Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ব্যস্ততা ও সুস্থতা থাকবে একসাথে!

ব্যস্ততা ও সুস্থতা থাকবে একসাথে!
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

‘ব্যস্ততা আমায় দেয় না অবসর’ এমন অজুহাতে নিজের প্রতি অযত্ন ও অবহেলা করা যাবে না মোটেও।

কাজের ব্যস্ততা থাকবেই। হোক সেটা নিজের বাসায়, ক্লাসে কিংবা অফিসে। কিন্তু তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকেও সুস্থ রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে নিজের শরীরের প্রতি।

ঘন্টাখানেকের জন্য জিমে যাওয়ার কিংবা আয়োজন করে স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরির সময় না থাকলেও নিজেকে কীভাবে ফিট রাখা যাবে জেনে নিন আজকের আলোচনা থেকে।

রান্না করতে হবে ওয়ান-পট মিল

কাজের ব্যস্ততায় রান্না করাটা বেশ ঝামেলাপূর্ণ কাজ। কিন্তু রান্না না করে, বাইরের খাবার খেয়ে খুব বেশিদিন কাটানো সম্ভব নয় নিশ্চয়। তাই রান্না সারতে হবে ওয়ান-পট মিল তৈরির মাধ্যমে। ওয়ান-পট মিলে নানান ধরণের উপাদান একসঙ্গে রান্না করে নেওয়া যায় একটি পাত্রেই। সময় বাঁচাতে ও ঝামেলা কমাতে পাশ্চাত্যে ওয়ান-পট মিল খুবই জনপ্রিয়। আলাদাভাবে সবজি, মাংস ও ডাল রান্নার বদলে এক রান্নাতেই যদি সব সেরে নেওয়া যায় তবে খারাপ কী! এতে করে শরীর সব পুষ্টিগুণ একসাথে পাবে, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া হবে এবং বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রয়োজন দেখা দিবে না।

লিফটকে জানাতে হবে বিদায়

সকাল থেকে সন্ধ্যা, কোন কোনদিন রাত অব্দি অফিসে কাটাতে হয়। যার ফলে শরীরচর্চার জন্য আলাদা সময় তো বটেই, এনার্জিও পাওয়া যায় না। তারপর কিন্তু নিজেকে ফিট রাখা সম্ভব। অফিসের লিফট নয়, ব্যবহার করতে হবে সিঁড়ি। পাঁচ-ছয় তলা পর্যন্ত অবলীলায় সিঁড়ি ব্যবহার করা যায়। ৯-১০ তলা বা তারও বেশি হলে বিরতি দিয়ে দিয়ে উঠতে হবে। সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠার ফলে শরীর প্রতিদিন বাড়তি ক্যালোরি বার্ণ করবে, যা ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

খেতে হবে ভরপেট

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/10/1544425436403.jpeg

পেট ভরে খেলেই যে ওজন বাড়বে এমন ভ্রান্ত ধারণা থেকে বের হয়ে আসা প্রয়োজন। ওটস, লাল আটার রুটি, সবজি, শাক, ফল প্রভৃতি স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে পেট ভরে ফেলতে হবে সকালের নাস্ত কিংবা দুপুরের খাবার সময়। এতে করে ঘনঘন ক্ষুধাভাব দেখা দিবে না। হুটহট ক্ষুধাভাব দেখা দেওয়ার ফলে স্ন্যাক্স জাতীয় অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া হয়। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তো বটেই, ওজনকেও অনেক বাড়িয়ে দেয়।

পর্যাপ্ত পানি পান করতেই হবে

অফিসে, ক্লাসে বা বাসাতে প্রচন্ড কাজের চাপ থাকলেও হাতের কাছে একটি পানির বোতল অবশ্যই রাখতে হবে। সময়ে সময়ে পানি পানের কথা একেবারেই ভোলা যাবে না। পানি পানের মাত্রা কমে গেলে খাবার পরিপাকে সমস্যা দেখা দেয়, মেটাবলিজমের হার কমে যায় এবং শরীরে পানি স্বল্পতার কারণে ক্লান্তিভাব দেখা দেয়। তাই কাজের গতি ও নিজেকে ঠিক রাখার জন্যে পানি পান করতে হবে পর্যাপ্ত।

প্যাকেটজাত খাবারকে ‘না’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/10/1544425523985.jpg

