Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

যে খাবারগুলো কোলেস্টেরল বৃদ্ধির জন্য দায়ী

যে খাবারগুলো কোলেস্টেরল বৃদ্ধির জন্য দায়ী
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

মানবদেহের স্বাভাবিক কার্যকলাপ ও শারীরিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজন কোলেস্টেরল।

হরমোন ও ভিটামিন-ডি এর উৎপাদন ও খাদ্য পরিপাকের জন্য কোলেস্টেরল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমনকি শরীরের কোষের জন্য এবং সেল মেমব্রেন্সের শক্তি ও ফ্লেক্সিবিলিটি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হয় কোলেস্টেরলের।

অথচ শরীরের জন্য এতো প্রয়োজনীয় কোলেস্টেরলই একটা সময় শারীরিক অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কোলেস্টেরল হয় দুই প্রকার- খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) ও ভালো কোলেস্টেরল (HDL)। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলেই দেখা দেয় নানান ধরণের শারীরিক সমস্যা ও জটিলতা। অবস্থা গুরুত্বর হয়ে উঠলে দেখা দেয় হৃদরোগের প্রকোপ।

গবেষণা থেকে দেখা গেছে বিশ্বের দুই-তৃতিয়াংশ মানুষ উচ্চ কোলেস্টেরলজনিত সমস্যায় ভুক্তভোগী। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে দেওয়ার মতো কিছু খাদ্য উপাদান সীমিত পরিমাণে খেলে অথবা সেই খাদ্যগুলো এড়িয়ে চললেই, কোলেস্টেরলের বৃদ্ধি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। জেনে রাখুন এমন কয়েকটি খাবারের নাম।

রেড মিট

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/26/1545821688345.jpeg

গরুর মাংস কিংবা খাসির মাংস যাদের ভীষণ প্রিয়, দুঃসংবাদটি তাদের জন্য। এই দুই ধরণের মাংসে থাকে উচ্চমাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাট। যা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) এর মাত্রা অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া প্রসেসড রেড মিট তথা সসেজে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের পাশপাশি উচ্চমাত্রার সোডিয়ামও থাকে। যা রক্তচাপ বৃদ্ধির জন্য দায়ী।

অবশ্যই শরীরের জন্য স্যাচুরেটেড ফ্যাটের প্রয়োজন আছে। তবে এই স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ করতে হবে তৈলাক্ত মাছ ও মুরগীর মাংস থেকে।

মাখন

মাখনে প্রচুর পরিমাণ উচ্চমাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকার ফলে, মাখন গ্রহণের পরবর্তী সময়ে রক্তে কোলেস্টেরলে মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। তাই মাখনের পরিবর্তে আনসল্টেড আমন্ড বাটার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া কোন রান্নায় মাখনের ঘ্রাণ আনতে চাইলে তেল ও মাখন অর্ধেক করে ব্যবহার করতে হবে।

পাস্তা

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/26/1545821486915.jpeg

পাস্তা ভর্তি থাকে খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধির উপাদান। বিশেষ করে চিজি পাস্তা। এতে মাখন, রিফাইন্ড ময়দায় তৈরি পাস্তা নুডলস, চিজ ও চিনি থাকে প্রচুর পরিমাণে। ফলে পাস্তা খাওয়ার ফলে খুব দ্রুত রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। যা স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দেয় সহজেই।

বেকড খাবার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/26/1545821508952.jpg

বিভিন্ন ধরণের কনফেকশনারির মাফিন, কেক, কাপকেক, কুকিজ ও অন্যান্য মিষ্টি খাবার তৈরি করা হয় পর্যাপ্ত মাখন, চিনি ও রিফাইন্ড ময়দা দিয়ে। এই প্রতিটি উপাদানই ভীষণ অস্বাস্থ্যকর ও রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধির জন্য দায়ী। এছাড়া বেশিরভাগ বেকড খাবারে থাকে ট্রান্স ফ্যাট, যা হৃদরোগের সম্ভবনা বাড়িয়ে দেয় অনেক বেশি।

আরো পড়ুন: খাদ্যাভাসে রক্তচাপ থাকবে নিয়ন্ত্রণে

আরো পড়ুন: কেন খাবেন কাঠবাদাম?

 

আপনার মতামত লিখুন :

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান
নান, ছবি: সংগৃহীত

সকাল কিংবা বিকালের নাশতায় যারা নিয়মিত রুটি ও পরোটা খান, একটা সময় পরে তাদের রুটিতে অভক্তি দেখা দেয়।

এ সময়ে রুটির বদলে গরম নান খেতে মনে চায়। ফোলা ও গরম নানের সাথে সবজি কিংবা মাংসের ঝোল যেন অমৃতসম।

এই নান কেনার জন্য এলাকার রেস্টুরেন্টে দৌড়ঝাঁপ না করে ঘরে বসে চুলাতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার গরমাগরম নান। দেখে নিন নান তৈরির রেসিপিটি।

নান তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623276721.JPG

১. ১/৪ কাপ দই।

২. এক চা চামচ চিনি।

৩. এক চা চামচ বেকিং পাউডার।

৪. এক চিমটি বেকিং সোডা।

৫. দুই কাপ ময়দা।

৬. এক চা চামচ লবণ।

৭. দুই টেবিল চামচ তেল।

৮. ১/৪-১/৩ কাপ পানি।

৯. এক টেবিল চামচ কালোজিরা।

১০. ঘি অথবা মাখন।

নান যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623263865.JPG

১. একটি পাত্রে দই, এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ বেকিং পাউডার ও এক চিমটি বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশাতে হবে।

২. এতে দুই কাপ ময়দা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রণের মাঝখানে দুই টেবিল চামচ তেল অ ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ময়দার কাই তৈরি করতে হবে। ময়দার কাই শক্ত হলে পানি ও নরম হলে ময়দা মেশাতে হবে।

