Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

প্রচণ্ড গরমেও এড়িয়ে চলুন ঠাণ্ডা পানি!

প্রচণ্ড গরমেও এড়িয়ে চলুন ঠাণ্ডা পানি!
ঠাণ্ডা পানি পান করা থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকতে হবে। ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

হুট করেই গত কয়দিন ধরে আবহাওয়ার মেজাজ খুব তিরিক্ষি হয়ে আছে।

প্রচণ্ড রোদ ও গরমের তান্ডবে অতিষ্ট হচ্ছে সবাই। এমন আবহাওয়ায় এক গ্লাস শীতল পানির আবেদন উপেক্ষা করা যেন অসম্ভব!

কিন্তু নিজের সুস্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখার স্বার্থেই আপনাকে এই অসম্ভব কাজটি সম্ভব করতে হবে। গরমে অতিরিক্ত ঘাম হলে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি, স্যালাইন কিংবা ডাবের পানি পান করতে হবে। খুব বেশি হলে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানির সাথে ঠান্ডা পানি মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। তবে শুধু ঠাণ্ডা পানি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে যথাসম্ভব।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/19/1537351025438.jpg

কেন ঠাণ্ডা পানি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে?

খুব সহজভাবেই বলা যাক। গরম পানি দিয়ে মুখ ধোয়া হলে মুখের রোমকূপগুলো খুলে যায়। অন্যদিকে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধোয়ার ফলে রোমকূপগুলো সংকুচিত বা বন্ধ হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে ঠাণ্ডা পানি পানের ফলে পরিপাকতন্ত্র সংকুচিত হয়ে আসে। যার ফলে পরিপাকতন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।

এছাড়া ঠাণ্ডা পানি পানের আরও কিছু নেতিবাচক প্রভাব আছে। যা এখানে তুলে ধরা হলো।

১. ঠাণ্ডা পানি কিংবা যেকোন ধরণের পানীয় পানের ফলে হাইড্রেশন বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দেখা দেয় ডিহাইড্রেশন (পানিস্বল্পতা) এর সমস্যা।

২. ঠাণ্ডা পানি পানের ফলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রায় পরিবর্তন আসে। এর প্রভাব পড়ে খাদ্য পরিপাক ও খাদ্যের পুষ্টিগুণাগুণ শোষণের উপরে। কিভাবে? ঠাণ্ডা পানি পানের ফলে শরীর সেই তাপমাত্রায় অভ্যস্ত হতে ক্যালরি ও সময় ব্যয় করে। ফলে খাদ্য পরিপাক করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অবহেলিত হয়ে পড়ে।

৩. খাবার খাওয়ার পর ঠাণ্ডা পানি পানের ফলে অতিরিক্ত মিউকাস উৎপন্ন হয়। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। এমন সময় খুব সহজেই ঠাণ্ডা লাগার সমস্যা দেখা দেয়।

৪. খাবার খাওয়ার মাঝে ঠাণ্ডা পানি পানের ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণ নিয়মেই খাবার খাওয়ার মাঝে পানি পান করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখানে দেখা যায় অনেকেই খাবার খাওয়ার মাঝেই ঠাণ্ডা পানি পান করেন। এতে করে খাবারের ফ্যাটগুলো শরীরে যাওয়ার পরপরই জমে যায়, শোষিত হয় না। যা নিশ্চিতভাবেই স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/19/1537351058416.jpg

আরও যে বড় সমস্যাটি দেখা দেয় তা হলো, পাকস্থলীস্থ খাদ্য সহজে হজম হতে চায় না। স্বাভাবিক সময়ের চাইতে অনেক বেশি সময় প্রয়োজন হয় খাদ্য পরিপাকে। যে কারণে প্রায়শ পেটফাঁপা ভাব সহ নানান রকম সমস্যা দেখা দেয়।

অনেকেই বলেন ঠাণ্ডা পানি পানের ফলে ক্যালরি বার্ণ হয়। কীভাবে ক্যালরি বার্ণ হয়? পরিপাকতন্ত্রের উপর চাপ পড়ার ফলে তাকে বাড়তি কাজ করতে হয়। যে কারণে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালরি বার্ণ হয়।

কিন্তু ক্যালরি বার্ণ করার জন্য এটা মোটেও স্বাস্থ্যকর কোন উপায় নয়। যদি ক্যালরি বার্ণ করার প্রয়োজন হয়, তবে শরীরচর্চা করতে হবে। কিন্তু ঠাণ্ডা পানি পান করা এড়িয়ে যেতে হবে যথাসম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন :

সাদামাটা নিমকিমাখা

সাদামাটা নিমকিমাখা
ছবি: নিমকিমাখা

হুটহাট করেই হাবিজাবি কোন খাবার খেতে ইচ্ছা করে।

এই হাবিজাবিটা আসলে কি, সেটা বুঝতে পারা দুষ্কর। এমন খাবার খাওয়ার ইচ্ছাকে অনেকে কাব্যিকভাবে ছোটখাটো ক্ষুধা নামেও ডেকে থাকে।

হুট করে কোন কিছু খেতে ইচ্ছা করলে ঘরে থাকা অল্প জিনিস কীভাবে মুখরোচক ও নতুন খাবার তৈরি করা যায় এইটাই যেন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মন অবস্থায় ঘরে থাকা নিমকি ও অল্প পেঁয়াজ-মরিচেই তৈরি করে নেওয়া যাবে নিমকিমাখা। কীভাবে তৈরি করবেন? চটজলদি দেখে নিন রেসিপিটি।

