Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

স্কুটি চালিয়ে দুই তরুণীর বাংলাদেশ জয়

স্কুটি চালিয়ে দুই তরুণীর বাংলাদেশ জয়
বার্তা২৪.কমের অফিসে ডা. সাকিয়া হক ও ডা. মানসী সাহা, ছবি: বার্তা২৪
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা ও
মুজাহিদুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

ডা. সাকিয়া হক ও ডা. মানসী সাহা। পেশায় চিকিৎসক হলেও বিশ্ব তাদের চিনছে তারুণ্যের আলোকবর্তিকা হিসেবে। লক্ষ কোটি নারী ও মেয়ে শিশুদের কাছে আইডল, অনুপ্রেরণা ও সাহস। নারীর চোখে বাংলাদেশ প্রতিপাদ্যে যারা নেমেছিলেন দেশ ভ্রমণের এক দুঃসাহসিক অভিযানে। স্কুটি চালিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন ৫৬ হাজার বর্গ মাইলের সবুজ বাংলাদেশের পথে প্রান্তরে।

কথা বলেছেন ভিন্ন সমাজ সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা নারী ও শিশুদের সঙ্গে। সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি শিখিয়ে চলেছেন আত্মরক্ষার কৌশল ও প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে কীভাবে লড়াই করতে হয়। এসব কাজে যেমন ভেসেছেন প্রশংসায়, সমানভাবে চলতি পথে শুনতে হয়েছে নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য। ৬৪ জেলা ভ্রমনের নানা অভিজ্ঞতা জানাতে বার্তা২৪.কমে এসেছিলেন ডা. সাকিয়া হক ও ডা. মানসী সাহা।

শুরুটা হয় ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর। ‘ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ’ ফেসবুক পেজ খোলার মধ্য দিয়ে। ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল ‘নারীর চোখে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে শুরু হয় ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ ভ্রমণের যাত্রা। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা, দুই বছর এক মাসে ৬৪টি জেলা ভ্রমণ করেন তারা।

স্কুটি চালিয়ে দুই তরুণীর বাংলাদেশ জয়
ডা. মানসী সাহা

 

দুই চিকিৎসকের ইচ্ছে ছিল পুরো বাংলাদেশকে ঘুরে দেখার। ইচ্ছা পূরণে কোনো বাধাই বড় হয়ে উঠতে পারেনি তাদের সামনে। রোড সেফটি সঠিকভাবে মেনে চলার জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স ঠিক করছেন। সবসময় হেলমেট পরে বাইক চালিয়েছেন। এমনকি বিভিন্ন জেলা সফরকালে তাদের আশেপাশের মানুষগুলোকে হেলমেট পরতেও সচেতন করার চেষ্টা করেছেন।

তাদের যাত্রার প্রথম দিকে গতি অনেক কম ছিল, বাইক অতোটা ভালো চালাতেও পারতেন না। তবে সবসময় সতর্ক থাকতেন, বেশি বেশি চর্চা করতেন।

স্কুটি চালিয়ে দুই তরুণীর বাংলাদেশ জয়
ডা. সাকিয়া হক

 

জানালেন, কিছু স্থানে ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হয়েছে তাদের। খারাপ কিছু অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাদের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে। তবে তাদের এই যাত্রাকে ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছেন বেশিরভাগ স্থানের মানুষ, তাদেরকে উৎসাহিত করেছেন।

জানালেন, গ্রামাঞ্চলের ভেতরে কাদামাটির সড়কের চাইতে মহাসড়কে বাইক চালানো তুলনামূলক সহজ। নতুন কোনো জেলায় যাওয়ার আগে সে জেলার ডিসি, প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে জানানোর চেষ্টা করতেন। যার ফলে ৬৪ জেলা ঘুরেও কোনো ধরনের বিপদের মুখে পড়তে হয়নি তাদের। আমাদের হয়নি।

স্কুটি চালিয়ে দুই তরুণীর বাংলাদেশ জয়

তাদের এই প্রজেক্টটি শুধু ভ্রমণের নয়, সচেতনতা তৈরিরও। প্রতিটি জেলার একটি স্কুলে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির মেয়েদের সঙ্গে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, সেলফ ডিফেন্স, পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে কথা বলেছেন।

