Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

সবকিছুর সমাধানে ‘মা’

সবকিছুর সমাধানে ‘মা’
ছবি: সংগৃহীত
লাইফস্টাইল ডেস্ক
বার্তা২৪


  • Font increase
  • Font Decrease

মধুর আমার মায়ের হাসি, চাঁদের মুখে ঝরে, মাকে মনে পড়ে আমার মাকে মনে পড়ে! 

মায়ের মুখের মতো শান্ত, স্নিগ্ধ আর কোমল মুখ বোধহয় আর কারো হয় না। সেই মায়ের কাছ থেকে দূরে আছেন। কাজকর্ম, নতুন জীবন নিয়ে এতোই ব্যস্ত যে সারাদিনে হয়ত মায়ের সঙ্গে মন খুলে কথা বলার দুদণ্ড সময়ও মেলে না।

মা কিন্তু তার সন্তানের অপেক্ষা করেন। কবে বাড়ি আসবে, কখন ফোন দেবে, এখন ফোন দিলে ছেলে বা মেয়েটাকে ব্যস্ত পাবো না তো, শরীর খারাপ করলো কি না, ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করলো কিনা- এই চিন্তাগুলো মায়ের চিরন্তনই থাকে। 

দূরে থাকুন বা কাছে, মা’কে মনে প্রাণে সবসময় ধারণ করুন। কাজের অজুহাতে তাকে ভুলে যাবেন না। সে সবচেয়ে বড় ভরসা, এটা মনে রাখতেই হবে। আমরা সময়ে অসময়ে বলে ফেলি মা বেশি বকাবকি করে, সব কথাতেই যেন তার নাক গলানো চাই। মাঝেমাঝে মায়ের কথাকে বকবকানিও মনে হয়। কিন্তু দূরে বা কষ্টে থাকলে বোঝা যায় এই মা কতো আপন, আদর ভালোবাসার ভাণ্ডার নিয়ে একমাত্র এই মানুষটিই বসে থাকেন।

যখন অসম্ভব কষ্ট হয়, মানসিক চাপে থাকেন, কেউ কোনো প্রতারণা করে- সবার আগে চোখে ভাসে মায়ের মুখটি। কেননা এই মানুষটি সন্তানের যাবতীয় অন্যায় অনাচার মুখ বুজে মেনে নেন, সবকিছুর সমাধান করে দেন হাসিমুখে। যে মমতাময়ী মা চিরন্তন ভালোবাসায় তিলে তিলে গড়ে তোলেন সন্তানকে সেই মাকে জেনেশুনে কষ্ট দিলে নিজে কি শান্তিতে থাকা যায়!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/04/1556972061217.JPG
মায়ের কাছে তো যত শান্তি।

 

মা সারাজীবন সন্তানের জন্য নিঃস্বার্থভাবে নিজেকে বিলিয়ে দেবে, তারও তো কিছু প্রত্যাশা থাকে সন্তানের প্রতি। এজন্য প্রতিদিন প্রকাশ করুন মাকে কতটা ভালোবাসেন। মায়ের ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়, তবে তার পাশে থাকা সম্ভব। ভাবছেন কীভাবে মায়ের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করবেন? খুব সহজেই মায়ের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ করা যায়।

যেখানেই থাকুন না কেন, প্রতিদিন নিয়মিত মায়ের খোঁজখবর নিন, ফোন দিন। তাকে নিজের খোঁজ দিন। তাকে সময় দিতে চেষ্টা করুন। যত ব্যস্ততা থাকুক, একটা নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিদিন তাকে ফোন দিন। 

মায়েরা নিজের কাজ, সংসারের কাজ, কর্মস্থলের কাজ সামলাতে হিমশিম খায়। তার নিজের বলতে তো তেমন কিছুই থাকে না। তাকে নিয়ে মাঝেমধ্যে কোথাও ঘুরতে যান। তার পছন্দের কোথাও নিয়ে যান। তার পছন্দের গানগুলো তার ফোনের সংগ্রহে দিয়ে রাখুন, সে অবসরে গান শুনবে, তার অতীত স্মৃতি রোমন্থন হোক।

