Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

স্মৃতিশক্তি থাকবে অক্ষুণ্ণ!

স্মৃতিশক্তি থাকবে অক্ষুণ্ণ!
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সচেতন হওয়া প্রয়োজন প্রতিদিনের জীবনযাপনের ধরনে।

মনোযোগ বৃদ্ধি, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও প্রতিদিনের প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে চাইলে বিজ্ঞানসম্মত কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। জেনে অবাক হবেন, বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে মস্তিকের সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য তৈরি ওষুধের মতোই সমপরিমাণ ফলাফল দেখা দিবে নিত্যদিনের এই নিয়মগুলো মেনে চলতে পারলে।

স্মৃতিশক্তিজনিত সমস্যা কমাতে ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে যে কাজগুলো, সেগুলো আজকের ফিচারে তুলে ধরা হলো।

কার্ডিওভাস্কুলার এক্সারসাইজের আগে অথবা পরে শিখতে হবে

নিয়মতি কার্ডিওভাস্কুলার এক্সারসাইজের ফলে আলঝেইমার দেখা দেওয়ার সম্ভবনা একেবারেই কমে যায়। এটা অন্যতম একটি উপকারিতা হলেও, স্মৃতিশক্তিকে মজবুত রাখার ক্ষেত্রেও কার্ডিওভাস্কুলার এক্সারসাইজ দারুণ সাহায্য করে। বেশ কয়েকটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে, কার্ডিওভাস্কুলার এক্সারসাইজ শেষ করার পরপরই কোন নতুন তথ্য জানলে সেটা অনেক লম্বা সময় পর্যন্ত মনে থাকে। যেখানে কার্ডিওভাস্কুলার এক্সারসাইজের ঘন্টাখানেক পর মনে রাখার এই কার্যকারিতা কমে যায় বেশ অনেকটাই।

কমিয়ে ফেলতে হবে মিডিয়া মাল্টিটাস্কিং

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547454021391.jpg

সাম্প্রতিক সময়ের বেশ কয়েকটি গবেষণার ফলাফল থেকে দেখা গেছে, যারা মিডিয়া-মাল্টিটাস্কার তথা খুব অল্প সময়ের মাঝে কয়েকটি মিডিয়া সোর্সের মাঝে ঘোরাঘুরি করে, তাদের মনোযোগ দুর্বল হয়ে যায় এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। এই মিডিয়ার ক্ষেত্রগুলো হলো টেলিভিশন, মোবাইল ফোন, রেডিও, কম্পিউটার, গেমস প্রভৃতি। মিডিয়ার এই মাধ্যমগুলো শুধু স্মৃতিশক্তি নয়, চোখের স্বাস্থ্যের উপরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দেয়। তাই প্রতিদিনের মাল্টিমিডিয়া টাস্কিং এর মাত্রা কমিয়ে আনতে হবে।

ঘুমাতে হবে নিয়মিত

পরিমিত ঘুম শুধুই আলঝেইমারের ক্ষেত্রে উপকারি নয়, স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রেও অবদান রয়েছে তার। গবেষকেরা খুব দারুণ একটি তথ্য জানিয়েছে। জাগ্রত অবস্থার চাইতে ঘুমন্ত অবস্থায় স্মৃতিগুলো গোছান ও একত্রীত হয় তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো।

ঘুমের বেশ কয়েকটি পর্যায়ের মাঝে দীর্ঘদিনের পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে যায়। এছাড়া সদ্য কোন ঘটনার স্মৃতি কিংবা নতুন শেখা কোন তথ্য ভালোভাবে সঞ্চিত ও সংরক্ষিত হবার ক্ষেত্রেও ঘুমের শর্ট-ওয়েভ কাজ করে। এক্ষেত্রে ঘুমের ভেতর দ্রুত চোখের সঞ্চালন তথা র‍্যাপিড-আই-মুভমেন্ট (REM) স্মৃতিকে গোছাতে সাহায্য করে।

শিখতে হবে পুরনো তথ্য সম্পর্কিত নতুন তথ্য

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547448430273.jpg

একই বিষয় ও টপিকের সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন তথ্য শেখার প্রতি সচেষ্ট হতে হবে। কোন পুরনো বিষয়ের সঙ্গে মিল রেখে ও সেই সম্পর্কিত নতুন তথ্য শেখার ক্ষেত্রে নতুন তথ্য মনে রাখার ক্ষেত্রে পুরনো তথ্যও মনে পড়ে যায় এবং উভয় তথ্যই খুব ভালোভাবে মনে থাকে। এটা সামান্য কোন নাম কিংবা কোন একটা ঘটনাও হতে পারে।

