Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

তিনগুণ দ্রুততায় ওজন কমবে সহজ ‘একটি’ অভ্যাসে

তিনগুণ দ্রুততায় ওজন কমবে সহজ ‘একটি’ অভ্যাসে
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

যত সহজেই ওজন বেড়ে যায়, ততটা সহজে ওজন কমানো গেলে খুবই দারুণ হতো।

তবে আফসোসের বিষয় হলো, এমনটা কখনোই হয় না। ওজন কমানোর জন্য জিমে যাওয়া, দৌড়ানো, সাইকেলিং করা, দড়িলাফ দেওয়ার মতো শরীরচর্চাগুলো করা প্রয়োজন হয়। যত বেশি ঘাম ঝরানো হবে, তত বেশি উপকার পাওয়া যাবে।

কিন্তু কথা যেখানে তিনগুণ দ্রুততায় ওজন কমানোর, সেখানে প্রথমেই মাথায় আসবে- শরীরচর্চার মাত্রা বৃদ্ধি করে দেওয়ার বিষয়টি।

চমকটা এখানেই! আক্ষরিক অর্থেই তিনগুণ দ্রুততার সঙ্গে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শরীরচর্চার মাত্রা বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। শুধু প্রয়োজন হবে, দারুণ সহজ একটি অভ্যাস রপ্ত করা।

দ্য জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল এন্ডক্রিনোলোজি এন্ড মেটাবলিজমে প্রকাশিত হওয়া সাম্প্রতিক সময়ের একটি গবেষণার তথ্য প্রকাশ করেছে, শুধুমাত্র মনোযোগের সঙ্গে খাবার খাওয়ার মাধ্যমেই ওজন তিনগুণ দ্রুততায় কমানো সম্ভব।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/19/1547880511975.JPG

মার্কিন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি হসপিটালস কভেন্ট্রি ও ওয়ারউইকশায়ার ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস আয়োজিত এই গবেষণার সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন করে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করেছিলেন ৫৩ জন। এর মাঝে অর্ধেক সংখ্যক মানুষকে হাতে-কলমে শেখানো হয়েছিলে কীভাবে মনোযোগের সঙ্গে খাবার খেতে হবে।

তাদেরকে পরিকল্পনা তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল, কিভাবে খাবার খাওয়ার সময় শুধু খাবারের দিকেই সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে এবং খাবার ধীরে খাওয়া যাবে। খাবার কীভাবে ধীরে চিবাতে হবে, কীভাবে প্রতিটি কামড়ের স্বাদ আলাদাভাবে অনুভব করতে হবে এবং কীভাবে ধীরে খাবার খেতে হবে- এই সকল কিছুই শেখানো হয়েছিল তাদের।

যারা মনোযোগের সঙ্গে খাবার খাওয়ার অভ্যাসটি ভালোভাবে মেনে চলেছিলেন, গড়ে তাদের ওজন তিনগুণ দ্রুততার সঙ্গে কমেছে, যারা নিয়মটি মেনে চলেলনি তাদের তুলনায়। মনোযোগের সঙ্গে খাবার খাওয়ার অভ্যাসটিকে যতটা সহজ ভাবা হচ্ছে, আদতে অভ্যাসটি ততটাও সহজ নয়।

মেডিক্যাল নিউজ টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিসার্চ ফেলো ও ডক্টরাল স্টুডেন্ট পেট্রা হ্যানসন বলেন, ‘গবেষণাটি খুবই ভালো হয়েছে। এখানে ভালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের কি ধরণের সমস্যা আছে এবং মনোযোগের সঙ্গে খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে কি উন্নতি হতে পারে’।

খেয়াল করে দেখবেন, বেশিরভাগ সময় আমরা কি খাবার খাচ্ছি ও কতটুকু পরিমাণ খাবার খাচ্ছি তার দিকে একেবারেই নজর দেই না। এক হাতে মোবাইল ও অন্য হাতে খাবার নিয়ে খাবার গ্রহণের অভ্যাসে মনোযোগ কোনভাবেই খাবার খাওয়ার দিকে থাকছে না। এতে করে প্রয়োজনের চাইতে অনেক বেশি খাবার খাওয়া হয়ে যাচ্ছে। ওজনও বেড়ে যাচ্ছে অনেক।

অন্যান্য ভালো অভ্যাসের সঙ্গে তাই খাবার খাওয়ার প্রতি মনোযোগের অভ্যাসটিও গড়ে তুলতে হবে বাড়তি ওজনকে দ্রুততার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইলে।

আরও পড়ুন: ওজন কমবে ডায়েট ছাড়াই!