নিমকিমাখা তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566394524865.JPG

১. ২০০ গ্রাম নিমকি।

২. একটি পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. একটি টমেটো কুঁচি।

৪. দুইটি কাঁচামরিচ কুঁচি।

৫. অর্ধেকটি শসা কুঁচি।

৬. অর্ধেকটি ক্যাপসিকাম কুঁচি।

৭. একমুঠো ধনিয়াপাতা কুঁচি।

৮. এক টেবিল চামচ লেবুর রস।

৯. দুই টেবিল চামচ সরিষার তেল।

১০. স্বাদমতো লবণ।

নিমকিমাখা যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566394543339.JPG

১. প্রথমে সরিষার তেলে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ কুঁচি চটকে নিতে হবে। এতে টমেটো, শসা, ক্যাপসিকাম ও ধনিয়া কুঁচি দিয়ে মাখিয়ে লবণ দিতে হবে।

২. সকল উপাদান মাখানো হয়ে গেলে নিমকি দিয়ে পেঁয়াজ-কাঁচামরিচের সাথে মাখিয়ে তার উপরে লেবুর রস ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

হাড়ের সুস্বাস্থ্যে পাঁচ নিয়ম

হাড়ের সুস্বাস্থ্যে পাঁচ নিয়ম
ছবি: সংগৃহীত

সম্পূর্ণ শারীরিক সুস্বাস্থ্যে হাড়ের ভূমিকা অনেকখানি।

আমাদের শরীরের পুরো গঠন ও কাঠামো নির্ভর করে হাড়ের উপরে। ফলে হাড়ে যদি কোন সমস্যা দেখা দেয়, তার প্রভাব পরে সামগ্রিকভাবে। তরুণ বয়সে হাড় সবচেয়ে বেশি শক্ত ও সুস্থ থাকে, যদি সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা যায় ও যত্ন নেওয়া হয়। তবে বয়স যত বৃদ্ধি পেতে থাকে, হাড়ের শক্তি কমতে থাকে এবং হাড় ক্ষয় হতে থাকে। ফলে ৪৫-৫০ বছর পর থেকেই হাড়জনিত নানাবিধ সমস্যা দেখা দেওয়া শুরু হয়। এ কারণেই হাড়ের প্রতি আলাদাভাবে যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। জেনে নিন হাড়ের যত্নে কোন বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিতে হবে।

পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে জানা

স্বাস্থ্যগত বিষয়ে ফ্যামিলি হিস্ট্রি অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। যার বাবা-মা অথবা ভাই-বোনের অস্টিওপরোসিসের সমস্যা রয়েছে, তারও এই সমস্যাটি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পরিবারের মানুষদের হাড়ের স্বাস্থ্য ও সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর করতে হবে এবং সেইভাবে নিজের হাড়ের যত্ন নেওয়ার বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠতে হবে।

ক্যালসিয়াম গ্রহণ বৃদ্ধি

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566384501379.jpeg

হাড়ের বিষয়ে আলোচনা আসলে প্রথমেই যে শব্দটি মাথায় আসবে সেটা হলো ক্যালসিয়াম। প্রাকৃতিক এই মিনারেলটির সাহায্যে হাড় ও দাঁত গড়ে ওঠে ও দৃঢ়তা পায়। তবে ক্যালসিয়ামই শেষ কথা নয়। শরীরকে প্রস্তুত করতে হবে ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য। নতুবা ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া হলেও, তার পুষ্টিগুণ শরীরে ঠিকভাবে শোষিত হবে না এবং ক্যালসিয়ামের অভাব তৈরি হবে।

ভোলা যাবে না ভিটামিন-ডি কে

ক্যালসিয়ামের সাথে সরাসরিভাবে সংযুক্ত হলো ভিটামিন-ডি। একইসাথে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি হাড়কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন-ডি পাওয়া যাবে চিংড়ি, কমলালেবুর রস, ডিমের কুসুম, টুনা মাছ প্রভৃতি থেকে। এছাড়া রোদের আলো ভিতামিন-ডি এর অন্যতম বড় একটি উৎস। বর্তমান সময়ে অনেকেই রোদের আলোর অপর্যাপ্ততায় ভিটামিন-ডি এর অভাবে ভুগছেন। সেক্ষেত্রে প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট শরীরে রোদের আলো লাগানোর চেষ্টা করতে হবে।

নিয়মিত শরীরচর্চা করা

শুধু স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণই যথেষ্ট নয়, শরীরচর্চার অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে হাড়কে সুস্থ রাখতে চাইলে। শরীরচর্চার বিভিন্ন কলাকৌশল হাড়কে দৃঢ় করতে কাজ করে। দৌড়ানো, দ্রুত হাঁটা, দড়িলাফ কিংবা সিঁড়িতে ওঠানামার মতো হালকা ঘরানার শরীরচর্চাগুলোই হাড়কে ভালো রাখতে উপকারী।

সীমিত মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ

ক্যাফেইনের বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে বটে, তবে দুঃখজনকভাবে হাড়ের জন্য নয়। অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে বাধাদান করে। তাই প্রতিদিন দুই কাপ পরিমাণ কফি পান নিরাপদ। এর বেশি হয়ে গেলে তা হাড়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: ওয়ার্ল্ড অস্টিওপরোসিস ডে: হাড় থাকুক মজবুত

আরও পড়ুন: ভিটামিন ডি ঘাটতি: ঝুঁকি, উপসর্গ এবং বৃদ্ধির উপায়

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র