Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

খাদ্যাভাসের যে পাঁচ বদভ্যাসে কমছে না ওজন

খাদ্যাভাসের যে পাঁচ বদভ্যাসে কমছে না ওজন
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

বাড়তি ওজন কমানোর জন্য প্রয়োজন হয় বাড়তি সচেতনতা ও ইচ্ছাশক্তি।

খাওয়াদাওয়া একেবারে বন্ধ করে দেওয়া কখনোই ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কোন সমাধান নয়। বরং এতে শরীরের ক্ষতি হয় অনেক বেশি। যে কারণে ওজনকে নিয়ন্ত্রণের মাপকাঠির মাঝে রাখতে সঠিক নিয়ম মেনে চলার দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। সঙ্গে গড়ে তুলতে হবে সঠিক খাদ্যাভাস।

ওজন কমানোর সঙ্গে খাদ্যাভাসের গভীর যোগসূত্রতা থাকার ফলে অন্যান্য নিয়ম মেনে যথেচ্ছা খাদ্যাভাস বজায় রাখলে কোন ফলই পাওয়া যাবে না। বরং কিছুক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার পরেও খাদ্যাভাসের অনিয়মে ওজন বেড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। জেনে রাখুন খাদ্যাভাসের কোন পাঁচটি বদভ্যাসে আপনার ওজন কমছে না।

পছন্দের খাবার সর্বত্র

রান্নাঘর থেকে শুরু করে ডাইনিং টেবিল, রেফ্রিজারেটর, এমনকি শোবার ঘরের ক্লজেটেও পছন্দের খাবার রাখা থাকলে সেটা খেতে ইচ্ছা হবেই। স্বাভাবিকভাবে পছন্দের খাবারগুলো খুব একটা স্বাস্থ্যকর কোন খাবার হবে না। এক-দুইদিন এই ইচ্ছাকে ধামাচাপা দিয়ে রাখা সম্ভব হলেও, একটা সময় পর ঠিকই কোন না কোন খাবার খাওয়া হয়ে যায়। এইভাবেই সময়ে-অসময়ে বিভিন্ন ধরণের ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে ওজনটাও নাগালের বাইরে।

সকালের নাস্তা না করা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/07/1546858295413.jpeg

ওজন কমাতে গিয়ে যদি সকালে নাস্তা খাওয়া বাদ দিয়ে দেন তবে সবচেয়ে বড় ভুল করবেন। বরং সকালে ভরপেট নাস্তা খাওয়া ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে বলে জানাচ্ছে গবেষক ও নিউট্রিশনিস্টরা। চেষ্টা করতে হবে সকালের নাস্তায় আঁশ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন- এ ও সি, রিবোফ্লাভিন, জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার জন্য। নিয়ম হলো সকালে সবচেয়ে বেশি খাবার খাওয়া। এতে করে শরীর সারাদিনের জন্য তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেয়ে যায় এবং ঘনঘন ক্ষুধাভাব দেখা দেয় না।

খাওয়ার সময় অন্য কাজ করা

খাবার খাওয়ার সময় অন্য যেকোন কাজে মনোযোগ সেই কাজের দিকেই চলে যায়। অফিসের ফাইল দেখা, মোবাইল সার্ফ করা, মুভি দেখা কিংবা বই পড়ার সময় মনোযোগ সম্পূর্ণভাবে ডাইভার্ট হয়ে যায়। ফলে কি খাবার খাওয়া হচ্ছে কতটুকু পরিমাণে, সেটা একেবারেই খেয়াল করা হয় না। এতে করে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়ে যায়। বাড়তি এই ক্যালোরি শরীরে জমে থাকে বলে ওজনটাও বেড়ে যায় অনেক।

প্যাকেটজাত খাবার খাওয়া

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/07/1546858385179.jpg

আপনার যদি প্যাকেটজাত খাবার বেশি খাওয়া হয়ে থাকে তবে ওজনকে কখনোই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে না। প্যাকেটজাত খাবার মানেই হলো বাড়তি ক্যালোরি। চিপস, বিস্কুট, ওয়েফার, ক্যান্ডি, চানাচুর, কেক প্রভৃতি খাবারে পুষ্টিগুণ থাকে না মোটেও। ফলে এই সকল খাবার থেকে নিজেকে যথাসম্ভব দূরে রাখার চেষ্টা করতে হবে সবসময়।

