Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

ধনিয়া পাতাতেও আছে স্বাস্থ্য গুণ!

ধনিয়া পাতাতেও আছে স্বাস্থ্য গুণ!
ধনিয়া পাতাতেও রয়েছে নানান উপকারিতা। ছবি: আসিফ
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

বাঙালি ঘরানার হরেক রান্নায় ধনিয়া পাতা না থাকাটাই অস্বাভাবিক বিষয়।

ভর্তা-ভাজি থেকে শুরু করে ডাল কিংবা মাছের পদেও ধনিয়া পাতার সুঘ্রাণ থাকা চাই। এমনকি পরিবেশনের জন্যেও প্রয়োজন হয় ধনিয়া পাতা।

প্রতিদিন যে খাদ্য উপাদানটি খাওয়া হচ্ছে, তার গুণ কী শুধুই সুগন্ধের মাঝেই সীমাবদ্ধ? মোটেও নয়। খুব পরিচিত ও সাধারণ ধনিয়া পাতারও রয়েছে অবাক করার মতো বেশ কিছু স্বাস্থ্য গুণাগুণ। তারই কিছু এখানে তুলে ধরা হলো।  

চোখকে সুরক্ষিত রাখে

ধনিয়া পাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-এ, যা চোখকে সুস্থ রাখতে ও রাতকানার সমস্যাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। ভাবতেই পারেন, ভিটামিন-এ তো অনেক খাদ্য উপাদানেই পাওয়া যায়, ধনিয়া পাতা থেকে পাওয়া ভিটামিন-এ’র বিশেষত্ব কি? ধনিয়া পাতায় থাকা বিশেষ ধরণের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যারোটেনয়েডস থেকে এই ভিটামিন-এ পাওয়া যায়। যা চোখে স্বাস্থ্যের জন্য আলাদাভাবে উপকারিতা বহন করে।

ভালো রাখে হৃদযন্ত্র

ধনিয়া পাতায় তুলনামূলক বেশি মাত্রায় পলিফেলন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হৃদযন্ত্রের পাশাপাশি লিভারের জন্যে উপকারি ভূমিকা পালন করে। ধনিয়া পাতার রস রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও রক্তের লিপিড প্রোফাইলের মাত্রায় সামঞ্জস্য আনতে কাজ করে।

ডায়বেটিসকে রাখে নিয়ন্ত্রণে

ডায়বেটিসে আক্রান্ত কিছু ইঁদুরের উপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, ধনিয়া পাতার রস রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনে, খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় ও ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়া ডায়বেটিসে আক্রান্ত রোগীদের রক্তের লিপিট প্রোফাইলের মাত্রায় অসামঞ্জস্যতা থাকার ফলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের সৃষ্টি হয়। যার ফল স্বরূপ নেতিবাচক প্রভাব পড়ে হৃদযন্ত্র, কিডনি, লিভারসহ অন্যান্য প্রত্যাঙ্গের উপর। ধনিয়া পাতার রস এই অক্সিডেটিভ স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখতে বা কমাতে সাহায্য করে।

প্রদাহ কমায় ধনিয়া পাতা

রিউমেতিক ফিভার কিংবা আর্থ্রাইটিসের সমস্যার ফলে শরীরে প্রদাহ ও ফোলাভাব দেখা দিলে, ধনিয়া পাতার রস সেটা কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। কীভাবে? ধনিয়া পাতার রসে আছে বেটা-সিটোস্টেরল ও বেটা-সিটোস্টেরলিন। যা প্রদাহ বিরোধী উপাদান হিসেবে কাজ করে। এছাড়া ধনিয়া পাতার পলিফেনল মূলক অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও প্রদাহকে কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অ্যালার্জি, র‍্যাশ ও ক্ষত সারাতে সাহায্য করে

পোকামাকড়ের কামড়, ত্বকের র‍্যাশ, চুলকানির প্রাদুর্ভাব, ত্বকের প্রদাহ ও অ্যালার্জির সমস্যাইয় ধনিয়া পাতার রস খুব উপকারি। অ্যালার্জির জন্য এ জন্য এক কাপ ধনিয়া পাতা ও ১/৩ কাপ পানি একসাথে ব্লেন্ড করতে হবে। এরপর ছেঁকে এই রসটি আক্রান্ত স্থানে দিনে দুইবার মালিশ করতে হবে। প্রদাহের জন্য রসটি দুই টেবিল চামচ করে দিনে দুইবার পান করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস
আঙুরের রস

মৌসুমি ফলগুলো বছরের শুধু নির্দিষ্ট একটি সময়েই পাওয়া যায়।

সেদিক থেকে আঙুর প্রাধান্য পাবে অনেক বেশি। পুরো বছর জুড়ে সহজলভ্য এই ফলটি শুধু খেতেই সুমিষ্ট ও সুস্বাদু নয়, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও ত্বকের জন্যেও চমৎকার উপকারিতা বহন করে।

গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে জানা যায়, আঙুর থেকে পাওয়া যাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও। সেদিক থেকে আঙুরের রসকে বলা যেতে পারে আধুনিক সময়ের ডিটক্স ড্রিংক।

প্রায় ৬০০০ বছর আগে থেকেই আঙুর তার ঔষধি গুণাগুণের জন্য পরিচিত। এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হয় মিশরিয়দের। তারাই প্রথম আঙুর, আঙুরের রস, আঙুরের মদ ও তার গুণাগুণের সাথে পরিচিত করায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455706012.jpg

আঙুরের রসের উপকারিতাগুলো কী?

