Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আর নয় একই তেলে বারবার খাবার ভাজা

আর নয় একই তেলে বারবার খাবার ভাজা
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

আর মাত্র কদিন পরেই চলে আসবে পবিত্র রমজান মাস।

পুরো মাসব্যাপী রোজার আয়োজনে তেলে ভাজা খাবার থাকার রীতিটি অনেকটাই অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। গরম বেগুনী, পাকোরা, পিঁয়াজু কিংবা চপ ভাজার জন্য বেশ অনেকখানি তেলের প্রয়োজন হয়। দেখা যায় অনেকেই একই তেলে কয়েকদিনের ভাজাপোড়ার কাজ সেরে নেন।

পুরনো তেলে খাবার রান্না করা বা ভাজাপোড়া করলে খুব একটা সমস্যা নেই- এমন ভ্রান্ত ধারনা থেকেই মূলত এই অভ্যাসটি দেখা দেয়। অথচ এই অভ্যাসটির জন্যেই দেখা দেয় নানাবিধ শারীরিক অসুস্থতাসহ ক্যানসারের মতো বড় ধরনের সমস্যাও।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয়েসের ল্যাবরেটরিতে ইঁদুরের উপরে পুরনো তেলের একটি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার জন্য ইঁদুরদের শরীরে ৪টি১ ব্রেস্ট ক্যানসার সেল ইনজেক্ট করা হয়। এই ইঁদুরদের প্রথম সপ্তাহে লো-ফ্যাট ডায়েটে রাখা হয়। পরবর্তীতে ইঁদুরের একাংশকে ফ্রেশ সয়াবিন তেলে ভাজা খাবার খাওয়ানো হয় এবং বাকিদের পুরনো তেলে ভাজা খাবার দেওয়া হয়।

যার ফলাফল ছিল ভয়াবহ। পুরনো তেলে ভাজা খাবার খাওয়া ইঁদুরদের শরীরে, ফ্রেশ তেলে ভাজা খাবার খাওয়া ইঁদুরের চাইতে চার গুণ বেশি ব্রেস্ট ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ফলাফল দেখা যায়। শুধু তাই নয়। তাদের ফুসফুসেও টিউমারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

এখানে একটা বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে। পুরনো তেলে ভাজা খাবার ব্রেস্ট ক্যানসার তৈরি করে না,। তবে গবেষণার ফলাফল জানাচ্ছে শরীরে আগে থেকে থাকা ক্যানসারের বৃদ্ধিতে অবদান রাখে একই তেলে পুনরায় ভাজা খাবার।

পুরনো তেলে ভাজা খাবারে আর কী অপকারিতা রয়েছে সেটা জানাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পত্রিকা মেডিক্যাল নিউজ টুডে। তাদের জার্নালে প্রকাশ করেছে, একই তেল বারবার উচ্চতাপে গরম করে তাতে খাবার ভাজা হলে, তেল থেকে অ্যাক্রোলিন (Acrolein) নামক বিষাক্ত উপাদান নির্গত হয়। এই উপাদানটি অনেকক্ষেত্রে ক্যানসার তৈরি জন্য দায়ী।

‘আমরা সবাইকে এটা বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, ক্যানসার বংশগত কিংবা শারীরিকগত ত্রুটির ফলে নয়, নিজের লাইফস্টাইলের ভুলের জন্যেও হয়ে থাকে। যদি সঠিক খাদ্যাভ্যাস ব্রেস্ট ক্যানসারকে কমাতে পারে তবে সেটা সুস্বাস্থ্যও এনে দিতে পারবে।’ এমনটাই বলেছেন পরীক্ষা ও গবেষণাটির প্রধান ডাব্লিউ. অয়েরিফিন।

তাই শুধু রমজানের সময়ে নয়, সবসময়েই পুরনো তেলে ভাজা খাবারের বিষয়ে সচেষ্ট হতে হবে। মূলত এই কারণেই বাইরের তেলে ভাজা খাবার খাওয়ার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হয় ও ঘরে তৈরি খাবারের প্রতি জোর দেওয়া হয়। তবে ঘরে তৈরি খাবারেও একই তেল একবারের বেশি ব্যবহার না করার প্রতি সচেষ্ট থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: বার্গার খাওয়ার পর কী ঘটে শরীরে?

আরও পড়ুন: পেটের মেদ বাড়ছে যে সকল অভ্যাসে

আপনার মতামত লিখুন :

খালি পেটে কফি পান নয়

খালি পেটে কফি পান নয়
ছবি: সংগৃহীত

বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই, কফির সুঘ্রাণ ও সুস্বাদের সাথে দিনের শুরু হওয়া অনেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক যেন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, কোন খাবার না খেয়েই কফির পেয়ালায় চুমুক বসান। কিন্তু একদম খালি পেটে কফি পান করা কতটা উপকারী? খালি পেটে কফি পানে কি তার উপকারিতাগুলো শরীর পরিপূর্ণভাবে পায়?

