Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

১৪২৬ বর্ষবরণের আয়োজন

যেমন হওয়া চাই এবারের বৈশাখী সাজ

যেমন হওয়া চাই এবারের বৈশাখী সাজ
হালকা ঘরানার সাজ থাকুক বৈশাখ বরণে, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

দেখতে দেখতেই শেষ হয়ে গেলো চৈত্র সংক্রান্তি।

আগামীকালের দিনটি শুরু হবে আনকোড়া নতুন একটি বছরকে সাথে নিয়ে। পহেলা বৈশাখ বরণের দিনটি পালনে ও স্বাগত জানাতে নিজেকে সাজানো চাই পরিপাটিভাবে। এবারের বাংলা বছরের প্রথম দিনটিতে রোদের উপস্থিতি থাকবে বলা হলেও, বৃষ্টি দেখা দেওয়ার সম্ভবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তাই বাইরে বের হতে চাইলে কিংবা ঘরোয়া আয়োজনে, কেমন হওয়া চাই এবারের বৈশাখের সাজটি, সেটাই জানানো হয়েছে বার্তা লাইফস্টাইলের আজকের ফিচারটিতে।

ত্বকের সাজ

প্রথমেই মুখের ত্বককে ক্লিনজারের সাহায্যে পরিষ্কার করে নিতে হবে। ত্বকের সঙ্গে মানানসই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পর সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে, যদি বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে। সানস্ক্রিন সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে বিবি ক্রিম ব্যবহারের পর ত্বকের শেডের সঙ্গে মিল ফেসপাউডার ব্যবহার করতে হবে। ত্বকের কালচা দাগ ও চোখের নিচের ডার্ক আই ঢাকতে ব্যবহার করতে হবে কনসিলার। শেষে ব্লাশ-অনের ছোঁয়া মুখে এনে দেবে প্রাণের সঞ্চার। যেহেতু রোদ ও গরম আবহাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে, তাই ত্বকে বাড়তি কিছু ব্যবহার না করাই ভালো।

চোখের সাজ

ত্বকের পরেই চোখের সাজের দিকে খেয়াল দিতে হবে। পহেলা বৈশাখ মানেই রঙের উপস্থিতি। তাই চোখের সাজে রঙের উপস্থিতি ফুটবে বেশি। কালচে ও ডার্ক স্মোকি আই এড়িয়ে বাহারি রঙের দিকে প্রাধান্য দিতে হবে। পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে ও কন্ট্রাস্ট রঙে চোখকে সাজালে দারুণ মানাবে।

টেনে বা ক্যাটস আই নকশায় আইলাইনার দেওয়া যেতে পারে। অথবা চোখের উপরে মোটা দাগে ও অল্প টেনে। সাথে মাশকারার প্রলেপে চোখের পাতাগুলোকে গুছিয়ে নিতে হবে।

চোখের সাজের মাঝেই পরে আইভ্রু আঁকা। চোখের সাজ পরিস্ফুটিত করতে আইভ্রু এঁকে নিতে হবে সঠিক আকারে।

ঠোঁটের সাজ

লাল-সাদা থেকে বেরিয়ে এখনকার সময়ে বিভিন্ন রঙের বর্ণীল পোশাক পরার চল এসেছে। তবে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি যে রঙেরই হোক না কেন, ঠোঁটের সাজে লাল, মেরুন, উজ্জ্বল ম্যাজেন্টা, রাণী গোলাপি রংগুলোই বেশি ভালো দেখাবে।

চুলের সাজ

ঘরে থাকলে চুল ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে। সাথে স্ট্রেইট কিংবা কার্ল করে নেওয়া যেতে পারে পছন্দমতো। তবে বাইরে বেরুনোর ক্ষেত্রে আলগোছে হাতখোঁপা করে ফুল গুঁজে নিলে মানাবে বেশি।

মুখের সম্পূর্ণ সাজ শেষে সেটিং স্প্রে ব্যবহার করতে হবে। এতে করে ঘামে কিংবা পানিতে মেকআপ সহজে নষ্ট হবে না। শাড়ি বা কুর্তি যাই হোক না কেন কপালে টিপ না থাকলে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে পুরো সাজের আয়োজন।

আরও পড়ুন: উৎসব যেন চুলের ক্ষতি না করে!

আরও পড়ুন: সংগ্রহে রাখার মতো সেরা পাঁচ ‘লাল লিপস্টিক’

আপনার মতামত লিখুন :

খালি পেটে কফি পান নয়

খালি পেটে কফি পান নয়
ছবি: সংগৃহীত

বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই, কফির সুঘ্রাণ ও সুস্বাদের সাথে দিনের শুরু হওয়া অনেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক যেন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, কোন খাবার না খেয়েই কফির পেয়ালায় চুমুক বসান। কিন্তু একদম খালি পেটে কফি পান করা কতটা উপকারী? খালি পেটে কফি পানে কি তার উপকারিতাগুলো শরীর পরিপূর্ণভাবে পায়?

