Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

পাম্প করা মাতৃদুগ্ধ কী ক্ষতিকর?

পাম্প করা মাতৃদুগ্ধ কী ক্ষতিকর?
ছবি: সংগৃহীত
লাইফস্টাইল ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সময় স্বল্পতা ও ব্যস্ততার জন্য নবজাতকদের পাম্প করে রাখা মাতৃদুগ্ধ পান করাতে হচ্ছে অনেক মা’কেই।

তবে এই প্রক্রিয়াটি শিশুদের জন্য কতটা স্বাস্থ্যকর সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে। আর সেই বিষয়টি নিয়েই কাজ করেছে কানাডার একদল গবেষক।

তারা গবেষণা ও পরীক্ষার ফল থেকে তুলনা করে দেখেছেন, সরাসরি স্তন থেকে সন্তানকে পান করানো দুধের তুলনায় পাম্প করে সংগ্রহ করা দুধে, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি।

গেলো সপ্তাহে ‘সেল হোষ্ট ও মাইক্রোব’ নামক বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল প্রকাশ করেছে কানাডার স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান 'কানাডিয়ান হেলদি ইনফ্যান্ট লঞ্জিটুডিনাল ডেভলপমেন্ট বার্থ কোহোর্থ স্টাডি'র (চাইল্ড) করা একটি গবেষণা। যেখানে উঠে এসেছে এমনই ব্যতিক্রম তথ্য।

পাম্পের মাধ্যমে সংগ্রহ করা মাতৃদুগ্ধে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ত্ব পেয়েছে কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠানটি। রিসার্চের জন্য ৩৯৩ জন মায়ের উপর পরীক্ষা চালানো হয় কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠানটি থেকে।

মাতৃদুগ্ধের উপর গবেষণা ও এতে মাইক্রোবের উপস্থিতি সম্পর্কে জানার জন্য দুধের স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয় মায়েদের কাছ থেকে। প্রথম দিকে মনে করা হতো যে, মাতৃদুগ্ধ একেবারেই বিশুদ্ধ। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সেই ভ্রান্ত ধারণাটি ভেঙেছে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফলে মাতৃদুগ্ধে ব্যাকটেরিয়া মিললেও কিছু মাতৃদুগ্ধে দুই ধরণের ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ত্ব পান তারা। যেসব মায়েরা তাদের সন্তানকে পাম্পের মাধ্যমে সংগ্রহ করা দুধ পান করিয়েছেন, সেই সব মায়েদের দুধেই মিলেছে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া।

সরাসরি মাতৃদুগ্ধ পান করানোর তুলনায় পাম্প ব্যবহার করে পান করানো দুধগুলোতে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ অনেক কম বলেও উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণাটিতে। গবেষণাটিতে আরও বলা হয়েছে, উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণে ঘাটতি থাকায় শিশুরা পাম্প করা মাতৃদুগ্ধ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টি গুণাগুণ না পেতেও পারে।

গবেষণাটির সহকারী গবেষক ডাঃ মেঘান আজাদ বলেন, ‘ব্যাকটেরিয়াগুলো শনাক্ত করার পর কারণ অনুসন্ধান করতে বিভিন্ন দিকে নজর দেওয়া হয়। যেমন, তাদের বাচ্চা জন্ম দেওয়ার ধরণ, মাতৃদুগ্ধ পান পদ্ধতি, শারীরিক অবস্থা সহ সেই সব বিষয় যা এই ব্যাকটেরিয়ার জন্য দায়ি হতে পারে’।

‘সকল বিষয় পরীক্ষার পর আমাদের মনে হয়েছে মাতৃদুগ্ধ পানের পদ্ধতিই এই ব্যাকটেরিয়ার জন্য দায়ি, বলেন ডাঃ আজাদ।

তবে আজাদ আরো জানান, তারা মনে করছেন না পাম্প করা মাতৃদুগ্ধ পান করানো খারাপ বা এটি শিশুর জন্য দীর্ঘ মেয়াদী কোন ক্ষতির কারণ হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন :