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান সমৃদ্ধ আঙুরের রস হাইপারটেনশন ও চেহারায় বয়সের ছাপ দেখা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্লথ করে দেয়। এমনতর আরও বহু উপকারিতা রয়েছে এই ফলের রসে, যার মাঝে প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

দূরে রাখে হৃদরোগ

শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে, আঙুরে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এছাড়া রয়েছে কোয়েরসেটিন, প্রোসায়ানাইডস, ট্যানিন ও স্যাপনিনসের মতো ফাইটোকেমিক্যালস। এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে থেরাপিউটিক প্রক্রায়ার মতো কাজ করে বলে জানাচ্ছে বেশ কিছু গবেষণা।

বিশেষ করে লাল আঙুর রক্তের ভালো কোলেস্টেরল (HDL) এর মাত্রা বৃদ্ধিতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) এর মাত্রা হ্রাস করতে কাজ করে। এতে করে খুব সহজেই হৃদযন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি হারানোর প্রক্রিয়া স্লথ করে

আঙুরের রসের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান নিউরনাল সিগন্যালে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে কাজ করে। নিয়মিত আঙুরের রস পানে ডিমেনশিয়ার সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাকে হ্রাস করে। রেসভারট্রল এর মতো অ্যাকতিভ পলিফেনল মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং নতুন তথ্য শেখা, মুড ভালো করা ও স্মৃতিশক্তিকে প্রখর করায় সাহায্য করে।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হলো ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার অন্যতম বড় একটি কারণ। পরিমিত মাত্রায় আঙুরের রস পানে ইনস্যুলিন রেসিস্ট্যান্সের মাত্রা হ্রাস করে। এতে থাকা ফ্ল্যাভনোলস, রেসভেরাট্রল ও ফেনলিক অ্যাসিড হলো প্রধান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455724535.JPG

এতে রয়েছে অ্যান্টি-ক্যানসার উপাদান

লাল আঙুরের রস ডিএনএর ক্ষতির মাত্রা কমাতে কাজ করে, যা থেকে ক্যানসার দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোরিয়াতে হওয়া একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে, নিয়মিত লাল আঙুরের রস মানে ডিএনএর অক্সিডেটিভ ড্যামেজের মাত্রা কমে যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

শুধু তাই নয়,  আঙুরের ফাইটোকেমিক্যালস কোলন ক্যানসারের কোষ ধ্বংসে কাজ করে। কেমোথেরাপি চলাকালীন সময়ে ফ্ল্যাভনয়েড সমৃদ্ধ আঙুরের রস কেমোর সাইড ইফেক্ট তথা- বমিভাব, মাথাঘোরানো কমাতে সাহায্য করে।

সুস্থ রাখে পাকস্থলী

প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে আঙুরের রস যোগ করার ফলে পাকস্থলীর মাইক্রোবিয়াল পরিবেশ পরিবর্তন করে দেয়। আঙুরের রসের পলিফেলনস প্যাথোযেনস, অক্সিডেন্টিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ থেকে পাকস্থলিকে রক্ষা করে। এছাড়া এতে থাকা আঁশ খাদ্য পরিপাকে সহায়ক।

আরও পড়ুন: মৌসুমি ফল জামের সাত উপকারিতা

আরও পড়ুন: আট উপকারিতার আতা ফল

সাদামাটা নিমকিমাখা

সাদামাটা নিমকিমাখা
ছবি: নিমকিমাখা

হুটহাট করেই হাবিজাবি কোন খাবার খেতে ইচ্ছা করে।

এই হাবিজাবিটা আসলে কি, সেটা বুঝতে পারা দুষ্কর। এমন খাবার খাওয়ার ইচ্ছাকে অনেকে কাব্যিকভাবে ছোটখাটো ক্ষুধা নামেও ডেকে থাকে।

হুট করে কোন কিছু খেতে ইচ্ছা করলে ঘরে থাকা অল্প জিনিস কীভাবে মুখরোচক ও নতুন খাবার তৈরি করা যায় এইটাই যেন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মন অবস্থায় ঘরে থাকা নিমকি ও অল্প পেঁয়াজ-মরিচেই তৈরি করে নেওয়া যাবে নিমকিমাখা। কীভাবে তৈরি করবেন? চটজলদি দেখে নিন রেসিপিটি।

নিমকিমাখা তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566394524865.JPG

১. ২০০ গ্রাম নিমকি।

২. একটি পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. একটি টমেটো কুঁচি।

৪. দুইটি কাঁচামরিচ কুঁচি।

৫. অর্ধেকটি শসা কুঁচি।

৬. অর্ধেকটি ক্যাপসিকাম কুঁচি।

৭. একমুঠো ধনিয়াপাতা কুঁচি।

৮. এক টেবিল চামচ লেবুর রস।

৯. দুই টেবিল চামচ সরিষার তেল।

১০. স্বাদমতো লবণ।

নিমকিমাখা যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566394543339.JPG

১. প্রথমে সরিষার তেলে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ কুঁচি চটকে নিতে হবে। এতে টমেটো, শসা, ক্যাপসিকাম ও ধনিয়া কুঁচি দিয়ে মাখিয়ে লবণ দিতে হবে।

২. সকল উপাদান মাখানো হয়ে গেলে নিমকি দিয়ে পেঁয়াজ-কাঁচামরিচের সাথে মাখিয়ে তার উপরে লেবুর রস ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র