আরও পড়ুন: বিরত থাকুন চিনি গ্রহণ থেকে

আপনার মতামত লিখুন :

দইয়ের ড্রেসিংয়ে সবজি ও কুইনোর সালাদ

দইয়ের ড্রেসিংয়ে সবজি ও কুইনোর সালাদ
সবজি ও কুইনোর সালাদ, ছবি: সংগৃহীত

গরমে খাবারে ভীষণ অরুচি দেখা দেয়।

পেটে ক্ষুধাভাব থাকলেও কিছু খেতে ইচ্ছা হয় না। প্রিয় মাছ-মাংসও খেতে রুচি হয় না একদম। গরমে উদর পূর্তিতে সবজি ও ফলের মিশেলে সালাদ হলে সবচেয়ে ভালো হয়। সাথে যদি থাকে কুইনো ও টকদই এর উপস্থিতি, তবে তো কথাই নেই।

গরমে রাতের খাবার হিসেবে পারফেক্ট এই সালাদটি স্বাস্থ্য সচেতনেরাও খেতে পারবেন পেট ভরে। স্বাদু ও স্বাস্থ্যকর সালাদের রেসিপিটিতে চোখ বুলিয়ে নিন।

সবজি ও কুইনোর সালাদ তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561368811677.JPG

১. তিনটি ছোট আকৃতির বিট।

২. পাঁচটি ছোট-মাঝারি আকৃতির গাজর।

৩. তিন চা চামচ তেল।

৪. ১/২ কাপ কুইনো।

৫. এক কাপ চিকেন ব্রথ (না থাকলে পানি)

৬. চারটি টমেটো টুকরো করে কাটা।

৭. ১২টি আঙ্গুর।

৮. ১/৪ কাপ আখরোট।

৯. এক চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া।

১০. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

১১. ১/২ চা চামচ লবণ।

১২. কয়েক টুকরো পনির।

সালাদ ড্রেসিংয়ের জন্য যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561368831052.JPG

১. ১/২ কাপ টকদই।

২. দুই টেবিল চামচ অলিভ ওয়েল।

৩. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

৪. আধা চা চামচ লবণ।

৫. ১/৪ কাপ ফ্রেশ ধনিয়া পাতা কুঁচি।

সবজি ও কুইনোর সালাদ যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561368844826.JPG

১. ওভেন ৪০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রায় প্রি-হিট করতে দিয়ে বিটগুলো অলিভ অয়েলে মাখিয়ে ফয়েল পেপারে মুড়িয়ে ৪০ মিনিট চুলায় পুড়িয়ে নিতে হবে। পোড়ানো শেষে ওভেন থেকে বের করে ঠাণ্ডা করতে হবে এবং চার টুকরা করে বিটগুলো কেটে নিতে হবে।

২. গাজর ছোট টুকরো করে কেটে বেকিং শিটের উপরে বিটের সাথে ছড়িয়ে রাখতে হবে এবং তার উপরে দুই চা চামচ তেল, মশলার গুঁড়া ও লবণ ছিটিয়ে দিতে হবে। এবারে বিট ও গাজর প্রি-হিটেড ওভেনে ২৫ মিনিট বেক করে নিতে হবে।

৩. এর মাঝে কুইনো রেঁধে নিতে হবে। প্রথমে কুইনো ভালোভাবে পানিতে ধুয়ে, পানি ঝরিয়ে পরিমাণমতো ব্রথের পানি দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। ব্রথে লবণ থাকলে আর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। না থাকলে আধা চা চামচ দিতে হবে। কুইনো হয়ে গেলে নামিয়ে নিতে হবে।

৪. এখন সালাদ ড্রেসিং তৈরি করতে হবে। ড্রেসিং তৈরির জন্য একটি পাত্রে দই, তেল, ধনিয়া পাতা, জিরা গুঁড়া ও লবণ একসাথে নিয়ে ভালভাবে হুইস্ক করতে হবে। সকল উপাদান মিশে ঘন পেস্ট তৈরি হলেই সালাদ ড্রেসিং তৈরি হয়ে যাবে।

৫. সবজিগুলো বেক করা হয়ে গেলে ওভেন থেকে বের করে নিতে হবে। এবারে সালাদ পরিবেশনের বড় প্লেট বা ট্রের উপরে প্রথমে কুইনোর স্তর দিতে হবে। তার উপরে রোস্টেড বিট, গাজর ও গাজর, টমেটো টুকরা। তার উপরে পনির ও ড্রেসিং দিয়ে সবশেষে আখরোট ছড়িয়ে পরিবেশন করতে হবে একেবারেই হালকা ধাঁচের এই সালাদটি।

আরও পড়ুন: ঘরে তৈরি সবজি সিঙ্গারা

আরও পড়ুন: মটরশুঁটিতে তৈরি ভিন্নমাত্রার মটর-পরোটা

শিশুদের আত্মার খোরাকে সাহিত্য, শিল্পকর্ম ও সংগীত!

শিশুদের আত্মার খোরাকে সাহিত্য, শিল্পকর্ম ও সংগীত!
গল্পের বইয়ের কল্পিত রাজ্যে শিশুরা খুঁজে পাবে অনাবিল আনন্দ, ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে শিশুদের স্কুল ব্যাগের ওজন বাড়তে থাকে পাল্লা দিয়ে।

পাঠ্যবইয়ের ভিড়ে, পড়ালেখার চাপে নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয় হয় একদম ছেলেবেলা থেকেই। স্কুল, কোচিং, হোম টিউটর, হোমওয়ার্ক, পড়ালেখার ব্যস্ততার ভিড়ে নিজের জন্য শিশুদের আলাদা সময় কই!

