Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রোজায় মাথাব্যথার সমস্যাটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে?

রোজায় মাথাব্যথার সমস্যাটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে?
নানান কারণেই দেখা দিতে পারে মাথাব্যথা, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

রোজা রাখার মাধ্যমে শরীর ও মনের স্বাস্থ্যকে মজবুত করা সম্ভব হয়।

আত্মিক বিষয় বাদে যখন শারীরিক সুস্থতার কথা আসে, তখন রোজা রাখার ফলে সৃষ্ট সমস্যার কথাও উঠে আসবে।

রোজা শুরুর প্রথম কয়েকদিন অনেকেই মাথাব্যথার সমস্যায় ভোগেন। এটা রোজাকালীন খুবই সাধারণ একটি শারীরিক সমস্যার উপসর্গ। প্রতিদিন তিন-চার বেলা পেট ভরে খাবার খাওয়ার পরিবর্তে ১৪-১৫ ঘণ্টার লম্বা সময় কোন ধরনের খাবার ও পানি গ্রহণ না করে থাকার ফলে, শরীর স্বাভাবিকভাবেই সমস্যার মুখোমুখি হয়। হুট করে এমন বড় ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে শরীরের মানিয়ে নিতে বেগ পেতে হয়।

ফলে রোজা রাখাকালীন সময় থেকে ইফতারি খাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পরেও মাথাব্যথার প্রাদুর্ভাব রয়ে যায়। মাঝারি থেকে স্বল্প মাত্রার এই মাথাব্যথা চিনচিনে ধরনের হয়ে থাকে। যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কপালের সামনের অংশে দেখা দেয়।

কেন দেখা দেয় এই মাথাব্যথা?

রোজা রেখে মাথ্যাব্যথা দেখা দেওয়ার পেছনে কাজ করে কয়েকটি কারণ। হাইপোগ্ল্যাসেমিয়া (Hypoglycaemia), ক্যাফেইন উইথড্রওয়াল, পর্যাপ্ত পানি পানের অভাব, ঘুমের সময়ের পরিবর্তন ও রোজার নিজস্ব চাপ।

ইউনিভার্সিটি অফ মালায়া’র চার মাসের (রোজার আগের দুই মাস, রোজা চলাকালীন এক মাস ও রোজা পরবর্তী এক মাস) একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে, প্রায় ৮৩টি ভিন্ন কারণে মাথাব্যথা দেখা দিয়ে থাকে এ সময়ের মাঝে। যার তীব্রতা হালকা থেকে তীব্রতর হতে পারে।

রোজা চলাকালীন সময়ে মাথাব্যথা শুরু হলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোজা ভাঙার পর সন্ধ্যার দিকে এই মাথাব্যথার তীব্রতা দেখা দেয়। তবে আনন্দের বিষয় হলো, রোজা রাখার ফলে যে মাথাব্যথার সমস্যাটি দেখা দেয়, তা মূলত নিজ থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে এই মাথাব্যথা?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/08/1557293116975.jpeg
কমাতে হবে কফি পানের মাত্রা। 

 

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্যাফেইন উইথড্রওয়াল সমস্যার জন্য মাথাব্যথা হয়ে থাকে। শরীর তার প্রয়োজনীয় মাত্রায় ক্যাফেইন না পেলেই বিদ্রোহি হয়ে ওঠে। যার ফলাফলে দেখা দেয় মাথাব্যথা। এই সমস্যাটি কমানোর ক্ষেত্রে রোজা শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে থেকে কফি ও চা পানের মাত্রা কমিয়ে দিতে হবে। এতে করে শরীর স্বল্প মাত্রার ক্যাফেইনের সাথে অভ্যাস্ত হয়ে উঠবে। ফলে রোজা রাখায় খুব একটা সমস্যা দেখা দিবে না। স্বল্প মাত্রার ক্যাফেইনের সাথে শরীর আগে থেকেই অভ্যস্ত হওয়ায় রোজা চলাকালীন সময়ে শরীর তার সাথে মানিয়ে নেবে।

অন্য আরেকটি বড় কারণ হলো হাইপোগ্ল্যাসেমিয়া বা লো ব্লাড সুগার। রক্তে চিনির মাত্রা হুট করে বেড়ে যাওয়ার পরে অনেকখানি কমে যায় রোজা চলাকালীন সময়ে।  রক্তে চিনির মাত্রা এমন ওঠা-নামার ফলে মাথাব্যথার সমস্যাটি তৈরি হয়। এর জন্য সেহেরিতে উচ্চমাত্রার চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। চিনিযুক্ত খাবার প পানীয় রক্তে চিনির মাত্রা সাময়িকভাবে অনেক বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে পরবর্তী দিনে শরীর যখন প্রয়োজনীয় মাত্রার চিনির অভাব বোধ করে, তখন মাথাব্যথার লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/08/1557293068735.jpg
পানি পান করতে হবে। 

