Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

খেতে হবে ‘স্বাস্থ্যকর’ ফ্যাটযুক্ত খাবার

খেতে হবে ‘স্বাস্থ্যকর’ ফ্যাটযুক্ত খাবার
সুস্থ থাকতে খেতে হবে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবার, ছবি: বার্তা২৪
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

ফ্যাটযুক্ত খাবার খেলে সুস্থ থাকা যাবে।

এমন  কথা কস্মিঙ্কালে কেউ শুনেছে? কিন্তু এটাই সত্য ও সঠিক। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পরিমিত পরিমাণ ফ্যাটযুক্ত খাবার রাখতে হবে। তবে এই ফ্যাট হতে হবে ‘স্বাস্থ্যকর’ ফ্যাট। আমরা সাধারণত যে সকল খাবার থেকে অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট তথা ট্র্যান্স ফ্যাট গ্রহণ করি, তা অবশ্যই এড়িয়ে যেতে হবে। তবে সুস্বাস্থ্যের জন্যে ও শারীরিক কার্যকলাপ সঠিকভাবে চালু রাখার জন্যে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট গ্রহণ করতে হবে। আজকের ফিচার থেকে জেনে নিন তেমন কয়েকটি স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবারের নাম।

পনির

দুধ পান করতে একেবারেই পছন্দ করেন না? তবে এক পিস পনির খেতে ভুলবেন না যেন। খাঁটি দুধ থেকে তৈরি পনির হলো প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-বি১২ ও পর্যাপ্ত পরিমাণ ফসফরাসের উৎকৃষ্ট উৎস। এতে আরও রয়েছে ফ্যাটি অ্যাসিড সমূহ, যা টাইপ-২ ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাকে দূরে রাখতে কাজ করে।

ডার্ক চকলেট

মিল্ক চকলেট খাওয়া খুব একটা স্বাস্থ্যকর না হলেও, পিওর ডার্ক চকলেট ত্বকের ক্ষতি ও হৃদরোগের প্রাদুর্ভাবকে দূরে রাখতে কাজ করে। মেডিক্যাল গবেষণা এমনটাই জানাচ্ছে ডার্ক চকলেট সম্পর্কে। উপকারী এই খাদ্যে উপস্থিত পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, কপার, এসেনশিয়াল ফ্যাট ও অন্যান্য উপাদান মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সচল রাখতে কাজ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/11/1557551188761.jpg
সুস্থ থাকতে খেতে হবে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবার

 

ডিম

অনেকের এখনও ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে, ডিম কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। অথচ ডিমে থাকা ফ্যাট রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধিতে কোন অবদান রাখে না। উপরন্তু এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম সুস্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ জরুরি। চোখকেও সুরক্ষিত রাখতে কাজ করে ডিমে থাকা কোলাইন। এছাড়া সবচেয়ে দারুণ বিষয়টি হলো, ডিম ওজন কমাতে সাহায্য করে।

মাছ

মিঠাপানির মাছ থেকে সামুদ্রিক সকল ধরনের মাছ থেকেই কম কিংবা বেশি মাত্রায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। যা শারীরিক সুস্থতা ও ওজন কমানোর জন্য বিশেষভাবে উপকারী। মাছ থাকা লিন প্রোটিন খাদ্য পরিপাকেও সাহায্য করে থাকে।

সিড অয়েল

সিড তথা বীজ থেকে পাওয়া যায় সানফ্লাওয়ার, অলিভ ও ফ্ল্যাক্সসিডস অয়েলে থাকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সমূহ। যা ছোট-বড় সবার জন্যেই ভীষণ উপকারী। বিশেষত হাড়ের সুস্বাস্থ্য রক্ষার্থে এই তেল নিয়মিত গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বাদাম

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/11/1557551213094.jpg
বাদাম থেকে পাওয়া যাবে পর্যাপ্ত পরিমাণ উপকারী ফ্যাট 

 

কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, পেস্তাবাদাম কিংবা কিশমিশ থেকেও পাওয়া যায় পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রাকৃতিক ফ্যাট, যা খুবই স্বাস্থ্যকর। এসেনশিয়াল ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ এই বাদাম ও ড্রাই ফ্রুটগুলো সকালে কিংবা কিংবা বিকালের নাশতায় নিয়মিত ৭-৮টি খাওয়া উচিৎ।

অ্যাভকাডো

ফলের মধ্যে এই একটি ফল থেকেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট পাওয়া যায়, যা ওলিক অ্যাসিড নামেও পরিচিত। সুপারফুডটি আরও পাওয়া যাবে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও পটাশিয়াম।

