Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ধরিত্রী দিবস আজ, পরিবেশ বাঁচাতে প্লাস্টিক বর্জন

ধরিত্রী দিবস আজ, পরিবেশ বাঁচাতে প্লাস্টিক বর্জন
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

পুরো বিশ্বব্যাপী আজকের দিনটি পালন করা হয় ‘আর্থ ডে’ তথা ধরিত্রী দিবস হিসেবে।

১৯৭০ সালের ২২ এপ্রিল সর্বপ্রথম আজকের দিনটির সূচনা হয়। যার পরিসর দিনে দিনে ছড়িয়ে পড়ায় বর্তমানে মোট ১৯৩টি দেশে পালন করা হয় আজকের দিনটি।

আজ প্রায় পঞ্চাশ বছর পর আমাদের সবারই পুরো পৃথিবী ও পরিবেশের দিকে বাড়তি ও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। দিনে দিনে আমাদের চারপাশের পরিবেশের নাজুক অবস্থা ক্রমেই ছাড়িয়ে যাচ্ছে পেছনের সব রেকর্ড। ভীষণ ‘বিপদজনক’ এই অবস্থায় সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে পুরো পৃথিবীবাসীকেই।

বর্তমান সময়ে পরিবেশের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো প্লাস্টিক। প্রকৃতি ও পরিবেশের উপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে প্লাস্টিক? জেনে রাখুন প্রতি বছর এক ট্রিলিয়ন পরিমাণ প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহৃত হয় পুরো বিশ্বে। যার মাত্র ৫ শতাংশ হলো পুনঃব্যবহারযোগ্য।

এছাড়া আন্তর্জাতিক স্কেলে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপন্ন হয়। যার মাঝে অর্ধেকই শুধুমাত্র একবার ব্যবহারের জন্য। ইতোমধ্যে আমাদের সমুদ্রে প্লাস্টিকের সংখ্যা ১৫০ ট্রিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। যা জলজ জীবনের ওপরে তো বটেই, পুরো বাস্তুসংস্থান প্রক্রিয়ার উপরেই বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি করছে।

প্লাস্টিকের এই দানবীয় প্রভাব ও রূপ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্লাসিক বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। আশা করা যায়, তাদের এই পদক্ষেপ কিছুটা হলেও পরিবেশের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করবে। এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম তুলে ধরা হলো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/22/1555917890443.jpg
ধরিত্রী দিবস।

 

ম্যাকডোনাল্ডস

২০১৮ সালের গ্রীষ্ম থেকেই প্রতিষ্ঠানটি প্লাস্টিক বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেছে। ২০২৫ সাল নাগাদ ১২২টি স্থানের প্রায় ৩৬,০০০ আউটলেটে ম্যাকডোনাল্ডস নবায়নযোগ্য, পুনঃব্যবহারযোগ্য, টেকসই পণ্য ব্যবহার করা হবে।

দ্য ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানি

প্রতিটি ডিজনি থিম পার্কে প্রতি বছরে ১৭৫ মিলিয়ন স্ট্র ও ১৩ মিলিয়ন স্টিরার (নাড়ানি) ব্যবহার করা হয়। বড় অংকের এই অপচয় রোধে চলতি বছর থেকেই প্লাস্টিক পণ্য বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

নেসলে

পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তর প্যাকেটজাত খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হলো নেসলে। প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ কমাতে এই প্রতিষ্ঠানটিও চলতি বছরের গ্রীষ্ম থেকে প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাগজের পণ্যের ব্যবহার শুরু করবে বলে প্রতিজ্ঞা করছে।

স্টারবাকস

২০২০ সাল নাগাদ স্টারবাকসের প্রতিটি স্তোর থেকে প্লাস্টিকের স্ট্র বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে পৃথিবী বিখ্যাত এই কফি শপটি। তারা হিসেব করে দেখেছে প্রতি বছরে তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে এক বিলিয়নের বেশি পরিমাণ স্ট্র ব্যবহার করা হয়।

আরও পড়ুন: গুগল ডুডলে আধুনিক ভাস্কর্যের অগ্রদূত নভেরা আহমেদ

আরও পড়ুন: নারীদের জন্য বিশ্বের সেরা ১৯ দেশ!

আপনার মতামত লিখুন :

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান
নান, ছবি: সংগৃহীত

সকাল কিংবা বিকালের নাশতায় যারা নিয়মিত রুটি ও পরোটা খান, একটা সময় পরে তাদের রুটিতে অভক্তি দেখা দেয়।

এ সময়ে রুটির বদলে গরম নান খেতে মনে চায়। ফোলা ও গরম নানের সাথে সবজি কিংবা মাংসের ঝোল যেন অমৃতসম।

এই নান কেনার জন্য এলাকার রেস্টুরেন্টে দৌড়ঝাঁপ না করে ঘরে বসে চুলাতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার গরমাগরম নান। দেখে নিন নান তৈরির রেসিপিটি।

নান তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623276721.JPG

১. ১/৪ কাপ দই।

২. এক চা চামচ চিনি।

৩. এক চা চামচ বেকিং পাউডার।

৪. এক চিমটি বেকিং সোডা।

৫. দুই কাপ ময়দা।

৬. এক চা চামচ লবণ।

৭. দুই টেবিল চামচ তেল।

৮. ১/৪-১/৩ কাপ পানি।

৯. এক টেবিল চামচ কালোজিরা।

১০. ঘি অথবা মাখন।

নান যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623263865.JPG

১. একটি পাত্রে দই, এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ বেকিং পাউডার ও এক চিমটি বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশাতে হবে।

২. এতে দুই কাপ ময়দা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রণের মাঝখানে দুই টেবিল চামচ তেল অ ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ময়দার কাই তৈরি করতে হবে। ময়দার কাই শক্ত হলে পানি ও নরম হলে ময়দা মেশাতে হবে।

