Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখবে পাঁচ নিয়ম

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখবে পাঁচ নিয়ম
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

উজ্জ্বল সুস্থ ত্বক কে না পেতে চায়।

কিন্তু চারপাশের পরিবেশের অবস্থা, পরিবেশ দূষণ, আবহাওয়ার পরিবর্তন ও যত্নের অভাবের ফলে ত্বক যেন ক্রমেই বুড়িয়ে যায় এবং ত্বক থেকে হারায় স্বাভাবিক সৌন্দর্য। ত্বকের সহজাত সৌন্দর্যকে অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রয়োজন কয়েকটি নিয়ম যথাসম্ভব ভালোভাবে মেনে চলা। এই নিয়মগুলো শুধু যে ত্বককে সুস্থ রাখবে তাই নয়, ত্বকের অহেতুক বয়স বেড়ে যাওয়াকেও প্রতিরোধ করবে খুব চমৎকারভাবে।

আর্দ্রতা রক্ষা করতে হবে ত্বকের ভেতর ও বাইরে

ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা রক্ষা করতে, টক্সিন উপাদান বের করে দিতে এবং ত্বকে তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। এতে করে ত্বক ভেতর থেকে আর্দ্রতা পাবে। তবে শুধু ভেতরের আর্দ্রতাই ত্বকের জন্য যথেষ্ট নয়। বাইরের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য ত্বককে বাইরে থেকে আর্দ্রতার যোগান দিতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন হবে ভালো মানের সিরাম ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের। যা ত্বককে আর্দ্র রাখার পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের হাত থেকেও রক্ষা করবে।

ভিটামিন-সি থাকতে হবে খাদ্যাভাসে

বেশ অনেকগুলো গবেষণা থেকেই দেখা গেছে, ভিটামিন-সি গ্রহণে ত্বকের তারুণ্য লম্বা সময় পর্যন্ত বজায় থাকে। বিশেষত বয়স বাড়লে ত্বকের বলিরেখা দেখা দেওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে যায় ভিটামিন- সি গ্রহণে। বিভিন্ন ধরণের সাইট্রাস ফল, শাক ও ক্যাপসিকাম ত্বকের জন্য দারুণ উপকারি।

খেতে হবে ‘সরবিটল’ যুক্ত ফল

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/31/1546237137633.jpeg

ত্বকের আর্দ্রতা ধরা রাখার জন্য সরবিটল (Sorbitol) হলো বিশেষ একটি পুষ্টি উপাদান। যা মিষ্টি জাতীয় ফল যেমন আঙ্গুর ও বেরিজে পাওয়া যায়। এই সরবিটল শুধু ত্বকের আর্দ্রতা তৈরি ও ধরে রাখা নয়, ত্বকের স্বাভাবিক রংকে ধরে রাখতেও কাজ করে।

এক্সফলিয়েশন করতে হবে অবশ্যই

ত্বকের সুস্থতায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অবিচ্ছেদ্য এক অংশ। এতে করে ত্বকের উপরিভাগের টক্সিন উপাদান, ময়লা, মরা চামড়া ও জীবাণু দূর হয়। একইসাথে ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা ফিরে পায়। মুখের ত্বকের জন্য ভালো মানের স্ক্রাবার ব্যবহার করতে হবে এবং শরীরের অন্যান্য অংশের জন্য লোফাহ ও পায়ের জন্য পিউমিক স্টোন ব্যবহার করতে হবে।

বাদ দিতে হবে দুগ্ধজাত খাবার

দুগ্ধজাত খাবার যদি আপনার প্রিয় হয় তবে আপনার জন্য দুঃসংবাদ। যেকোন ধরণের দুগ্ধজাত খাবারে থাকে ‘কাও হরমোনস’। যা শরীরের অয়েল গ্ল্যান্ডগুলোকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কার্যকর করে তোলে। অতিরিক্ত তেল নিঃসরণের জন্য মুখের রোমকূপ বাইরের ময়লার সংস্পর্শে এসে বন্ধ হয়ে যায়। যা থেকে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস ও অন্যান্য সমস্যা দেখা দেয়। তাই ধীরে ধীরে দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে আনতে হবে এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য দুধ পান করা প্রয়োজন হলে ফুল-ফ্যাট দুধ পান করা বাদ দিতে হবে।

আরো পড়ুন: ডার্ক সার্কেল তাড়াবে বেসনের ব্যবহার

আরো পড়ুন: মুলতানি মাটির ব্যবহারে সুন্দর-সুস্থ ত্বক

আপনার মতামত লিখুন :

