Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

ইফতারিতে কী খাবেন ও এড়িয়ে যাবেন!

ইফতারিতে কী খাবেন ও এড়িয়ে যাবেন!
ইফতারি হোক উপকারী খাদ্য সমৃদ্ধ, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

রমজান মাসে সেহেরি ও ইফতারিতে কী খাবেন ও কী এড়িয়ে যাবেন তার উপরে নির্ভর করে শারীরিক সুস্থতা ও শারীরিক শক্তি।

সারাদিন রোজা থাকার পর স্বাভাবিকভাবেই ইফতারিতে অনেক বেশি খাবার একসাথে খাওয়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন অনেকেই। ফলাফল স্বরূপ খেয়ে ফেলেন তেলেভাজা, অধিক চিনিযুক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার।

যা শুধু ক্ষুধাভাব দূর করতেই কাজ করে, স্বাস্থ্যের উপকারে আসে না। এছাড়া এ ধরনের খাবার গ্রহণের ফলে খুব সহজেই বুক জ্বালাপোড়া, গ্যাসভাব দেখা দেওয়া, পেট ফুলে যাওয়ার মতো কষ্টদায়ক সমস্যাগুলো দেখা দিতে থাকে।

অন্যদিকে রমজান মাস জুড়ে সঠিক খাদ্যাভ্যাস স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে। এর মাধ্যমে শারীরিক বেশ কিছু সমস্যা কমে যায় লক্ষণীয়ভাবে। ইফতারিতে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার থাকলে পরবর্তী রোজা রাখার ক্ষেত্রে সুবিধা হয় ও শরীর সেইভাবে প্রস্তুত হয়।

আজকের এই ফিচার থেকে তাই জেনে নিন ইফতারিতে কী খাবেন ও এড়িয়ে যাবেন।

যা খাবেন ইফতারিতে

পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার

আমাদের শরীরে বহু প্রত্যাঙ্গের পরিপূর্ণ কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজন হয় পটাশিয়াম। দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে কিছুটা হলেও পটাশিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়। যা থেকে ক্লান্তিভাব ও শরীরের বিভিন্ন অংশের পেশীতে ব্যথাভাবের সৃষ্টি হয়। পটাশিয়ামের ঘাটতি দূর করতে ও পরবর্তী দিনের জন্য পর্যাপ্ত পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবারে প্রাধান্য দিতে হবে ইফতারির মেন্যুতে। মটরশুঁটি, গাড় সবুজ শাক, আলু, দই, অ্যাভোকাডো, তরমুজ, মাশরুম ও কলা রাখতে হবে ইফতারির মেন্যুতে। পুষ্টির পাওয়ার হাউজ খেজুর থেকেও পাওয়া যাবে পর্যাপ্ত পরিমাণ পটাশিয়াম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/07/1557213909486.jpg
পটাশিয়াম সমৃদ্ধ ফল কলা

 

পান করতে হবে পর্যাপ্ত পানীয়

এটা তো বলাই বাহুল্য যে ইফতারিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানীয় পান করতে হবে। তবে একবারে কয়েক গ্লাস পানি পান করা যাবে না। এতে পাকস্থলীর ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়। রোজা ভাঙার পর ধীরেসুস্থে দুই গ্লাস সমপরিমাণ পানি পান করতে হবে এবং ইফতারি থেকে সেহেরির সময়ের মাঝে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করতে হবে। পানির পাশাপাশি ডাবের পানি ও ফলের রসও রাখা যাবে।

বাদাম

কাজুবাদামে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ উপকারী ফ্যাট, যা লম্বা সময় অভুক্ত থাকার পর শরীরে শক্তি যোগাতে প্রয়োজনীয়। এছাড়া বাদাম পেট ভরা রাখতে কাজ করে।

জলীয় অংশ সমৃদ্ধ সবজি

শসা, লেটুস পাতার মতো জলীয় অংশ সমৃদ্ধ সবজিকে প্রাধান্য দিতে হবে ইফতারিতে। এই গরমে দীর্ঘসময় পানি ও খাবার ব্যাতীত শরীর শুষ্ক হয়ে ওঠে আর্দ্রতা হারিয়ে। সেক্ষেত্রে এমন ধরনের সবজি খুবই উপকারী।

যা এড়িয়ে যাবেন ইফতারিতে

কার্বোনেটেড পানীয়

প্রসেসড পানীয় তথা কার্বোনেটেড পানীয় পান করা থেকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যেতে হবে। এই সকল পানীয় অনেক বেশি চিনিসমৃদ্ধ হওয়ায় ওজন বৃদ্ধির সম্ভবনা থাকে সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও সারাদিন সম্পূর্ণ অভুক্ত থাকার পর কোমল পানীয় পানে রক্তে চিনির মাত্রা হুট করে অনেক বেশি বেড়ে যায়। যা থেকে বৃদ্ধি পায় ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার সম্ভবনা। চিনিযুক্ত এই সকল পানীয় পানের পরিবর্তে চিনিবিহীন শরবত পান করতে হবে।