কমাতে হবে মানসিক চাপ

এক্ষেত্রে দ্বিতীয় কোন উপায় নেই একেবারেই। যেকোন ভাবেই হোক মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলতে হবে এবং দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে দিতে হবে। মানসিক চাপের ফলে শরীর অতিরিক্ত মাত্রায় কর্টিসল হরমোন নিঃসৃত করে। এই হরমোন সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে স্মৃতিশক্তির উপর। ফলে প্রতিদিনের ছোটখাটো কাজের তথ্য, কয়েকদিন আগের তথ্য, পুরনো ও প্রয়োজনীয় কোন স্মৃতি মুছে যায় স্মৃতির ভান্ডার থেকে। বৃদ্ধি পায় আলঝেইমার দেখা দেওয়ার সম্ভবনা।

আরও পড়ুন: আপনি কি ‘স্যাড’ সমস্যায় আক্রান্ত?

আরও পড়ুন: মানসিক চাপে সংকুচিত হয় নারীদের মগজ!

আপনার মতামত লিখুন :

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান
নান, ছবি: সংগৃহীত

সকাল কিংবা বিকালের নাশতায় যারা নিয়মিত রুটি ও পরোটা খান, একটা সময় পরে তাদের রুটিতে অভক্তি দেখা দেয়।

এ সময়ে রুটির বদলে গরম নান খেতে মনে চায়। ফোলা ও গরম নানের সাথে সবজি কিংবা মাংসের ঝোল যেন অমৃতসম।

এই নান কেনার জন্য এলাকার রেস্টুরেন্টে দৌড়ঝাঁপ না করে ঘরে বসে চুলাতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার গরমাগরম নান। দেখে নিন নান তৈরির রেসিপিটি।

নান তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623276721.JPG

১. ১/৪ কাপ দই।

২. এক চা চামচ চিনি।

৩. এক চা চামচ বেকিং পাউডার।

৪. এক চিমটি বেকিং সোডা।

৫. দুই কাপ ময়দা।

৬. এক চা চামচ লবণ।

৭. দুই টেবিল চামচ তেল।

৮. ১/৪-১/৩ কাপ পানি।

৯. এক টেবিল চামচ কালোজিরা।

১০. ঘি অথবা মাখন।

নান যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623263865.JPG

১. একটি পাত্রে দই, এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ বেকিং পাউডার ও এক চিমটি বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশাতে হবে।

২. এতে দুই কাপ ময়দা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রণের মাঝখানে দুই টেবিল চামচ তেল অ ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ময়দার কাই তৈরি করতে হবে। ময়দার কাই শক্ত হলে পানি ও নরম হলে ময়দা মেশাতে হবে।

৩. ময়দার কাইটি মসৃণ হয়ে আসলে তার উপরে তেল মাখিয়ে পাত্রের মাঝখানে রেখে তার উপরে ভেজা অ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দুই ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৪. দুই ঘণ্টা পর ময়দার কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে। বেলার সময় তার উপরে কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং রুটির মতো গোলাকৃতির না করে লম্বাটে করে নিতে হবে। চাইলে হাত দিয়ে টেনে লম্বাটে করে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623299530.JPG

৫. এবারে চুলায় তাওয়া গরম করে নান দিয়ে দিতে হবে। একপাশ কিছুটা ভাজা হলে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেবে। এমন হলে নান উল্টে দিয়ে অপর পাশ ভাজতে হবে। এ পাশেও ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দিলে আবারো উল্টে দিতে হবে।

তাওয়া থেকে নামানোর আগে নানের উপরে ঘি অ ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: ঘিয়ে তৈরি মুচমুচে নিমকি

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!
কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিটি কর্মজীবীকে দিনের সিংহভাগ সময় কাটাতে হয় নিজ কর্মক্ষেত্রে।

কাজের চাপ, ব্যস্ততা, ডেডলাইন, মিটিংসহ সবকিছুর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে ক্লান্তি দেখা দেয় একটা সময়। সময়মতো বিশ্রাম নিলে এই ক্লান্তিভাব খুব দ্রুত কেটেও যায়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়।

