Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সম্পর্কে ‘দূরত্ব’ তৈরি করছে যে আচরণগুলো

সম্পর্কে ‘দূরত্ব’ তৈরি করছে যে আচরণগুলো
নিজেদের নেতিবাচক কিছু আচরণের ফলেই সম্পর্কে দূরত্ব দেখা দেয়, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

সম্পর্কের বিষয়টা সরল অংকের মতো একেবারেই সহজ।

তবে কেউ হয়তো বলবেন, সরল অংক মোটেও সহজ কিছু নয়। প্রতিটি সম্পর্কই আসলে কিছু সহজ সূত্রের সমন্বয়। সম্পর্ককে ঠিকভাবে গড়ে তুলতে ও ধরে রাখতে হলে উভয় পক্ষ থেকেই সমানভাবে আগ্রহী হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন চেষ্টা করা।

একটা নির্দিষ্ট সময় পর অনেকেই অভিযোগ তোলেন, ভালোবাসার সম্পর্কটি আগের মতো নেই। সম্পর্কের মাঝে বোঝাপড়ার চাইতে দূরত্বটাই তৈরি হয়ে গেছে বেশি। এর জন্য দায়ি থাকে কিছু আচরণ। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতেই পারে, এই আচরণগুলোই স্বাভাবিক। কিন্তু খুব সূক্ষ্মভাবে হলেও, এই আচরণগুলোই একটি ভালোবাসার সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে দেয়।

প্রাধান্য পাচ্ছে মোবাইল ফোন

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/13/1552459126518.jpg

প্রিয় মানুষটির সঙ্গে সময় কাটানোর সময় হাতে সবসময় মোবাইল থাকা, মোবাইল অনবরত সার্ফ করা, প্রিয় মানুষের কথায় মনোযোগ ঠিকভাবে না দেওয়া, তাকে পরিপূর্ণভাবে সময় না দেওয়া- এই সকলই সম্পর্কের মাঝে দূরত্ব তৈরি করে। প্রযুক্তির এই সময়ে যেকোন স্থানে বসে, যেকোন সময়েই কাজ সেরে নেওয়া যায়। তাই ভালোবাসার মানুষটির জন্য আলাদাভাবে কিছু সময় আলাদা করে রাখার বিষয়ে কোন ছাড় দেওয়া যাবে না একেবারেই।

হিংসা করা

ভালোবাসার সম্পর্কে হিংসা থাকবেই- একটা সময়ে এমন ধারণাকেই স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সম্পর্কের মাঝে হিংসা বা জেলাসি কখনই ভালো ফলাফল বয়ে আনে না। বরং দেখা গেছে, এই হিংসার জন্মই হয় নিরাপত্তাহীনতা, অবিশ্বাস, আত্মবিশ্বাসের অভাব ও ভয় থেকে। ভালোবাসার সম্পর্কের মাঝে এতো ইতিবাচক দিকের প্রভাব থাকলে খুব স্বাভাবিকভাবেই সেই সম্পর্কে দূরত্ব চলে আসবে।

অকারণে অভিযোগ করা

যুক্তিযুক্ত কোন কারণ ছাড়াই অকারণে বারংবার অভিযোগ করার ফলে অপরপক্ষ স্বাভাবিকভাবেই বিরক্তি বোধ করবে। কোন বিষয়ে খটকা লাগলে কিংবা কোন কিছু জানার থাকলে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা, আলোচনা করা হবে সবচেয়ে ভালো উপায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/13/1552459240313.jpg

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করা

শেষ কবে ভালোবাসার মানুষটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলুন তো! জিজ্ঞাসা করতেই পারেন, কোন কারণে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে? ভালোভাবে যদি খেয়াল করা হয় তবে সম্পর্কে ভালোবাসার মানুষটির প্রতি বহু কারণেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যায়। সামান্য এই সৌজন্যমূলক আচরণটুকুই সম্পর্কে অনেকখানি ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

যোগাযোগের অভাব

দুইজন দেশের দুইপ্রান্তে কিংবা শহরের দুই মাথায় থাকতে পারেন। সপ্তাহে কিংবা মাসেও হয়তো একবারের জন্য দেখা হয় না। ব্যস্ততার ভিড়ে সবাইকেই ছুটতে হয় নিজ নিজ জীবন নিয়ে। কিন্তু এর মাঝে যোগাযোগ যেন শিথিল না হয়। প্রযুক্তি যোগাযোগের সকল মাধ্যমেকেই সহজলভ্য করে দিয়েছে। হাজারো ব্যস্ততা মাঝে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে মিনিট দুয়েক কথা বলার সময় সকলেই করে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে যতটা গ্যাপ তৈরি হয়, সম্পর্কের মাঝেও দূরত্ব দেখা দিতে থাকে।

ম্যাসেজিং এর মাধ্যমে তর্ক করা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/13/1552459219470.jpg

সম্ভবত এই পয়েন্টটাই বর্তমান সময়ে ভালোবাসার সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে। আমাদের সবার আবেগই এখন বন্দী হয়ে গেছে অন্তর্জালের ইমোটিকনে। কিন্তু ভালোবাসার সম্পর্কের মতো স্পর্শকাতর সম্পর্কে কোনভাবে কোন বিষয়ে তর্ক ম্যাসেজিং এর মাধ্যমে করা উচিৎ নয়। এতে করে অপরপাশে থাকা মানুষটির সত্য অনুভূতিগুলো ঢাকা পড়ে যায় মোবাইলে পর্দায়। ছোট কিংবা বড় যেকোন বিষয়েই হোক না কেন, তর্ক করতে হবে মুখোমুখি। এতে করে পরস্পরের প্রতি অনুভূতিগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: সম্পর্কে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ

