Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পেটের মেদ বাড়ছে যে সকল অভ্যাসে

পেটের মেদ বাড়ছে যে সকল অভ্যাসে
নিয়মিত সবজি না খাওয়ার ফলে পেটের মেদ বেড়ে যায় অনেকখানি, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

ওজন হালকা বাড়লেও দেখা যায় পেটের মেদ বেড়ে যায় অনেকখানি।

অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ওজন ঠিকঠাক থাকলেও পেটের মেদ যেন মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষত আমাদের দেশে পেটের মেদ বা ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়ার সমস্যাটি দেখা দেয় তুলনামূলক বেশি।

কিছু অনিয়ম ও অজ্ঞতার ফলেই মূলত বিব্রতকর এই সমস্যাটি দেখা দেয়। আজকের ফিচারে এমন কয়েকটি পয়েন্ট সম্পর্কে আলোচনা করা হলো যা পেটের মেদকে বাড়িয়ে দিচ্ছে আপনার অজান্তে।

ফলের বদলে ফলের জ্যুস

সুস্বাস্থ্যের জন্য আস্ত ফল খাওয়ার বদলে যদি ফলের রস পান করেন, তবে সেটা উপকারিতার বদলে ক্ষতির কারণ হিসেবেই দেখা দিবে। ফল খাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো এতে থাকা আঁশ। যা রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্তে দ্রুত চিনি মিশ্রিত হতে বাঁধা দান করে। অন্যদিকে ফলের রস কিংবা জ্যুসে চিনি গলিত অবস্থায় থাকে। যা সহজেই রক্তের সঙ্গে মিশে যায়, শরীরে বাড়তি ক্যালোরি যোগ করে। বাড়তি এই চিনি ও ক্যালোরি ইনফ্ল্যামেশন ও পেটের বাড়তি মেদ তৈরি করে।

অকারণে স্ন্যাক্স খাওয়া

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/04/1551679980964.jpg

প্রতিবেলার খাবারের পাশাপাশি স্ন্যাক্স খাওয়ার অভ্যাসটি সবসময়ই শরীরে বাড়তি ক্যালোরি যোগ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের ইউনিভার্সিটি প্রিভেনশন সেন্টারের এন্ডক্রিনোলোজিস্ট রাসা কাযলাসকাইতে জানান, স্ন্যাক্স খাওয়ার অভ্যাসটি খুব সহজেই শরীরে বাড়তি ক্যালোরি যোগ করে। কারণ স্ন্যাক্স হিসেবে সকলেই মুখরোচক ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে ভালোবাসে। বাড়তি ক্যালোরি অতি দ্রুত তলপেটে ও পেটের উপরের অংশে যোগ হয়। যা থেকে পরবর্তীতে মেদ তৈরি হয়।

খাদ্যাভাসে প্রোবায়োটিকের অভাব

প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার শুধুমাত্র পাকস্থলিকে সুস্থ রাখতেই নয়, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও পেটের মেদ কমাতেও কাজ করে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে দই ও অন্যান্য প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার, ভালো ও খারাপ ব্যাকটেরিয়ার মাঝে সামঞ্জস্যতা বজায় রাখে এবং এই সকল ব্যাকটেরিয়ার মাঝে কিছু ব্যাকটেরিয়ার ওবেসিটি সমস্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। এছাড়া পাকস্থলিস্থ কিছু ব্যাকটেরিয়া ক্ষুধাভাবকেও নিয়ন্ত্রণ করে।

ভাজাপোড়া খাবার বেশি খাওয়া

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/04/1551679965076.jpg

অন্যান্য যেকোন খাবারের তুলনায় তেলেভাজা খাবারের নেতিবাচক প্রভাবটি শরীরের উপরে সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়। পেট ও কোমরের অংশ বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয় তেলেভাজা খাবার খাওয়াকে। এই সকল খাবারে থাকে ট্রান্স ফ্যাট। যা সরাসরি রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। যা ওজন ও মেদকে বাড়িয়ে দেয়।

সবজি কম খাওয়া

প্রতিদিনের খাবারের প্লেটে অন্তত পক্ষে অর্ধেক অংশ জুড়ে বিভিন্ন ধরণের সবজি থাকা বাঞ্ছনীয়। ডাঃ কাযলাসকাইতে জানান, খাদ্যাভাসে সবজি থাকলে যথেষ্ট পরিমাণ আঁশ গ্রহণ করা হয়। যা ওজনকে ও রক্তে চিনির মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে।

কোমল পানীয় পান

এই পয়েন্টটি উল্লেখ না করলেই নয়। চিনিযুক্ত কোমল পানীয় স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ তো বটেই, কোমল পানীয় পানের সঙ্গে ওবেসিটির সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। মাত্র এক ক্যান কোমল পানীয়তে রয়েছে ১০ চা চামচ চিনি ও ১৫০ ক্যালোরি। সম্পূর্ণ পুষ্টিগুণ বিহীন এই পানীয়টি ওজন বৃদ্ধি ও পেটের মেদ বৃদ্ধির জন্য অনেকখানি অবদান রাখে।