তাড়াহুড়ো করে কোন কিছু খাওয়ার প্রয়োজন দেখা দিলেও প্যাকেটজাত খাবারকে এড়িয়ে যেতে হবে সথাসম্ভব। প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে ক্ষতিকর কার্ব, চিনি, সোডিয়াম, প্রিজার্ভেটিভ ও আর্টিফিসিয়াম ফ্লেভার থাকে অনেক বেশি এবং স্বাস্থ্য উপকারিতা থাকে শূন্য।

ঘুমে নয় অনিয়ম

সকল চেষ্টাই বিফলে যাবে যদি ঘুমের নিয়মে ব্যাঘাত ঘটে। কাজের চাপ, মানসিক ও শারীরিক চাপের সৃষ্টি করে। যে কারণে শরীর ও মনের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। অন্তত আট ঘন্টার ঘুম না হলে ক্লান্তি ও অবসাদভাব শরীর ও মনে থেকে যাবে। যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে অসুস্থতার প্রকোপ দেখা দিতে শুরু করবে। তাই সঠিক খাদ্যাভাসের সঙ্গে ঘুমটাকেও ঠিক রাখতে হবে।

আরো পড়ুন: যেভাবে তাড়াবেন মধ্যরাতের ক্ষুধা

আরো পড়ুন: ১২ কারণে গড়ে তুলুন বই পড়ার অভ্যাস

আপনার মতামত লিখুন :

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান
নান, ছবি: সংগৃহীত

সকাল কিংবা বিকালের নাশতায় যারা নিয়মিত রুটি ও পরোটা খান, একটা সময় পরে তাদের রুটিতে অভক্তি দেখা দেয়।

এ সময়ে রুটির বদলে গরম নান খেতে মনে চায়। ফোলা ও গরম নানের সাথে সবজি কিংবা মাংসের ঝোল যেন অমৃতসম।

এই নান কেনার জন্য এলাকার রেস্টুরেন্টে দৌড়ঝাঁপ না করে ঘরে বসে চুলাতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার গরমাগরম নান। দেখে নিন নান তৈরির রেসিপিটি।

নান তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623276721.JPG

১. ১/৪ কাপ দই।

২. এক চা চামচ চিনি।

৩. এক চা চামচ বেকিং পাউডার।

৪. এক চিমটি বেকিং সোডা।

৫. দুই কাপ ময়দা।

৬. এক চা চামচ লবণ।

৭. দুই টেবিল চামচ তেল।

৮. ১/৪-১/৩ কাপ পানি।

৯. এক টেবিল চামচ কালোজিরা।

১০. ঘি অথবা মাখন।

নান যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623263865.JPG

১. একটি পাত্রে দই, এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ বেকিং পাউডার ও এক চিমটি বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশাতে হবে।

২. এতে দুই কাপ ময়দা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রণের মাঝখানে দুই টেবিল চামচ তেল অ ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ময়দার কাই তৈরি করতে হবে। ময়দার কাই শক্ত হলে পানি ও নরম হলে ময়দা মেশাতে হবে।

৩. ময়দার কাইটি মসৃণ হয়ে আসলে তার উপরে তেল মাখিয়ে পাত্রের মাঝখানে রেখে তার উপরে ভেজা অ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দুই ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৪. দুই ঘণ্টা পর ময়দার কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে। বেলার সময় তার উপরে কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং রুটির মতো গোলাকৃতির না করে লম্বাটে করে নিতে হবে। চাইলে হাত দিয়ে টেনে লম্বাটে করে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623299530.JPG

৫. এবারে চুলায় তাওয়া গরম করে নান দিয়ে দিতে হবে। একপাশ কিছুটা ভাজা হলে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেবে। এমন হলে নান উল্টে দিয়ে অপর পাশ ভাজতে হবে। এ পাশেও ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দিলে আবারো উল্টে দিতে হবে।

তাওয়া থেকে নামানোর আগে নানের উপরে ঘি অ ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: ঘিয়ে তৈরি মুচমুচে নিমকি

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!
কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিটি কর্মজীবীকে দিনের সিংহভাগ সময় কাটাতে হয় নিজ কর্মক্ষেত্রে।

কাজের চাপ, ব্যস্ততা, ডেডলাইন, মিটিংসহ সবকিছুর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে ক্লান্তি দেখা দেয় একটা সময়। সময়মতো বিশ্রাম নিলে এই ক্লান্তিভাব খুব দ্রুত কেটেও যায়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়।