৩. ময়দার কাইটি মসৃণ হয়ে আসলে তার উপরে তেল মাখিয়ে পাত্রের মাঝখানে রেখে তার উপরে ভেজা অ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দুই ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৪. দুই ঘণ্টা পর ময়দার কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে। বেলার সময় তার উপরে কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং রুটির মতো গোলাকৃতির না করে লম্বাটে করে নিতে হবে। চাইলে হাত দিয়ে টেনে লম্বাটে করে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623299530.JPG

৫. এবারে চুলায় তাওয়া গরম করে নান দিয়ে দিতে হবে। একপাশ কিছুটা ভাজা হলে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেবে। এমন হলে নান উল্টে দিয়ে অপর পাশ ভাজতে হবে। এ পাশেও ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দিলে আবারো উল্টে দিতে হবে।

তাওয়া থেকে নামানোর আগে নানের উপরে ঘি অ ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: ঘিয়ে তৈরি মুচমুচে নিমকি

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!
কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিটি কর্মজীবীকে দিনের সিংহভাগ সময় কাটাতে হয় নিজ কর্মক্ষেত্রে।

কাজের চাপ, ব্যস্ততা, ডেডলাইন, মিটিংসহ সবকিছুর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে ক্লান্তি দেখা দেয় একটা সময়। সময়মতো বিশ্রাম নিলে এই ক্লান্তিভাব খুব দ্রুত কেটেও যায়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়।

কর্মোদ্যম ফুরিয়ে গেলে শারীরিক ক্লান্তির সাথে মানসিক ক্লান্তি প্রভাব বিস্তার করে। কাজ, ব্যস্ততা, ছুটে চলা- সবকিছুকেই অর্থহীন বোধ হতে থাকে। অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয় জীবনে চলার পথে। এমন অবস্থা চলতে একটা সময় জীবনের উপরে বিরক্তিবোধ কাজ করা শুরু করে।

কর্মোদ্যম হারিয়ে যাওয়া বা দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বেশ কয়েকটি কারণে দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রফেশনাল প্রেসক্রিপশন ফর লাইফের কোচ সুসান বিয়ালি হাস এমডি। বিগত কয়েক বছর ধরে এ বিষয়ে কাজ করে এবং বহু মানুষকে কাউন্সেলিং করে তিনি বুঝতে পেরেছেন কর্মক্ষেত্রে কর্মোদ্যমতা হারানো শুরু হয় খুব ছোট কিছু থেকেই।

নির্দিষ্ট কোন একটি কারণ

ভিন্ন ভিন্ন কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চাপ থাকে, কাজের ধরণ থাকে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। কোচ সুসান জানাচ্ছেন মূলত ছয়টি কারণ কাজ করে এক্ষেত্রে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, নিয়ন্ত্রণের অভাব, অপর্যাপ্ত উপহার, কর্মক্ষেত্রে কমিউনিটি সংক্রান্ত সমস্যা, অন্যায্য/ অনৈতিক চর্চা, নৈতিকতার অমিল। এ বিষয়গুলো খুব ধীরে ধীরে কাজের উপর অনাগ্রহ তৈরি করে এবং কর্মোদ্যমতা নষ্ট করে দেয়।

আপনিও কর্মোদ্যম হারিয়ে ফেলেন তবে চেষ্টা করুন কারণটি খুঁজে বের করার। কোন কারণে এমনটা হচ্ছে সেটা শনাক্ত করতে পারলে সেটা সমাধানে কাজ করতে পারবেন।

অন্যের কাজ করা

স্বাভাবিকভাবেই অফিসে নিজের কাজের চাপ থাকে অনেক বেশি। সেখানে অন্যের কাজের বোঝাও যদি মাথায় এসে ভর করে তবে সেটা শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি করে অনেক বেশি। আপনিও যদি এমনটা করে থাকেন তবে এই অভ্যাসটি খুব দ্রুত পরিহার করতে হবে।

ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মাঝে দেয়াল না থাকা

অফিসের কাজ বাসাতে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোন বিশ্রাম হয় না। মাথার ভেতর সর্বদা কাজের বিষয়গুলো ঘুরঘুর করতে থাকে, যার ফলে প্রচণ্ড মানসিক অশান্তি ও অস্থিরতা দেখা দেয়।

সেক্ষেত্রে কোচ সুসান পরামর্শ দেন- যতই কাজের চাপ থাকুক না কেন বা কাজ শেষ করার তাড়া থাকুক না কেন, কোনভাবেই অফিসের কাজ বাসাতে আনা যাবে না। বাসায় বসেও অফিসের কাজ করা ও অফিসে থাকার মাঝে আদতে কোন পার্থক্য থাকে না। এতে করে পরদিন পুনরায় অফিসে গেলেও বিন্দুমাত্র কর্মোদ্যমতা পাওয়া যায় না।

নিজের যত্ন না নেওয়া

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য চব্বিশ ঘণ্টার মাঝে অন্ততপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম বাধ্যতামূলক। এর কম হলে শরীর ও মন জুড়ে অপরিসীম ক্লান্তি ভর করে। এছাড়া নিজের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি হেলাফেলা করা হয়, তার প্রভাব সরাসরি দেখা দেয় কাজের উপর। সারাদিন অফিসে ডেস্কে বসে থেকেও মাথা কাজ করবে না, কাজে মন বসবে না। সেক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, নিজের অযত্নও কর্মোদ্যম ফুরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

আরও পড়ুন: কর্মক্ষেত্রে দূরে থাকুক আত্ম-সন্দেহ

আরও পড়ুন: সমস্যাটি যখন কর্মক্ষেত্রে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র