Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

ছোট-বড় সবার জন্য খেজুর

ছোট-বড় সবার জন্য খেজুর
রমজান মাস জুড়ে পুষ্টি পাওয়া যাবে খেজুর থেকে, ছবি: বার্তা২৪
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

আজ থেকেই শুরু হলো পবিত্র রমজান মাস।

পুরো মাস জুড়ে সবার ইফতারিতে যে খাবারটি অবশ্যই থাকে সেটা অন্যতম উপকারী, সুস্বাদু ও পরিচিত ফল খেজুর। বেশ কয়েক প্রকারের খেজুর থেকে পছন্দসই খেজুরটি যদি ইফতারিতে না থাকে, তবে ইফতারি যেন অপূর্ণ রয়ে যায়।

ভিটামিন সমূহ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার, জিংক, খাদ্যআঁশ, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান সমূহ, প্রদাহ বিরোধী উপাদান ও টিউমার প্রতিরোধে কার্যকর এই ফলটি বাড়ির ছোট-বড়, সকল সদস্যের খাওয়া প্রয়োজন নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য। শুধু রমজানের এই এক মাস নয়, পুরো বছর জুড়েই খেজুর খাওয়ার অভ্যাসটি সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করবে খুব সহজেই।

আজকের ফিচার থেকে জেনে নিন খেজুর খাওয়ার চমৎকার কয়েকটি স্বাস্থ্য উপকারিতা।

শারীরিক শক্তির অন্যতম চমৎকার উৎস

খেজুরে থাকে প্রাকৃতিক চিনি তথা গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ। প্রাকৃতিক চিনির উৎস খেজুর খাওয়ার ফলে শারীরিক অলসতা বা ক্লান্তিভাব দূর হয়ে যায় এবং কাজ করার শক্তি পাওয়া যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/07/1557226406807.jpg
খেজুর 

 

মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়

এক গবেষণাপ্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা গেছে, খেজুর মস্তিষ্ককে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ থেকে রক্ষা করে। এতে থাকা খাদ্যআঁশের পাশাপাশি ফেনলিক ও প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ক্যাফেইক অ্যাসিড মস্তিষ্কের সুস্থতা নিশ্চিতে ও ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে কাজ করে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়

খাদ্যাভাসের পরিবর্তনের সাথে শরীরের মানিয়ে নিতে বেশ কিছুদিন সময়ের প্রয়োজন হয়। লম্বা সময় পানি ও খাদ্য গ্রহণ না করার ফলে শরীর শুষ্ক হয়ে ওঠে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়। খেজুরে থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যআঁশ কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/07/1557226432565.jpg
খেজুর

 

প্রতিরোধ করে হৃদরোগ

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমিয়ে আনে বলে নিয়মিত খেজুর খাওয়ার ফলে হৃদরোগের আশংকা কমে যায় বেশ অনেকটা। এছাড়া শুকনো এই ফলে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট স্ট্রোকের সম্ভবনাও কমায়। অন্যদিকে রক্ত চাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে পটাশিয়াম।

ভালো রাখে হাড়

নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা থেকে জানানো হয়, খেজুরে রয়েছে বরোন, যা হাড়ের সুস্বাস্থ্যের জন্য দারুণ প্রয়োজনীয় এক উপাদান। এছাড়া এতে থাকা ফসফরাস, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম হাড়কে সুস্থ রাখতে ও হাড়ের সমস্যা প্রতিরোধে কাজ করে।

কমায় অ্যালার্জির প্রাদুর্ভাব

খেজুরের সবচেয়ে চমৎকার বিষয়টি হলো এতে রয়েছে সালফার, যা বেশিরভাগ ফলেই পাওয়া যায় না। খেজুরে থাকা সালফার অ্যালার্জির প্রাদুর্ভাব ও প্রভাব কমাতে কাজ করে।

আরও পড়ুন: প্রশান্তিতে তরমুজ

আরও পড়ুন: বুক জ্বালাপোড়া কমাবে যে খাবারগুলো

আপনার মতামত লিখুন :

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক
টি ট্রি অয়েল

বিভিন্ন ধরনের এসেনশিয়াল অয়েলের মাঝে টি ট্রি অয়েল সবচেয়ে পরিচিত ও প্রচলিত একটি।

এই এসেনশিয়াল অয়েলের অসংখ্য উপকারিতার মাঝে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। শুধু ত্বক নয়, চুলের যত্নেও সমানভাবে ব্যবহৃত হয় টি ট্রি অয়েল। এছাড়াও ডিওডরেন্ট, পোকামাকড় দূর করতে ও মাউথওয়াশ হিসেবেও কার্যকর এই এসেনশিয়াল অয়েল।

