Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

এই শীতে পায়ের যত্নে

এই শীতে পায়ের যত্নে
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

শীতকালে পায়ের বিব্রতকর কিছু সমস্যা বেড়ে যায় অনেকখানি।

যার মাঝে পায়ে দুর্গন্ধ দেখা দেওয়ার সমস্যাটি প্রধান। এই সমস্যা অনেকের সারা বছর জুড়ে থাকলেও, শীতকালীন আবহাওয়াতে কমবেশি সকলেই সমস্যাটির মুখোমুখি হন।

মূলত পায়ের ফাংগাল ইনফেকশন ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকেই সমস্যাটি সৃষ্টি হয়। যে কারণে পায়ের প্রতি নিতে হয় বাড়তি যত্ন। সঠিক যত্নের অভাব ও অবহেলা হলে সমস্যাটির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। পায়ের দুর্গন্ধকে দূরে রাখতে চাইলে অবশ্যই কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। তাই প্রথমেই জেনে নিন কেন পায়ে দুর্গন্ধ দেখা দেয়।

পায়ে দুর্গন্ধ দেখা দেওয়ার কারণ

ভেজা মোজা ব্যবহার

ভেজা মোজা পায়ে দীর্ঘ সময় পরে থাকার ফলে খুব সহজেই পায়ে ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। এই ব্যাকটেরিয়া পায়ের ঘামের সঙ্গে মিশে বাজে গন্ধ সৃষ্টি করে।

ফাংগাল ইনফেকশন

পায়ের লুকায়িত ফাংগাল ইনফেকশন থেকেই সাধারণত এই সমস্যাটি দেখা দেয়। এই ইনফেকশন সবসময় সমস্যা তৈরি না করলেও শীতকালে এর প্রকোপ দেখা দেওয়া শুরু করে।

পা অপরিষ্কার থাকা

শীত কিংবা গ্রীষ্ম যে সময়ই হোক না কেন, পা দীর্ঘদিন অপরিষ্কার থাকার ফলে দুর্গন্ধ দেখা দিবেই। অযত্নের ফলে খুব সহজেই পায়ে ব্যাকটেরিয়া জন্মায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/21/1542783011777.jpg

পায়ের দুর্গন্ধ দূর করার নিয়ম

অবশ্যই সঠিক নিয়ম ও পরিচর্যার মাধ্যমে এই সমস্যাটিকে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব। জেনে রাখুন নিয়মগুলো।

বাতাস চলাচল করে এমন জুতা পরা

বদ্ধ বুট, কেডস বা শু না পরে স্যান্ডেল জাতীয় জুতা পরতে হবে। এতে খুব সহজেই পায়ে বাতাস চলাচল করতে পারবে এবং পায়ে ভেজাভাব থাকবে না। এতে করে পায়ে ঘাম তৈরি হবে না। ফলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ কমে যাবে অনেকটা। পা যতটা শুষ্ক থাকবে, দুর্গন্ধ দেখা দেবার সম্ভবনা ততই কমে যাবে।

পা শুষ্ক রাখা

পা আবদ্ধ হয়ে থাকে এমন জুতা এড়ানোর পাশাপাশি চামড়ার জুতা ব্যবহার করা থেকেই বিরত থাকতে হবে। কারণ পায়ের ঘাম চামড়ার জুতা খুব দ্রুত শোষণ করে এবং দীর্ঘ সময় ভেজা থাকে। যার ফলে পা ও জুতা থেকে বাজে গন্ধ ছড়ায়। এছাড়া পা ধুয়ে অবশ্যই ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।

পা নিয়মিত পরিষ্কার করা

যত নিয়মই মানা হোক না কেন, পা যদি নিয়মিত পরিষ্কার না রাখা হয় তবে পায়ে দুর্গন্ধ দেখা দেওয়া রোধ করা যাবে না। সারাদিন বাইরে ঘোরাঘুরি করার পর বাসায় এসে পা পরিষ্কার না করলে ব্যাকটেরিয়া খুব সহজেই জন্মাবে পায়ে। তাইতো বাইরে থেকে বাসায় ফিরে কুসুম গরম পানিতে লবণ ও শ্যাম্পু মিশিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট পা ভিজিয়ে রেখে এরপর পা ধুয়ে নিতে হবে।

স্ক্রাব ব্যবহার করা

নিয়মিত পা পরিষ্কার করার পাশপাশি প্রতি সপ্তাহে একবার অন্তত পায়ে স্ক্রাব ব্যবহার করতে হবে। নতুবা পায়ের আঙ্গুলের ভাঁজে ও পায়ের গোড়ালিতে জেদি ব্যাকটেরিয়া জন্মাবে ও দুর্গন্ধ তৈরি করবে।

পা স্ক্রাব করার জন্য দুই টেবিল চামচ মধু, দুই টেবিল চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার ও এক স্লাইস লেবুর রস কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে পা পনের মিনিতের জন্য ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর পিউমিক স্টোন দিয়ে পায়ের সবদিক ঘষে মরা চামড়া ও ময়লা তুলে নিতে হবে। সবশেষে পা ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার ম্যাসাজ করে নিতে হবে।

আরও পড়ুন: পায়ের গোড়ালি ফাটা নিয়ে চিন্তিত?

