মায়ের প্রতি ভালোবাসা কোনো বিশেষ দিবসে সীমাবদ্ধ না থাকুক। মায়েদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা প্রতিটি দিনের, প্রতিটি মুহূর্তের।

মাকে একদিনের জন্য নয়, প্রতিদিন ও সার্বক্ষণিকভাবে ভালোবাসতে হবে। তারপরেও আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তত একটা দিন মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রকাশের সুযোগ এই মা দিবসে আসে। মা শাশ্বত, মা চিরন্তন। শিশুরা প্রথম ডাকতে শেখে তার মাকেই।

মা ডাকের মধ্যেই কেমন একটা আদর লুকানো থাকে। মা মানে অনুভূতি আর আবেগ। জননী, গর্ভধারিণী, মাতা- যেটাই বলি না কেন, মা বললেই যেন সবচেয়ে বেশি সুখ।

যুগ যুগ ধরে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে মা দিবস। কিন্তু মা তো আর দিবসের মধ্যে আটকে থাকে না। মা থাকে অন্তরে। সেই ছোটবেলা, নিজের হাতে করে যে মানুষটা লালন করতো, হাত ধরে গুটিগুটি পায়ে হাঁটতে শেখালো, প্রথম কথা বলতে শেখানো, রূপকথার গল্প বলা- এগুলো মানেই মা।

বড় হতে কত অবুঝ প্রশ্নই তো মনে জাগতো আমাদের। সেই  প্রশ্নের ঝাঁপি খুলে মাকে বিরক্ত করে ফেলার কথাগুলো কখনোই ভোলার নয়। যাবতীয় আবদার, বাহানা করার মতো একমাত্র মানুষটি আমাদের মা। মায়েদের কাছে সন্তান নাকি কখনোই বড় হয় না। চরম অসুখে কপালে শান্ত-শীতল হাতটি মায়েরই হয়। মনের অ্যালবামে যত ছবি, যত স্মৃতি- সেগুলোর বেশিরভাগেরই রূপকার আমাদের মা।

মা হোক বন্ধুর মতো। কারণ সন্তানের মুখ দেখলে মা বুঝে যান সে কেমন আছে, সমস্যা বা বিপদে আছে কিনা। মা জানে সন্তানের কখন কি প্রয়োজন। শত ঝড়ঝাপটার মাঝেও মা ঠিকই নাড়ি ছেঁড়া সন্তানকে আগলে রাখেন।

অনেকেই বলেন, মায়ের জন্য আবার দিবস লাগে কেন? মা তো সবসময়েই পাশে, তাকে ভালোবাসার জন্য আবার দিবস কেন? বছরের একটা দিন তো তাকে ভালোবাসার জন্য যথেষ্ট নয়।

তবে মা দিবসের রীতিকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়ারও কিছু নেই। অন্তত একটা দিন তো মায়ের কথা, তাঁর সুখ-দুঃখ, চাওয়া-পাওয়ার কথা ভাবে তার সন্তানেরা। মায়েদের জন্য বিশেষ একটা দিন থাকুক, এই দিনটিই তাহলে না হয় বাকি দিনগুলোর পাথেয় হোক।

আপনার মতামত লিখুন :