নখ কাটতে হবে সঠিক নিয়মে

নখ কাটতে হবে সঠিক নিয়মে
ছবি: সংগৃহীত

যে কাজটি সেই ছোটবেলা থেকেই করে আসছেন, সেটা সম্পর্কেও থেকে যেতে পারে সঠিক তথ্য ও নিয়ম জানার ভুল।

সঠিক নিয়ম ও তথ্য জানার জন্য বিশেষ ও নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। তাই আজকের এই ফিচারটি পড়লে আপনি জানতে পারবেন নিজেকে ও নিজের নখকে সুস্থ রাখা সঠিক পদ্ধতি।

নখ কাটার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানানো আগে একটা প্রশ্ন রাখা যাক। আপনি কী নখ খুব বেশি গভীর করে কাটেন, অর্থাৎ নখের নিচের নরম অংশ বা কিউটিকল পর্যন্ত বা সেটা ছাড়িয়ে? উত্তর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইতিবাচক হবে। কারণ ছোট থেকেই আমাদের শেখানো হয়, নখ কাটতে হয় একদম সম্পূর্ণ গোঁড়ার অংশ থেকে।

কিন্তু এভাবে নখ কাটা একেবারেই অনুচিত। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটলোজি জানাচ্ছে, কিউটিকল পর্যন্ত গভীর করে নখ কাটার ফলে নখ ও নখের পাশেপাশের নমনীয় স্থান খুব সহজেই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এতে করে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় তুলনামূলক অনেক বেশি।

সঠিকভাবে নখ কাটার জন্য মূলত চারটি নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। দেখে নিন নিয়ম চারটি।

নখ ভিজিয়ে রাখা

নখ কাটার পূর্বে অবশ্যই মিনিট পাঁচেকের জন্য কুসুম গরম পানিতে নখ ভিজিয়ে রাখতে হবে। পায়ের নখ হাতের নখের চাইতে তুলনামূলক বেশি মোটা হওয়ায় দশ মিনিটের মতো ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে করে নখ নরম যাবে এবং নখ কাটতে সুবিধা হবে।

নিয়মিত ট্রিম করা

নখের দুই পাশের অংশ হালকা কেটে অনেকেই নখ লম্বা করতে পছন্দ করেন। এ বিষয়ে ডার্মাটলোজিস্ট শারি লিপনার জানান, লম্বা নখ দেখতে সুন্দর লাগলেও সঠিক আকৃতিতে নখ ছোট রাখাই স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। এতে করে নখ ভেঙে যাওয়া বা উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

নখ পরিষ্কার থাকা চাই

শুধু নখ কেটে সঠিক আকৃতিতে রাখাই যথেষ্ট নয়, নখের ভেতরের ও চারপাশের অংশ পরিষ্কার থাকা চাই। নখের ভেতর জমে থাকা ময়লা থেকেই নখে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ ও ইনফেকশন হতে পারে।

ফাইলিং করা জরুরী

আমাদের দেশে সাধারণত নিয়মিত নখ কাটা হলেও নখ ফাইলিং করা হয় না একেবারেই। কিন্তু নখকে মসৃণ ও দৃঢ় রাখতে চাইলে নখ কাটার পর ফাইলিং করার কোন বিকল্প নেই। এতে করে নখ দেখতেও সুন্দর লাগে।

আরও পড়ুন: ডিম ভাঙার সঠিক নিয়মটি জানেন তো?

আরও পড়ুন: বেশি খেয়ে ফেললে কী করবেন?