দৌড়ের উপর খাওয়া

কাজের ব্যস্ততায় হয়তো খাবার খাওয়ার কথা মনে নেই একেবারেই। তাই অফিসে যাওয়ার পথেই কিনে নিলেন শর্মা বা স্যান্ডউইচ, সাথে অরেঞ্জ জ্যুস। আপাতদৃষ্টিতে এইসকল খাবার নিরীহ মনে হলেও, ওজন বৃদ্ধির জন্য এই খাবারগুলোই দায়ী। ব্যস্ততার মাঝে সহজ কোন খাবার খাওয়ার জন্য যে সকল খাবার বেছে নেওয়া হয় তার প্রায় সবগুলোই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

আরও পড়ুন: আয়ু কেড়ে নিচ্ছে এই খাবারগুলো

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস কঠিন কিছু নয়!

আপনার মতামত লিখুন :

কোন জিনিস কতদিন পর পরিষ্কার করতে হবে?

কোন জিনিস কতদিন পর পরিষ্কার করতে হবে?
ছবি: সংগৃহীত

নিজের আশেপাশের সবকিছু তথা ঘর ও ঘরের জিনিসপত্র যতবেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে, নিজেকে ও পরিবারের সবাইকে ততবেশি সুস্থ রাখা সম্ভব হবে। শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রফুল্লতার সাথে সাথে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সংযোগটা বহু পুরনো। এ কারণে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে ছাড় দেওয়ার উপায় নেই।

পরিধেয় পোশাক কিংবা অপরিষ্কার থালাবাসন যে প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হয়, সেটা নতুন করে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ঘরে থাকা আয়না কতদিন পর পরিষ্কার করা প্রয়োজন সেটা অনেকেই বুঝতে পারেন না। তবে বাসার অবস্থান ও এলাকাভেদে জিনিসপত্রে ধুলাময়লা জমার ক্ষেত্রে রকমফের দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে কোন আসবাবে ধুলা জমে থাকতে দেখলে দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

প্রতি সপ্তাহে, প্রতি মাসে কিংবা ৩-৫ মাস অন্তর কোন জিনিসগুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখা বেশ অনেকটা সহজ হয়। যে কারণে আজকের ফিচারে খুব গুছিয়ে তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা থেকে জানা যাবে কতদিন পর কোন জিনিসটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

প্রতিদিন যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123957938.jpg

১. বিছানা গুছিয়ে ঝাড়তে হবে।

২. নোংরা ও এঁটো থালাবাসন জমিয়ে রাখা যাবে না। প্রতিদিনেরটা প্রতিদিন ধুয়ে ফেলতে হবে।

৩. খাবার টেবিল গুছিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

৪. বাথরুমের মেঝে ঝাঁট দিতে হবে।

৫. রান্নাঘরের থাক ও মেঝে মুছতে হবে।

৬. রান্নাঘরের সিংক পরিষ্কার করতে হবে।

৭ নোংরা পোশাক ধুতে হবে।

৮. ঘর ও বারান্দার মেঝে ঝাড়ু দিতে হবে। মুছতে পারলে সবচেয়ে ভালো।

প্রতি সপ্তাহে যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123762608.jpg

১. বিছানা ও বালিশের কভার বদলাতে হবে।

২. রান্নাঘর ও রেফ্রিজারেটরে থাকা পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ফেলে দিতে হবে।

৩. ঘরের সকল আসবাবের আয়না মুছতে হবে।

৪. বুকশেফলে থাকা বইপত্র থেকে ধুলা ঝাড়তে হবে।

৫. শোকেসের জিনিসপত্র পরিষ্কার করতে হবে।

৬. আসবাবপত্র থেকে ধুলাবালি সরাতে হালকা ভেজা কাপড়ের সাহায্যে মুছতে হবে।

৭. মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ভেতরের ও বাইরের অংশ পরিষ্কার করতে হবে।

৮. গোসল করার লোফাহ বা স্পন্স পরিষ্কার করতে হবে।

প্রতি মাসে যা পরিষ্কার করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566123841141.jpg

১. ঘরের কোন ও ছাদের অংশের ধুলাময়লা ঝাড়তে হবে।

২. লাইট ও বাল্বে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে হবে।

৩ সোফার কভার ও দরজা, জানালার পর্দা পরিষ্কার করতে হবে।

৪. ডিশওয়াশার ও ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করতে হবে।

৫. ফ্রিজের ভেতর ও বাইরের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

৬. টিভি থেকে ধুলাবালি সরাতে পরিষ্কার করতে হবে।

৭. দেয়াল ঘড়ি, ওয়ালম্যাট, বড় ছবির ফ্রেম নামিয়ে মুছে নিতে হবে।

৮. নিত্য ব্যবহারের ব্যাকপ্যাক ধুয়ে নিতে হবে।

৩-৫ মাস পরপর যা পরিষ্কার করতে হবে

১. আসবাবপত্রের নিচের অংশ থেকে ধুলাময়লা বের করতে হবে।

২. কার্পেট পরিষ্কার করতে হবে।

আরও পড়ুন: রোদ কিংবা বৃষ্টি, ছাতা হোক সঙ্গী

আরও পড়ুন: প্রয়োজন কিংবা ফ্যাশনে চাই রোদচশমা!

