Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

চেহারায় বয়সের ছাপ ফেলছে যে খাদ্য উপাদানটি!

চেহারায় বয়সের ছাপ ফেলছে যে খাদ্য উপাদানটি!
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

জেনে কিংবা অজ্ঞাতেই প্রতিদিন বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে খাওয়া হচ্ছে এই খাদ্য উপাদানটি।

যা শুধু চেহারার উপরে নয়, পুরো স্বাস্থ্যের উপরেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দিচ্ছে। ক্ষতিকর এই খাবারটি হলো চিনি। সরাসরি চিনি খাওয়া না হলেও, অসংখ্য খাবারের মাঝেই চিনির উপস্থিতি থাকে। যার ফলে না চাইলেও চিনি খাওয়া হয়েই যায় প্রায় প্রতিদিন।

গবেষকেরা জানাচ্ছে, অতিরিক্ত পরিমাণ চিনি গ্রহণের ফলে ত্বক সঠিক বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছে, বলীরেখা দেখা দিচ্ছে এবং ত্বকজনিত সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। এখানে তুলে ধরা হলো কীভাবে চিনি ত্বকে বয়সের ছাপ এনে দিচ্ছে।

চিনি ত্বকে প্রদাহ তৈরি করে

চিনি গ্রহণের ফলে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যাটি দেখা দেয়, তা হলো প্রদাহ তৈরি হওয়া। যা শুধু ত্বক নয়, শরীরের জন্যেও ক্ষতির কারণ। এতে করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং এ কারণে ত্বকজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায় অনেকখানি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/22/1550814985673.jpeg

বৃদ্ধি করে বলীরেখা

চিনিতে থাকা প্রদাহ তৈরিকারী উপাদান সমূহ ত্বকের সমস্যা তৈরি করার জন্য দায়ী। ত্বককে সুস্থ ও ভালো রাখার অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান হলো কোলাজেন। অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে এই কোলাজেন ভেঙে যায়। ফলে ত্বক সহজেই আর্দ্রতা হারায়, শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে ওঠে। যত যত বেশি শুষ্ক ত্বক তত বেশি বলীরেখা দেখা দেওয়া। ত্বকে বলীরেখা দেখা দেওয়ার মানেই হলো বয়সের ছাপ পড়ে যাওয়া।

রক্তে চিনির মাত্রায় অসামঞ্জস্যতা তৈরি করে

মাত্রাতিরিক্ত চিনি গ্রহণে রক্তে চিনির মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়। যার ফলে ঘনঘন ক্ষুধাভাব দেখা দেয় এবং শরীর ও মনের উপর চাপ সৃষ্টি হয়। স্বাভাবিকভাবেই মানসিক চাপ চেহারার উপর প্রভাব ফেলে। যার ফল স্বরূপ অল্প বয়সেও চেহারার মাঝে বার্ধক্য দেখা দেওয়া শুরু হয়।

অতিরিক্ত ব্রণের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়

নানাবিধ কারণেই ত্বকে ব্রণ কিংবা র‍্যাশ দেখা দিতেই পারে। আবহাওয়াজনিত কারণ, অযত্ন কিংবা হরমোনাল ইমব্যালেন্স এর মাঝে অন্যতম। তবে খেয়াল করলে দেখা যাবে হুট করেই অনেকের ব্রণের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া শুরু হয়। সঠিক যত্নেও ব্রণ সহজে কমতে চায় না। এর প্রধান কারণ চিনি গ্রহণ। চিনি হরমোনের ইমব্যালেন্স তৈরি করে, যা সিবাম তৈরি বাড়িয়ে দেয়। যা সরাসরি ত্বকের কোষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে।

আরও পড়ুন: ব্যথা ও প্রদাহ কমাবে এই খাবারগুলো

আরও পড়ুন: ‘স্বাস্থ্যকর’ উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত পাঁচ খাবার

আপনার মতামত লিখুন :

