Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস কঠিন কিছু নয়!

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস কঠিন কিছু নয়!
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

নিয়মিত ফল, সবজী ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়।

কারণ স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস শরীর ও মনকে প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে। তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস গড়ে তোলা খুব একটা সহজ কোন বিষয় নয়। সারাদিনে নানান ধরণের কাজের ব্যস্ততায় ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়ার ফলে সঠিকভাবে খাদ্যাভাসের নিয়ম মেনে চলা সম্ভব হয় না।

উপরন্তু পছন্দসই খাবার খেতে না পারার ফলে মন খারাপ হবার বিষয়টা তো থাকেই। পছন্দসই ও প্রিয় খাবারগুলো অবধারিত ভাবেই অস্বাস্থ্যকর হয়। অন্যদিকে স্বাস্থ্যকর ও উপকারি খাবারগুলো হয় একেবারেই অস্বাস্থ্যকর।

এইসকল দ্বিধাদন্দের অবসান ঘটিয়ে খুব সহজেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস রপ্ত করা সম্ভব। সকলের সুবিধার্থে কিছু সহজ নিয়ম জানানো হলো।

১. ফল ও সবজী খাওয়া অনেকের কাছেই ভীতিকর একটি বিষয়। এই সহজ ও স্বাভাবিক বিষয়টি নিয়ে ভয় পাওয়ার কোন কারণই নেই। বরং বিষয়টিকে আনন্দের সাথে গ্রহণ করতে হবে এবং নিজের প্রাত্যহিক জীবন ব্যবস্থার সাথে মানিয়ে নিতে হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/16/1539670370188.jpeg

২. বার্গার কিংবা পাস্তা খেতে খুব ভালোবাসেন? এমন সকল খাবারের ছবি দেখলে বা এমন খাবার সামনে পড়লেই খেয়ে ফেলেন? তাহলে এই সকল খাবারের ছবি যেন দেখতে না হয় সেইরূপ ব্যবস্থা নিন। রেস্টুরেন্টে যাওয়ার মাত্রা কমিয়ে দিন। অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলে অনেকখানি সহজ হয়ে যাবে।

৩. মিষ্টি খাবার একদম বাদ দিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মিষ্টি কোন কিছু খেতে ইচ্ছা হলে স্বল্প মাত্রার ডার্ক চকলেট খেতে পারেন। যা একইসাথে মিষ্টি খাবার খাওয়ার ইচ্ছা মেটাবে এবং শরীরের উপকারেও আসবে।

৪. যদি কর্মজীবি হয়ে থাকেন তবে নিশ্চয় দুপুরে বাইরেই খাওয়া হয়। যত ভালো হোটেলের খাবারই খাওয়া হোক না কেন, বাইরের খাবার কখনোই স্বাস্থ্যে জন্য ভালো নয়। বরং বাসায় পরের দিনের দুপুরের খাবার তৈরির জন্য কিছুটা বাড়তি সময় ব্যয় করুন। পছন্দসই সবজী কিংবা ফলের সালাদ তৈরি করুন। রুটি কিংবা ওটসের কোন পদ রাঁধুন। দুপুরে পেট ভরে স্বাস্থ্যকর ও পছন্দনীয় খাবার খাওয়া হবে একইসাথে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/16/1539670390187.jpeg

৫. সবজী খেতে একেবারেই পছন্দ করেন না এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। স্বাদহীন সবজী খেতে পছন্দ করার কোন কারণ নেই এটাও সত্য। কিন্তু চাইলেই সবজীকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী স্বাদু রান্নায় পরিণত করা যায়। বিভিন্ন ধরণের মশলার ব্যবহার ও সবজীর নানান রকম রান্নার রেসিপি, সবজীকে স্বাদহীন থাকতেই দিবে না।

৬. স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস চলমান রাখার জন্য পরিবারের মানুষ ও কাছের বন্ধুদের সঙ্গে নিজের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস নিয়ে কথা বলতে হবে। তাদেরকেও এই প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানাতে হবে। এতে করে অন্যান্যরাও উপকৃত হবেন এবং নিজেকেও সঠিক পথে রাখা সহজ হয়ে যাবে।

৭. সবচেয়ে সহজ একটি টিপস হলো, জার্নাল মেইনটেইন করা। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা নিজে নিজেই লিখে রাখা, সেটা মেনে চলা, নিজে নিজেই মার্কস দেওয়া, নিজেকে নিজেই অপুপ্রানিত করার এই সহজ উপায়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস খুব সহজেই ভালোভাবে রপ্ত করা সম্ভব হয়।  

আপনার মতামত লিখুন :

সাদামাটা নিমকিমাখা

সাদামাটা নিমকিমাখা
ছবি: নিমকিমাখা

হুটহাট করেই হাবিজাবি কোন খাবার খেতে ইচ্ছা করে।

এই হাবিজাবিটা আসলে কি, সেটা বুঝতে পারা দুষ্কর। এমন খাবার খাওয়ার ইচ্ছাকে অনেকে কাব্যিকভাবে ছোটখাটো ক্ষুধা নামেও ডেকে থাকে।

হুট করে কোন কিছু খেতে ইচ্ছা করলে ঘরে থাকা অল্প জিনিস কীভাবে মুখরোচক ও নতুন খাবার তৈরি করা যায় এইটাই যেন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মন অবস্থায় ঘরে থাকা নিমকি ও অল্প পেঁয়াজ-মরিচেই তৈরি করে নেওয়া যাবে নিমকিমাখা। কীভাবে তৈরি করবেন? চটজলদি দেখে নিন রেসিপিটি।