উত্তরে বলতে হবে, না। একদম খালি পেটে নয়, কফি পান করতে হবে হালকা কোন খাবার খাওয়ার পরেই। একদম খালি পেটে কফি পানের ফলে শরীরে কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কর্টিসল শরীরের মেটাবলিজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563462138926.jpg

এখন প্রশ্ন হলো, কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কি সমস্যা হবে? এখানে উত্তরে বলতে হবে, হ্যাঁ। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খালি পেটে কফি পানের ফলে কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ তৈরি করে ও বাড়িয়ে দেয়।

এতে করে খুব দ্রুত মুড বদলে যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়া কফি পাকস্থলিস্থ অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। যা অ্যাসিডিক প্রভাব তৈরি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

নিজেকে চাঙা রাখতে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও কফির উপকারিতাগুলো পেতে চাইলে সকালে নাশতা সেরে অথবা হালকা কিছু খেয়ে তবেই কফি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক কফি পানে ওজন কমে?

আরও পড়ুন: কতটুকু কফি পান নিরাপদ?

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
পানি জমলেই জন্ম নেবে মশা, ছবি: সংগৃহীত

মায়ের শীতল হাতের ছোঁয়া আর মমতামাখা ভালোবাসার চাদর জড়িয়েও কমানো যাচ্ছে না তিন বছর বয়সী ঐশীর জ্বর। হাসপাতালের বারান্দায় স্থান হয়েছে ঐশীর, অথচ মা কখনো তাকে খালি পায়ে মেঝেতে নামতে দিত না। ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে আসছে ঐশীর চেহারা, মাঝে মাঝে বমি করছে। অস্থির মা বারবার ছুটে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। মেয়ের পাশে অসহায় পিতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, বেদনায় পাণ্ডুর মুখ কিন্তু কাঁদতে পারছে না মেয়ের কষ্ট দেখে।

অথচ মায়ের সচেতনতার কমতি ছিলো না কিছুতেই। জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলে তিনিও সচেতন হয়ে উঠেন। সকাল সন্ধ্যা স্প্রে এবং সন্তান ঘুমালে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া তার আহার্যের মত নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। কিন্তু সাধের বারান্দাতে বাহারি ফুল গাছের সম্ভার তৈরি করেছিলেন। সেখানেই জন্ম নেয় ঘাতক এডিস মশা।

সেক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অ্যারোসল স্প্রে বা মশার কয়েলের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে মশারি। দুপুরের ভাতঘুমে আলসেমি করে মশারি ব্যবহার করে না অনেকেই। এই প্রথার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সাথে সন্ধ্যায় হতেই বন্ধ করে দিতে হবে জানাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563457264592.jpg

শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। নিজের ঘর ও উঠান থেকে শুরু করতে হবে পরিচ্ছন্নতা। কোন স্থানে কিছুতেই জমতে দেওয়া যাবে না পানি। জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যাক্ত ড্রাম, ফেলে দেওয়া বোতল, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে এক বা দুই দিনের জমে যাওয়া পানিতে জন্ম নেয় মশার লার্ভা। আর এক সপ্তাহের ভেতর হয়ে উঠে ঘাতক।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এডিস মশাবাহী ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। ৯৩ জন মারা যায় সেবার। সকলে সচেতন হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।

কিন্তু গত বছর থেকে আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু জ্বর। সরকারি হিসাবমতে গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর মাঝে মারা যায় ২৬ জন।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর একটু ভিন্ন। শক্তিশালী স্টেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত তৃতীয় প্রজাতির এডিস মশা ছড়াচ্ছে। জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ৫ মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ইতোমধ্য সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার সহাস্রাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারা গিয়েছে তিন জন। বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুন বেশি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিগতবার থেকে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেমন বেশি তেমনি রয়েছে ভিন্নতা। আগে ডেঙ্গু জ্বর হলে মাথা ব্যথা, চোখের পেছন অংশে ব্যথা হত। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন, ধরতেও সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

তাই সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিস, লিভার, কিডনী ও রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হলে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্য রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। বেশি করে পানি ও তরলজাত খাবার দিতে হবে রোগীকে।

এছাড়া এসপেরিন বা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেতে হবে। পান করতে হবে ডাবের পানি ও স্যালাইন।

সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন কিছু নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র