ডেঙ্গুতে উপকারী ড্রাগন ফ্রুট

ডেঙ্গুতে উপকারী ড্রাগন ফ্রুট
ড্রাগন ফ্রুট, ছবি: সংগৃহীত

বেশ অদ্ভুত চেহারার লালচে রঙের ফল পাওয়া যাচ্ছে ছোট-বড় প্রায় সব ফলের বাজারেই।

অপরিচিত ফল দেখে দেখে আগ্রহী ক্রেতারা এগিয়ে এসে জানতে চাইছেন ফলের নাম। সে ফলের নাম ড্রাগন ফ্রুট। নাম যেমন দশাসই, দামটাও তেমন। ফলের আকারের উপর নির্ভর করে এক কেজি ড্রাগন ফ্রুটের দাম হাঁকা হচ্ছে ৩০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত। দাম চড়া হলেও, ভিন্ন কিছুর স্বাদ পরখ করতে অনেকেই কিনে নিচ্ছেন ভিনদেশি এই ফল।

কী এই ড্রাগন ফ্রুট?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563601159269.jpg

ফলটি ভিনদেশি হলেও, আমাদের দেশে দারুণ ফলন হয়েছে ফলটির। বড় বড় এলাকার বাগানে তো বটেই, ছাদে কিংবা বড় বারান্দাতেও ক্যাকটাস প্রজাতির গাছ থেকে চমৎকার ফল পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণেই বাজার ঘুরে দেখা যাচ্ছে এর সহজলভ্যতা।

হালকা মিষ্টি, লাল ও সাদা বর্ণের এ ফলটির আদি নিবাস হলো দক্ষিণ আমেরিকা, মেক্সিকোতে। পরবর্তীতে ক্যাম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পরে ড্রাগন ফ্রুট।

ড্রাগন ফ্রুটের স্বাস্থ্য উপকারিতা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563601209659.jpg

বেশ কয়েক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ১০০ গ্রাম ওজনের ৬০ ক্যালোরি সমৃদ্ধ বড় একটি ড্রাগ্রন ফ্রুট থেকে পাওয়া যাবে প্রোটিন, আয়রন, কার্যোহাইড্রেট, দ্রবণীয় আঁশ, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, ভিটামিন-সি ও চিনি। উপকারী পুষ্টি গুণাগুণ সমৃদ্ধ এই ফলটি তাই সুস্বাস্থ্যের জন্যে নানাভাবে অবদান রাখে। কয়েকটি আজকের ফিচারে তুলে ধরা হলো।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

ফলে থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন-সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। গবেষণার তথ্য জানাচ্ছে, লাল ও সাদা উভয় ড্রাগন ফ্রুটেই রয়েছে পলিফেনল ও ফ্ল্যাভনয়েড, যা ফ্রি রেডিক্যাল থেকে রক্ষা করে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য উপকারী

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ড্রাগন ফ্রুট রক্তে হিমোগ্লোবিন ও প্লেটলেটের সংখ্যা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে এবং ফলের ভিটামিন-সি জ্বরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে। পাশাপাশি এতে থাকা আয়রন, ফসফরাস, লাইকোপেন, ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563601227181.jpg

খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে

ফুড ক্যামিস্ট্রিতে প্রকাশিত একটি গবেষণার তথ্য সুপারিশ করছে, ড্রাগন ফ্রুটে থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ Oligosaccharides, যা পাকস্থলিস্থ উপকারী ব্যাকটেরিয়া ল্যাকটোব্যাসিলি (Lactobacilli) ও বাইফিডোব্যাকটেরিয়া (Bifidobacteria) জন্মাতে সাহায্য করে। এছাড়া এই ফলে থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ বাওয়েল মুভমেন্টকে নির্বিঘ্ন রাখতে এবং খাদ্য ভালোভাবে পরিপাক হতে কাজ করে।

নিয়ন্ত্রণে রাখে ডায়বেটিস

নিয়মিত পরিমিত পরিমাণ ড্রাগন ফ্রুট গ্রহণে রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকবে। এতে করে টাইপ-২ ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাও কমে যাবে। ২০১৭ সালের একটি গবেষণা জানাচ্ছে, যারা ড্রাগন ফ্রুট নিয়মিত গ্রহণ করেছেন তাদের রক্তে প্রি-ডায়বেটিক লক্ষণসমূহ তুলনামূলক কম দেখা গেছে যারা গ্রহণ করেননি তাদের চেয়ে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563601240569.jpg

