Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

কেন খাবেন কালোজিরা?

কেন খাবেন কালোজিরা?
কালোজিরা, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

বিভিন্ন ধরণের রান্নায় তো বটেই সিঙ্গারাতেও ছোট কালো যে দানাটির উপস্থিতি পাওয়া যায়, সেটা আমাদের সকলের পরিচিত কালোজিরা।

ভীষণ উপকারী প্রাকৃতিক এই উপাদানটির বৈজ্ঞানিক নাম Nigella Sativa.

রন্ধনশিল্পে তো বটেই চিকিৎসাশাস্ত্রেও কালোজিরা অনন্য ভূমিকা পালন করে। এমনকি জেনে অবাক হবেন, শত বছর আগে ব্রঙ্কাইটিস ও ডায়রিয়ার মতো মহামারী রোগের প্রাকৃতিক চিকিৎসার উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হতো কালোজিরা।

তিতকুটে স্বাদের এই খাদ্য উপাদানটি প্রতিদিন ১/৪ চা চামচ পরিমাণ খেলেও সুস্থ থাকা যাবে নিত্যদিনের নানান ধরনের ছোট-বড় অসুস্থতা থেকে। উপকারী এই উপাদানের অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জেনে রাখুন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/04/1554389203515.JPG

অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ

শরীরকে ফ্রি-রেডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত করতে ও কোষের অক্সিডেটিভ ড্যামেজকে কমাতে প্রয়োজন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। গবেষণার ফল জানাচ্ছে বড় ধরণের ক্রনিক রোগের ঝুঁকি কমাতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের প্রভাব থাকে। কালোজিরাতে থাকা থাইমোকুইনন (Thymoquinone), কার্ভাক্রোল (Carvacrol), টি-অ্যাথল (T-anethole), ফোর-টারপিনল (4-terpineol) থেকে প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।

কোলেস্টেরল কমাতে কার্যকর

উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। যে কারণে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই জরুরি। প্রায় ১৭টি ভিন্ন গবেষণার ফলাফল থেকে দেখা গেছে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল তথা LDL এর মাত্রা কমাতে কালোজিরা খুব ভালোভাবে কাজ করে। এমনকি কালোজিরা তেল রক্তে ভালো কোলেস্টেরল তথা HDL এর মাত্রা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/04/1554389219444.JPG

ব্যাকটেরিয়া দমন করে

রোগ তৈরিকারী ব্যাকটেরিয়া থেকেই ক্ষতিকর ইনফেকশন দেখা দেয়। কয়েকটি টেস্ট টিউব গবেষণা থেকে দেখা গেছে কালোজিরাতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। যা দারুণ কার্যকরভাবে শরীরে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে ও দমনে কাজ করে।

সুস্থ রাখে লিভার

শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমের জন্য লিভারের সুস্থতা আবশ্যক। লিভার শরীর থেকে টক্সিন, মেটাবোলাইজ ড্রাগস, নিউট্রিয়েন্টসের উচ্ছিষ্ট, ক্ষতিকর কেমিক্যালের প্রভাবকে দূর করে। কালোজিরা লিভারের সুস্থতায় চমৎকার কাজ করে। মূলত কালোজিরাতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ও প্রদাহ-বিরোধী উপাদানের উপস্থিতি লিভারকে সুস্থ রাখতে কাজ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/04/1554389234174.JPG

নিয়ন্ত্রণে রাখে রক্তে চিনির মাত্রা

রক্তে চিনির মাত্রা বেড়ে যাওয়া মানেই ডায়বেটিসের সমস্যা দেখা দেওয়া। সাত মাসের লম্বা একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে, তিন মাস যাবত যারা নিয়মতি কালোজিরা খেয়েছেন, তাদের রক্তে চিনির মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং ইন্স্যুলিন সেন্সিটিভিটি খুব ভালোভাবে কাজ করেছিল।

আরও পড়ুন: অজানা গুণে ভরপুর সহজলভ্য লাউ

আরও পড়ুন: তুলনাহীন তেজপাতা!

আপনার মতামত লিখুন :

খালি পেটে কফি পান নয়

খালি পেটে কফি পান নয়
ছবি: সংগৃহীত

বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই, কফির সুঘ্রাণ ও সুস্বাদের সাথে দিনের শুরু হওয়া অনেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক যেন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, কোন খাবার না খেয়েই কফির পেয়ালায় চুমুক বসান। কিন্তু একদম খালি পেটে কফি পান করা কতটা উপকারী? খালি পেটে কফি পানে কি তার উপকারিতাগুলো শরীর পরিপূর্ণভাবে পায়?