এভাবেই বেড়ে উঠছে এখনকার সময়ের বেশিরভাগ শিশুরা। গল্প ও কবিতার বই পড়া, গান শোনা, সাহিত্য সম্পর্কে জানা, চিত্রকর্মের সাথে পরিচিত হওয়ার সময় নেই একদম। সময় স্বল্পতা ও সন্তানদের পড়ালেখার বাড়তি চাপের দরুন অভিভাবকেরাও যেন নিরুপায়। পড়ালেখার পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ের সাথে তাদের পরিচিতি ঘটানোর বিষয়গুলোতে হয়তো তারাও তাই গুরুত্ব দিতে পারেন না।

অথচ একটি শিশুর পরিপূর্ণভাবে বেড়ে উঠতে বিশুদ্ধ বাতাস, স্বাস্থ্যকর খাবার ও খেলাধুলা যতখানি প্রয়োজন, ঠিক ততখানি প্রয়োজন গল্প ও কবিতার বই, গান, সাহিত্য ও শিল্পকর্ম। এই বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে অস্ট্রিড লিন্ডগ্রেন মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত ইংলিশ উপন্যাসিক স্যার ফিলিপ পালম্যান জানিয়েছেন, শিশুদের বিকাশের জন্য এই বিষয়গুলোও সমানভাবেই প্রভাব রাখে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561357170717.jpg

খুব সহজ ও চমৎকার উদাহরণের সাহায্যে তিনি এই বিষয়টি বোঝাতে চেষ্টা করেছেন। পালম্যান বলছেন, ‘আপনি যদি আপনার সন্তানকে খাবার ঠিকমতো না দেন, তবে তার প্রভাব খুব দ্রুত দেখা দেবে। যা হবে দৃশ্যমান। এদিকে আপনি যদি তাকে বিশুদ্ধ বাতাস ও উন্মুক্ত স্থানে খেলতে না দেন, তার ক্ষতিটাও হবে দৃশ্যমান। তবে সেটা চট করে ধরা যাবে না। ঠিক একইভাবে শিশুদের যদি ভালোবাসা ও স্নেহ না দেওয়া হয়, তার প্রভাব কয়েক বছরের মধ্যে দেখা না দিলেও, একটা সময়ে ঠিকই দেখা দেবে। যা একেবারে স্থায়ী।’

‘কিন্তু শিশুদের যদি সংগীত, সাহিত্য, শিল্পকর্মের সাথে পরিচিত না করানো হয়, তার ক্ষতিটা সহজে বোঝা যাবে না। কিন্তু খুব গভীরে সে ক্ষতিটা রয়ে যাবে। এই সকল বিষয়ের সাথে পরিচিত না হওয়া শিশুরাও সুস্থ শরীরে বেড়ে উঠবে, ঘুমাবে, দৌড়ঝাঁপ করবে, দুষ্টামি করবে আর দশটি সাধারণ শিশুর মতোই। কিন্তু খুব গভীরে সেই শিশুটির মাঝে কিছু একটার অভাব থেকেই যাবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561357191115.jpg

এই কিছু একটার অভাব হলো নিজ সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কের অভাব, তার সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠার অভাব, তাকে আপন করে নেওয়ার জন্য ভালোবাসার অভাব।

নিজ সংস্কৃতির চাইতে ভালোবাসার ও প্রিয় আর কিছু হতেই পারে না। সেই সংস্কৃতির সাথে ছেলেবেলা থেকে পরিচিতি না ঘটলে তার অভাবতি সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়।

বড় হওয়ার পর বা প্রাপ্তবয়স্ক হলে সংস্কৃতির নানান শাখার সাথে নিজ থেকে পরিচিতি ঘটবে। কিন্তু হুট করে এমন বিস্তৃত একটি বিষয়ের সাথে পরিচিত হওয়া ও ছোট থেকে সেটা জেনে ও বুঝে বড় হওয়ার মাঝে তফাৎ থেকেই যায়।

সংগীত, সাহিত্য, শিল্পকর্ম শুধুই সংস্কৃতির সাথে পরিচয় ঘটায় না, আত্মাকেও শুদ্ধ করে, আত্মার খোরাক যোগায়।

প্রতিটি বাবা-মা চান তার সন্তানকে পরিপূর্ণভাবে বড় করে তুলতে, জ্ঞানে ও বিদ্যায়। সেক্ষেত্রে শুধু পাঠ্যবইয়ের মাঝে শিশুদের আবদ্ধ না রেখে তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে বর্ণীল এই জগতের। যেখানে ভালোলাগা ও জ্ঞানের চর্চা থাকে সমান্তরালে।

আরও পড়ুন: শিশুদের জন্য খেলাধুলা কেন প্রয়োজন?

আরও পড়ুন: বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়াতে পারে সন্তানের ওজন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র