দীর্ঘসময় ডেস্কে বসে থাকা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/04/1551679946395.jpg

একটানা লম্বা সময় ডেস্কে বসে থাকার ফলে খুব সহজেই তলপেটে মেদ জমা হয়। যে কারনে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন, নির্দিষ্ট সময় পরপর ডেস্ক ছেড়ে হাঁটাহাটি করার জন্য। এতে করে ক্যালোরি বার্ন হবে এবং পেটে মেদ জমতে পারবে না।

আরও পড়ুন: পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর এই খাবারগুলো

আরও পড়ুন: খাদ্যাভাসের যে পাঁচ বদভ্যাসে কমছে না ওজন

আপনার মতামত লিখুন :

মিষ্টি আলুতে তৈরি গোলাপজাম মিষ্টি

মিষ্টি আলুতে তৈরি গোলাপজাম মিষ্টি
মিষ্টি আলুর গোলাপজাম, ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন ধরনের রেসিপির কল্যানে বাড়িতে বসেই তৈরি করে নেওয়া যায় পছন্দসই মুখরোচক নানা পদের মিষ্টি।

রসমালাই থেকে শুরু করে রসগোল্লা, কোনটাই বাদ যায় না। সে তালিকায় গোলাপজামও রয়েছে বটে।

কিন্তু আজকের রেসিপিতে নয়নাভিরাম মিষ্টি গোলাপজাম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে একেবারেই ভিন্ন একটি উপাদান। ভিন্নতা আনতে গোলাপজাম তৈরি করা হয়েছে মিষ্টি আলু দিয়ে। আলু যাদের ভীষণ প্রিয় তারা এই মিষ্টি থেকে নজর এড়াতেই পারবেন না।

মিষ্টি আলুর গোলাপজাম তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563275983781.png

১. ২টি সেদ্ধ ও ভর্তা করা মিষ্টি আলু।

২. ৩/৪ কাপ ময়দা।

৩. ১ চা চামচ বেকিং সোডা।

৪. ২ টেবিল চামচ দুধ।

চিনির সিরা তৈরিতে যা লাগবে

১. ২ কাপ চিনি।

২. ২ কাপ পানি।

৩. কয়েকটি লবঙ্গ।

৪. এক চিমটি জাফরান।

মিষ্টি আলুর গোলাপজাম যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563276023054.png

১. চিনির সিরা তৈরি করতে একটি সসপ্যানে পানি দিয়ে এতে চিনি, লবঙ্গ ও জাফরান মিশিয়ে ৫-৭ মিনিট তাপ দিতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত সিরা ঘন ও আঠালো না হয়। এরপর চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে। 

২. একটি পাত্রে মিষ্টি আলুগুলো চটকে ভর্তা করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে এতে যেন কোনো দলা হয়ে না থাকে। এতে বেকিং সোডা ছিটিয়ে, ময়দা ও দুধ মিশিয়ে নিতে হবে। হালকা ভাবে ময়দা মাখাতে হবে, যদি বেশি আঠালো হয় তাহলে কিছু বাড়তি ময়দা দিতে হবে এবং যদি বেশি শুকনো হয় তাহলে বাড়তি দুধ দিতে হবে। মাখানো ময়দা খুব কোমল বা নরম হতে হবে।  

৩. মিষ্টির গোলা বানাতে, হাতে অল্প একটু ঘি বা ভেজিটেবল অয়েল মাখিয়ে নিতে হবে। মাখানো ময়দা থেকে কিছুটা নিয়ে হাতে রেখে গোল করে ঘুরাতে হবে। খেয়াল করতে হবে এতে কোনো ফাটা অংশ যেন না থাকে। সাথে খেয়াল রাখতে হবে গোলা যেন বেশি বড় না হয়, কারণ বড় হলে চিনির সিরা শোষণ করে আরও বড় হয়ে যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563276040394.png

৪. গোলাপজাম ভাজার জন্য সসপ্যানে পরিমাণ মতো তেল দিয়ে ঠিকমতো গরম করতে হবে। তেল যেন বেশি গরম না হয় আবার কম গরমও না হয় এবং ভাজার সময় যেন পুড়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যখন গোলাগুলো তেলে দেয়া হবে, গোলাগুলো তেলের উপরে ভেসে উঠবে। সোনালি-খয়েরি রং না হওয়া পর্যন্ত মিষ্টির গোলাগুলো ভাজতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, সসপ্যানে একসাথে অনেকগুলো মিষ্টি দেওয়া যাবে না। নয়তো ভালোভাবে ভাজা যাবে না।

৫. মিষ্টি ভাজা হয়ে গেলে উঠিয়ে সিরাতে মিষ্টিগুলো কয়েক ঘণ্টা  চুবিয়ে রেখে দিতে হবে।

ঠাণ্ডা হয়ে এলে এবং চিনির সিরা শোষণ করে মিষ্টি ফুলে উঠলে পরিবেশনের জন্য নামিয়ে নিতে হবে।

আরও পড়ুন: ঘরে তৈরি গরম ও মুচমুচে জিলাপি

আরও পড়ুন: মিষ্টি মুখে আমের রসগোল্লা

বর্ষা জুড়ে স্নিকার্স কনভার্স থাকবে ঝকঝকে!