দু’বছর আগে মেয়েদের স্কুটি চালানো দেখে মানুষ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতো। সেখান থেকে ব্যাপারটা মোটামুটি স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে এসেছে। তবে সারাদেশের এই বিষয়টিতে অভ্যস্থ হতে আরও বেশ কিছু বছর লাগবে বলে মনে করেন ডা. মানসী সাহা।

স্কুটি চালিয়ে দুই তরুণীর বাংলাদেশ জয়

তাদের এই ভ্রমণ নিয়ে দু’জনের পরিবারের প্রতিক্রিয়া ছিল দু’রকম। একজনের মা জানালেন, বাড়ির চৌদ্দ সীমানায় তার আসা বারণ! আরেকজনের মায়ের ভ্রমণে খুব একটা আপত্তি না থাকলেও, বাইকে ছিল ঘোরতর আপত্তি।

তবে তাদের বুঝিয়ে ঠিকই বাইকে ভ্রমণের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েছিলেন। এখন তারা যথেষ্ট সাপোর্ট দেন।

স্কুটি চালিয়ে দুই তরুণীর বাংলাদেশ জয়

সবার উদ্দেশে ডা. সাকিয়া হক ও ডা. মানসী সাহা বলেন, পাঁচ বছর আগে স্বপ্ন দেখেছিলাম- বাংলাদেশকে স্বাধীনভাবে দেখার। দুই বছর এক মাসে সেটা সম্ভব করতে পেরেছি। কোনো কিছুই অসম্ভব নয়, যদি সে কাজের প্রতি প্যাশন বা আসক্তি থাকে।

আপনার মতামত লিখুন :

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস
আঙুরের রস

মৌসুমি ফলগুলো বছরের শুধু নির্দিষ্ট একটি সময়েই পাওয়া যায়।

সেদিক থেকে আঙুর প্রাধান্য পাবে অনেক বেশি। পুরো বছর জুড়ে সহজলভ্য এই ফলটি শুধু খেতেই সুমিষ্ট ও সুস্বাদু নয়, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও ত্বকের জন্যেও চমৎকার উপকারিতা বহন করে।

গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে জানা যায়, আঙুর থেকে পাওয়া যাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও। সেদিক থেকে আঙুরের রসকে বলা যেতে পারে আধুনিক সময়ের ডিটক্স ড্রিংক।

প্রায় ৬০০০ বছর আগে থেকেই আঙুর তার ঔষধি গুণাগুণের জন্য পরিচিত। এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হয় মিশরিয়দের। তারাই প্রথম আঙুর, আঙুরের রস, আঙুরের মদ ও তার গুণাগুণের সাথে পরিচিত করায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455706012.jpg

আঙুরের রসের উপকারিতাগুলো কী?

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান সমৃদ্ধ আঙুরের রস হাইপারটেনশন ও চেহারায় বয়সের ছাপ দেখা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্লথ করে দেয়। এমনতর আরও বহু উপকারিতা রয়েছে এই ফলের রসে, যার মাঝে প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

দূরে রাখে হৃদরোগ

শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে, আঙুরে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এছাড়া রয়েছে কোয়েরসেটিন, প্রোসায়ানাইডস, ট্যানিন ও স্যাপনিনসের মতো ফাইটোকেমিক্যালস। এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে থেরাপিউটিক প্রক্রায়ার মতো কাজ করে বলে জানাচ্ছে বেশ কিছু গবেষণা।

বিশেষ করে লাল আঙুর রক্তের ভালো কোলেস্টেরল (HDL) এর মাত্রা বৃদ্ধিতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) এর মাত্রা হ্রাস করতে কাজ করে। এতে করে খুব সহজেই হৃদযন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি হারানোর প্রক্রিয়া স্লথ করে

