Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘ভালোবাসা’ যেখানে জিতে যায় বারবার!

‘ভালোবাসা’ যেখানে জিতে যায় বারবার!
ক্রিস ও পল। ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

ভালোবাসা ও ভালোবাসার সম্পর্ক নিয়ে আক্ষেপ কিংবা অভিযোগ রয়েছে অনেক।

কেউ কেউ তো দাবিও করে, আদতে ভালোবাসা বলে কিছুই নেই। মিথ্যে কিছু অনুভূতির গায়ে বাহুল্য কিছু রঙ ছড়িয়ে উপস্থাপন করা মাত্র।

এমনটা বলবেই বা না কেন? চারপাশের ঘটনা বহুল পরিবেশ ও বর্তমান পরিস্থিতি দেখে এমনটাই বোধ হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যতিক্রম কিছু ঘটনা থাকে, থাকে একেবারেই অবাক করে দেওয়ার মতো কিছু ঘটনা। যা নতুনভাবে ভাবতে শেখায়, বিশ্বাস করতে শেখায়।

চোখ খুলে দেওয়ার মতো ভালোবাসার একটি গল্পে জানা যাবে অনেক কিছুই। বাস্তব এই গল্পের প্রধান দুই চরিত্র হলেন- পল ও ক্রিস শারন ডিফজ। ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত এই দুইজন মানুষ একেঅপরের সঙ্গে কাটিয়ে দিয়েছেন টানা ২৫টি বছর!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/02/1549098541024.jpg

ডাউন সিনড্রোম সম্পর্কে ধারণা না থাকলে জেনে নিন, ডিএস (DS) বা ডাউন সিনড্রোম ট্রিসমি২১ (Trisomy 21) নামে পরিচিত এক ধরণের জেনেটিক্যাল ডিসঅর্ডার। এই ডিসঅর্ডারের ফলে শারীরিক গঠন ও বৃদ্ধিতে সমস্যা দেখা দেয়, বুদ্ধিবৃত্তি ডিসঅর্ডার ও ফেসিয়াল স্ট্রাকচারে সমস্যা দেখা দেয়।

এবার তাহলে পল আর ক্রিসের ভালোবাসার মিষ্টি গল্পটা শুরু করা যাক। আজ থেকে প্রায় তিন দশক তথা তিরিশ বছর আগে এক নাচের অনুষ্ঠানে পল ও ক্রিসের দেখা দেয়। প্রথমদিনে দেখা মাত্রই ক্রিস ভালোবেসে ফেলেন পলকে। হ্যা, একদম প্রথম দিনের প্রথম দেখাতেই ক্রিস বুঝে গিয়েছিলেন, কার সাথে জীবনের বাকি সময়টুকু কাটাতে চান তিনি। ক্রিসের ভাষ্যমতে, ‘আমি পলের চোখের দিকে তাকিয়ে আমার ভবিষ্যৎ দেখতে পেয়েছিলাম’।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/02/1549098563852.jpg

সেই দিন থেকেই তাদের ভালোবাসার সম্পর্কটা শুরু। প্রথমদিকে দুই পরিবারের কেউই তেমন একটা পাত্তা দেয়নি এই সম্পর্কে। দুইজন ডাউন সিনড্রোমের মানুষ কিভাবে একসাথে থাকবে, একে-অন্যকে বুঝবে, সামলাবে! কিন্তু সবার এমন ধারণাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে পাঁচ বছরের ভালোবাসার সম্পর্কটিকে পাকাপোক্ত করতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো পল ও ক্রিস।

এবারেও বেঁকে বসলো উভয়ের পরিবার। স্বাভাবিকভাবে ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত মানুষ বয়সের তুলনায় বেশ অনেকখানি অপরিণত হয়। তাদের আবেগ ও মন-মেজাজের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না বললেই চলে। সেখানে কীভাবে একই সমস্যায় আক্রান্ত দুইজন মানুষ এক ছাদের নিচে থাকবে!

কিন্তু সবার দুশ্চিন্তার অবসান ঘটিয়ে একেঅন্যের ছায়া হয়ে, একেঅপরের হাত ধরে কাটিয়ে দিলো টানা ২৫টি বছর।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/02/1549098588915.JPG

এই দীর্ঘ সময় একসাথে কাটিয়ে দেওয়া, পরস্পরকে ভালোবাসার পেছনের রহস্যাটা জানায় ৫৮ বছর বয়সী ক্রিস। তাদের জীবনে ব্যবস্থাকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং ৫৪ বছরের স্ত্রী পলকে মানসিকভাবে সমর্থন ও সাহায্য করার মাঝেই সবকিছু গুছিয়ে নিতে পেরেছেন তারা।

প্রতি বছরের ভালোবাসা দিবসেই পল তার ভালোবাসার মানুষটির জন্য হাতে তৈরি কার্ড নিয়ে অপেক্ষা করেন ক্রিসের কাজ থেকে ফেরার জন্য। অন্যদিকে ক্রিস রান্না করতে ভালোবাসলেও, ভালোবাসা দিবসে বাইরে খেতে বের হন তারা একসাথে।