কর্মোদ্যম ফুরিয়ে গেলে শারীরিক ক্লান্তির সাথে মানসিক ক্লান্তি প্রভাব বিস্তার করে। কাজ, ব্যস্ততা, ছুটে চলা- সবকিছুকেই অর্থহীন বোধ হতে থাকে। অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয় জীবনে চলার পথে। এমন অবস্থা চলতে একটা সময় জীবনের উপরে বিরক্তিবোধ কাজ করা শুরু করে।

কর্মোদ্যম হারিয়ে যাওয়া বা দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বেশ কয়েকটি কারণে দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রফেশনাল প্রেসক্রিপশন ফর লাইফের কোচ সুসান বিয়ালি হাস এমডি। বিগত কয়েক বছর ধরে এ বিষয়ে কাজ করে এবং বহু মানুষকে কাউন্সেলিং করে তিনি বুঝতে পেরেছেন কর্মক্ষেত্রে কর্মোদ্যমতা হারানো শুরু হয় খুব ছোট কিছু থেকেই।

নির্দিষ্ট কোন একটি কারণ

ভিন্ন ভিন্ন কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চাপ থাকে, কাজের ধরণ থাকে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। কোচ সুসান জানাচ্ছেন মূলত ছয়টি কারণ কাজ করে এক্ষেত্রে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, নিয়ন্ত্রণের অভাব, অপর্যাপ্ত উপহার, কর্মক্ষেত্রে কমিউনিটি সংক্রান্ত সমস্যা, অন্যায্য/ অনৈতিক চর্চা, নৈতিকতার অমিল। এ বিষয়গুলো খুব ধীরে ধীরে কাজের উপর অনাগ্রহ তৈরি করে এবং কর্মোদ্যমতা নষ্ট করে দেয়।

আপনিও কর্মোদ্যম হারিয়ে ফেলেন তবে চেষ্টা করুন কারণটি খুঁজে বের করার। কোন কারণে এমনটা হচ্ছে সেটা শনাক্ত করতে পারলে সেটা সমাধানে কাজ করতে পারবেন।

অন্যের কাজ করা

স্বাভাবিকভাবেই অফিসে নিজের কাজের চাপ থাকে অনেক বেশি। সেখানে অন্যের কাজের বোঝাও যদি মাথায় এসে ভর করে তবে সেটা শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি করে অনেক বেশি। আপনিও যদি এমনটা করে থাকেন তবে এই অভ্যাসটি খুব দ্রুত পরিহার করতে হবে।

ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মাঝে দেয়াল না থাকা

অফিসের কাজ বাসাতে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোন বিশ্রাম হয় না। মাথার ভেতর সর্বদা কাজের বিষয়গুলো ঘুরঘুর করতে থাকে, যার ফলে প্রচণ্ড মানসিক অশান্তি ও অস্থিরতা দেখা দেয়।

সেক্ষেত্রে কোচ সুসান পরামর্শ দেন- যতই কাজের চাপ থাকুক না কেন বা কাজ শেষ করার তাড়া থাকুক না কেন, কোনভাবেই অফিসের কাজ বাসাতে আনা যাবে না। বাসায় বসেও অফিসের কাজ করা ও অফিসে থাকার মাঝে আদতে কোন পার্থক্য থাকে না। এতে করে পরদিন পুনরায় অফিসে গেলেও বিন্দুমাত্র কর্মোদ্যমতা পাওয়া যায় না।

নিজের যত্ন না নেওয়া

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য চব্বিশ ঘণ্টার মাঝে অন্ততপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম বাধ্যতামূলক। এর কম হলে শরীর ও মন জুড়ে অপরিসীম ক্লান্তি ভর করে। এছাড়া নিজের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি হেলাফেলা করা হয়, তার প্রভাব সরাসরি দেখা দেয় কাজের উপর। সারাদিন অফিসে ডেস্কে বসে থেকেও মাথা কাজ করবে না, কাজে মন বসবে না। সেক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, নিজের অযত্নও কর্মোদ্যম ফুরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

আরও পড়ুন: কর্মক্ষেত্রে দূরে থাকুক আত্ম-সন্দেহ

আরও পড়ুন: সমস্যাটি যখন কর্মক্ষেত্রে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র