সুস্থ রাখে চোখ

ড্রাগন ফ্রুট সাইটোক্রোম পিফোর৫০ (Cytochrome P450) নামক প্রোটিন তৈরি করে মানবশরীরে। যা আমাদের যকৃততে পাওয়া যায়। এই প্রোটিনের সাথে কঞ্জেনিটাল গ্লুকোমার সম্পর্ক রয়েছে। ফুড ক্যাম্রিস্ট্রি জার্নালে প্রকাশিত তথ্য জানাচ্ছে, এতে থাকা বেটা-ক্যারোটিন চোখকে ক্ষতিকর ফ্রি রেডিক্যাল থেকে রক্ষার্থেও কাজ করে।

হাড় ও দাঁত শক্ত করে

অন্যান্য যেকোন ফলের চাইতে ড্রাগন ফ্রুটে অনেক বেশি পরিমাণ ক্যালসিয়াম রয়েছে। যে কারণে নিয়মিত ড্রাগন ফ্রুট গ্রহণে হাড় ও দাঁত শক্ত ও সুস্থ থাকে।

আরও পড়ুন: মৌসুমি ফল জামের সাত উপকারিতা

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

চার উপাদানে খেজুর গুড়ের আইসক্রিম

চার উপাদানে খেজুর গুড়ের আইসক্রিম
খেজুর গুড়ের আইসক্রিম, ছবি: সংগৃহীত

খেজুর গুড়ের পায়েস নিশ্চয় খাওয়া হয়েছে, কিন্তু খেজুর গুড়ে তৈরি আইসক্রিম কি খাওয়া হয়েছে কখনো?

চিনির মিষ্টি নয়, গুড়ের মিষ্টিতে তৈরি এই আইসক্রিমে পাওয়া যাবে একেবারেই ভিন্ন ঘরানার অচেনা স্বাদ।

বাইরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে আইসক্রিম খাওয়ার ইচ্ছাটাও তাড়া দিতে থাকে। এই সুযোগে ঘরে বসে ফ্রেশ দুধ ও গুড় দিয়ে তৈরি করে নিন অচেনা স্বাদের মিষ্টান্ন খেজুর গুড়ের আইসক্রিম।

খেজুর গুড়ের আইসক্রিম তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563538258867.JPG

১. দুই কাপ ক্রিম।

২. এক কাপ দুধ।

৩. চারটি ডিমের কুসুম।

৪. আধা কাপ খেজুর গুড়।

খেজুর গুড়ের আইসক্রিম যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563538280218.JPG

১. একটি পাত্রে ভালোভাবে ডিমের কুসুমগুলো ফেটিয়ে নিতে হবে।

২. ভিন্ন একটি সসপ্যানে ক্রিম ও দুধ একসাথে মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে বলক আনতে হবে।

৩. গরম দুধ ও ক্রিমের মিশ্রণের এক-চতুর্থাংশ ডিমের কুসুমে দিয়ে পুনরায় ভালোভাবে হুইস্ক করতে হবে তথা ফেটিয়ে নিতে হবে।

৪. এবারে ডিমের মিশ্রণটি সস্প্যানে দিয়ে পুনরায় জ্বাল দিতে হবে এবং গুড় মেশাতে হবে। সকল উপাদান ভালোভাবে মিশে গেলে কাস্টার্ডের মতো ঘন মিশ্রণ তৈরি হবে।

৫. মিশ্রণ ঘন হয়ে আসলে কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে কাঁচের পাত্রে ঢেলে ঠাণ্ডা করতে হবে। ঠাণ্ডা হয়ে এলে পাত্রের মুখ বন্ধ করে ডিপ ফ্রিজে সারারাতের জন্য রেখে দিতে হবে।

পরদিন সকালে নাশতার সাথে উপভোগ করুন খেজুর গুড়ের আইসক্রিম।

আরও পড়ুন: দশ মিনিটে বাদামের স্বাদে কুলফি মালাই

আরও পড়ুন: গরমে স্বস্তি আনবে তিন ভিন্ন স্বাদের কোল্ড কফি

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র