প্রতিটি গল্পে যেমন চরাই-উতরাই থাকে, ক্রিস-পলের জীবনেও রয়েছে। টাইপ-১ ডায়বেটিসের রোগী হলেন ক্রিস এবং আর্লি-স্টেজ ডিমেনশিয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে স্ত্রী পলের। কিন্তু এই সকল সমস্যা তাদের ভালোবাসা ও একসাথে থাকার প্রতিজ্ঞার কাছে খুবই তুচ্ছ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/02/1549098669974.jpg

দিনের মাঝে চারবার ক্রিসকে ইনস্যুলিন দিয়ে দেয় পল, যে ব্যাপারটি ক্রিস খুবই উপভোগ করেন। অন্যদিকে ক্রিসের নিজ থেকে রান্না শিখে পারদর্শী একজন রাঁধুনি হয়ে ওঠা ও হাই স্কুল গ্রাজুয়েট হওয়ার বিষয়ে দারুণ গর্বিত বোধ করেন পল।

উভয়ের শারীরিক সমস্যা, রোগের প্রকোপ ও পারিপার্শ্বিক সমস্যা এড়িয়ে এখনও তারা একসাথে আছেন। পরস্পরের ছোটখাটো বিষয়ে সমর্থন করা, সাহায্য করার মাঝেই প্রকাশিত হয় তাদের ভালোবাসা।

যেখানে আশেপাশের সকলে প্রশ্ন তুলেছিল ক্রিস ও পলের ভালোবাসা নিয়ে, সেখানে প্রতিদিন তাদের ভালোবাসা জিতে গিয়েছে সকল প্রশ্নকে ডিঙ্গিয়ে।

আরও পড়ুন: দ্বীপে বসে বই লিখে পুরষ্কার জিতলেন শরনার্থী

আরও পড়ুন: মাত্র সাত বছরেই মিলিয়নিয়ার ইউটিউবার

আপনার মতামত লিখুন :

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল

নাশতার নতুনত্বে ফালাফেল
ফালাফেল

মধ্যপ্রাচ্যের সকাল ও বিকালের নাশতার অন্যতম একটি প্রচলিত খাবারের নাম হলো ফালাফেল।

নাম শুনে অনেকেই ভাববেন, এই খাবারটি সম্ভবত ফল দিয়ে তৈরি করা হয়। আদতে খাবারটি তৈরি হয় ছোলা কিংবা মটরশুঁটিতে। তেলে ভাজা বিভিন্ন মসলার সংমিশ্রণে তৈরি ফালাফেল ডুবো তেলে কড়া করে ভেজে দইয়ের রায়তার সাথে খেতে চমৎকার ভালো লাগে।

পরিচিত বড়া বা পেঁয়াজুর বাইরে নতুন ও হালকা কোন নাশতার খাবার খেতে চাইলে দেখে নিন ফালাফেল তৈরির রেসিপি।

ফালাফেল তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566653988942.JPG

১. এক কাপ শুকনো ছোলা।

২. একটি ছোট পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. এক চা চামচ রসুন কুঁচি।

৪. তিন টেবিল চামচ ধনিয়া পাতা কুঁচি।

৫. আধা চা চামচ মরিচ গুঁড়া।

৬. এক চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া।

৭. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

৮. ১/৪ চা চামচ কালো গোলমরিচ গুঁড়া।

৯. এক টেবিল চামচ ময়দা।

১০. স্বাদমতো লবণ।

১১. ভাজার জন্য পরিমাণমতো তেল।

ফালাফেল যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566654005300.JPG

১. ছোলা ধুয়ে পরিষ্কার পানিতে সারারাতের জন্য ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং সময় হলে পানি থেকে তুলে শুকিয়ে নিতে হবে এবং ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

২. এতে পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন কুঁচি, ধনিয়া পাতা কুঁচি, জিরা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, কালো গোলমরিচ গুঁড়া ও ময়দা মেশাতে হবে। সাথে পরিমাণমতো লবণ ও লেবুর রস যোগ করতে হবে এবং ব্লেন্ড করতে হবে।

৩. ব্লেন্ড শেষে সকল উপাদান মিশে অমসৃণ ও অসূক্ষ্ম মিশ্রণ তৈরি হবে। এতে পানি যোগ করা যাবে না, তবে যদি ব্লেন্ড করতে সমস্যা হয় ১-৩ টেবিল চামচ পানি আলাদাভাবে যোগ করতে হবে।

৪. ফালাফেল মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে বাটিতে ঢেলে প্রয়োজন ও স্বাদ অনুযায়ী মসলা ও লবণ যোগ করতে হবে এবং হাতের সাহায্যে মাখিয়ে ছোট ছোট গোল ফালাফেল তৈরি করে নিতে হবে।

৫. এবারে কড়াইতে তেল গরম করে ফালাফেল দিয়ে দেখতে হবে তা ভেঙে যায় কিনা। যদি ভেঙে যায় তবে মিশ্রণের সাথে ময়দা যোগ করে এরপর ভাজতে হবে।

৬. ফালাফেল বাদামী-সোনালি হয় আসলে নামিয়ে নিয়ে দইয়ের রায়তা কিংবা ঘরে তৈরি পাতার চাটনির সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?