আপনার মতামত লিখুন :

খালি পেটে কফি পান নয়

খালি পেটে কফি পান নয়
ছবি: সংগৃহীত

বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই, কফির সুঘ্রাণ ও সুস্বাদের সাথে দিনের শুরু হওয়া অনেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক যেন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, কোন খাবার না খেয়েই কফির পেয়ালায় চুমুক বসান। কিন্তু একদম খালি পেটে কফি পান করা কতটা উপকারী? খালি পেটে কফি পানে কি তার উপকারিতাগুলো শরীর পরিপূর্ণভাবে পায়?

উত্তরে বলতে হবে, না। একদম খালি পেটে নয়, কফি পান করতে হবে হালকা কোন খাবার খাওয়ার পরেই। একদম খালি পেটে কফি পানের ফলে শরীরে কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কর্টিসল শরীরের মেটাবলিজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563462138926.jpg

এখন প্রশ্ন হলো, কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কি সমস্যা হবে? এখানে উত্তরে বলতে হবে, হ্যাঁ। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খালি পেটে কফি পানের ফলে কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ তৈরি করে ও বাড়িয়ে দেয়।

এতে করে খুব দ্রুত মুড বদলে যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়া কফি পাকস্থলিস্থ অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। যা অ্যাসিডিক প্রভাব তৈরি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

নিজেকে চাঙা রাখতে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও কফির উপকারিতাগুলো পেতে চাইলে সকালে নাশতা সেরে অথবা হালকা কিছু খেয়ে তবেই কফি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক কফি পানে ওজন কমে?

আরও পড়ুন: কতটুকু কফি পান নিরাপদ?

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
পানি জমলেই জন্ম নেবে মশা, ছবি: সংগৃহীত

মায়ের শীতল হাতের ছোঁয়া আর মমতামাখা ভালোবাসার চাদর জড়িয়েও কমানো যাচ্ছে না তিন বছর বয়সী ঐশীর জ্বর। হাসপাতালের বারান্দায় স্থান হয়েছে ঐশীর, অথচ মা কখনো তাকে খালি পায়ে মেঝেতে নামতে দিত না। ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে আসছে ঐশীর চেহারা, মাঝে মাঝে বমি করছে। অস্থির মা বারবার ছুটে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। মেয়ের পাশে অসহায় পিতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, বেদনায় পাণ্ডুর মুখ কিন্তু কাঁদতে পারছে না মেয়ের কষ্ট দেখে।

অথচ মায়ের সচেতনতার কমতি ছিলো না কিছুতেই। জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলে তিনিও সচেতন হয়ে উঠেন। সকাল সন্ধ্যা স্প্রে এবং সন্তান ঘুমালে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া তার আহার্যের মত নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। কিন্তু সাধের বারান্দাতে বাহারি ফুল গাছের সম্ভার তৈরি করেছিলেন। সেখানেই জন্ম নেয় ঘাতক এডিস মশা।

সেক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অ্যারোসল স্প্রে বা মশার কয়েলের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে মশারি। দুপুরের ভাতঘুমে আলসেমি করে মশারি ব্যবহার করে না অনেকেই। এই প্রথার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সাথে সন্ধ্যায় হতেই বন্ধ করে দিতে হবে জানাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563457264592.jpg

শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। নিজের ঘর ও উঠান থেকে শুরু করতে হবে পরিচ্ছন্নতা। কোন স্থানে কিছুতেই জমতে দেওয়া যাবে না পানি। জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যাক্ত ড্রাম, ফেলে দেওয়া বোতল, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে এক বা দুই দিনের জমে যাওয়া পানিতে জন্ম নেয় মশার লার্ভা। আর এক সপ্তাহের ভেতর হয়ে উঠে ঘাতক।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এডিস মশাবাহী ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। ৯৩ জন মারা যায় সেবার। সকলে সচেতন হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।

কিন্তু গত বছর থেকে আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু জ্বর। সরকারি হিসাবমতে গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর মাঝে মারা যায় ২৬ জন।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর একটু ভিন্ন। শক্তিশালী স্টেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত তৃতীয় প্রজাতির এডিস মশা ছড়াচ্ছে। জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ৫ মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ইতোমধ্য সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার সহাস্রাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারা গিয়েছে তিন জন। বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুন বেশি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিগতবার থেকে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেমন বেশি তেমনি রয়েছে ভিন্নতা। আগে ডেঙ্গু জ্বর হলে মাথা ব্যথা, চোখের পেছন অংশে ব্যথা হত। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন, ধরতেও সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

তাই সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিস, লিভার, কিডনী ও রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হলে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্য রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। বেশি করে পানি ও তরলজাত খাবার দিতে হবে রোগীকে।

এছাড়া এসপেরিন বা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেতে হবে। পান করতে হবে ডাবের পানি ও স্যালাইন।

সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন কিছু নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র