উত্তরে বলতে হবে, না। একদম খালি পেটে নয়, কফি পান করতে হবে হালকা কোন খাবার খাওয়ার পরেই। একদম খালি পেটে কফি পানের ফলে শরীরে কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কর্টিসল শরীরের মেটাবলিজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563462138926.jpg

এখন প্রশ্ন হলো, কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কি সমস্যা হবে? এখানে উত্তরে বলতে হবে, হ্যাঁ। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খালি পেটে কফি পানের ফলে কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ তৈরি করে ও বাড়িয়ে দেয়।

এতে করে খুব দ্রুত মুড বদলে যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়া কফি পাকস্থলিস্থ অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। যা অ্যাসিডিক প্রভাব তৈরি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

নিজেকে চাঙা রাখতে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও কফির উপকারিতাগুলো পেতে চাইলে সকালে নাশতা সেরে অথবা হালকা কিছু খেয়ে তবেই কফি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক কফি পানে ওজন কমে?

আরও পড়ুন: কতটুকু কফি পান নিরাপদ?

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
পানি জমলেই জন্ম নেবে মশা, ছবি: সংগৃহীত

মায়ের শীতল হাতের ছোঁয়া আর মমতামাখা ভালোবাসার চাদর জড়িয়েও কমানো যাচ্ছে না তিন বছর বয়সী ঐশীর জ্বর। হাসপাতালের বারান্দায় স্থান হয়েছে ঐশীর, অথচ মা কখনো তাকে খালি পায়ে মেঝেতে নামতে দিত না। ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে আসছে ঐশীর চেহারা, মাঝে মাঝে বমি করছে। অস্থির মা বারবার ছুটে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। মেয়ের পাশে অসহায় পিতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, বেদনায় পাণ্ডুর মুখ কিন্তু কাঁদতে পারছে না মেয়ের কষ্ট দেখে।

অথচ মায়ের সচেতনতার কমতি ছিলো না কিছুতেই। জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলে তিনিও সচেতন হয়ে উঠেন। সকাল সন্ধ্যা স্প্রে এবং সন্তান ঘুমালে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া তার আহার্যের মত নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। কিন্তু সাধের বারান্দাতে বাহারি ফুল গাছের সম্ভার তৈরি করেছিলেন। সেখানেই জন্ম নেয় ঘাতক এডিস মশা।

সেক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অ্যারোসল স্প্রে বা মশার কয়েলের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে মশারি। দুপুরের ভাতঘুমে আলসেমি করে মশারি ব্যবহার করে না অনেকেই। এই প্রথার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সাথে সন্ধ্যায় হতেই বন্ধ করে দিতে হবে জানাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563457264592.jpg

শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। নিজের ঘর ও উঠান থেকে শুরু করতে হবে পরিচ্ছন্নতা। কোন স্থানে কিছুতেই জমতে দেওয়া যাবে না পানি। জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যাক্ত ড্রাম, ফেলে দেওয়া বোতল, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে এক বা দুই দিনের জমে যাওয়া পানিতে জন্ম নেয় মশার লার্ভা। আর এক সপ্তাহের ভেতর হয়ে উঠে ঘাতক।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এডিস মশাবাহী ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। ৯৩ জন মারা যায় সেবার। সকলে সচেতন হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।

কিন্তু গত বছর থেকে আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু জ্বর। সরকারি হিসাবমতে গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর মাঝে মারা যায় ২৬ জন।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর একটু ভিন্ন। শক্তিশালী স্টেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত তৃতীয় প্রজাতির এডিস মশা ছড়াচ্ছে। জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ৫ মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ইতোমধ্য সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার সহাস্রাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারা গিয়েছে তিন জন। বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুন বেশি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিগতবার থেকে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেমন বেশি তেমনি রয়েছে ভিন্নতা। আগে ডেঙ্গু জ্বর হলে মাথা ব্যথা, চোখের পেছন অংশে ব্যথা হত। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন, ধরতেও সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

তাই সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিস, লিভার, কিডনী ও রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হলে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্য রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। বেশি করে পানি ও তরলজাত খাবার দিতে হবে রোগীকে।

এছাড়া এসপেরিন বা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেতে হবে। পান করতে হবে ডাবের পানি ও স্যালাইন।

সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন কিছু নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র