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সুরক্ষিত ত্বক
টি ট্রি অয়েল

বিভিন্ন ধরনের এসেনশিয়াল অয়েলের মাঝে টি ট্রি অয়েল সবচেয়ে পরিচিত ও প্রচলিত একটি।

এই এসেনশিয়াল অয়েলের অসংখ্য উপকারিতার মাঝে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। শুধু ত্বক নয়, চুলের যত্নেও সমানভাবে ব্যবহৃত হয় টি ট্রি অয়েল। এছাড়াও ডিওডরেন্ট, পোকামাকড় দূর করতে ও মাউথওয়াশ হিসেবেও কার্যকর এই এসেনশিয়াল অয়েল।

টি ট্রি অয়েল ব্যবহার বিধি

টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব কঠিন কোন বিধিনিষেধ নেই। তবে মনে রাখতে হবে, ত্বকে বা চুলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরাসরি এই তেল ব্যবহার করা যাবে না। ক্যারিয়ার তেল তথা নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে তবেই ব্যবহার করতে হবে এই এসেনশিয়াল অয়েল।

অনেকেই টি ট্রি অয়েল পরিমাণে অনেক বেশি নিয়ে ফেলে। এক্ষেত্রে ১-৩ ফোঁটা ব্যবহার করাই যথেষ্ট। অল্প পরিমাণ এসেনশিয়াল অয়েল থেকেও সম্পূর্ণ উপকারিতা পাওয়া যাবে।

তবে টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে অবশ্য। এই তেল চোখের আশেপাশের অংশ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এতে চোখের আশেপাশের অংশের ত্বকে জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। কারণ মুখমণ্ডলের এ অংশের ত্বক তুলনামূলক বেশি পাতলা হয়ে থাকে।

এছাড়া টি ট্রি অয়েল ব্যবহার পূর্বে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো, এই তেল ব্যবহারে ত্বকে কোন সমস্যা দেখা দেয় কিনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115011865.jpg

টি ট্রি অয়েলের উপকারিতা

এই এসেনশিয়াল অয়েলের বিবিধ উপকারিতার মাঝে মূল ও প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কমায়

যাদের ত্বক খুব শুষ্ক, তাদের জন্য টি ট্রি অয়েল খুব ভালো কাজ করবে। এই তেলটি শুষ্ক ত্বকের জ্বালাপোড়াভাব ও চুলকানির প্রাদুর্ভাব কমায়। বিশেষত এতে থাকা জিংক অক্সাইড শুষ্ক ত্বক ও একজিমার সমস্যা কমাতে কাজ করে।

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক উপাদান তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপকারী। একটি গবেষণা জানাচ্ছে,  সানস্ক্রিনের সাথে টি ট্রি অয়েল মিশ্রিত থাকলে ত্বকের তৈলাক্ততা কমে যায় অনেকখানি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566115031078.jpg

ত্বকের প্রদাহ

উপকারী এই এসেনশিয়াল অয়েলের অ্যান্ট-ইনফ্ল্যামেটরি প্রভাব ত্বকের প্রদাহ, ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার সমস্যাকে কমিয়ে এনে আরাম প্রদান করে। এমনকি ত্বকের কোন অংশ ফুলে গেলে বা ত্বকে লালচে ভাব দেখা দিলে সেটা কমাতেও কাজ করে টি ট্রি অয়েল।

ক্ষত সারাতে টি ট্রি অয়েল

টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ধর্ম ত্বকের কাটাছেঁড়া ও ক্ষত সারাতে খুব চমৎকার কাজ করে। ২০১৩ সালের একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে প্রতি ১০ জনের মাঝে ৯ জনের টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে ক্ষত দ্রুত ও অল্প সময়ের মাঝে ভালো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমবে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারে

আরও পড়ুন: ত্বকের ফাটা দাগ কমাতে ক্যাস্টর অয়েল

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র