Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

ছুটির দিনে অস্বাস্থ্যকর খাবারে বাড়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

ছুটির দিনে অস্বাস্থ্যকর খাবারে বাড়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

পুরো সপ্তাহ জুড়ে নিয়ম মেনে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া হলেও, ছুটির দিনে যেন সেই নিয়মে একেবারেই ওলট-পালট হয়ে যায়।

প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া হলেও, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার বিষয়টি মাথাতেই থাকে না।

পরিবার, বন্ধুবান্ধব কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে ঘরে কিংবা বাইরে খাওয়া হয় মুখরোচক, হাই ক্যালোরিযুক্ত, অস্বাস্থ্যকর খাবার। এই একদিন খাদ্যাভাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যেন ভীষণ কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে।

কিন্তু শুধু ছুটির সময়ের গন্ডগোলটাই নষ্ট করে দেয় পুরো সপ্তাহের ডায়েটের পরিকল্পনা। অস্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি, অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়া হয় এই সময়ে।

ফলে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায় বেশ অনেকটা। শুধু তাই নয়, হৃদরোগ, রক্তচাপ বৃদ্ধি, ডায়বেটিসের মতো গুরুত্বর রোগের প্রাদুর্ভাবটাও দেখা দেওয়ার সম্ভবনা থাকে এক-দুই দিনের অনিয়মের ফলে। এসকল কিছু দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যা। এছাড়াও থাকে স্বল্পমেয়াদী শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ার প্রবণতাও।

পেট ফোলাভাব দেখা দেওয়া, গ্যাস্ট্রিক আলসারের সমস্যা হওয়া, বুক জ্বালাপোড়া করা, মুখ ও হাত-পা ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো খুব সহজেই দেখা দিয়ে থাকে অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের ফলে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/12/1552369819285.jpeg

যে কারণে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে খাবার খাওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। শুধু খাবার নয়, খাবারের পরিমাণের বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে। কারণ পুরো সপ্তাহ জুড়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবার খাওয়ার ফলে পাকস্থলী সেইভাবেই মানিয়ে নেয়। হুট করে বেশি খাবার খাওয়া হলে পাকস্থলীর উপরে বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়। যার দরুন পেট ফোলা ভাব, গ্যাসের প্রাদুর্ভাব ও ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দেয়। তাই ছুটির দিনেও খাবার খেতে হবে ততটুকুই, যতটুক খাবার খাওয়া হয় নিত্যদিন।

গুরুত্বপূর্ণ একতি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। জাংক ফুড, তৈলাক্ত খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার ফলে পাকস্থলীর উপর যে চাপের সৃষ্টি হয়, তা শরীরের অন্যান্য প্রত্যাঙ্গের উপরেও চাপ তৈরি করে। এতে করে খুব সহজেই অসুস্থ বোধ হয়, অস্বস্তি কাজ করে।

এই সপ্তাহটিও শেষের দিকে। আর দু’দিন পরেই কাঙ্ক্ষিত সাপ্তাহিক ছুটির দিন। শুধু ছুটির দিনে নয়, সবসময় নিজেকে সুস্থ রাখতে চাইলে খাদ্যাভাসের বিষয়ে কঠিন অবস্থান নিতে হবে।

অবশ্যই মুখরোচক খাবার খেতে ইচ্ছা হবে। কিন্তু সেটা যেন কোনভাবেই স্বাস্থ্যহানী না ঘটায় সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে। বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্যকর খাদ্য উপাদানের সাহায্যেই মজাদার খাবার তৈরি করা যায়। সেই বিষয়ে নজর দিতে হবে। বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের বিষয়ে সবসময়েই সচেতন অবস্থান নিতে হবে। নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য এই সতর্কতার কোন বিকল্প নেই একেবারেই।

আরও পড়ুন: কী থাকবে সকালের নাস্তায়?

আরও পড়ুন: অমনোযোগে বেশি খাওয়া হচ্ছে?

আপনার মতামত লিখুন :

সাদামাটা নিমকিমাখা

সাদামাটা নিমকিমাখা
ছবি: নিমকিমাখা

হুটহাট করেই হাবিজাবি কোন খাবার খেতে ইচ্ছা করে।

এই হাবিজাবিটা আসলে কি, সেটা বুঝতে পারা দুষ্কর। এমন খাবার খাওয়ার ইচ্ছাকে অনেকে কাব্যিকভাবে ছোটখাটো ক্ষুধা নামেও ডেকে থাকে।

হুট করে কোন কিছু খেতে ইচ্ছা করলে ঘরে থাকা অল্প জিনিস কীভাবে মুখরোচক ও নতুন খাবার তৈরি করা যায় এইটাই যেন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মন অবস্থায় ঘরে থাকা নিমকি ও অল্প পেঁয়াজ-মরিচেই তৈরি করে নেওয়া যাবে নিমকিমাখা। কীভাবে তৈরি করবেন? চটজলদি দেখে নিন রেসিপিটি।

নিমকিমাখা তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566394524865.JPG

১. ২০০ গ্রাম নিমকি।

২. একটি পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. একটি টমেটো কুঁচি।