আরও পড়ুন: কমলালেবুর খোসা ব্যবহারে ত্বক থাকবে সুরক্ষিত

আপনার মতামত লিখুন :

আঙুরের সাতকাহন 

আঙুরের সাতকাহন 
আঙ্গুর ফল

আঙুর ফলের গোড়াপত্তন শুরু হয়েছে হাজার বছর আগে। সুস্বাদু ও সুমিষ্ট এই ফলের বাহারি রঙের মাত্রায় রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। উচ্চ ভিটামিন সমৃদ্ধ  এই ফল আপনার হার্টকে রাখে সুস্থ।

আঙুরের সাত গুণাবলি--

 

গ্যাস্ট্রিকের প্রদাহ থেকে মুক্তি-

দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রিক থেকে শুরু হয় বাতের ব্যথা। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য। রোগের সূত্রপাত হিসেবে ধরা হয় গ্যাস্ট্রিকের প্রদাহকে। দেহের প্রতিরক্ষাকারী কোষগুলোকে নষ্ট করে, ক্যানসার কিংবা হার্টের রোগে ভোগায় এই প্রদাহ। গবেষণা বলছে, আঙুর হতে পারে গ্যাসের ব্যথার স্থায়ী সমাধান।

২৪ জন পুরুষের মধ্যে চালানো একটি জরিপে দেখা যায়, প্রতিদিন ১.৫ কাপ আঙুরের রস অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণে আঙুরের গুঁড়া শরীরের গ্যাসের প্রদাহকে কমিয়ে দেয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452636554.jpg

বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়-

এক গবেষণায় দেখা যায়, তিন মাস ধরে প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম করে আঙুর ফল ১১১ জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে খাওয়ানোর ফলে তাদের স্মৃতি, মনোযোগ এবং  বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটেছে।

এমনকি প্রতিদিন আঙুর ফল আপনার মেজাজকে রাখে নিয়ন্ত্রণে। পাশাপাশি ব্লাড সুগারের মাত্রাকেও পরিমিত পর্যায়ে রাখতে সাহায্য করে।

হাড়ের ক্ষয় রোধ করে:

হাড়ে লবণের মাত্রাকে ঠিক রেখে ক্ষয়রোধ করতে সাহায্য করে আঙুর ফল। হাড়ে প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452652760.jpg

ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া  ধবংসকারী:

দেহের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ইনফেকশন ঘটায়, এমন ভাইরাস ধ্বংস করতে সাহায্য করে আঙুর ফল। প্রতিদিন খেলে ভিটামিন সি-এর অভাব পূরণ হয়। ফলে মৌসুমি ঠাণ্ডা কাশি কিংবা জ্বর আপনাকে কাবু করতে পারবে না। এমনকি আঙুর ডায়রিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা বৃদ্ধি-

ক্যানসার, হৃদরোগ কিংবা ডায়াবেটিসের মতো রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে আঙুর ফল। বেটাকেরোটিন, লুটিন ,এলাজিক এসিড সমৃদ্ধ এই ফল দীর্ঘস্থায়ী রোগকেও প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561452669126.jpg

তারুণ্য ধরে রাখে-

আঙুর ফলের পুষ্টিগুণ তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের বলিরেখা দূর করে আঙুর। স্বাস্থ্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ করে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতেও সাহায্য করে।

আঙুরে প্রোটিন সমৃদ্ধ ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার,  এবং অ্যান্টি অক্সিজেন রয়েছে। সুতরাং তুমি তোমার সকাল কিংবা বিকেলের নাস্তায় রাখতে পারো আঙুর ফল। এমনকি গ্রীষ্মের দিনগুলোতে ঠাণ্ডা আঙুর হতে পারে দারুণ একটা নাস্তা।

সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস

সঠিক পরিচর্যায় সতেজ ক্যাকটাস
ক্যাকটাস গাছ, ছবি: সংগৃহীত

ঘরের শোভা বর্ধনের জন্য কিংবা ভালোবেসে, শখের বশে গড়ে তোলা হয় ক্যাকটাসের সংগ্রহ।

নানা প্রজাতির, আকৃতির, ঘরানার ক্যাকটাস প্রীতি বেশি দেখা যায় শহুরে এলাকার মানুষদের মাঝে। ঘরের সাথে লাগোয়া বারান্দায় কিংবা প্রশস্ত জানালা ঘেঁসে ছোট-মাঝারি টবে বানান নিজস্ব ক্যাকটাস বাগান।

সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত দেখাশোনা করা হলে প্রতিটি ক্যাকটাসের গাছ খুব ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। ক্ষেত্র বিশেষে ও বিশেষ প্রজাতির ক্যাকটাসের ক্ষেত্রে ক্যাকটাসে বর্ণীল ফুলের দেখাও দেয়।

তবে সমস্যা হলো- ক্যাকটাস কষ্ট সহিষ্ণু উদ্ভিদ হলেও, অসাবধানতার দরুন ক্যাকটাস মরে যায়। প্রিয় জিনিসটি চোখের সাথে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাওয়া খুবই কষ্টের। যত্নে গড়ে তোলা প্রিয় ক্যাকটাসটির পরিচর্যায় ও যত্নে যে বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখা প্রয়োজন, এখানে তার কয়েকটি আলোচনায় রাখা হলো।

দ্রুত পানি দেওয়া

বেখেয়ালে প্রায় সময় ক্যাকটাসে দীর্ঘদিন পানি দেওয়া হয় না। এতে ক্যাকটাস শুকিয়ে যায়, কুঁচকে যায়, মরমর দেখায়। এমনটা হলে যত দ্রুত সম্ভব গাছে পানি দিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে ক্যাকটাসের টবের নিচের অংশের ছিদ্র দিয়ে বাড়তি পানি যেন বেরিয়ে যেতে পারে। একইসাথে ক্যাকটাসটিকে খোলামেলা আলো ও বাতাসযুক্ত স্থানে রাখতে হবে।

নষ্ট হয়ে যাওয়া অংশ কেটে ফেলা

ক্যাকটাসটির কোন অংশ যদি নষ্ট হয়ে যায় বা পচে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয় তবে উক অংশটি সযত্নে কেটে বাদ দিয়ে দিতে হবে। নতুবা উক্ত স্থান থেকে ভালো অংশেও পচন ধরে যাবে। ক্যাকটাসের কোন অংশে যদি ফাংগাসের মতো দেখা দেয়, বাদামী বা কালচে হয়ে আসে তবে বুঝতে হবে উক্ত স্থানে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561448789213.jpg

সরু অংশ রোদে রাখা

ক্যাকটাসের জন্য রোদের আলো অপরিহার্য। ক্যাকটাস যত বাড়তে থাকে, ছড়াতে থাকে তার শাখাপ্রশাখা। অনেক সময় একই টবে ক্যাকটাস অনেক বেশি বড় হয়ে গেলে ক্যাকটাসের ছোট অংশ রোদের আলো ঠিকমতো পায় না। সে অংশগুলোকে রোদের আলো দেওয়ার জন্য বেশি করে রোদের দিকে মুখ করে রাখতে হবে।

মাটি শুষ্ক হলেই পানি

বাড়তি পরিচর্যার ফলে অনেকেই ক্যাকটাসের টবে এক-দুই দিন পরপরেই পানি দিতে থাকেন। এতে করে ক্যাকটাসের গোড়া থেকে পচন ধরে যায়। খেয়াল রাখতে হবে, ক্যাকটাসের টবে মাটি একেবারে শুকিয়ে গেলে তবেই তাতে পানি দিতে হবে। তার আগে নয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561448770099.jpg

বড় টবে স্থানান্তরিত করা

ক্যাকটাস বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে ছড়াতে থাকে তার শাখাপ্রশাখা এবং সেই সকল শাখাও বড় হতে থাকে। এভাবে ছোট ক্যাকটাসটিই এক সময় বিশাল আকৃতি ধারণ করে। ক্যাকটাস যত বড় হবে, তার জন্য তত বড় ও প্রশস্ত টবের প্রয়োজন হবে। নতুবা অপর্যাপ্ত স্থানের দরুন ক্যাকটাস ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাবে।

ক্যাকটাসের শরীর পরিষ্কার করা

ক্যাকটাসের শরীর জুড়ে কাঁটা থাকার দরুন এতে খুব সহজেই ধুলা-ময়লা চুল আটকে যায়। ধুলা-ময়লার স্তর পুরু হয়ে গেলে অনেক সময় ক্যাকটাস রোদের আলো শোষণ করে সালোকসংশ্লেষণ করতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই ক্যাকটাসের টবে যেদিন পানি দেওয়া হবে, সেদিন পানির ঝাপটা দিয়ে ক্যাকটাসের পাতা ও শাখাপ্রশাখাগুলো পরিস্কার করে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ঘরে তৈরি সারে সতেজ গাছ

আরও পড়ুন: খোসা ছাড়ানো আলু বাদামি হয়ে যাচ্ছে?

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র