 

অন্য যে আরেকটি কারণে মাথাব্যথার সমস্যা দেখা দেয়, সেটা হলো ডিহাইড্রেশন তথা পানিশূন্যতা। শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব দেখা দেওয়ায় ফ্যাটিগের সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে আমাদের মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখোমুখি হয়। সেক্ষেত্রে ইফতারি থেকে সেহেরি পর্যন্ত সময়ে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে। এতে করে শরীর কিছুটা হলেও পানির চাহিদা পূরণে সমর্থ হবে।

তবে মাথাব্যথা প্রকট আকারে দেখা দিলে ঘুমাতে হবে। শারীরিক ক্লান্তি ও অবসাদ মস্তিষ্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে বলেও মাথাব্যথা দেখা দেয়। ঘুমিয়ে বিশ্রাম নিলে শরীর কিছুটা আরামবোধ করলে মাথাব্যথা কমে যাবে।

রোজা রাখার ফলে মাথাব্যথার সমস্যাটি প্রথম তিন-চার দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তবে মাথাব্যথা যদি আরও লম্বা সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয়, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

আরও পড়ুন: প্রযুক্তি যেভাবে স্বাস্থ্যহানি ঘটাচ্ছে!

আরও পড়ুন: মেটাবলিজম কমছে যেসকল অভ্যাসে

আপনার মতামত লিখুন :

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান
নান, ছবি: সংগৃহীত

সকাল কিংবা বিকালের নাশতায় যারা নিয়মিত রুটি ও পরোটা খান, একটা সময় পরে তাদের রুটিতে অভক্তি দেখা দেয়।

এ সময়ে রুটির বদলে গরম নান খেতে মনে চায়। ফোলা ও গরম নানের সাথে সবজি কিংবা মাংসের ঝোল যেন অমৃতসম।

এই নান কেনার জন্য এলাকার রেস্টুরেন্টে দৌড়ঝাঁপ না করে ঘরে বসে চুলাতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার গরমাগরম নান। দেখে নিন নান তৈরির রেসিপিটি।

নান তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623276721.JPG

১. ১/৪ কাপ দই।

২. এক চা চামচ চিনি।

৩. এক চা চামচ বেকিং পাউডার।

৪. এক চিমটি বেকিং সোডা।

৫. দুই কাপ ময়দা।

৬. এক চা চামচ লবণ।

৭. দুই টেবিল চামচ তেল।

৮. ১/৪-১/৩ কাপ পানি।

৯. এক টেবিল চামচ কালোজিরা।

১০. ঘি অথবা মাখন।

নান যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623263865.JPG

১. একটি পাত্রে দই, এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ বেকিং পাউডার ও এক চিমটি বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশাতে হবে।

২. এতে দুই কাপ ময়দা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রণের মাঝখানে দুই টেবিল চামচ তেল অ ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ময়দার কাই তৈরি করতে হবে। ময়দার কাই শক্ত হলে পানি ও নরম হলে ময়দা মেশাতে হবে।

৩. ময়দার কাইটি মসৃণ হয়ে আসলে তার উপরে তেল মাখিয়ে পাত্রের মাঝখানে রেখে তার উপরে ভেজা অ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দুই ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৪. দুই ঘণ্টা পর ময়দার কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে। বেলার সময় তার উপরে কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং রুটির মতো গোলাকৃতির না করে লম্বাটে করে নিতে হবে। চাইলে হাত দিয়ে টেনে লম্বাটে করে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623299530.JPG

৫. এবারে চুলায় তাওয়া গরম করে নান দিয়ে দিতে হবে। একপাশ কিছুটা ভাজা হলে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেবে। এমন হলে নান উল্টে দিয়ে অপর পাশ ভাজতে হবে। এ পাশেও ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দিলে আবারো উল্টে দিতে হবে।

তাওয়া থেকে নামানোর আগে নানের উপরে ঘি অ ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: ঘিয়ে তৈরি মুচমুচে নিমকি

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!
কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিটি কর্মজীবীকে দিনের সিংহভাগ সময় কাটাতে হয় নিজ কর্মক্ষেত্রে।