আজীবন গর্ব করে বলতেন মায়ের হাতের রান্নার মতো কিছু হয় না। শুধু মায়ের হাতে না খেয়ে মাকেও মাঝেমাঝে রান্না করে খাওয়ান শখের কোনোকিছু। তার কাছ থেকেই আগ্রহ নিয়ে শিখে নিন তার পছন্দের কোনো খাবার।

মায়ের মুখের হাসি খুবই জরুরি। আপনার সাফল্য তাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেবে। তাই তার কষ্টের মর্যাদা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন সফল হতে। আর মায়ের পছন্দ আপনি অবশ্যই জানেন। তাকে সেই পছন্দের কিছু উপহার দিন। তার বা আপনার জন্মদিনে, মা দিবসে, বাবা-মায়ের বিবাহবার্ষিকী ছাড়াও মন ভালো থাকার দিনে তাকে উপহার দিন। শাড়ি, বই, ফটোফ্রেম দিতেই পারেন মাকে। 

পাশে থাকুন সবসময়। তার কোনো সংকট বা  মন খারাপের সময়ে সঙ্গে থাকুন, অভয় দিন। প্রয়োজনে সমাধান দিন। জেনেশুনে কখনো কষ্ট দেবেন না তাকে। দিয়ে ফেললেও মন থেকে সরি বলুন তাকে। নিজের সব সংকটে তার কাছে সমাধান চান। যতো বড়ই হোন না কেন, আপনার জন্য মা-ই হতে পারে সবচেয়ে বড় সমাধান।

আরও পড়ুন: চমৎকার সম্পর্কের গাঁথুনিতে মা ও মেয়ে

আপনার মতামত লিখুন :

দইয়ের ড্রেসিংয়ে সবজি ও কুইনোর সালাদ

দইয়ের ড্রেসিংয়ে সবজি ও কুইনোর সালাদ
সবজি ও কুইনোর সালাদ, ছবি: সংগৃহীত

গরমে খাবারে ভীষণ অরুচি দেখা দেয়।

পেটে ক্ষুধাভাব থাকলেও কিছু খেতে ইচ্ছা হয় না। প্রিয় মাছ-মাংসও খেতে রুচি হয় না একদম। গরমে উদর পূর্তিতে সবজি ও ফলের মিশেলে সালাদ হলে সবচেয়ে ভালো হয়। সাথে যদি থাকে কুইনো ও টকদই এর উপস্থিতি, তবে তো কথাই নেই।

গরমে রাতের খাবার হিসেবে পারফেক্ট এই সালাদটি স্বাস্থ্য সচেতনেরাও খেতে পারবেন পেট ভরে। স্বাদু ও স্বাস্থ্যকর সালাদের রেসিপিটিতে চোখ বুলিয়ে নিন।

সবজি ও কুইনোর সালাদ তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561368811677.JPG

১. তিনটি ছোট আকৃতির বিট।

২. পাঁচটি ছোট-মাঝারি আকৃতির গাজর।

৩. তিন চা চামচ তেল।

৪. ১/২ কাপ কুইনো।

৫. এক কাপ চিকেন ব্রথ (না থাকলে পানি)

৬. চারটি টমেটো টুকরো করে কাটা।

৭. ১২টি আঙ্গুর।

৮. ১/৪ কাপ আখরোট।

৯. এক চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া।

১০. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

১১. ১/২ চা চামচ লবণ।

১২. কয়েক টুকরো পনির।

সালাদ ড্রেসিংয়ের জন্য যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561368831052.JPG

১. ১/২ কাপ টকদই।

২. দুই টেবিল চামচ অলিভ ওয়েল।

৩. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

৪. আধা চা চামচ লবণ।

৫. ১/৪ কাপ ফ্রেশ ধনিয়া পাতা কুঁচি।

সবজি ও কুইনোর সালাদ যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561368844826.JPG