নিমকিমাখা তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566394524865.JPG

১. ২০০ গ্রাম নিমকি।

২. একটি পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. একটি টমেটো কুঁচি।

৪. দুইটি কাঁচামরিচ কুঁচি।

৫. অর্ধেকটি শসা কুঁচি।

৬. অর্ধেকটি ক্যাপসিকাম কুঁচি।

৭. একমুঠো ধনিয়াপাতা কুঁচি।

৮. এক টেবিল চামচ লেবুর রস।

৯. দুই টেবিল চামচ সরিষার তেল।

১০. স্বাদমতো লবণ।

নিমকিমাখা যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566394543339.JPG

১. প্রথমে সরিষার তেলে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ কুঁচি চটকে নিতে হবে। এতে টমেটো, শসা, ক্যাপসিকাম ও ধনিয়া কুঁচি দিয়ে মাখিয়ে লবণ দিতে হবে।

২. সকল উপাদান মাখানো হয়ে গেলে নিমকি দিয়ে পেঁয়াজ-কাঁচামরিচের সাথে মাখিয়ে তার উপরে লেবুর রস ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

হাড়ের সুস্বাস্থ্যে পাঁচ নিয়ম

হাড়ের সুস্বাস্থ্যে পাঁচ নিয়ম
ছবি: সংগৃহীত

সম্পূর্ণ শারীরিক সুস্বাস্থ্যে হাড়ের ভূমিকা অনেকখানি।

আমাদের শরীরের পুরো গঠন ও কাঠামো নির্ভর করে হাড়ের উপরে। ফলে হাড়ে যদি কোন সমস্যা দেখা দেয়, তার প্রভাব পরে সামগ্রিকভাবে। তরুণ বয়সে হাড় সবচেয়ে বেশি শক্ত ও সুস্থ থাকে, যদি সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা যায় ও যত্ন নেওয়া হয়। তবে বয়স যত বৃদ্ধি পেতে থাকে, হাড়ের শক্তি কমতে থাকে এবং হাড় ক্ষয় হতে থাকে। ফলে ৪৫-৫০ বছর পর থেকেই হাড়জনিত নানাবিধ সমস্যা দেখা দেওয়া শুরু হয়। এ কারণেই হাড়ের প্রতি আলাদাভাবে যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। জেনে নিন হাড়ের যত্নে কোন বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিতে হবে।

পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে জানা

স্বাস্থ্যগত বিষয়ে ফ্যামিলি হিস্ট্রি অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। যার বাবা-মা অথবা ভাই-বোনের অস্টিওপরোসিসের সমস্যা রয়েছে, তারও এই সমস্যাটি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পরিবারের মানুষদের হাড়ের স্বাস্থ্য ও সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর করতে হবে এবং সেইভাবে নিজের হাড়ের যত্ন নেওয়ার বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠতে হবে।

ক্যালসিয়াম গ্রহণ বৃদ্ধি

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566384501379.jpeg

হাড়ের বিষয়ে আলোচনা আসলে প্রথমেই যে শব্দটি মাথায় আসবে সেটা হলো ক্যালসিয়াম। প্রাকৃতিক এই মিনারেলটির সাহায্যে হাড় ও দাঁত গড়ে ওঠে ও দৃঢ়তা পায়। তবে ক্যালসিয়ামই শেষ কথা নয়। শরীরকে প্রস্তুত করতে হবে ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য। নতুবা ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া হলেও, তার পুষ্টিগুণ শরীরে ঠিকভাবে শোষিত হবে না এবং ক্যালসিয়ামের অভাব তৈরি হবে।

ভোলা যাবে না ভিটামিন-ডি কে

ক্যালসিয়ামের সাথে সরাসরিভাবে সংযুক্ত হলো ভিটামিন-ডি। একইসাথে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি হাড়কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন-ডি পাওয়া যাবে চিংড়ি, কমলালেবুর রস, ডিমের কুসুম, টুনা মাছ প্রভৃতি থেকে। এছাড়া রোদের আলো ভিতামিন-ডি এর অন্যতম বড় একটি উৎস। বর্তমান সময়ে অনেকেই রোদের আলোর অপর্যাপ্ততায় ভিটামিন-ডি এর অভাবে ভুগছেন। সেক্ষেত্রে প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট শরীরে রোদের আলো লাগানোর চেষ্টা করতে হবে।

নিয়মিত শরীরচর্চা করা

শুধু স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণই যথেষ্ট নয়, শরীরচর্চার অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে হাড়কে সুস্থ রাখতে চাইলে। শরীরচর্চার বিভিন্ন কলাকৌশল হাড়কে দৃঢ় করতে কাজ করে। দৌড়ানো, দ্রুত হাঁটা, দড়িলাফ কিংবা সিঁড়িতে ওঠানামার মতো হালকা ঘরানার শরীরচর্চাগুলোই হাড়কে ভালো রাখতে উপকারী।

সীমিত মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ

ক্যাফেইনের বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে বটে, তবে দুঃখজনকভাবে হাড়ের জন্য নয়। অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে বাধাদান করে। তাই প্রতিদিন দুই কাপ পরিমাণ কফি পান নিরাপদ। এর বেশি হয়ে গেলে তা হাড়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: ওয়ার্ল্ড অস্টিওপরোসিস ডে: হাড় থাকুক মজবুত

আরও পড়ুন: ভিটামিন ডি ঘাটতি: ঝুঁকি, উপসর্গ এবং বৃদ্ধির উপায়

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র