Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

কেন খাবেন জাম্বুরা?

কেন খাবেন জাম্বুরা?
উপকারি ফল জাম্বুরা। ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

বাজার ঘুরলেই পাওয়া যাচ্ছে জাম্বুরা।

সাইট্রাস ঘরানার এই ফলটির জনপ্রিয়তা রয়েছে কমবেশি সকলের মাঝেই। জাম্বুরার বৈজ্ঞানিক নাম সাইট্রাস ম্যাক্সিমা (Citrus maxima). কারণ সাইট্রাস ঘরানা ফলের মাঝে জাম্বুরা হলো সবচেয়ে বড় আকারের ফল।

টক এই ফলটি খেতে যেমন চমৎকার, তেমনই চমকপ্রদ তার স্বাস্থ্য গুণ। পছন্দনীয় এই ফলটি সহজলভ্য হলেও, তার উপকারিতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেই অনেকের। আজকের ফিচারে তুলে ধরা হলো, কেন খাওয়া প্রয়োজন পরিচিত এই ফলটি।

খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে

বেশিরভাগ সাইট্রাস ঘরানার ফলেই থাকে উচ্চ মাত্রার আঁশ। জাম্বুরাও তার ব্যতিক্রম নয়। একটি মাঝারি আকৃতির জাম্বুরা থেকে পুরোদিনের প্রায় ৩০ শতাংশ আঁশ পাওয়া যায়। দ্রবণীয় এই খাদ্য আঁশ কোষ্ঠ্যকাঠিন্য কিংবা ডায়রিয়ার মতো পেটের সমস্যাকে দূর করে থাকে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে

জাম্বুরাতে থেকে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম পাওয়া যায়। একটি মাঝারি আকৃতির জাম্বুরা থেকে পুরো দিনের প্রায় ৪০ শতাংশ পটাশিয়াম পাওয়া সম্ভব। প্রাকৃতিক এই উপাদানটি রক্ত চলাচলের বাধা দূর করে। ফলে বিভিন্ন প্রত্যঙ্গে রক্ত চলাচল ও অক্সিজেন পরিবহণ সহজ হয়ে যায়। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকার ফলে হৃদযন্ত্রের উপর চাপ কম পড়ে। এতে করে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/04/1538629607660.jpg

ওজন কমাতে সহায়ক

অন্যান্য সাইট্রাস ফলের মতো জাম্বুরাতেও রয়েছে ফ্যাট বার্নিং এনজাইম। যা আক্ষরিক অর্থেই ওজন কমাতে সাহায্য করে। এই এনজাইমকে বলা হয় কার্নিটিন প্যালিটোলো-ট্রান্সফেরাস (Carnitine palmitoyl-transferase). এই এনজাইমটি সচরাচর অন্যান্য খাদ্য উপাদানে পাওয়া যায় না।

হাড় সবল রাখে

উপরেই বলা হয়েছে জাম্বুরা থেকে পটাশিয়াম পাওয়া যায়। পটাশিয়াম হাড় সুস্থ ও সবল রাখতে সাহায্য করে। পটাশিয়াম গ্রহণের ফলে হাড়ের ঘনত্ব সঠিক মাত্রায় থাকে এবং হাড় শক্ত হয়।

বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করে

স্বাভাবিকভাবে যেকোন সাইট্রাস ফলেই ভিটামিন-সি পাওয়া যাবে। জাম্বুরাও তার ব্যতিক্রম নয়। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা ক্ষতিকর রেডিক্যালের নেতিবাচক প্রভাবকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। ফ্রি রেডিক্যালের প্রভাবে ত্বকে বয়সের ছাপ দেখা দেয় খুব দ্রুত। ভিটামিন-সি এই প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে কাজ করে।

চুলের জন্য উপকারি

উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম, ভিটামিন-সি ও উপকারি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পাশাপাশি জাম্বুরা থেকে ভিটামিন-বি১ ও জিংক পাওয়া যায়। এছাড়াও চুলের জন্য উপকারি কিছু উপাদান থাকে জাম্বুরাতে, যা চুল সুস্থ রাখতে, চুলের গোড়া শক্ত রাখতে ও চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

আপনার মতামত লিখুন :

জাপানিদের গড় আয়ু বেশি হওয়ার ৭ কারণ

জাপানিদের গড় আয়ু বেশি হওয়ার ৭ কারণ
চা পান জাপানিদের অন্যতম পুরনো একটি অভ্যাস

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানে নিহত হয় ২.৫ মিলিয়ন থেকে ৩.১ মিলিয়ন মানুষ।