১. ওভেন ৪০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রায় প্রি-হিট করতে দিয়ে বিটগুলো অলিভ অয়েলে মাখিয়ে ফয়েল পেপারে মুড়িয়ে ৪০ মিনিট চুলায় পুড়িয়ে নিতে হবে। পোড়ানো শেষে ওভেন থেকে বের করে ঠাণ্ডা করতে হবে এবং চার টুকরা করে বিটগুলো কেটে নিতে হবে।

২. গাজর ছোট টুকরো করে কেটে বেকিং শিটের উপরে বিটের সাথে ছড়িয়ে রাখতে হবে এবং তার উপরে দুই চা চামচ তেল, মশলার গুঁড়া ও লবণ ছিটিয়ে দিতে হবে। এবারে বিট ও গাজর প্রি-হিটেড ওভেনে ২৫ মিনিট বেক করে নিতে হবে।

৩. এর মাঝে কুইনো রেঁধে নিতে হবে। প্রথমে কুইনো ভালোভাবে পানিতে ধুয়ে, পানি ঝরিয়ে পরিমাণমতো ব্রথের পানি দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। ব্রথে লবণ থাকলে আর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। না থাকলে আধা চা চামচ দিতে হবে। কুইনো হয়ে গেলে নামিয়ে নিতে হবে।

৪. এখন সালাদ ড্রেসিং তৈরি করতে হবে। ড্রেসিং তৈরির জন্য একটি পাত্রে দই, তেল, ধনিয়া পাতা, জিরা গুঁড়া ও লবণ একসাথে নিয়ে ভালভাবে হুইস্ক করতে হবে। সকল উপাদান মিশে ঘন পেস্ট তৈরি হলেই সালাদ ড্রেসিং তৈরি হয়ে যাবে।

৫. সবজিগুলো বেক করা হয়ে গেলে ওভেন থেকে বের করে নিতে হবে। এবারে সালাদ পরিবেশনের বড় প্লেট বা ট্রের উপরে প্রথমে কুইনোর স্তর দিতে হবে। তার উপরে রোস্টেড বিট, গাজর ও গাজর, টমেটো টুকরা। তার উপরে পনির ও ড্রেসিং দিয়ে সবশেষে আখরোট ছড়িয়ে পরিবেশন করতে হবে একেবারেই হালকা ধাঁচের এই সালাদটি।

আরও পড়ুন: ঘরে তৈরি সবজি সিঙ্গারা

আরও পড়ুন: মটরশুঁটিতে তৈরি ভিন্নমাত্রার মটর-পরোটা

শিশুদের আত্মার খোরাকে সাহিত্য, শিল্পকর্ম ও সংগীত!

শিশুদের আত্মার খোরাকে সাহিত্য, শিল্পকর্ম ও সংগীত!
গল্পের বইয়ের কল্পিত রাজ্যে শিশুরা খুঁজে পাবে অনাবিল আনন্দ, ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে শিশুদের স্কুল ব্যাগের ওজন বাড়তে থাকে পাল্লা দিয়ে।

পাঠ্যবইয়ের ভিড়ে, পড়ালেখার চাপে নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয় হয় একদম ছেলেবেলা থেকেই। স্কুল, কোচিং, হোম টিউটর, হোমওয়ার্ক, পড়ালেখার ব্যস্ততার ভিড়ে নিজের জন্য শিশুদের আলাদা সময় কই!

এভাবেই বেড়ে উঠছে এখনকার সময়ের বেশিরভাগ শিশুরা। গল্প ও কবিতার বই পড়া, গান শোনা, সাহিত্য সম্পর্কে জানা, চিত্রকর্মের সাথে পরিচিত হওয়ার সময় নেই একদম। সময় স্বল্পতা ও সন্তানদের পড়ালেখার বাড়তি চাপের দরুন অভিভাবকেরাও যেন নিরুপায়। পড়ালেখার পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ের সাথে তাদের পরিচিতি ঘটানোর বিষয়গুলোতে হয়তো তারাও তাই গুরুত্ব দিতে পারেন না।