৪. দুইটি কাঁচামরিচ কুঁচি।

৫. অর্ধেকটি শসা কুঁচি।

৬. অর্ধেকটি ক্যাপসিকাম কুঁচি।

৭. একমুঠো ধনিয়াপাতা কুঁচি।

৮. এক টেবিল চামচ লেবুর রস।

৯. দুই টেবিল চামচ সরিষার তেল।

১০. স্বাদমতো লবণ।

নিমকিমাখা যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566394543339.JPG

১. প্রথমে সরিষার তেলে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ কুঁচি চটকে নিতে হবে। এতে টমেটো, শসা, ক্যাপসিকাম ও ধনিয়া কুঁচি দিয়ে মাখিয়ে লবণ দিতে হবে।

২. সকল উপাদান মাখানো হয়ে গেলে নিমকি দিয়ে পেঁয়াজ-কাঁচামরিচের সাথে মাখিয়ে তার উপরে লেবুর রস ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

হাড়ের সুস্বাস্থ্যে পাঁচ নিয়ম

হাড়ের সুস্বাস্থ্যে পাঁচ নিয়ম
ছবি: সংগৃহীত

সম্পূর্ণ শারীরিক সুস্বাস্থ্যে হাড়ের ভূমিকা অনেকখানি।

আমাদের শরীরের পুরো গঠন ও কাঠামো নির্ভর করে হাড়ের উপরে। ফলে হাড়ে যদি কোন সমস্যা দেখা দেয়, তার প্রভাব পরে সামগ্রিকভাবে। তরুণ বয়সে হাড় সবচেয়ে বেশি শক্ত ও সুস্থ থাকে, যদি সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা যায় ও যত্ন নেওয়া হয়। তবে বয়স যত বৃদ্ধি পেতে থাকে, হাড়ের শক্তি কমতে থাকে এবং হাড় ক্ষয় হতে থাকে। ফলে ৪৫-৫০ বছর পর থেকেই হাড়জনিত নানাবিধ সমস্যা দেখা দেওয়া শুরু হয়। এ কারণেই হাড়ের প্রতি আলাদাভাবে যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। জেনে নিন হাড়ের যত্নে কোন বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিতে হবে।

পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে জানা

স্বাস্থ্যগত বিষয়ে ফ্যামিলি হিস্ট্রি অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। যার বাবা-মা অথবা ভাই-বোনের অস্টিওপরোসিসের সমস্যা রয়েছে, তারও এই সমস্যাটি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পরিবারের মানুষদের হাড়ের স্বাস্থ্য ও সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর করতে হবে এবং সেইভাবে নিজের হাড়ের যত্ন নেওয়ার বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠতে হবে।

ক্যালসিয়াম গ্রহণ বৃদ্ধি

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566384501379.jpeg

হাড়ের বিষয়ে আলোচনা আসলে প্রথমেই যে শব্দটি মাথায় আসবে সেটা হলো ক্যালসিয়াম। প্রাকৃতিক এই মিনারেলটির সাহায্যে হাড় ও দাঁত গড়ে ওঠে ও দৃঢ়তা পায়। তবে ক্যালসিয়ামই শেষ কথা নয়। শরীরকে প্রস্তুত করতে হবে ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য। নতুবা ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া হলেও, তার পুষ্টিগুণ শরীরে ঠিকভাবে শোষিত হবে না এবং ক্যালসিয়ামের অভাব তৈরি হবে।

ভোলা যাবে না ভিটামিন-ডি কে

ক্যালসিয়ামের সাথে সরাসরিভাবে সংযুক্ত হলো ভিটামিন-ডি। একইসাথে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি হাড়কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন-ডি পাওয়া যাবে চিংড়ি, কমলালেবুর রস, ডিমের কুসুম, টুনা মাছ প্রভৃতি থেকে। এছাড়া রোদের আলো ভিতামিন-ডি এর অন্যতম বড় একটি উৎস। বর্তমান সময়ে অনেকেই রোদের আলোর অপর্যাপ্ততায় ভিটামিন-ডি এর অভাবে ভুগছেন। সেক্ষেত্রে প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট শরীরে রোদের আলো লাগানোর চেষ্টা করতে হবে।

নিয়মিত শরীরচর্চা করা

শুধু স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণই যথেষ্ট নয়, শরীরচর্চার অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে হাড়কে সুস্থ রাখতে চাইলে। শরীরচর্চার বিভিন্ন কলাকৌশল হাড়কে দৃঢ় করতে কাজ করে। দৌড়ানো, দ্রুত হাঁটা, দড়িলাফ কিংবা সিঁড়িতে ওঠানামার মতো হালকা ঘরানার শরীরচর্চাগুলোই হাড়কে ভালো রাখতে উপকারী।

সীমিত মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ

ক্যাফেইনের বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে বটে, তবে দুঃখজনকভাবে হাড়ের জন্য নয়। অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে বাধাদান করে। তাই প্রতিদিন দুই কাপ পরিমাণ কফি পান নিরাপদ। এর বেশি হয়ে গেলে তা হাড়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: ওয়ার্ল্ড অস্টিওপরোসিস ডে: হাড় থাকুক মজবুত

আরও পড়ুন: ভিটামিন ডি ঘাটতি: ঝুঁকি, উপসর্গ এবং বৃদ্ধির উপায়

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র