৩. ময়দার কাইটি মসৃণ হয়ে আসলে তার উপরে তেল মাখিয়ে পাত্রের মাঝখানে রেখে তার উপরে ভেজা অ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দুই ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৪. দুই ঘণ্টা পর ময়দার কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে। বেলার সময় তার উপরে কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং রুটির মতো গোলাকৃতির না করে লম্বাটে করে নিতে হবে। চাইলে হাত দিয়ে টেনে লম্বাটে করে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623299530.JPG

৫. এবারে চুলায় তাওয়া গরম করে নান দিয়ে দিতে হবে। একপাশ কিছুটা ভাজা হলে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেবে। এমন হলে নান উল্টে দিয়ে অপর পাশ ভাজতে হবে। এ পাশেও ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দিলে আবারো উল্টে দিতে হবে।

তাওয়া থেকে নামানোর আগে নানের উপরে ঘি অ ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: ঘিয়ে তৈরি মুচমুচে নিমকি

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!
কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিটি কর্মজীবীকে দিনের সিংহভাগ সময় কাটাতে হয় নিজ কর্মক্ষেত্রে।

কাজের চাপ, ব্যস্ততা, ডেডলাইন, মিটিংসহ সবকিছুর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে ক্লান্তি দেখা দেয় একটা সময়। সময়মতো বিশ্রাম নিলে এই ক্লান্তিভাব খুব দ্রুত কেটেও যায়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়।

কর্মোদ্যম ফুরিয়ে গেলে শারীরিক ক্লান্তির সাথে মানসিক ক্লান্তি প্রভাব বিস্তার করে। কাজ, ব্যস্ততা, ছুটে চলা- সবকিছুকেই অর্থহীন বোধ হতে থাকে। অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয় জীবনে চলার পথে। এমন অবস্থা চলতে একটা সময় জীবনের উপরে বিরক্তিবোধ কাজ করা শুরু করে।

কর্মোদ্যম হারিয়ে যাওয়া বা দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বেশ কয়েকটি কারণে দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রফেশনাল প্রেসক্রিপশন ফর লাইফের কোচ সুসান বিয়ালি হাস এমডি। বিগত কয়েক বছর ধরে এ বিষয়ে কাজ করে এবং বহু মানুষকে কাউন্সেলিং করে তিনি বুঝতে পেরেছেন কর্মক্ষেত্রে কর্মোদ্যমতা হারানো শুরু হয় খুব ছোট কিছু থেকেই।

নির্দিষ্ট কোন একটি কারণ

ভিন্ন ভিন্ন কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চাপ থাকে, কাজের ধরণ থাকে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। কোচ সুসান জানাচ্ছেন মূলত ছয়টি কারণ কাজ করে এক্ষেত্রে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, নিয়ন্ত্রণের অভাব, অপর্যাপ্ত উপহার, কর্মক্ষেত্রে কমিউনিটি সংক্রান্ত সমস্যা, অন্যায্য/ অনৈতিক চর্চা, নৈতিকতার অমিল। এ বিষয়গুলো খুব ধীরে ধীরে কাজের উপর অনাগ্রহ তৈরি করে এবং কর্মোদ্যমতা নষ্ট করে দেয়।

আপনিও কর্মোদ্যম হারিয়ে ফেলেন তবে চেষ্টা করুন কারণটি খুঁজে বের করার। কোন কারণে এমনটা হচ্ছে সেটা শনাক্ত করতে পারলে সেটা সমাধানে কাজ করতে পারবেন।

অন্যের কাজ করা

স্বাভাবিকভাবেই অফিসে নিজের কাজের চাপ থাকে অনেক বেশি। সেখানে অন্যের কাজের বোঝাও যদি মাথায় এসে ভর করে তবে সেটা শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি করে অনেক বেশি। আপনিও যদি এমনটা করে থাকেন তবে এই অভ্যাসটি খুব দ্রুত পরিহার করতে হবে।

ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মাঝে দেয়াল না থাকা

অফিসের কাজ বাসাতে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোন বিশ্রাম হয় না। মাথার ভেতর সর্বদা কাজের বিষয়গুলো ঘুরঘুর করতে থাকে, যার ফলে প্রচণ্ড মানসিক অশান্তি ও অস্থিরতা দেখা দেয়।

সেক্ষেত্রে কোচ সুসান পরামর্শ দেন- যতই কাজের চাপ থাকুক না কেন বা কাজ শেষ করার তাড়া থাকুক না কেন, কোনভাবেই অফিসের কাজ বাসাতে আনা যাবে না। বাসায় বসেও অফিসের কাজ করা ও অফিসে থাকার মাঝে আদতে কোন পার্থক্য থাকে না। এতে করে পরদিন পুনরায় অফিসে গেলেও বিন্দুমাত্র কর্মোদ্যমতা পাওয়া যায় না।

নিজের যত্ন না নেওয়া

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য চব্বিশ ঘণ্টার মাঝে অন্ততপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম বাধ্যতামূলক। এর কম হলে শরীর ও মন জুড়ে অপরিসীম ক্লান্তি ভর করে। এছাড়া নিজের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি হেলাফেলা করা হয়, তার প্রভাব সরাসরি দেখা দেয় কাজের উপর। সারাদিন অফিসে ডেস্কে বসে থেকেও মাথা কাজ করবে না, কাজে মন বসবে না। সেক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, নিজের অযত্নও কর্মোদ্যম ফুরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

আরও পড়ুন: কর্মক্ষেত্রে দূরে থাকুক আত্ম-সন্দেহ

আরও পড়ুন: সমস্যাটি যখন কর্মক্ষেত্রে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র