কাজের চাপ, ব্যস্ততা, ডেডলাইন, মিটিংসহ সবকিছুর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে ক্লান্তি দেখা দেয় একটা সময়। সময়মতো বিশ্রাম নিলে এই ক্লান্তিভাব খুব দ্রুত কেটেও যায়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়।

কর্মোদ্যম ফুরিয়ে গেলে শারীরিক ক্লান্তির সাথে মানসিক ক্লান্তি প্রভাব বিস্তার করে। কাজ, ব্যস্ততা, ছুটে চলা- সবকিছুকেই অর্থহীন বোধ হতে থাকে। অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয় জীবনে চলার পথে। এমন অবস্থা চলতে একটা সময় জীবনের উপরে বিরক্তিবোধ কাজ করা শুরু করে।

কর্মোদ্যম হারিয়ে যাওয়া বা দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বেশ কয়েকটি কারণে দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রফেশনাল প্রেসক্রিপশন ফর লাইফের কোচ সুসান বিয়ালি হাস এমডি। বিগত কয়েক বছর ধরে এ বিষয়ে কাজ করে এবং বহু মানুষকে কাউন্সেলিং করে তিনি বুঝতে পেরেছেন কর্মক্ষেত্রে কর্মোদ্যমতা হারানো শুরু হয় খুব ছোট কিছু থেকেই।

নির্দিষ্ট কোন একটি কারণ

ভিন্ন ভিন্ন কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চাপ থাকে, কাজের ধরণ থাকে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। কোচ সুসান জানাচ্ছেন মূলত ছয়টি কারণ কাজ করে এক্ষেত্রে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, নিয়ন্ত্রণের অভাব, অপর্যাপ্ত উপহার, কর্মক্ষেত্রে কমিউনিটি সংক্রান্ত সমস্যা, অন্যায্য/ অনৈতিক চর্চা, নৈতিকতার অমিল। এ বিষয়গুলো খুব ধীরে ধীরে কাজের উপর অনাগ্রহ তৈরি করে এবং কর্মোদ্যমতা নষ্ট করে দেয়।

আপনিও কর্মোদ্যম হারিয়ে ফেলেন তবে চেষ্টা করুন কারণটি খুঁজে বের করার। কোন কারণে এমনটা হচ্ছে সেটা শনাক্ত করতে পারলে সেটা সমাধানে কাজ করতে পারবেন।

অন্যের কাজ করা

স্বাভাবিকভাবেই অফিসে নিজের কাজের চাপ থাকে অনেক বেশি। সেখানে অন্যের কাজের বোঝাও যদি মাথায় এসে ভর করে তবে সেটা শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি করে অনেক বেশি। আপনিও যদি এমনটা করে থাকেন তবে এই অভ্যাসটি খুব দ্রুত পরিহার করতে হবে।

ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মাঝে দেয়াল না থাকা

অফিসের কাজ বাসাতে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোন বিশ্রাম হয় না। মাথার ভেতর সর্বদা কাজের বিষয়গুলো ঘুরঘুর করতে থাকে, যার ফলে প্রচণ্ড মানসিক অশান্তি ও অস্থিরতা দেখা দেয়।

সেক্ষেত্রে কোচ সুসান পরামর্শ দেন- যতই কাজের চাপ থাকুক না কেন বা কাজ শেষ করার তাড়া থাকুক না কেন, কোনভাবেই অফিসের কাজ বাসাতে আনা যাবে না। বাসায় বসেও অফিসের কাজ করা ও অফিসে থাকার মাঝে আদতে কোন পার্থক্য থাকে না। এতে করে পরদিন পুনরায় অফিসে গেলেও বিন্দুমাত্র কর্মোদ্যমতা পাওয়া যায় না।

নিজের যত্ন না নেওয়া

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য চব্বিশ ঘণ্টার মাঝে অন্ততপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম বাধ্যতামূলক। এর কম হলে শরীর ও মন জুড়ে অপরিসীম ক্লান্তি ভর করে। এছাড়া নিজের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি হেলাফেলা করা হয়, তার প্রভাব সরাসরি দেখা দেয় কাজের উপর। সারাদিন অফিসে ডেস্কে বসে থেকেও মাথা কাজ করবে না, কাজে মন বসবে না। সেক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, নিজের অযত্নও কর্মোদ্যম ফুরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

আরও পড়ুন: কর্মক্ষেত্রে দূরে থাকুক আত্ম-সন্দেহ

আরও পড়ুন: সমস্যাটি যখন কর্মক্ষেত্রে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র