Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ডার্ক সার্কেল তাড়াবে বেসনের ব্যবহার

ডার্ক সার্কেল তাড়াবে বেসনের ব্যবহার
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

তেলে ভাজা বিভিন্ন মজাদার খাবার তৈরির জন্য বেসন প্রয়োজন।

শুধু মজাদার খাবার তৈরিতেই নয়, চোখের নিচের জেদি কালচে দাগ দূর করতেও প্রয়োজন বেসন। এই কালচে দাগকে বলা হয়ে থাকে ডার্ক সার্কেল। বয়সের সঙ্গে ত্বকের সমস্যা বাড়তে থাকলেই মূলত ডার্ক সার্কেলের সমস্যাটি দেখা দেয় অনেকের। তবে হরমোনাল ইমব্যালেন্স, ঘুমের অনিয়ম, খাদ্যাভাসে অনিয়ম ও ত্বকের পরিচর্যার অভাবে ডার্ক সার্কেল তৈরি হয় চোখের নিচের ত্বকে।

ত্বকের পরিচর্যার অভাবে ডার্ক সার্কেল দেখা দিলে বেসন ও বেসনের ভিন্ন কয়েকটি পেস্ট সেক্ষেত্রে দারুণ উপকারে আসবে। যা একইসঙ্গে ডার্ক সার্কেল দূর করবে এবং ত্বককে উপকৃত করবে।

অ্যালোভেরা জেল ও বেসনের পেস্ট

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/10/1544419333727.jpg

ভিটামিন-ই, মিনারেলস, পলিস্যাচারিডস ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ অ্যালোভেরা পাতার জেল ত্বকের জন্য কতটা উপকারি সেটা আলাদাভাবে বলা বাহুল্য। এই অ্যালো জেল একইসাথে ত্বকের ভেতর থেকে পুষ্টি জোগাতে ও ত্বককে সুস্থ রাখতে কাজ করে। এই জেলের সঙ্গে বেসনের গুঁড়া ডার্ক সার্কেল দূর করতে চমৎকার কাজ করে। এক চা চামচ অ্যালো জেল ও এক চা চামচ বেসনের গুঁড়া একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। তৈরিকৃত পেস্টটি চোখের নিচের প্রলেপ দিয়ে মিনিট দশেক রেখে দিতে হবে। এরপর পরিষ্কার ও স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। এই পেস্টটি সপ্তাহে তিন-চার বার ব্যবহার করলে এক-দুই মাসের মাঝেই চোখের নিচের কালচে ভাব কমে আসবে। সব ধরণের ত্বকের সঙ্গেই এই পেস্টটি মানানসই বলে যে কেউ ব্যবহার করতে পারবেন।

টমেটো ও বেসনের পেস্ট

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/10/1544419287553.jpeg

প্রাকৃতিক উপাদান টমেটোতে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-সি, পটাশিয়াম ও ভিটামিন-কে। যা ত্বকের জন্য টমেটোকে উপকারি উপাদান হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে ইতিমধ্যে। বেসনের সঙ্গে টমেটোর ব্যবহার ত্বকের কালো দাগকে কমিয়ে, ত্বককে উজ্জ্বল করতে কাজ করে। দুই চা চামচ বেসনের সঙ্গে একটি মাঝারি আকৃতির পাকা টমেটোর পেস্ট একসাথে মিশিয়ে চোখ ও মুখের ত্বকে ম্যাসাজ করে পনের মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর ঠাণ্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে ২-৩ বার টমেটো ও বেসনের পেস্ট ব্যবহার করতে হবে। এই পেস্টটি মূলত তৈলাক্ত ত্বকের জন্য উপকারি।

দই ও বেসনের পেস্ট

ক্লিনজার ও ময়েশ্চারাইজার হিসেবে দই তুলনীয়। দইয়ে থাকা ন্যাচারাল অয়েল, এনজাইম, ল্যাকটিক অ্যাসিড ডার্ক সার্কেল দূর করতে অন্যান্য উপাদানের চাইতে বেশ অনেকখানি বেশি কার্যকর। এই পেস্টটি শুষ্ক, স্বাভাবিক ও একনের উপদ্রব রয়েছে এমন ত্বকের জন্য পারফেক্ট। পেস্টটি তৈরির জন্য দুই চা চামচ বেসন ও ১-২ চা চামচ দই একসাথে মিশিয়ে নিতে হবে। তৈরিকৃত পেস্টটি সম্পূর্ণ চোখের উপরে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে ১৫-২০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে চোখ ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে ২-৩ বার এই পেস্টটি ব্যবহার করতে হবে।

আরো পড়ুন: ডার্ক সার্কেলের সমস্যাকে দূরে রাখুন

আরো পড়ুন: ঘরেই তৈরি করুন বডি বাটার ময়েশ্চারাইজার

আপনার মতামত লিখুন :

খালি পেটে কফি পান নয়

খালি পেটে কফি পান নয়
ছবি: সংগৃহীত

বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই, কফির সুঘ্রাণ ও সুস্বাদের সাথে দিনের শুরু হওয়া অনেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক যেন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, কোন খাবার না খেয়েই কফির পেয়ালায় চুমুক বসান। কিন্তু একদম খালি পেটে কফি পান করা কতটা উপকারী? খালি পেটে কফি পানে কি তার উপকারিতাগুলো শরীর পরিপূর্ণভাবে পায়?

