Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

পরিচিত বদভ্যাসেই দেখা দেয় কিডনির সমস্যা

পরিচিত বদভ্যাসেই দেখা দেয় কিডনির সমস্যা
অপর্যাপ্ত ঘুম ডেকে আনে কিডনির সমস্যা, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য নিয়ম মেনে চলা ও বদভ্যাস এড়িয়ে যাওয়ার কোন বিকল্প নেই।

কারণ অসুস্থতা দেখা দিলে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয় রোগীকেই। বর্তমান বিশ্বে অন্যান্য নানাবিধ শারীরিক অসুস্থতার মাঝে কিডনিজনিত সমস্যা দেখা দেওয়ার প্রকোপ বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রফেসর হারুন-উর-রশিদ জানান, বিশ্বে মৃত্যুজনিত সমস্যার মাঝে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) রয়েছে ১১তম স্থানে। বাংলাদেশেও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে কিডনিজনিত জটিলতা। কিডনি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, প্রতি বছর বাংলাদেশে কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে ৩৫,০০০-৪০,০০০ জন মানুষ।

সবচেয়ে ভীতিকর বিষয়টি হলো, আমাদের প্রতিদিনের বেশ কিছু অভ্যাস কিডনির সমস্যা তৈরির জন্য দায়ি। কিডনি সমস্যার মতো গুরুত্বর বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। জেনে রাখা প্রয়োজন কোন কাজগুলো এড়িয়ে চললে কিডনিকে সুস্থ রাখা সম্ভব হবে।

সোডিয়াম গ্রহণে অসতর্কতা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/20/1553082901731.jpeg

উচ্চ সোডিয়াম তথা লবণযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে তা রক্তচাপ বৃদ্ধি করা সহ কিডনির উপর বাড়তি চাপ প্রয়োগ করে। যেকোন ধরণের ফাস্ট ফুড ও ক্যানড খাবারে প্রচুর পরিমাণ সোডিয়াম থাকে। এ ধরণের খাবার যদি বেশি খাওয়া হয় তবে কিডনিজনিত জটিলতা দেখা দেওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায় অনেকখানি।

অপর্যাপ্ত পানি পান

পানি পানের ক্ষেত্রে কোন ছাড় দেওয়া যাবে না একেবারেই। শরীরকে সর্বদা হাইড্রেটেড রাখার জন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর পানি পান করতে হবে। শরীরে প্রয়োজনীয় পানির ঘাটতি দেখা দিলে কিডনির উপর চাপ পড়বে। যা কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

রেড মিট বেশি খাওয়া

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/20/1553082922113.jpeg

গরু, খাসির মাংস তথা রেড মিট যতই সুস্বাদু ও প্রিয় হোক না কেন, এই মাংসগুলো খেতে হবে একেবারেই স্বল্প পরিমাণ। রেড মিটের ক্ষতিকর নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ও প্রাণীজ প্রোটিন কিডনিকে দুর্বল করে দেয়।

সঠিক সময়ে মূত্র বিসর্জন না করা

প্রস্রাবের বেগ দেখা দিলেও নিজেকে ভারমুক্ত না করে চেপে রাখার অভ্যাসটি কমবেশি সবার মাঝেই আছে। এতে করে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন দেখা দেওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায় অনেক বেশি এবং কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাধারণ এই অভ্যাসটির ফলে নারীদের কিডনিজনিত সমস্যাটি বেশি দেখা দেয়।

অতিরিক্ত চিনি ও চিনিযুক্ত খাবার

অনিয়ন্ত্রিত চিনি গ্রহণ শুধু ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার সম্ভবনা বৃদ্ধি করে তাই নয়, পাশাপাশি রক্ত নালিকা ক্ষতিগ্রস্থ করে ও কিডনির সমস্যাও তৈরি করে।

ধূমপান করা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/20/1553082878847.JPG

এই অভ্যাসটি সবদিক থেকেই শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ধূমপানের ফলে টক্সিক উপাদান সমূহ ফুসফুসের সঙ্গে কিডনির উপরেও নেতিবাচক ও মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব তৈরি করে। ফলে খুব অল্প সময়ের মাঝেই কিডনি ফেইল্যুরের ঘটনা ঘটে।

অপর্যাপ্ত ঘুম

যে কারণেই হোক না কেন, ঘুম যদি অপর্যাপ্ত হয়ে থাকে তবে তা শরীরকে দুর্বল করে দেওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও অন্যান্য সমস্যা দেখা দেয়। যা কিডনির উপর পরোক্ষভাবে চাপ তৈরি করবে।

আরও পড়ুন: কিডনি সুস্থ রাখবে ‘পাঁচ নিয়ম’

আরও পড়ুন: কিডনি সুস্থ রাখতে যে খাবারগুলো খেতে হবে

আপনার মতামত লিখুন :

কোন জিনিস কতদিন পর পরিষ্কার করতে হবে?