অথচ একটি শিশুর পরিপূর্ণভাবে বেড়ে উঠতে বিশুদ্ধ বাতাস, স্বাস্থ্যকর খাবার ও খেলাধুলা যতখানি প্রয়োজন, ঠিক ততখানি প্রয়োজন গল্প ও কবিতার বই, গান, সাহিত্য ও শিল্পকর্ম। এই বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে অস্ট্রিড লিন্ডগ্রেন মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত ইংলিশ উপন্যাসিক স্যার ফিলিপ পালম্যান জানিয়েছেন, শিশুদের বিকাশের জন্য এই বিষয়গুলোও সমানভাবেই প্রভাব রাখে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561357170717.jpg

খুব সহজ ও চমৎকার উদাহরণের সাহায্যে তিনি এই বিষয়টি বোঝাতে চেষ্টা করেছেন। পালম্যান বলছেন, ‘আপনি যদি আপনার সন্তানকে খাবার ঠিকমতো না দেন, তবে তার প্রভাব খুব দ্রুত দেখা দেবে। যা হবে দৃশ্যমান। এদিকে আপনি যদি তাকে বিশুদ্ধ বাতাস ও উন্মুক্ত স্থানে খেলতে না দেন, তার ক্ষতিটাও হবে দৃশ্যমান। তবে সেটা চট করে ধরা যাবে না। ঠিক একইভাবে শিশুদের যদি ভালোবাসা ও স্নেহ না দেওয়া হয়, তার প্রভাব কয়েক বছরের মধ্যে দেখা না দিলেও, একটা সময়ে ঠিকই দেখা দেবে। যা একেবারে স্থায়ী।’

‘কিন্তু শিশুদের যদি সংগীত, সাহিত্য, শিল্পকর্মের সাথে পরিচিত না করানো হয়, তার ক্ষতিটা সহজে বোঝা যাবে না। কিন্তু খুব গভীরে সে ক্ষতিটা রয়ে যাবে। এই সকল বিষয়ের সাথে পরিচিত না হওয়া শিশুরাও সুস্থ শরীরে বেড়ে উঠবে, ঘুমাবে, দৌড়ঝাঁপ করবে, দুষ্টামি করবে আর দশটি সাধারণ শিশুর মতোই। কিন্তু খুব গভীরে সেই শিশুটির মাঝে কিছু একটার অভাব থেকেই যাবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561357191115.jpg

এই কিছু একটার অভাব হলো নিজ সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কের অভাব, তার সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠার অভাব, তাকে আপন করে নেওয়ার জন্য ভালোবাসার অভাব।

নিজ সংস্কৃতির চাইতে ভালোবাসার ও প্রিয় আর কিছু হতেই পারে না। সেই সংস্কৃতির সাথে ছেলেবেলা থেকে পরিচিতি না ঘটলে তার অভাবতি সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়।

বড় হওয়ার পর বা প্রাপ্তবয়স্ক হলে সংস্কৃতির নানান শাখার সাথে নিজ থেকে পরিচিতি ঘটবে। কিন্তু হুট করে এমন বিস্তৃত একটি বিষয়ের সাথে পরিচিত হওয়া ও ছোট থেকে সেটা জেনে ও বুঝে বড় হওয়ার মাঝে তফাৎ থেকেই যায়।

সংগীত, সাহিত্য, শিল্পকর্ম শুধুই সংস্কৃতির সাথে পরিচয় ঘটায় না, আত্মাকেও শুদ্ধ করে, আত্মার খোরাক যোগায়।

প্রতিটি বাবা-মা চান তার সন্তানকে পরিপূর্ণভাবে বড় করে তুলতে, জ্ঞানে ও বিদ্যায়। সেক্ষেত্রে শুধু পাঠ্যবইয়ের মাঝে শিশুদের আবদ্ধ না রেখে তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে বর্ণীল এই জগতের। যেখানে ভালোলাগা ও জ্ঞানের চর্চা থাকে সমান্তরালে।

আরও পড়ুন: শিশুদের জন্য খেলাধুলা কেন প্রয়োজন?

আরও পড়ুন: বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়াতে পারে সন্তানের ওজন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র