এতো বড় একটি বিপর্যয়ের পরেও জাপানের মানুষ তাদের কঠিন অধ্যাবসায় ও সঠিক নিয়মের চর্চার মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় এ দেশটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গড় আয়ু সম্পন্ন দেশ হিসেবে প্রথম স্থানটি দখল করে নিয়েছে এবং বেশ লম্বা সময় ধরেই প্রথম স্থানটি এ দেশটির দখলে রয়েছে। কারণ অন্যান্য যেকোন দেশের তুলনায় দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয় জাপানের মানুষেরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ অনুযায়ী যেখানে জাপান প্রথম স্থানটি দখল করেছে (নারী ও পুরুষের গড় আয়ু ৮৩.৭) , সেখানে আমাদের বাংলাদেশের স্থান ১০২ নাম্বারে (নারী ও পুরুষের গড় আয়ু ৭১.৮)! একটা দেশের মানুষের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের পেছনে কাজ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যা তাদেরকে লম্বা আয়ু পেতে ও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীরা স্টাডি করে এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন সবার সামনে।

পর্যাপ্ত সবজি গ্রহণ

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566371517204.jpg

অন্যান্য যেকোন দেশের মতো বিভিন্ন ধরনের খাবার নয়, জাপানের খাদ্য তালিকায় বড় একটা অংশ জুড়েই থাকে তাজা শাক-সবজি, ফার্মেন্টেড সয়া, ভাত ও মাছ। যা থেকে পর্যাপ্ত ফাইটোকেমিক্যালস, ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার এই নিয়ম খুব সহজেই দীর্ঘায়ু পেতে অবদান রাখে।

ব্যতিক্রম রান্নার ধরণ

সাধারণত জাপানিজদের খাবার তৈরির প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকে স্টিমিং (ভাপে রান্না), ফার্মেন্টিং (গাঁজন), স্লো-কুকিং, প্যান গ্রিলিং ও স্টির ফ্রাইং। রান্নার এই ধরণগুলোতে প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদানের পুষ্টিগুণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অক্ষুণ্ণ থাকে। ফলে যা খাবার খাওয়া হয়, তা থেকে প্রায় সবটুকুই উপকারিতা শরীর পায়।

চা পানের সংস্কৃতি

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566371494446.JPG

জাপানে বহু প্রজাতির চা পানের সংস্কৃতি বহু পুরনো। অন্যান্য দেশে যেখানে কফি পানকে আভিজাত্য হিসেবে দেখা হয়, জাপানে চা পানের সংস্কৃতিকে গড়ে তোলা হয়ে অভিজাত্যের সাথে। কফিতেও রয়েছে বহু স্বাস্থ্য উপকারিতা, তবে জাপানে উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির চা তথা মাচা চা থেকে পাওয়া যাবে আরও অনেক বেশি উপকারিতা।

ফ্রেশ খাবার

আমরা দৈনিক যে খাবারগুলো খাই, তার কতটা ফ্রেশ হয় ভাবুন তো একবার। এদিক থেকে জাপানের মানুষেরা খুব কড়া নিয়ম মেনে চলে। তাদের প্রতিটি খাবার একদম ফ্রেশ উপাদানে তৈরি হওয়া চায়। এমনকি বাজারজাত খাবার তৈরি হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তারা খাবার খেয়ে ফেলে। এক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী খাবার তৈরি করা হয়। ফলে বাড়তি খাবার থাকে না। স্বাভাবিকভাবেই ফ্রেশ খাবার শরীরে বাড়তি শক্তি জোগাতে কাজ করে।

তুলনামূলক ছোট পাত্র

খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের মাঝে রাখা জাপানি সংস্কৃতির অনেক বড় একটি অংশ। তারা ছোট পাত্রে চপস্টিক ব্যবহারের মাধ্যমে খাবার খায় এবং পাত্রে খাবারও নেয় পরিমাণে কম। এছাড়া জাপানিরা একদম পেট ভরে খাবার না খেয়ে, পেটের কিছু অংশ খালি রেখে দেয়। এতে করে খাবার পরিপূর্ণভাবে হজম হয়।