আরও পড়ুন: বুক জ্বালাপোড়া কমাবে যে খাবারগুলো

আরও পড়ুন: ক্যান্সারের বিপক্ষে কাজ করবে যে খাদ্য উপাদানগুলো

আপনার মতামত লিখুন :

আঙুরের সাতকাহন 

আঙুরের সাতকাহন 
আঙ্গুর ফল

আঙুর ফলের গোড়াপত্তন শুরু হয়েছে হাজার বছর আগে। সুস্বাদু ও সুমিষ্ট এই ফলের বাহারি রঙের মাত্রায় রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। উচ্চ ভিটামিন সমৃদ্ধ  এই ফল আপনার হার্টকে রাখে সুস্থ।

আঙুরের সাত গুণাবলি--

 

গ্যাস্ট্রিকের প্রদাহ থেকে মুক্তি-

দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রিক থেকে শুরু হয় বাতের ব্যথা। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য। রোগের সূত্রপাত হিসেবে ধরা হয় গ্যাস্ট্রিকের প্রদাহকে। দেহের প্রতিরক্ষাকারী কোষগুলোকে নষ্ট করে, ক্যানসার কিংবা হার্টের রোগে ভোগায় এই প্রদাহ। গবেষণা বলছে, আঙুর হতে পারে গ্যাসের ব্যথার স্থায়ী সমাধান।

২৪ জন পুরুষের মধ্যে চালানো একটি জরিপে দেখা যায়, প্রতিদিন ১.৫ কাপ আঙুরের রস অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণে আঙুরের গুঁড়া শরীরের গ্যাসের প্রদাহকে কমিয়ে দেয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452636554.jpg

বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়-

এক গবেষণায় দেখা যায়, তিন মাস ধরে প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম করে আঙুর ফল ১১১ জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে খাওয়ানোর ফলে তাদের স্মৃতি, মনোযোগ এবং  বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটেছে।

এমনকি প্রতিদিন আঙুর ফল আপনার মেজাজকে রাখে নিয়ন্ত্রণে। পাশাপাশি ব্লাড সুগারের মাত্রাকেও পরিমিত পর্যায়ে রাখতে সাহায্য করে।

হাড়ের ক্ষয় রোধ করে:

হাড়ে লবণের মাত্রাকে ঠিক রেখে ক্ষয়রোধ করতে সাহায্য করে আঙুর ফল। হাড়ে প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452652760.jpg

ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া  ধবংসকারী:

দেহের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ইনফেকশন ঘটায়, এমন ভাইরাস ধ্বংস করতে সাহায্য করে আঙুর ফল। প্রতিদিন খেলে ভিটামিন সি-এর অভাব পূরণ হয়। ফলে মৌসুমি ঠাণ্ডা কাশি কিংবা জ্বর আপনাকে কাবু করতে পারবে না। এমনকি আঙুর ডায়রিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা বৃদ্ধি-

ক্যানসার, হৃদরোগ কিংবা ডায়াবেটিসের মতো রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে আঙুর ফল। বেটাকেরোটিন, লুটিন ,এলাজিক এসিড সমৃদ্ধ এই ফল দীর্ঘস্থায়ী রোগকেও প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452669126.jpg

তারুণ্য ধরে রাখে-

আঙুর ফলের পুষ্টিগুণ তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের বলিরেখা দূর করে আঙুর। স্বাস্থ্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ করে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতেও সাহায্য করে।

আঙুরে প্রোটিন সমৃদ্ধ ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার,  এবং অ্যান্টি অক্সিজেন রয়েছে। সুতরাং তুমি তোমার সকাল কিংবা বিকেলের নাস্তায় রাখতে পারো আঙুর ফল। এমনকি গ্রীষ্মের দিনগুলোতে ঠাণ্ডা আঙুর হতে পারে দারুণ একটা নাস্তা।

সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস

সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস
ক্যাকটাস গাছ, ছবি: সংগৃহীত

ঘরের শোভা বর্ধনের জন্য কিংবা ভালোবেসে, শখের বশে গড়ে তোলা হয় ক্যাকটাসের সংগ্রহ।

নানা প্রজাতির, আকৃতির, ঘরানার ক্যাকটাস প্রীতি বেশি দেখা যায় শহুরে এলাকার মানুষদের মাঝে। ঘরের সাথে লাগোয়া বারান্দায় কিংবা প্রশস্ত জানালা ঘেঁসে ছোট-মাঝারি টবে বানান নিজস্ব ক্যাকটাস বাগান।

সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত দেখাশোনা করা হলে প্রতিটি ক্যাকটাসের গাছ খুব ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। ক্ষেত্র বিশেষে ও বিশেষ প্রজাতির ক্যাকটাসের ক্ষেত্রে ক্যাকটাসে বর্ণীল ফুলের দেখাও দেয়।

তবে সমস্যা হলো- ক্যাকটাস কষ্ট সহিষ্ণু উদ্ভিদ হলেও, অসাবধানতার দরুন ক্যাকটাস মরে যায়। প্রিয় জিনিসটি চোখের সাথে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাওয়া খুবই কষ্টের। যত্নে গড়ে তোলা প্রিয় ক্যাকটাসটির পরিচর্যায় ও যত্নে যে বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখা প্রয়োজন, এখানে তার কয়েকটি আলোচনায় রাখা হলো।

দ্রুত পানি দেওয়া

বেখেয়ালে প্রায় সময় ক্যাকটাসে দীর্ঘদিন পানি দেওয়া হয় না। এতে ক্যাকটাস শুকিয়ে যায়, কুঁচকে যায়, মরমর দেখায়। এমনটা হলে যত দ্রুত সম্ভব গাছে পানি দিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে ক্যাকটাসের টবের নিচের অংশের ছিদ্র দিয়ে বাড়তি পানি যেন বেরিয়ে যেতে পারে। একইসাথে ক্যাকটাসটিকে খোলামেলা আলো ও বাতাসযুক্ত স্থানে রাখতে হবে।

নষ্ট হয়ে যাওয়া অংশ কেটে ফেলা

ক্যাকটাসটির কোন অংশ যদি নষ্ট হয়ে যায় বা পচে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয় তবে উক অংশটি সযত্নে কেটে বাদ দিয়ে দিতে হবে। নতুবা উক্ত স্থান থেকে ভালো অংশেও পচন ধরে যাবে। ক্যাকটাসের কোন অংশে যদি ফাংগাসের মতো দেখা দেয়, বাদামী বা কালচে হয়ে আসে তবে বুঝতে হবে উক্ত স্থানে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561448789213.jpg

সরু অংশ রোদে রাখা

ক্যাকটাসের জন্য রোদের আলো অপরিহার্য। ক্যাকটাস যত বাড়তে থাকে, ছড়াতে থাকে তার শাখাপ্রশাখা। অনেক সময় একই টবে ক্যাকটাস অনেক বেশি বড় হয়ে গেলে ক্যাকটাসের ছোট অংশ রোদের আলো ঠিকমতো পায় না। সে অংশগুলোকে রোদের আলো দেওয়ার জন্য বেশি করে রোদের দিকে মুখ করে রাখতে হবে।

মাটি শুষ্ক হলেই পানি

বাড়তি পরিচর্যার ফলে অনেকেই ক্যাকটাসের টবে এক-দুই দিন পরপরেই পানি দিতে থাকেন। এতে করে ক্যাকটাসের গোড়া থেকে পচন ধরে যায়। খেয়াল রাখতে হবে, ক্যাকটাসের টবে মাটি একেবারে শুকিয়ে গেলে তবেই তাতে পানি দিতে হবে। তার আগে নয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561448770099.jpg

বড় টবে স্থানান্তরিত করা

ক্যাকটাস বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ছড়াতে থাকে তার শাখাপ্রশাখা এবং সেই সকল শাখাও বড় হতে থাকে। এভাবে ছোট ক্যাকটাসটিই এক সময় বিশাল আকৃতি ধারণ করে। ক্যাকটাস যত বড় হবে, তার জন্য তত বড় ও প্রশস্ত টবের প্রয়োজন হবে। নতুবা অপর্যাপ্ত স্থানের দরুন ক্যাকটাস ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাবে।

ক্যাকটাসের শরীর পরিষ্কার করা

ক্যাকটাসের শরীর জুড়ে কাঁটা থাকার দরুন এতে খুব সহজেই ধুলা-ময়লা চুল আটকে যায়। ধুলা-ময়লার স্তর পুরু হয়ে গেলে অনেক সময় ক্যাকটাস রোদের আলো শোষণ করে সালোকসংশ্লেষণ করতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই ক্যাকটাসের টবে যেদিন পানি দেওয়া হবে, সেদিন পানির ঝাপটা দিয়ে ক্যাকটাসের পাতা ও শাখাপ্রশাখাগুলো পরিস্কার করে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ঘরে তৈরি সারে সতেজ গাছ

আরও পড়ুন: খোসা ছাড়ানো আলু বাদামি হয়ে যাচ্ছে?

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র