Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ক্লান্তিটা যখন শারীরিক নয়, মানসিক!

ক্লান্তিটা যখন শারীরিক নয়, মানসিক!
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

জীবনে বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয় সবাইকেই।

বিপদ ও আশঙ্কার মাঝে কাটাতে হয় অনেকগুলো সময়। দীর্ঘদিন মানসিক চাপের মুখে থাকার ফলে পরিবর্তন আসে মানসিক অবস্থায় ও আবেগে। ক্লান্তি ভর করে শরীরে, বিষণ্ণতার ছায়া পড়ে মনের উপর। নিজেকে জোর করে এই সময়গুলোতে প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি রাখার সকল চেষ্টাই যেন বৃথা হয়ে যায়। জীবনের ইতিবাচক দিকগুলোর প্রতি মনোযোগ দিতে চাইলেও, দিনশেষে দেখা যায় ফলাফল শূন্য।

বারংবার যে ক্লান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে সেটাকে শারীরিক ক্লান্তি হিসেবে ধরে নিলেও, এই ক্লান্তিটা আসলে মানসিক। দীর্ঘদিনের মানসিক বিষাদ ও বিষণ্ণতার ভারে শরীর নয়, ক্লান্ত হয়েছে পড়েছে মন। শারীরিক ক্লান্তির জন্য যেমন বিশ্রামের প্রয়োজন হয়, অনুরূপভাবে মানসিক ক্লান্তির জন্যেও প্রয়োজন বিশ্রাম ও যত্ন।

কিন্তু আপনার ক্লান্তিটা যে আসলে শারীরিক নয় সেটা বুঝবেন কীভাবে? মানসিক ক্লান্তির ক্ষেত্রে কিছু লক্ষণীয় লক্ষণ প্রকাশ পায়। তেমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ জানানো হলো।

১. দিনের বেশিরভাগ সময় বিশ্রাম নিতে ও শুয়ে থাকতেই ইচ্ছা করবে। সারাদিনেই ঘনঘন ঘুম পাবে। তবে রাতের বেলা ঘুম ভাব হালকা হয়ে যাবে এবং প্রচন্ড অস্থিরতা দেখা দিবে। কোনক্রমে ঘুমিয়ে পড়লেও দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে যাবার মতো সমস্যা দেখা দিবে।

২. মানসিক ক্লান্তির ছাপ শরীরেও পড়ে। ফলে সমস্ত শরীরে ব্যথাভাব দেখা দেওয়া শুরু করবে। শারীরিক ব্যথাভাবের সঙ্গে মাথা ঘোরানো, পেটে ব্যথা, ঘোলা দেখা ও অকারণে প্রচন্ড মাথাব্যথা হবে।

৩. কুশলাদি জানতে চাইলে সঠিকভাবে কোন উত্তর দিতে পারবেন না। ‘কেমন আছেন’? খুব সহজ স্বাভাবিক প্রশ্নটাও তখন জটিল বলে মনে হবে। কারণ আসলেও আপনি জানেন না, আপনি কেমন আছেন, কেমন বোধ করছেন! মন ও মাথার ভেতর কি কাজ করছে, সেটা আপনি নিজেও জানেন না সঠিকভাবে। কারণ নিজের অনুভূতিগুলোকে পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করার মতো কোন শব্দ জানা নেই আপনার।

৪. ভালো ও সুস্থ থাকার জন্য শরীর ও মনের মেলবন্ধন খুবই জরুরি। অথচ আপনার শারীরিক অবস্থা ও মানসিক অবস্থার মাঝে কোন সামঞ্জস্যতা নেই একেবারেই। অকারণেই বিচলিত বোধ করা, অস্থিরতা যেন নিত্য সঙ্গী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/25/1543134551757.jpeg

৫. হুট করেই খুব আবেগশূন্য হয়ে যাবে মন। কোন ঘটনাই মনকে স্পর্শ করতে পারবে না। আবার হুট করেই অকারণে মন অনেক বেশি আর্দ্র হয়ে উঠবে। তুচ্ছাতিতুচ্ছ কারণেও মন খারাপ হয়ে যাবে, চোখে পানি আসবে।

৬. ঘনঘন প্যানিক অ্যাটাক হবে ও সর্বক্ষণ দুশ্চিন্তা ঘুরবে মাথায়।

৭. সবসময় অনেক মানুষের মাঝে থাকার পরেও নিজেকে খুব বেশি একা বলে মনে হবে। কারোর সঙ্গে কথা বলার মতো ইচ্ছাও দেখা দিবে না। কেউ আগ্রহ নিয়ে কথা বলতে চাইলেও বিরক্তি দেখা দিবে।

৮. হুট করেই প্রচন্ড রাগ উঠবে। অথচ রাগ ওঠার পেছনে যুক্তিযুক্ত কোন কারণ, কোন ঘটনা খুঁজে পাওয়া যাবে না। রাগের সঙ্গে ঈর্ষাকাতরতা ও ঘৃনাবোধ বৃদ্ধি পাবে।

লক্ষণগুলো কি আপনার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে? তবে সবার প্রথমে নিজেকে সময় দিন, নিজের যত্ন নিন, নিজেকে বুঝতে চেষ্টা করুন। যে কাজগুলো করতে ভালোলাগে সেটার সঙ্গে নিজেকে ব্যস্ত করে তুলুন। পছন্দের গান, পছন্দের খাবার ও পছন্দের মানুষের সঙ্গে সময় কাটান। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের সমস্যা, নিজের মানসিক অবস্থা নিয়ে কোন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।

আরও পড়ুন: মানসিক সুস্বাস্থ্যে প্রয়োজন ‘পরিমিত’ শরীরচর্চা

আরও পড়ুন: একটু শুনবেন কি?