উত্তরে বলতে হবে, না। একদম খালি পেটে নয়, কফি পান করতে হবে হালকা কোন খাবার খাওয়ার পরেই। একদম খালি পেটে কফি পানের ফলে শরীরে কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কর্টিসল শরীরের মেটাবলিজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563462138926.jpg

এখন প্রশ্ন হলো, কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কি সমস্যা হবে? এখানে উত্তরে বলতে হবে, হ্যাঁ। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খালি পেটে কফি পানের ফলে কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ তৈরি করে ও বাড়িয়ে দেয়।

এতে করে খুব দ্রুত মুড বদলে যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়া কফি পাকস্থলিস্থ অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। যা অ্যাসিডিক প্রভাব তৈরি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

নিজেকে চাঙা রাখতে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও কফির উপকারিতাগুলো পেতে চাইলে সকালে নাশতা সেরে অথবা হালকা কিছু খেয়ে তবেই কফি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক কফি পানে ওজন কমে?

আরও পড়ুন: কতটুকু কফি পান নিরাপদ?

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
পানি জমলেই জন্ম নেবে মশা, ছবি: সংগৃহীত

মায়ের শীতল হাতের ছোঁয়া আর মমতামাখা ভালোবাসার চাদর জড়িয়েও কমানো যাচ্ছে না তিন বছর বয়সী ঐশীর জ্বর। হাসপাতালের বারান্দায় স্থান হয়েছে ঐশীর, অথচ মা কখনো তাকে খালি পায়ে মেঝেতে নামতে দিত না। ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে আসছে ঐশীর চেহারা, মাঝে মাঝে বমি করছে। অস্থির মা বারবার ছুটে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। মেয়ের পাশে অসহায় পিতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, বেদনায় পাণ্ডুর মুখ কিন্তু কাঁদতে পারছে না মেয়ের কষ্ট দেখে।

অথচ মায়ের সচেতনতার কমতি ছিলো না কিছুতেই। জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলে তিনিও সচেতন হয়ে উঠেন। সকাল সন্ধ্যা স্প্রে এবং সন্তান ঘুমালে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া তার আহার্যের মত নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। কিন্তু সাধের বারান্দাতে বাহারি ফুল গাছের সম্ভার তৈরি করেছিলেন। সেখানেই জন্ম নেয় ঘাতক এডিস মশা।

সেক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অ্যারোসল স্প্রে বা মশার কয়েলের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে মশারি। দুপুরের ভাতঘুমে আলসেমি করে মশারি ব্যবহার করে না অনেকেই। এই প্রথার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সাথে সন্ধ্যায় হতেই বন্ধ করে দিতে হবে জানাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563457264592.jpg

শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। নিজের ঘর ও উঠান থেকে শুরু করতে হবে পরিচ্ছন্নতা। কোন স্থানে কিছুতেই জমতে দেওয়া যাবে না পানি। জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যাক্ত ড্রাম, ফেলে দেওয়া বোতল, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে এক বা দুই দিনের জমে যাওয়া পানিতে জন্ম নেয় মশার লার্ভা। আর এক সপ্তাহের ভেতর হয়ে উঠে ঘাতক।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এডিস মশাবাহী ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। ৯৩ জন মারা যায় সেবার। সকলে সচেতন হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।

কিন্তু গত বছর থেকে আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু জ্বর। সরকারি হিসাবমতে গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর মাঝে মারা যায় ২৬ জন।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর একটু ভিন্ন। শক্তিশালী স্টেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত তৃতীয় প্রজাতির এডিস মশা ছড়াচ্ছে। জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ৫ মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ইতোমধ্য সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার সহাস্রাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারা গিয়েছে তিন জন। বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুন বেশি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিগতবার থেকে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেমন বেশি তেমনি রয়েছে ভিন্নতা। আগে ডেঙ্গু জ্বর হলে মাথা ব্যথা, চোখের পেছন অংশে ব্যথা হত। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন, ধরতেও সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

তাই সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিস, লিভার, কিডনী ও রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হলে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্য রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। বেশি করে পানি ও তরলজাত খাবার দিতে হবে রোগীকে।

এছাড়া এসপেরিন বা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেতে হবে। পান করতে হবে ডাবের পানি ও স্যালাইন।

সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন কিছু নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র