আঙুরের রসের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান নিউরনাল সিগন্যালে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে কাজ করে। নিয়মিত আঙুরের রস পানে ডিমেনশিয়ার সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাকে হ্রাস করে। রেসভারট্রল এর মতো অ্যাকতিভ পলিফেনল মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং নতুন তথ্য শেখা, মুড ভালো করা ও স্মৃতিশক্তিকে প্রখর করায় সাহায্য করে।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হলো ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার অন্যতম বড় একটি কারণ। পরিমিত মাত্রায় আঙুরের রস পানে ইনস্যুলিন রেসিস্ট্যান্সের মাত্রা হ্রাস করে। এতে থাকা ফ্ল্যাভনোলস, রেসভেরাট্রল ও ফেনলিক অ্যাসিড হলো প্রধান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455724535.JPG

এতে রয়েছে অ্যান্টি-ক্যানসার উপাদান

লাল আঙুরের রস ডিএনএর ক্ষতির মাত্রা কমাতে কাজ করে, যা থেকে ক্যানসার দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোরিয়াতে হওয়া একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে, নিয়মিত লাল আঙুরের রস মানে ডিএনএর অক্সিডেটিভ ড্যামেজের মাত্রা কমে যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

শুধু তাই নয়,  আঙুরের ফাইটোকেমিক্যালস কোলন ক্যানসারের কোষ ধ্বংসে কাজ করে। কেমোথেরাপি চলাকালীন সময়ে ফ্ল্যাভনয়েড সমৃদ্ধ আঙুরের রস কেমোর সাইড ইফেক্ট তথা- বমিভাব, মাথাঘোরানো কমাতে সাহায্য করে।

সুস্থ রাখে পাকস্থলী

প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে আঙুরের রস যোগ করার ফলে পাকস্থলীর মাইক্রোবিয়াল পরিবেশ পরিবর্তন করে দেয়। আঙুরের রসের পলিফেলনস প্যাথোযেনস, অক্সিডেন্টিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ থেকে পাকস্থলিকে রক্ষা করে। এছাড়া এতে থাকা আঁশ খাদ্য পরিপাকে সহায়ক।

আরও পড়ুন: মৌসুমি ফল জামের সাত উপকারিতা

আরও পড়ুন: আট উপকারিতার আতা ফল

সাদামাটা নিমকিমাখা

সাদামাটা নিমকিমাখা
ছবি: নিমকিমাখা

হুটহাট করেই হাবিজাবি কোন খাবার খেতে ইচ্ছা করে।

এই হাবিজাবিটা আসলে কি, সেটা বুঝতে পারা দুষ্কর। এমন খাবার খাওয়ার ইচ্ছাকে অনেকে কাব্যিকভাবে ছোটখাটো ক্ষুধা নামেও ডেকে থাকে।

হুট করে কোন কিছু খেতে ইচ্ছা করলে ঘরে থাকা অল্প জিনিস কীভাবে মুখরোচক ও নতুন খাবার তৈরি করা যায় এইটাই যেন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মন অবস্থায় ঘরে থাকা নিমকি ও অল্প পেঁয়াজ-মরিচেই তৈরি করে নেওয়া যাবে নিমকিমাখা। কীভাবে তৈরি করবেন? চটজলদি দেখে নিন রেসিপিটি।

নিমকিমাখা তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566394524865.JPG

১. ২০০ গ্রাম নিমকি।

২. একটি পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. একটি টমেটো কুঁচি।

৪. দুইটি কাঁচামরিচ কুঁচি।

৫. অর্ধেকটি শসা কুঁচি।

৬. অর্ধেকটি ক্যাপসিকাম কুঁচি।

৭. একমুঠো ধনিয়াপাতা কুঁচি।

৮. এক টেবিল চামচ লেবুর রস।

৯. দুই টেবিল চামচ সরিষার তেল।

১০. স্বাদমতো লবণ।

নিমকিমাখা যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566394543339.JPG

১. প্রথমে সরিষার তেলে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ কুঁচি চটকে নিতে হবে। এতে টমেটো, শসা, ক্যাপসিকাম ও ধনিয়া কুঁচি দিয়ে মাখিয়ে লবণ দিতে হবে।

২. সকল উপাদান মাখানো হয়ে গেলে নিমকি দিয়ে পেঁয়াজ-কাঁচামরিচের সাথে মাখিয়ে তার উপরে লেবুর রস ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র