আপনার মতামত লিখুন :

মিষ্টি আলুতে তৈরি গোলাপজাম মিষ্টি

মিষ্টি আলুতে তৈরি গোলাপজাম মিষ্টি
মিষ্টি আলুর গোলাপজাম, ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন ধরনের রেসিপির কল্যানে বাড়িতে বসেই তৈরি করে নেওয়া যায় পছন্দসই মুখরোচক নানা পদের মিষ্টি।

রসমালাই থেকে শুরু করে রসগোল্লা, কোনটাই বাদ যায় না। সে তালিকায় গোলাপজামও রয়েছে বটে।

কিন্তু আজকের রেসিপিতে নয়নাভিরাম মিষ্টি গোলাপজাম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে একেবারেই ভিন্ন একটি উপাদান। ভিন্নতা আনতে গোলাপজাম তৈরি করা হয়েছে মিষ্টি আলু দিয়ে। আলু যাদের ভীষণ প্রিয় তারা এই মিষ্টি থেকে নজর এড়াতেই পারবেন না।

মিষ্টি আলুর গোলাপজাম তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563275983781.png

১. ২টি সেদ্ধ ও ভর্তা করা মিষ্টি আলু।

২. ৩/৪ কাপ ময়দা।

৩. ১ চা চামচ বেকিং সোডা।

৪. ২ টেবিল চামচ দুধ।

চিনির সিরা তৈরিতে যা লাগবে

১. ২ কাপ চিনি।

২. ২ কাপ পানি।

৩. কয়েকটি লবঙ্গ।

৪. এক চিমটি জাফরান।

মিষ্টি আলুর গোলাপজাম যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563276023054.png

১. চিনির সিরা তৈরি করতে একটি সসপ্যানে পানি দিয়ে এতে চিনি, লবঙ্গ ও জাফরান মিশিয়ে ৫-৭ মিনিট তাপ দিতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত সিরা ঘন ও আঠালো না হয়। এরপর চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে। 

২. একটি পাত্রে মিষ্টি আলুগুলো চটকে ভর্তা করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে এতে যেন কোনো দলা হয়ে না থাকে। এতে বেকিং সোডা ছিটিয়ে, ময়দা ও দুধ মিশিয়ে নিতে হবে। হালকা ভাবে ময়দা মাখাতে হবে, যদি বেশি আঠালো হয় তাহলে কিছু বাড়তি ময়দা দিতে হবে এবং যদি বেশি শুকনো হয় তাহলে বাড়তি দুধ দিতে হবে। মাখানো ময়দা খুব কোমল বা নরম হতে হবে।  

৩. মিষ্টির গোলা বানাতে, হাতে অল্প একটু ঘি বা ভেজিটেবল অয়েল মাখিয়ে নিতে হবে। মাখানো ময়দা থেকে কিছুটা নিয়ে হাতে রেখে গোল করে ঘুরাতে হবে। খেয়াল করতে হবে এতে কোনো ফাটা অংশ যেন না থাকে। সাথে খেয়াল রাখতে হবে গোলা যেন বেশি বড় না হয়, কারণ বড় হলে চিনির সিরা শোষণ করে আরও বড় হয়ে যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563276040394.png

৪. গোলাপজাম ভাজার জন্য সসপ্যানে পরিমাণ মতো তেল দিয়ে ঠিকমতো গরম করতে হবে। তেল যেন বেশি গরম না হয় আবার কম গরমও না হয় এবং ভাজার সময় যেন পুড়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যখন গোলাগুলো তেলে দেয়া হবে, গোলাগুলো তেলের উপরে ভেসে উঠবে। সোনালি-খয়েরি রং না হওয়া পর্যন্ত মিষ্টির গোলাগুলো ভাজতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, সসপ্যানে একসাথে অনেকগুলো মিষ্টি দেওয়া যাবে না। নয়তো ভালোভাবে ভাজা যাবে না।

৫. মিষ্টি ভাজা হয়ে গেলে উঠিয়ে সিরাতে মিষ্টিগুলো কয়েক ঘণ্টা  চুবিয়ে রেখে দিতে হবে।

ঠাণ্ডা হয়ে এলে এবং চিনির সিরা শোষণ করে মিষ্টি ফুলে উঠলে পরিবেশনের জন্য নামিয়ে নিতে হবে।

আরও পড়ুন: ঘরে তৈরি গরম ও মুচমুচে জিলাপি

আরও পড়ুন: মিষ্টি মুখে আমের রসগোল্লা

বর্ষা জুড়ে স্নিকার্স কনভার্স থাকবে ঝকঝকে!