কোন জিনিস কতদিন পর পরিষ্কার করতে হবে?
ছবি: সংগৃহীত

নিজের আশেপাশের সবকিছু তথা ঘর ও ঘরের জিনিসপত্র যতবেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে, নিজেকে ও পরিবারের সবাইকে ততবেশি সুস্থ রাখা সম্ভব হবে। শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রফুল্লতার সাথে সাথে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সংযোগটা বহু পুরনো। এ কারণে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে ছাড় দেওয়ার উপায় নেই।

পরিধেয় পোশাক কিংবা অপরিষ্কার থালাবাসন যে প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হয়, সেটা নতুন করে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ঘরে থাকা আয়না কতদিন পর পরিষ্কার করা প্রয়োজন সেটা অনেকেই বুঝতে পারেন না। তবে বাসার অবস্থান ও এলাকাভেদে জিনিসপত্রে ধুলাময়লা জমার ক্ষেত্রে রকমফের দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে কোন আসবাবে ধুলা জমে থাকতে দেখলে দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

প্রতি সপ্তাহে, প্রতি মাসে কিংবা ৩-৫ মাস অন্তর কোন জিনিসগুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখা বেশ অনেকটা সহজ হয়। যে কারণে আজকের ফিচারে খুব গুছিয়ে তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা থেকে জানা যাবে কতদিন পর কোন জিনিসটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

প্রতিদিন যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123957938.jpg

১. বিছানা গুছিয়ে ঝাড়তে হবে।

২. নোংরা ও এঁটো থালাবাসন জমিয়ে রাখা যাবে না। প্রতিদিনেরটা প্রতিদিন ধুয়ে ফেলতে হবে।

৩. খাবার টেবিল গুছিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

৪. বাথরুমের মেঝে ঝাঁট দিতে হবে।

৫. রান্নাঘরের থাক ও মেঝে মুছতে হবে।

৬. রান্নাঘরের সিংক পরিষ্কার করতে হবে।

৭ নোংরা পোশাক ধুতে হবে।

৮. ঘর ও বারান্দার মেঝে ঝাড়ু দিতে হবে। মুছতে পারলে সবচেয়ে ভালো।

প্রতি সপ্তাহে যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123762608.jpg

১. বিছানা ও বালিশের কভার বদলাতে হবে।

২. রান্নাঘর ও রেফ্রিজারেটরে থাকা পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ফেলে দিতে হবে।

৩. ঘরের সকল আসবাবের আয়না মুছতে হবে।

৪. বুকশেফলে থাকা বইপত্র থেকে ধুলা ঝাড়তে হবে।

৫. শোকেসের জিনিসপত্র পরিষ্কার করতে হবে।

৬. আসবাবপত্র থেকে ধুলাবালি সরাতে হালকা ভেজা কাপড়ের সাহায্যে মুছতে হবে।

৭. মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ভেতরের ও বাইরের অংশ পরিষ্কার করতে হবে।

৮. গোসল করার লোফাহ বা স্পন্স পরিষ্কার করতে হবে।

প্রতি মাসে যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123841141.jpg

১. ঘরের কোন ও ছাদের অংশের ধুলাময়লা ঝাড়তে হবে।

২. লাইট ও বাল্বে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে হবে।

৩ সোফার কভার ও দরজা, জানালার পর্দা পরিষ্কার করতে হবে।

৪. ডিশওয়াশার ও ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করতে হবে।

৫. ফ্রিজের ভেতর ও বাইরের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

৬. টিভি থেকে ধুলাবালি সরাতে পরিষ্কার করতে হবে।

৭. দেয়াল ঘড়ি, ওয়ালম্যাট, বড় ছবির ফ্রেম নামিয়ে মুছে নিতে হবে।

৮. নিত্য ব্যবহারের ব্যাকপ্যাক ধুয়ে নিতে হবে।

৩-৫ মাস পরপর যা পরিষ্কার করতে হবে

১. আসবাবপত্রের নিচের অংশ থেকে ধুলাময়লা বের করতে হবে।

২. কার্পেট পরিষ্কার করতে হবে।

আরও পড়ুন: রোদ কিংবা বৃষ্টি, ছাতা হোক সঙ্গী

আরও পড়ুন: প্রয়োজন কিংবা ফ্যাশনে চাই রোদচশমা!