বেশি শারীরিক কার্যক্রম

বেশিরভাগ জাপানিরা নিকটতম বাসস্টেশনে হেঁটে যায়, এরপর ট্রেনে উঠে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করে এবং ট্রেন থেকে নেমে হেঁটে অফিসে যায়। প্রতিদিন সকালে এই নিয়ম মেনে চলার ফলে সকালের শরীরচর্চার অনেকখানি পূরণ হয়ে যায় এবং প্রয়োজনীয় কর্মশক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া এতে করে শরীর ও মন চাঙা হয়ে ওঠে, ফলে কর্মশক্তি ফিরে পাওয়া যায়।

নিয়মিত ডাক্তারের চেকআপ

জাপানের নাগরিকেরা নিয়মিত ডাক্তারের কাছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। এ নিয়মে কোন হেরফের হয় না। ফলে সামান্যতম স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিলেও, তা দ্রুত সমাধান করে ফেলা হয়। এতে করে বড় ধরনের কোন স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয় না।

আরও পড়ুন: যে তিনটি সময়ে হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি

আরও পড়ুন: প্যাসিভ স্মোকিংয়ে ক্যানসার ঝুঁকিতে আমরা সবাই!

নখ কাটতে হবে সঠিক নিয়মে

নখ কাটতে হবে সঠিক নিয়মে
ছবি: সংগৃহীত

যে কাজটি সেই ছোটবেলা থেকেই করে আসছেন, সেটা সম্পর্কেও থেকে যেতে পারে সঠিক তথ্য ও নিয়ম জানার ভুল।

সঠিক নিয়ম ও তথ্য জানার জন্য বিশেষ ও নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। তাই আজকের এই ফিচারটি পড়লে আপনি জানতে পারবেন নিজেকে ও নিজের নখকে সুস্থ রাখা সঠিক পদ্ধতি।

নখ কাটার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানানো আগে একটা প্রশ্ন রাখা যাক। আপনি কী নখ খুব বেশি গভীর করে কাটেন, অর্থাৎ নখের নিচের নরম অংশ বা কিউটিকল পর্যন্ত বা সেটা ছাড়িয়ে? উত্তর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইতিবাচক হবে। কারণ ছোট থেকেই আমাদের শেখানো হয়, নখ কাটতে হয় একদম সম্পূর্ণ গোঁড়ার অংশ থেকে।

কিন্তু এভাবে নখ কাটা একেবারেই অনুচিত। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটলোজি জানাচ্ছে, কিউটিকল পর্যন্ত গভীর করে নখ কাটার ফলে নখ ও নখের পাশেপাশের নমনীয় স্থান খুব সহজেই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এতে করে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় তুলনামূলক অনেক বেশি।

সঠিকভাবে নখ কাটার জন্য মূলত চারটি নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। দেখে নিন নিয়ম চারটি।

নখ ভিজিয়ে রাখা

নখ কাটার পূর্বে অবশ্যই মিনিট পাঁচেকের জন্য কুসুম গরম পানিতে নখ ভিজিয়ে রাখতে হবে। পায়ের নখ হাতের নখের চাইতে তুলনামূলক বেশি মোটা হওয়ায় দশ মিনিটের মতো ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে করে নখ নরম যাবে এবং নখ কাটতে সুবিধা হবে।

নিয়মিত ট্রিম করা

নখের দুই পাশের অংশ হালকা কেটে অনেকেই নখ লম্বা করতে পছন্দ করেন। এ বিষয়ে ডার্মাটলোজিস্ট শারি লিপনার জানান, লম্বা নখ দেখতে সুন্দর লাগলেও সঠিক আকৃতিতে নখ ছোট রাখাই স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। এতে করে নখ ভেঙে যাওয়া বা উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

নখ পরিষ্কার থাকা চাই

শুধু নখ কেটে সঠিক আকৃতিতে রাখাই যথেষ্ট নয়, নখের ভেতরের ও চারপাশের অংশ পরিষ্কার থাকা চাই। নখের ভেতর জমে থাকা ময়লা থেকেই নখে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ ও ইনফেকশন হতে পারে।

ফাইলিং করা জরুরী

আমাদের দেশে সাধারণত নিয়মিত নখ কাটা হলেও নখ ফাইলিং করা হয় না একেবারেই। কিন্তু নখকে মসৃণ ও দৃঢ় রাখতে চাইলে নখ কাটার পর ফাইলিং করার কোন বিকল্প নেই। এতে করে নখ দেখতেও সুন্দর লাগে।

আরও পড়ুন: ডিম ভাঙার সঠিক নিয়মটি জানেন তো?

আরও পড়ুন: বেশি খেয়ে ফেললে কী করবেন?

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র