আঙুরের সাতকাহন 

আঙুরের সাতকাহন 
আঙ্গুর ফল

আঙুর ফলের গোড়াপত্তন শুরু হয়েছে হাজার বছর আগে। সুস্বাদু ও সুমিষ্ট এই ফলের বাহারি রঙের মাত্রায় রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। উচ্চ ভিটামিন সমৃদ্ধ  এই ফল আপনার হার্টকে রাখে সুস্থ।

আঙুরের সাত গুণাবলি--

 

গ্যাস্ট্রিকের প্রদাহ থেকে মুক্তি-

দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রিক থেকে শুরু হয় বাতের ব্যথা। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য। রোগের সূত্রপাত হিসেবে ধরা হয় গ্যাস্ট্রিকের প্রদাহকে। দেহের প্রতিরক্ষাকারী কোষগুলোকে নষ্ট করে, ক্যানসার কিংবা হার্টের রোগে ভোগায় এই প্রদাহ। গবেষণা বলছে, আঙুর হতে পারে গ্যাসের ব্যথার স্থায়ী সমাধান।

২৪ জন পুরুষের মধ্যে চালানো একটি জরিপে দেখা যায়, প্রতিদিন ১.৫ কাপ আঙুরের রস অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণে আঙুরের গুঁড়া শরীরের গ্যাসের প্রদাহকে কমিয়ে দেয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452636554.jpg

বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়-

এক গবেষণায় দেখা যায়, তিন মাস ধরে প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম করে আঙুর ফল ১১১ জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে খাওয়ানোর ফলে তাদের স্মৃতি, মনোযোগ এবং  বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটেছে।

এমনকি প্রতিদিন আঙুর ফল আপনার মেজাজকে রাখে নিয়ন্ত্রণে। পাশাপাশি ব্লাড সুগারের মাত্রাকেও পরিমিত পর্যায়ে রাখতে সাহায্য করে।

হাড়ের ক্ষয় রোধ করে:

হাড়ে লবণের মাত্রাকে ঠিক রেখে ক্ষয়রোধ করতে সাহায্য করে আঙুর ফল। হাড়ে প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452652760.jpg

ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া  ধবংসকারী:

দেহের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ইনফেকশন ঘটায়, এমন ভাইরাস ধ্বংস করতে সাহায্য করে আঙুর ফল। প্রতিদিন খেলে ভিটামিন সি-এর অভাব পূরণ হয়। ফলে মৌসুমি ঠাণ্ডা কাশি কিংবা জ্বর আপনাকে কাবু করতে পারবে না। এমনকি আঙুর ডায়রিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা বৃদ্ধি-

ক্যানসার, হৃদরোগ কিংবা ডায়াবেটিসের মতো রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে আঙুর ফল। বেটাকেরোটিন, লুটিন ,এলাজিক এসিড সমৃদ্ধ এই ফল দীর্ঘস্থায়ী রোগকেও প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452669126.jpg

তারুণ্য ধরে রাখে-

আঙুর ফলের পুষ্টিগুণ তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের বলিরেখা দূর করে আঙুর। স্বাস্থ্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ করে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতেও সাহায্য করে।

আঙুরে প্রোটিন সমৃদ্ধ ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার,  এবং অ্যান্টি অক্সিজেন রয়েছে। সুতরাং তুমি তোমার সকাল কিংবা বিকেলের নাস্তায় রাখতে পারো আঙুর ফল। এমনকি গ্রীষ্মের দিনগুলোতে ঠাণ্ডা আঙুর হতে পারে দারুণ একটা নাস্তা।

সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস

সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস
ক্যাকটাস গাছ, ছবি: সংগৃহীত

ঘরের শোভা বর্ধনের জন্য কিংবা ভালোবেসে, শখের বশে গড়ে তোলা হয় ক্যাকটাসের সংগ্রহ।

নানা প্রজাতির, আকৃতির, ঘরানার ক্যাকটাস প্রীতি বেশি দেখা যায় শহুরে এলাকার মানুষদের মাঝে। ঘরের সাথে লাগোয়া বারান্দায় কিংবা প্রশস্ত জানালা ঘেঁসে ছোট-মাঝারি টবে বানান নিজস্ব ক্যাকটাস বাগান।

সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত দেখাশোনা করা হলে প্রতিটি ক্যাকটাসের গাছ খুব ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। ক্ষেত্র বিশেষে ও বিশেষ প্রজাতির ক্যাকটাসের ক্ষেত্রে ক্যাকটাসে বর্ণীল ফুলের দেখাও দেয়।

তবে সমস্যা হলো- ক্যাকটাস কষ্ট সহিষ্ণু উদ্ভিদ হলেও, অসাবধানতার দরুন ক্যাকটাস মরে যায়। প্রিয় জিনিসটি চোখের সাথে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাওয়া খুবই কষ্টের। যত্নে গড়ে তোলা প্রিয় ক্যাকটাসটির পরিচর্যায় ও যত্নে যে বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখা প্রয়োজন, এখানে তার কয়েকটি আলোচনায় রাখা হলো।

দ্রুত পানি দেওয়া

বেখেয়ালে প্রায় সময় ক্যাকটাসে দীর্ঘদিন পানি দেওয়া হয় না। এতে ক্যাকটাস শুকিয়ে যায়, কুঁচকে যায়, মরমর দেখায়। এমনটা হলে যত দ্রুত সম্ভব গাছে পানি দিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে ক্যাকটাসের টবের নিচের অংশের ছিদ্র দিয়ে বাড়তি পানি যেন বেরিয়ে যেতে পারে। একইসাথে ক্যাকটাসটিকে খোলামেলা আলো ও বাতাসযুক্ত স্থানে রাখতে হবে।

নষ্ট হয়ে যাওয়া অংশ কেটে ফেলা

ক্যাকটাসটির কোন অংশ যদি নষ্ট হয়ে যায় বা পচে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয় তবে উক অংশটি সযত্নে কেটে বাদ দিয়ে দিতে হবে। নতুবা উক্ত স্থান থেকে ভালো অংশেও পচন ধরে যাবে। ক্যাকটাসের কোন অংশে যদি ফাংগাসের মতো দেখা দেয়, বাদামী বা কালচে হয়ে আসে তবে বুঝতে হবে উক্ত স্থানে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561448789213.jpg

সরু অংশ রোদে রাখা

ক্যাকটাসের জন্য রোদের আলো অপরিহার্য। ক্যাকটাস যত বাড়তে থাকে, ছড়াতে থাকে তার শাখাপ্রশাখা। অনেক সময় একই টবে ক্যাকটাস অনেক বেশি বড় হয়ে গেলে ক্যাকটাসের ছোট অংশ রোদের আলো ঠিকমতো পায় না। সে অংশগুলোকে রোদের আলো দেওয়ার জন্য বেশি করে রোদের দিকে মুখ করে রাখতে হবে।

মাটি শুষ্ক হলেই পানি

বাড়তি পরিচর্যার ফলে অনেকেই ক্যাকটাসের টবে এক-দুই দিন পরপরেই পানি দিতে থাকেন। এতে করে ক্যাকটাসের গোড়া থেকে পচন ধরে যায়। খেয়াল রাখতে হবে, ক্যাকটাসের টবে মাটি একেবারে শুকিয়ে গেলে তবেই তাতে পানি দিতে হবে। তার আগে নয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561448770099.jpg

বড় টবে স্থানান্তরিত করা

ক্যাকটাস বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ছড়াতে থাকে তার শাখাপ্রশাখা এবং সেই সকল শাখাও বড় হতে থাকে। এভাবে ছোট ক্যাকটাসটিই এক সময় বিশাল আকৃতি ধারণ করে। ক্যাকটাস যত বড় হবে, তার জন্য তত বড় ও প্রশস্ত টবের প্রয়োজন হবে। নতুবা অপর্যাপ্ত স্থানের দরুন ক্যাকটাস ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাবে।

ক্যাকটাসের শরীর পরিষ্কার করা

ক্যাকটাসের শরীর জুড়ে কাঁটা থাকার দরুন এতে খুব সহজেই ধুলা-ময়লা চুল আটকে যায়। ধুলা-ময়লার স্তর পুরু হয়ে গেলে অনেক সময় ক্যাকটাস রোদের আলো শোষণ করে সালোকসংশ্লেষণ করতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই ক্যাকটাসের টবে যেদিন পানি দেওয়া হবে, সেদিন পানির ঝাপটা দিয়ে ক্যাকটাসের পাতা ও শাখাপ্রশাখাগুলো পরিস্কার করে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ঘরে তৈরি সারে সতেজ গাছ

আরও পড়ুন: খোসা ছাড়ানো আলু বাদামি হয়ে যাচ্ছে?

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র