অধিক চিনিযুক্ত খাবার

যে সকল খাবারে অনেক বেশি মাত্রায় চিনি রয়েছে, সে খাবারগুলো সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে ইফতারির মেন্যু থেকে। চকলেট, কেক, পেস্ট্রি, ক্যান্ডি খেতে যতই ভালো লাগুক না কেন, ইফতারিতে কখনোই এমন ধরনের খাবার রাখা উচিৎ নয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/07/1557213981334.jpg
এড়িয়ে যেতে হবে চিনিযুক্ত খাবার

 

তেলেভাজা খাবার

প্রচলিত বেগুনী, চপ, বড়া, সমুচা, কিংবা তেলেভাজা খাবারে পুষ্টিগুণ থাকে না বললেই চলে। উপরন্তু এই সকল খাবার খাওয়ার ফলে বুক জ্বালাপোড়াসহ পেটের নানাবিধ সমস্যা তৈরি হয়।

আরও পড়ুন: কী রাখবেন সেহেরিতে?

আরও পড়ুন: সাত উপকারের এক মটরশুঁটি

আপনার মতামত লিখুন :

কোন জিনিস কতদিন পর পরিষ্কার করতে হবে?

কোন জিনিস কতদিন পর পরিষ্কার করতে হবে?
ছবি: সংগৃহীত

নিজের আশেপাশের সবকিছু তথা ঘর ও ঘরের জিনিসপত্র যতবেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে, নিজেকে ও পরিবারের সবাইকে ততবেশি সুস্থ রাখা সম্ভব হবে। শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রফুল্লতার সাথে সাথে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সংযোগটা বহু পুরনো। এ কারণে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে ছাড় দেওয়ার উপায় নেই।

পরিধেয় পোশাক কিংবা অপরিষ্কার থালাবাসন যে প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হয়, সেটা নতুন করে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ঘরে থাকা আয়না কতদিন পর পরিষ্কার করা প্রয়োজন সেটা অনেকেই বুঝতে পারেন না। তবে বাসার অবস্থান ও এলাকাভেদে জিনিসপত্রে ধুলাময়লা জমার ক্ষেত্রে রকমফের দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে কোন আসবাবে ধুলা জমে থাকতে দেখলে দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

প্রতি সপ্তাহে, প্রতি মাসে কিংবা ৩-৫ মাস অন্তর কোন জিনিসগুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখা বেশ অনেকটা সহজ হয়। যে কারণে আজকের ফিচারে খুব গুছিয়ে তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা থেকে জানা যাবে কতদিন পর কোন জিনিসটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

প্রতিদিন যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123957938.jpg

১. বিছানা গুছিয়ে ঝাড়তে হবে।

২. নোংরা ও এঁটো থালাবাসন জমিয়ে রাখা যাবে না। প্রতিদিনেরটা প্রতিদিন ধুয়ে ফেলতে হবে।

৩. খাবার টেবিল গুছিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

৪. বাথরুমের মেঝে ঝাঁট দিতে হবে।

৫. রান্নাঘরের থাক ও মেঝে মুছতে হবে।

৬. রান্নাঘরের সিংক পরিষ্কার করতে হবে।

৭ নোংরা পোশাক ধুতে হবে।

৮. ঘর ও বারান্দার মেঝে ঝাড়ু দিতে হবে। মুছতে পারলে সবচেয়ে ভালো।

প্রতি সপ্তাহে যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123762608.jpg

১. বিছানা ও বালিশের কভার বদলাতে হবে।

২. রান্নাঘর ও রেফ্রিজারেটরে থাকা পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ফেলে দিতে হবে।

৩. ঘরের সকল আসবাবের আয়না মুছতে হবে।

৪. বুকশেফলে থাকা বইপত্র থেকে ধুলা ঝাড়তে হবে।

৫. শোকেসের জিনিসপত্র পরিষ্কার করতে হবে।

৬. আসবাবপত্র থেকে ধুলাবালি সরাতে হালকা ভেজা কাপড়ের সাহায্যে মুছতে হবে।

৭. মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ভেতরের ও বাইরের অংশ পরিষ্কার করতে হবে।