শ্রবণশক্তি হারাচ্ছে হেডফোনের ব্যবহারে

শ্রবণশক্তি হারাচ্ছে হেডফোনের ব্যবহারে
ছবি: সংগৃহীত

রাতে ঘুমাতে যাওয়া থেকে শুরু করে সকালে ক্লাসে কিংবা অফিসে যাওয়ার পথেও কানে বাজতে থাকে পছন্দের গান।

কাজের ফাঁকে, মন খারাপ কাটাতে কিংবা একা সময়ে এই গানই যেন সবচেয়ে ভালো সঙ্গী। গান শোনায় কোন সমস্যা নেই, নেই কোন বাধাও। সমস্যাটা অন্যখানে। সেটা হলো গান শোনার মাধ্যম। সাধারণত হেডফোন কিংবা ইয়ারফোনের সাহায্যেই গান শোনা হয়ে থাকে এখনকার সময়ে। অথচ এই যন্ত্রটি ব্যবহারের ফলে প্রতিনিয়ত আমাদের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেটা কি আমরা জানি!

ইয়ারফোন বা হেডফোনে অতিরিক্ত শব্দে গান শোনা বর্তমান সময়ের তরুণদের এক ধরনের নিত্যদিনের অভ্যাসের মতো সাধারণ বিষয়। এতে করে মন যতই শান্ত হোক না কেন, অপূরণীয় ক্ষতি হয় কানের। সবচেয়ে ভয়ানক বিষয়টি হলো, কানের ক্ষতি হলে সহসাই বিষয়টি বোঝা সম্ভব হয় না। যতক্ষণ না পর্যন্ত চূড়ান্ত সমস্যা দেখা দেয়। জেনে অবাক হবেন, পুরো বিশ্বে ১.১ বিলিয়নের অধিক ১২-৩৫ বছর বয়সী মানুষ ইয়ারফোন ব্যবহারের ফলে শ্রবণশক্তি সংক্রান্ত ঝুঁকিতে রয়েছে।

হেডফোনের ব্যবহারে কীভাবে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়?

ইয়ারফোন কিংবা হেডফোনের উচ্চশব্দে গানের বাজনা থেকে নয়েজ ইনডিউসড হিয়ারিং লস (NIHL), যা থেকে কানের অপরিবর্তনীয় (Irreversible) ক্ষতি হয় এবং চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে শ্রবণশক্তি হারিয়ে যায় বা বধির হয়ে যেতে হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566289831945.jpg

কানের ক্ষতি হলে কী ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পাবে?

নিয়মিত উচ্চ শব্দে ইয়ারফোনে গান শোনা হলে তার নেতিবাচক প্রভাবের দরুন বেশ কিছু লক্ষণ অবধারিতভাবে দেখা দেবে। এখানে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো।

১. হুট করে অকারণে কানের ভেতর রিং বাজতে থাকার মতো শব্দ হতে থাকা এবং কিছুক্ষণ পর নিজ থেকেই ঠিক হয়ে যাওয়া।

২. টিভি দেখার সময় বারবার শব্দ বাড়িয়ে দেওয়া। টিভি থেকে কিছুটা দূরে বসে আসলে শব্দ শুনতে সমস্যা হওয়া।

৩. তিন ফিট দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের কথা শুনতে সমস্যা হওয়া।

কীভাবে এই ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে?

কানের ক্ষতিকে দূরে রাখার বিষয়টি খুব জটিল কিছু নয়। ইয়ারফোন বা হেডফোনে গান শোনার সময় শব্দের মাত্রা কমিয়ে রাখতে হবে। উচ্চমাত্রার শব্দ কানের ভেতরের স্পর্শকাতর হেয়ার সেলস (Hair cells) এ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই গান শুনতে হলেও শব্দ অর্ধেক কমিয়ে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে '60:60' রুলস মেনে চলতে হবে অবশ্য। শব্দের মাত্রা ৬০ শতাংশের বেশি ও সময় ৬০ মিনিটের বেশি একদম নয়।

এছাড়া ইয়ারফোন বা হেডফোন যেটাই ব্যবহার করা হোক না কেন, সবসময় মানসম্মত পণ্য ব্যবহার করতে হবে। কমদামী পণ্যে বাড়তি শব্দ তৈরি হয়। যা কানের জন্য ক্ষতিকর।

আরও পড়ুন: প্রযুক্তি যেভাবে স্বাস্থ্যহানি ঘটাচ্ছে!

আরও পড়ুন: চোখের ওপর চাপ কমাবেন কীভাবে?

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র