বর্ষা জুড়ে স্নিকার্স কনভার্স থাকবে ঝকঝকে!
সঠিক নিয়মে পরিষ্কার করতে পারলে কনভার্স স্নিকার্স থাকবে ঝকঝকে, ছবি: সংগৃহীত

আসছে বর্ষা জুড়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দেবে কনভার্স বা স্নিকার্স নিয়ে।

প্রিয় কনভার্সটাই সবার আগে নোংরা হবে বৃষ্টি-কাদায়। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের মাঝে অনেকেই কেডসের বদলে সাদা কনভার্স পরতে পছন্দ করে। শুধু স্কুল-কলেজ পড়ুয়া নয়, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে কর্মজীবীদের কাছেও কনভার্স পছন্দের তালিকায় থাকে।

সহজেই পরিধেয়, আরামদায়ক ও বর্ষাকালীন সময়ে কনভার্স পরার ফলে রাস্তার ময়লা-কাদা থেকে পা সুরক্ষিত থাকে বলে এদিকেই বেশি ঝুঁকে থাকেন সকলে। কিন্তু সমস্যাটা দেখা দেয় শখের কনভার্স যখন নোংরা হয়ে যায়। বিশেষ করে সাদা কনভার্স ময়লা হয় খুব দ্রুততম সময়ে।

সাদা কিংবা রঙিন যেটাই হোক না কেন, কনভার্স পরিষ্কার করা বেশ কৌশলের বিষয়। আজকের ফিচার সেটাই জানানো হবে ধাপে ধাপে। যা আগত পুরো বর্ষা জুড়ে আপনার ও আপনার সন্তানের প্রিয় কনভার্স ও স্নিকার্সকে পরিষ্কার রাখতে কাজ করবে।

কনভার্স ও স্নিকার্স কীভাবে পরিষ্কার করতে হবে?

কনভার্স বা স্নিকার্স যেটাই হোক না কেন, হাতের সাহায্যে যত্ন করে পরিষ্কার করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। এতে করে প্রিয় জুতাটি নষ্ট হবে না। পরিষ্কারের জন্য প্রথমেই ব্রাশের সাহায্যে জুতার উপরের অংশ ও আশেপাশের অংশসহ নিচের অংশের ধুলাবালি ঝেড়ে ফেলে দিতে হবে।

এবারে এক কাপ গরম পানিতে এক টেবিল চামচ ডিশ ওয়াশার মিশিয়ে এতে পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে ভেজা কাপড়ের সাহায্যে জুতার বাইরের অংশে ঘষতে হবে। দেখা যাবে যে কাপড়ে জুতার ময়লা উঠে আসছে। এভাবে দুইটি জুতাই পরিষ্কার হয়ে গেলে এতে জুতার ফিতা ডুবিয়ে কিছুক্ষণ রেখে উঠিয়ে নিতে হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563256592557.jpg

এবারে জুতা দুইটিকে সাদা পেপার টাওয়েল দিয়ে ভালোভাবে মুড়িয়ে রেখে দিতে হবে কিছুক্ষণের জন্য। এতে করে জুতার বাড়তি পানি পেপার শোষণ করে নেবে। এরপর জুতাগুলো ঘরোয়া তাপমাত্রায় ও বাতাসে রাখতে হবে শুকানোর জন্য। রোদে কিংবা চুলার নিচে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। জুতার ফিতা ভালোভাবে নিংড়ে শুকানোর জন্য নেড়ে দিতে হবে। জুতা ও ফিতা শুকিয়ে গেলে দেখা যাবে একদম নতুনের মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে।

কনভার্স ও স্নিকার্স থেকে কীভাবে দাগ ওঠাতে হবে?

সাধারণ ময়লা হওয়ার বাইরেও স্নিকার্স ও কনভার্সে জেদি দাগ লেগে যায়। যা উপরোক্ত নিয়মে পরিষ্কার করলেও পুরোপুরি উঠতে চায় না। সেক্ষেত্রে কনভার্সের তন্তুর উপর বিবেচনা করে দুই ধরনের উপাদান ব্যবহার করতে হবে। কনভার্স বা স্নিকার্স যদি ক্যানভাস কাপড়ের হয় তবে হাইড্রোজেন পার অক্সাইডে ব্রাশ চুবিয়ে যে ব্রাশ দিয়ে জুতায় দাগযুক্ত স্থানে ঘষতে হবে। এবং চামড়ার হলে ভেজা ব্রাশে বেকিং সোডা মিশিয়ে সেটা জুতার দাগযুক্ত স্থানে খুব আলতোভাবে ঘষতে হবে। এভাবে করলে খুব সহজেই দাগ উঠে যাবে স্নিকার্স বা কনভার্স থেকে।

আরও পড়ুন: স্মার্ট টিভি পরিষ্কারের স্মার্ট উপায়!

আরও পড়ুন: কীভাবে পরিষ্কার করবেন মেকআপ ব্রাশ?

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র