৮. গোসল করার লোফাহ বা স্পন্স পরিষ্কার করতে হবে।

প্রতি মাসে যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123841141.jpg

১. ঘরের কোন ও ছাদের অংশের ধুলাময়লা ঝাড়তে হবে।

২. লাইট ও বাল্বে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে হবে।

৩ সোফার কভার ও দরজা, জানালার পর্দা পরিষ্কার করতে হবে।

৪. ডিশওয়াশার ও ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করতে হবে।

৫. ফ্রিজের ভেতর ও বাইরের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

৬. টিভি থেকে ধুলাবালি সরাতে পরিষ্কার করতে হবে।

৭. দেয়াল ঘড়ি, ওয়ালম্যাট, বড় ছবির ফ্রেম নামিয়ে মুছে নিতে হবে।

৮. নিত্য ব্যবহারের ব্যাকপ্যাক ধুয়ে নিতে হবে।

৩-৫ মাস পরপর যা পরিষ্কার করতে হবে

১. আসবাবপত্রের নিচের অংশ থেকে ধুলাময়লা বের করতে হবে।

২. কার্পেট পরিষ্কার করতে হবে।

আরও পড়ুন: রোদ কিংবা বৃষ্টি, ছাতা হোক সঙ্গী

আরও পড়ুন: প্রয়োজন কিংবা ফ্যাশনে চাই রোদচশমা!

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক
টি ট্রি অয়েল

বিভিন্ন ধরনের এসেনশিয়াল অয়েলের মাঝে টি ট্রি অয়েল সবচেয়ে পরিচিত ও প্রচলিত একটি।

এই এসেনশিয়াল অয়েলের অসংখ্য উপকারিতার মাঝে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। শুধু ত্বক নয়, চুলের যত্নেও সমানভাবে ব্যবহৃত হয় টি ট্রি অয়েল। এছাড়াও ডিওডরেন্ট, পোকামাকড় দূর করতে ও মাউথওয়াশ হিসেবেও কার্যকর এই এসেনশিয়াল অয়েল।

টি ট্রি অয়েল ব্যবহার বিধি

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব কঠিন কোন বিধিনিষেধ নেই। তবে মনে রাখতে হবে, ত্বকে বা চুলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরাসরি এই তেল ব্যবহার করা যাবে না। ক্যারিয়ার তেল তথা নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে তবেই ব্যবহার করতে হবে এই এসেনশিয়াল অয়েল।

অনেকেই টি ট্রি অয়েল পরিমাণে অনেক বেশি নিয়ে ফেলে। এক্ষেত্রে ১-৩ ফোঁটা ব্যবহার করাই যথেষ্ট। অল্প পরিমাণ এসেনশিয়াল অয়েল থেকেও সম্পূর্ণ উপকারিতা পাওয়া যাবে।

তবে টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে অবশ্য। এই তেল চোখের আশেপাশের অংশ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এতে চোখের আশেপাশের অংশের ত্বকে জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। কারণ মুখমণ্ডলের এ অংশের ত্বক তুলনামূলক বেশি পাতলা হয়ে থাকে।

এছাড়া টি ট্রি অয়েল ব্যবহার পূর্বে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো, এই তেল ব্যবহারে ত্বকে কোন সমস্যা দেখা দেয় কিনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115011865.jpg

টি ট্রি অয়েলের উপকারিতা

এই এসেনশিয়াল অয়েলের বিবিধ উপকারিতার মাঝে মূল ও প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কমায়

যাদের ত্বক খুব শুষ্ক, তাদের জন্য টি ট্রি অয়েল খুব ভালো কাজ করবে। এই তেলটি শুষ্ক ত্বকের জ্বালাপোড়াভাব ও চুলকানির প্রাদুর্ভাব কমায়। বিশেষত এতে থাকা জিংক অক্সাইড শুষ্ক ত্বক ও একজিমার সমস্যা কমাতে কাজ করে।

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক উপাদান তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপকারী। একটি গবেষণা জানাচ্ছে,  সানস্ক্রিনের সাথে টি ট্রি অয়েল মিশ্রিত থাকলে ত্বকের তৈলাক্ততা কমে যায় অনেকখানি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115031078.jpg

ত্বকের প্রদাহ

উপকারী এই এসেনশিয়াল অয়েলের অ্যান্ট-ইনফ্ল্যামেটরি প্রভাব ত্বকের প্রদাহ, ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার সমস্যাকে কমিয়ে এনে আরাম প্রদান করে। এমনকি ত্বকের কোন অংশ ফুলে গেলে বা ত্বকে লালচে ভাব দেখা দিলে সেটা কমাতেও কাজ করে টি ট্রি অয়েল।

ক্ষত সারাতে টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ধর্ম ত্বকের কাটাছেঁড়া ও ক্ষত সারাতে খুব চমৎকার কাজ করে। ২০১৩ সালের একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে প্রতি ১০ জনের মাঝে ৯ জনের টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে ক্ষত দ্রুত ও অল্প সময়ের মাঝে ভালো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমবে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারে

আরও পড়ুন: ত্বকের ফাটা দাগ কমাতে ক্যাস্টর অয়েল

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র