কেন কেএফসির ফ্রাইড চিকেন সবচেয়ে আলাদা?
কেএফসির ফ্রাইড চিকেন

গরম মুচমুচে কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের মতো মজাদার খাবার যেন আর হয় না।

অন্যান্য রেস্টুরেন্টের ফ্রাইড চিকেন যতই মজাদার হোক না কেন, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনে সবসময়ই ভিন্নতা বজায় থাকে। কিন্তু কেন কেএফসির চিকেন অন্যান্য রেস্টুরেন্টের চিকেনের চাইতে আলাদা ও ভিন্ন? এর প্রধান কারণ, মুরগির মাংস প্রস্তুতে মসলার ব্যবহার। ব্যতিক্রমী ও অন্য ধাঁচের মসলার নিয়ন্ত্রিত ও সঠিক ব্যবহারের ফলে, কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের স্বাদ সহজেই আলাদা হয়ে ওঠে।

১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637051338.jpg

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ঘরে বসে পেতে চাইলে, বিষয়টি খুব একটা সহজ হবে না। তবে কাছাকাছি স্বাদ তৈরি করা যেতে পারে ১১টি বিশেষ মসলার ব্যবহারে। মসলাগুলো হলো-

১. ২/৩ টেবিল চামচ লবণ।

২. ৩ টেবিল চামচ সাদা গোলমরিচের গুঁড়া।

৩. ১ টেবিল চামচ কালো গোলমরিচের গুঁড়া।

৪. ১/২ টেবিল চামচ বাসিল।

৫. ১ টেবিল চামচ সেলেরি সল্ট।

৬. ১ টেবিল চামচ শুকনো সরিষা।

৭. ২ টেবিল চামচ গার্লিক সল্ট।

৮. ১ টেবিল চামচ আদা গুঁড়া।

৯. ১/৩ টেবিল চামচ অরিগানো।

১০. ৪ টেবিল চামচ প্যাপরিকা।

১১. ১/২ টেবিল চামচ থাইম।

চিকেন ফ্রাই করার কৌশল আছে কী?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566637102106.jpg

ব্যাটার তৈরি করে মুরগির মাংসে মিশিয়ে তেলে গড়িয়ে নিলেই যদি কেএফসির চিকেন ফ্রাই হয়ে যেতো, তাহলে তো কথাই ছিল না। ফ্রাইড চিকেন তৈরির মসলা নয়, চিকেন ফ্রাই করার কৌশলেও থাকে ভিন্নতা। ফলে অন্যান্য ফ্রাইড চিকেনের তুলনায় কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ও চিকেন ক্রাস্ট হয় আলাদা। কয়েকটি কৌশল জেনে রাখুন।

দ্রুত ভেজে ফেলা

অনেকেই চিকেন ব্যাটার ও ময়দায় মাখিয়ে বেশ অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর তেলে ভাজেন। কিন্তু কেএফসির ক্ষেত্রে নিয়ম একেবারে উল্টো। ‘ফ্রম ফ্লাওয়ার টু ফ্রায়ার’ এই নীতিতে কাজ করে কেএফসি। অর্থাৎ ময়দায় মুরগির মাংস গড়িয়ে সরাসরি ফ্রায়ারে ছেড়ে দেওয়া। এতে করে বাইরের আবরণ অতিরিক্ত শক্তও হবে না আবার মুচমুচে থাকবে এবং ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার সময় সহজেই চিকেন থেকে খুলে আসবে।

ফ্রায়ারে ভিন্নতা

কেএফসির ফ্রাইড চিকেনের এক্সট্রা ক্রিস্পিভাব তৈরি করা হয় বিশেষ ইনডাস্ট্রিয়াল-স্ট্রেনথ প্রেশার ফ্রায়ার ব্যবহারে। কেএফসির মতো ফ্রায়ার ঘরে পাওয়া সম্ভব না হলেও, গভীর কোন পাত্রে ৩৫০-৩৬০ ডিগ্রীতে তেল গরম করে প্রতিটি মুরগির পিস ঘড়ি ধরে ১২ মিনিট ভাজলে কেএফসির কাছাকাছি ফ্রাইড চিকেন তৈরি করা সম্ভব হবে।

সাথে সাথেই না খাওয়া

কেএফসির ফ্রাইড চিকেন ভাজার পর অন্তত বিশ মিনিট ১৭৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ওভেন সেটে রেখে দেওয়া হয়। এরপর এই ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। তেল থেকে ওঠানোর সাথে সাথে কেএফসির ফ্রাইড চিকেন পরিবেশন করা হয় না। ২০ মিনিট ওভেন সেটে রাখার ফলে মাংসের ভেতরের অংশ গরম থাকে এবং বাইরের অংশ থাকে মুচমুচে। এছাড়া মাংসে বাড়তি তেল থাকলে সেটাও ঝরে যায় সহজেই।

আরও পড়ুন: মাংসের ঝোলের ঘ্রানে কেএফসি’র সেন্টেড ক্যান্ডেল

আরও পড়ুন: কেএফসি যে কারণে নাম পরিবর্তন করেছিল!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র