বর্ষা জুড়ে স্নিকার্স কনভার্স থাকবে ঝকঝকে!
সঠিক নিয়মে পরিষ্কার করতে পারলে কনভার্স স্নিকার্স থাকবে ঝকঝকে, ছবি: সংগৃহীত

আসছে বর্ষা জুড়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দেবে কনভার্স বা স্নিকার্স নিয়ে।

প্রিয় কনভার্সটাই সবার আগে নোংরা হবে বৃষ্টি-কাদায়। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের মাঝে অনেকেই কেডসের বদলে সাদা কনভার্স পরতে পছন্দ করে। শুধু স্কুল-কলেজ পড়ুয়া নয়, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে কর্মজীবীদের কাছেও কনভার্স পছন্দের তালিকায় থাকে।

সহজেই পরিধেয়, আরামদায়ক ও বর্ষাকালীন সময়ে কনভার্স পরার ফলে রাস্তার ময়লা-কাদা থেকে পা সুরক্ষিত থাকে বলে এদিকেই বেশি ঝুঁকে থাকেন সকলে। কিন্তু সমস্যাটা দেখা দেয় শখের কনভার্স যখন নোংরা হয়ে যায়। বিশেষ করে সাদা কনভার্স ময়লা হয় খুব দ্রুততম সময়ে।

সাদা কিংবা রঙিন যেটাই হোক না কেন, কনভার্স পরিষ্কার করা বেশ কৌশলের বিষয়। আজকের ফিচার সেটাই জানানো হবে ধাপে ধাপে। যা আগত পুরো বর্ষা জুড়ে আপনার ও আপনার সন্তানের প্রিয় কনভার্স ও স্নিকার্সকে পরিষ্কার রাখতে কাজ করবে।

কনভার্স ও স্নিকার্স কীভাবে পরিষ্কার করতে হবে?

কনভার্স বা স্নিকার্স যেটাই হোক না কেন, হাতের সাহায্যে যত্ন করে পরিষ্কার করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। এতে করে প্রিয় জুতাটি নষ্ট হবে না। পরিষ্কারের জন্য প্রথমেই ব্রাশের সাহায্যে জুতার উপরের অংশ ও আশেপাশের অংশসহ নিচের অংশের ধুলাবালি ঝেড়ে ফেলে দিতে হবে।

এবারে এক কাপ গরম পানিতে এক টেবিল চামচ ডিশ ওয়াশার মিশিয়ে এতে পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে ভেজা কাপড়ের সাহায্যে জুতার বাইরের অংশে ঘষতে হবে। দেখা যাবে যে কাপড়ে জুতার ময়লা উঠে আসছে। এভাবে দুইটি জুতাই পরিষ্কার হয়ে গেলে এতে জুতার ফিতা ডুবিয়ে কিছুক্ষণ রেখে উঠিয়ে নিতে হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563256592557.jpg

এবারে জুতা দুইটিকে সাদা পেপার টাওয়েল দিয়ে ভালোভাবে মুড়িয়ে রেখে দিতে হবে কিছুক্ষণের জন্য। এতে করে জুতার বাড়তি পানি পেপার শোষণ করে নেবে। এরপর জুতাগুলো ঘরোয়া তাপমাত্রায় ও বাতাসে রাখতে হবে শুকানোর জন্য। রোদে কিংবা চুলার নিচে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। জুতার ফিতা ভালোভাবে নিংড়ে শুকানোর জন্য নেড়ে দিতে হবে। জুতা ও ফিতা শুকিয়ে গেলে দেখা যাবে একদম নতুনের মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে।

কনভার্স ও স্নিকার্স থেকে কীভাবে দাগ ওঠাতে হবে?

সাধারণ ময়লা হওয়ার বাইরেও স্নিকার্স ও কনভার্সে জেদি দাগ লেগে যায়। যা উপরোক্ত নিয়মে পরিষ্কার করলেও পুরোপুরি উঠতে চায় না। সেক্ষেত্রে কনভার্সের তন্তুর উপর বিবেচনা করে দুই ধরনের উপাদান ব্যবহার করতে হবে। কনভার্স বা স্নিকার্স যদি ক্যানভাস কাপড়ের হয় তবে হাইড্রোজেন পার অক্সাইডে ব্রাশ চুবিয়ে যে ব্রাশ দিয়ে জুতায় দাগযুক্ত স্থানে ঘষতে হবে। এবং চামড়ার হলে ভেজা ব্রাশে বেকিং সোডা মিশিয়ে সেটা জুতার দাগযুক্ত স্থানে খুব আলতোভাবে ঘষতে হবে। এভাবে করলে খুব সহজেই দাগ উঠে যাবে স্নিকার্স বা কনভার্স থেকে।

আরও পড়ুন: স্মার্ট টিভি পরিষ্কারের স্মার্ট উপায়!

আরও পড়ুন: কীভাবে পরিষ্কার করবেন মেকআপ ব্রাশ?

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র