কর্মোদ্যম ফুরিয়ে গেলে শারীরিক ক্লান্তির সাথে মানসিক ক্লান্তি প্রভাব বিস্তার করে। কাজ, ব্যস্ততা, ছুটে চলা- সবকিছুকেই অর্থহীন বোধ হতে থাকে। অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয় জীবনে চলার পথে। এমন অবস্থা চলতে একটা সময় জীবনের উপরে বিরক্তিবোধ কাজ করা শুরু করে।

কর্মোদ্যম হারিয়ে যাওয়া বা দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বেশ কয়েকটি কারণে দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রফেশনাল প্রেসক্রিপশন ফর লাইফের কোচ সুসান বিয়ালি হাস এমডি। বিগত কয়েক বছর ধরে এ বিষয়ে কাজ করে এবং বহু মানুষকে কাউন্সেলিং করে তিনি বুঝতে পেরেছেন কর্মক্ষেত্রে কর্মোদ্যমতা হারানো শুরু হয় খুব ছোট কিছু থেকেই।

নির্দিষ্ট কোন একটি কারণ

ভিন্ন ভিন্ন কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চাপ থাকে, কাজের ধরণ থাকে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। কোচ সুসান জানাচ্ছেন মূলত ছয়টি কারণ কাজ করে এক্ষেত্রে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, নিয়ন্ত্রণের অভাব, অপর্যাপ্ত উপহার, কর্মক্ষেত্রে কমিউনিটি সংক্রান্ত সমস্যা, অন্যায্য/ অনৈতিক চর্চা, নৈতিকতার অমিল। এ বিষয়গুলো খুব ধীরে ধীরে কাজের উপর অনাগ্রহ তৈরি করে এবং কর্মোদ্যমতা নষ্ট করে দেয়।

আপনিও কর্মোদ্যম হারিয়ে ফেলেন তবে চেষ্টা করুন কারণটি খুঁজে বের করার। কোন কারণে এমনটা হচ্ছে সেটা শনাক্ত করতে পারলে সেটা সমাধানে কাজ করতে পারবেন।

অন্যের কাজ করা

স্বাভাবিকভাবেই অফিসে নিজের কাজের চাপ থাকে অনেক বেশি। সেখানে অন্যের কাজের বোঝাও যদি মাথায় এসে ভর করে তবে সেটা শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি করে অনেক বেশি। আপনিও যদি এমনটা করে থাকেন তবে এই অভ্যাসটি খুব দ্রুত পরিহার করতে হবে।

ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মাঝে দেয়াল না থাকা

অফিসের কাজ বাসাতে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোন বিশ্রাম হয় না। মাথার ভেতর সর্বদা কাজের বিষয়গুলো ঘুরঘুর করতে থাকে, যার ফলে প্রচণ্ড মানসিক অশান্তি ও অস্থিরতা দেখা দেয়।

সেক্ষেত্রে কোচ সুসান পরামর্শ দেন- যতই কাজের চাপ থাকুক না কেন বা কাজ শেষ করার তাড়া থাকুক না কেন, কোনভাবেই অফিসের কাজ বাসাতে আনা যাবে না। বাসায় বসেও অফিসের কাজ করা ও অফিসে থাকার মাঝে আদতে কোন পার্থক্য থাকে না। এতে করে পরদিন পুনরায় অফিসে গেলেও বিন্দুমাত্র কর্মোদ্যমতা পাওয়া যায় না।

নিজের যত্ন না নেওয়া

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য চব্বিশ ঘণ্টার মাঝে অন্ততপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম বাধ্যতামূলক। এর কম হলে শরীর ও মন জুড়ে অপরিসীম ক্লান্তি ভর করে। এছাড়া নিজের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি হেলাফেলা করা হয়, তার প্রভাব সরাসরি দেখা দেয় কাজের উপর। সারাদিন অফিসে ডেস্কে বসে থেকেও মাথা কাজ করবে না, কাজে মন বসবে না। সেক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, নিজের অযত্নও কর্মোদ্যম ফুরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

আরও পড়ুন: কর্মক্ষেত্রে দূরে থাকুক আত্ম-সন্দেহ

আরও পড়ুন: সমস্যাটি যখন কর্মক্ষেত্রে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র