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক
টি ট্রি অয়েল

বিভিন্ন ধরনের এসেনশিয়াল অয়েলের মাঝে টি ট্রি অয়েল সবচেয়ে পরিচিত ও প্রচলিত একটি।

এই এসেনশিয়াল অয়েলের অসংখ্য উপকারিতার মাঝে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। শুধু ত্বক নয়, চুলের যত্নেও সমানভাবে ব্যবহৃত হয় টি ট্রি অয়েল। এছাড়াও ডিওডরেন্ট, পোকামাকড় দূর করতে ও মাউথওয়াশ হিসেবেও কার্যকর এই এসেনশিয়াল অয়েল।

টি ট্রি অয়েল ব্যবহার বিধি

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব কঠিন কোন বিধিনিষেধ নেই। তবে মনে রাখতে হবে, ত্বকে বা চুলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরাসরি এই তেল ব্যবহার করা যাবে না। ক্যারিয়ার তেল তথা নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে তবেই ব্যবহার করতে হবে এই এসেনশিয়াল অয়েল।

অনেকেই টি ট্রি অয়েল পরিমাণে অনেক বেশি নিয়ে ফেলে। এক্ষেত্রে ১-৩ ফোঁটা ব্যবহার করাই যথেষ্ট। অল্প পরিমাণ এসেনশিয়াল অয়েল থেকেও সম্পূর্ণ উপকারিতা পাওয়া যাবে।

তবে টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে অবশ্য। এই তেল চোখের আশেপাশের অংশ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এতে চোখের আশেপাশের অংশের ত্বকে জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। কারণ মুখমণ্ডলের এ অংশের ত্বক তুলনামূলক বেশি পাতলা হয়ে থাকে।

এছাড়া টি ট্রি অয়েল ব্যবহার পূর্বে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো, এই তেল ব্যবহারে ত্বকে কোন সমস্যা দেখা দেয় কিনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115011865.jpg

টি ট্রি অয়েলের উপকারিতা

এই এসেনশিয়াল অয়েলের বিবিধ উপকারিতার মাঝে মূল ও প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কমায়

যাদের ত্বক খুব শুষ্ক, তাদের জন্য টি ট্রি অয়েল খুব ভালো কাজ করবে। এই তেলটি শুষ্ক ত্বকের জ্বালাপোড়াভাব ও চুলকানির প্রাদুর্ভাব কমায়। বিশেষত এতে থাকা জিংক অক্সাইড শুষ্ক ত্বক ও একজিমার সমস্যা কমাতে কাজ করে।

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক উপাদান তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপকারী। একটি গবেষণা জানাচ্ছে,  সানস্ক্রিনের সাথে টি ট্রি অয়েল মিশ্রিত থাকলে ত্বকের তৈলাক্ততা কমে যায় অনেকখানি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115031078.jpg

ত্বকের প্রদাহ

উপকারী এই এসেনশিয়াল অয়েলের অ্যান্ট-ইনফ্ল্যামেটরি প্রভাব ত্বকের প্রদাহ, ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার সমস্যাকে কমিয়ে এনে আরাম প্রদান করে। এমনকি ত্বকের কোন অংশ ফুলে গেলে বা ত্বকে লালচে ভাব দেখা দিলে সেটা কমাতেও কাজ করে টি ট্রি অয়েল।

ক্ষত সারাতে টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ধর্ম ত্বকের কাটাছেঁড়া ও ক্ষত সারাতে খুব চমৎকার কাজ করে। ২০১৩ সালের একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে প্রতি ১০ জনের মাঝে ৯ জনের টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে ক্ষত দ্রুত ও অল্প সময়ের মাঝে ভালো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমবে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারে

আরও পড়ুন: ত্বকের ফাটা দাগ কমাতে ক্যাস্টর অয়েল

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র