টি ট্রি অয়েল ব্যবহার বিধি

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব কঠিন কোন বিধিনিষেধ নেই। তবে মনে রাখতে হবে, ত্বকে বা চুলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরাসরি এই তেল ব্যবহার করা যাবে না। ক্যারিয়ার তেল তথা নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে তবেই ব্যবহার করতে হবে এই এসেনশিয়াল অয়েল।

অনেকেই টি ট্রি অয়েল পরিমাণে অনেক বেশি নিয়ে ফেলে। এক্ষেত্রে ১-৩ ফোঁটা ব্যবহার করাই যথেষ্ট। অল্প পরিমাণ এসেনশিয়াল অয়েল থেকেও সম্পূর্ণ উপকারিতা পাওয়া যাবে।

তবে টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে অবশ্য। এই তেল চোখের আশেপাশের অংশ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এতে চোখের আশেপাশের অংশের ত্বকে জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। কারণ মুখমণ্ডলের এ অংশের ত্বক তুলনামূলক বেশি পাতলা হয়ে থাকে।

এছাড়া টি ট্রি অয়েল ব্যবহার পূর্বে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো, এই তেল ব্যবহারে ত্বকে কোন সমস্যা দেখা দেয় কিনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115011865.jpg

টি ট্রি অয়েলের উপকারিতা

এই এসেনশিয়াল অয়েলের বিবিধ উপকারিতার মাঝে মূল ও প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কমায়

যাদের ত্বক খুব শুষ্ক, তাদের জন্য টি ট্রি অয়েল খুব ভালো কাজ করবে। এই তেলটি শুষ্ক ত্বকের জ্বালাপোড়াভাব ও চুলকানির প্রাদুর্ভাব কমায়। বিশেষত এতে থাকা জিংক অক্সাইড শুষ্ক ত্বক ও একজিমার সমস্যা কমাতে কাজ করে।

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক উপাদান তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপকারী। একটি গবেষণা জানাচ্ছে,  সানস্ক্রিনের সাথে টি ট্রি অয়েল মিশ্রিত থাকলে ত্বকের তৈলাক্ততা কমে যায় অনেকখানি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115031078.jpg

ত্বকের প্রদাহ

উপকারী এই এসেনশিয়াল অয়েলের অ্যান্ট-ইনফ্ল্যামেটরি প্রভাব ত্বকের প্রদাহ, ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার সমস্যাকে কমিয়ে এনে আরাম প্রদান করে। এমনকি ত্বকের কোন অংশ ফুলে গেলে বা ত্বকে লালচে ভাব দেখা দিলে সেটা কমাতেও কাজ করে টি ট্রি অয়েল।

ক্ষত সারাতে টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ধর্ম ত্বকের কাটাছেঁড়া ও ক্ষত সারাতে খুব চমৎকার কাজ করে। ২০১৩ সালের একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে প্রতি ১০ জনের মাঝে ৯ জনের টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে ক্ষত দ্রুত ও অল্প সময়ের মাঝে ভালো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমবে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারে

আরও পড়ুন: ত্বকের ফাটা দাগ কমাতে ক্যাস্টর অয়েল

তিন উপাদানে ডিটক্সিফাইং পানীয়

তিন উপাদানে ডিটক্সিফাইং পানীয়
ডিটক্সিফাইং পানীয়

অন্যান্য সময়ের চাইতে ঈদের সময়টাতে তেল, চর্বি ও উচ্চমাত্রার ক্যালোরিযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া হয়।

এতে করে সহজেই শরীরের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পরে। এই ক্ষতিকর প্রভাব কাটানোর জন্য প্রয়োজন হয় ডিটক্সিফাইং পানীয়। যা শরীর থেকে ক্ষতিকর প্রভাবকে দূর করে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

এমন পানীয় তৈরিতে সাধারণত খুব বেশি উপাদান প্রয়োজন হয় না। আজকের বিশেষ ডিটক্সিফাইং পানীয়টি তৈরিতেও মাত্র তিনটি সহজলভ্য উপাদান প্রয়োজন হবে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই পানীয়টি পান করলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যাবে।

ডিটক্সিফাইং পানীয় তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566047849609.jpg

১. একটি বড় লেবুর রস।

২. ১-২ ইঞ্চি পরিমাণ আদা কুঁচি।

৩. এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া।

৪. দুই কাপ পরিমাণ পানি।

৫. এক চিমটি কালো গোলমরিচ গুঁড়া (ঐচ্ছিক)

ডিটক্সিফাইং পানীয় যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566047866015.jpg

পানি ফুটিয়ে নামিয়ে এতে লেবুর রস, আদা কুঁচি, হলুদ গুঁড়া ও গোলমরিচ গুঁড়া মিশিয়ে পুনরায় চুলায় বসিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। তৈরি হয়ে গেলে নামিয়ে কুসুম গরম থাককাকালী সময়ে পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে উপকারী পাঁচ পদের জুস

আরও পড়ুন: আহ, মশলা চা!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র