উত্তরে বলতে হবে, না। একদম খালি পেটে নয়, কফি পান করতে হবে হালকা কোন খাবার খাওয়ার পরেই। একদম খালি পেটে কফি পানের ফলে শরীরে কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কর্টিসল শরীরের মেটাবলিজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563462138926.jpg

এখন প্রশ্ন হলো, কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কি সমস্যা হবে? এখানে উত্তরে বলতে হবে, হ্যাঁ। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খালি পেটে কফি পানের ফলে কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ তৈরি করে ও বাড়িয়ে দেয়।

এতে করে খুব দ্রুত মুড বদলে যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়া কফি পাকস্থলিস্থ অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। যা অ্যাসিডিক প্রভাব তৈরি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

নিজেকে চাঙা রাখতে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও কফির উপকারিতাগুলো পেতে চাইলে সকালে নাশতা সেরে অথবা হালকা কিছু খেয়ে তবেই কফি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক কফি পানে ওজন কমে?

আরও পড়ুন: কতটুকু কফি পান নিরাপদ?

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
পানি জমলেই জন্ম নেবে মশা, ছবি: সংগৃহীত

মায়ের শীতল হাতের ছোঁয়া আর মমতামাখা ভালোবাসার চাদর জড়িয়েও কমানো যাচ্ছে না তিন বছর বয়সী ঐশীর জ্বর। হাসপাতালের বারান্দায় স্থান হয়েছে ঐশীর, অথচ মা কখনো তাকে খালি পায়ে মেঝেতে নামতে দিত না। ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে আসছে ঐশীর চেহারা, মাঝে মাঝে বমি করছে। অস্থির মা বারবার ছুটে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। মেয়ের পাশে অসহায় পিতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, বেদনায় পাণ্ডুর মুখ কিন্তু কাঁদতে পারছে না মেয়ের কষ্ট দেখে।

অথচ মায়ের সচেতনতার কমতি ছিলো না কিছুতেই। জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলে তিনিও সচেতন হয়ে উঠেন। সকাল সন্ধ্যা স্প্রে এবং সন্তান ঘুমালে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া তার আহার্যের মত নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। কিন্তু সাধের বারান্দাতে বাহারি ফুল গাছের সম্ভার তৈরি করেছিলেন। সেখানেই জন্ম নেয় ঘাতক এডিস মশা।

সেক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অ্যারোসল স্প্রে বা মশার কয়েলের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে মশারি। দুপুরের ভাতঘুমে আলসেমি করে মশারি ব্যবহার করে না অনেকেই। এই প্রথার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সাথে সন্ধ্যায় হতেই বন্ধ করে দিতে হবে জানাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563457264592.jpg

শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। নিজের ঘর ও উঠান থেকে শুরু করতে হবে পরিচ্ছন্নতা। কোন স্থানে কিছুতেই জমতে দেওয়া যাবে না পানি। জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যাক্ত ড্রাম, ফেলে দেওয়া বোতল, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে এক বা দুই দিনের জমে যাওয়া পানিতে জন্ম নেয় মশার লার্ভা। আর এক সপ্তাহের ভেতর হয়ে উঠে ঘাতক।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এডিস মশাবাহী ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। ৯৩ জন মারা যায় সেবার। সকলে সচেতন হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।

কিন্তু গত বছর থেকে আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু জ্বর। সরকারি হিসাবমতে গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর মাঝে মারা যায় ২৬ জন।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর একটু ভিন্ন। শক্তিশালী স্টেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত তৃতীয় প্রজাতির এডিস মশা ছড়াচ্ছে। জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ৫ মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ইতোমধ্য সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার সহাস্রাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারা গিয়েছে তিন জন। বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুন বেশি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিগতবার থেকে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেমন বেশি তেমনি রয়েছে ভিন্নতা। আগে ডেঙ্গু জ্বর হলে মাথা ব্যথা, চোখের পেছন অংশে ব্যথা হত। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন, ধরতেও সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

তাই সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিস, লিভার, কিডনী ও রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হলে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্য রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। বেশি করে পানি ও তরলজাত খাবার দিতে হবে রোগীকে।

এছাড়া এসপেরিন বা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেতে হবে। পান করতে হবে ডাবের পানি ও স্যালাইন।

সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন কিছু নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র