Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

দুপুরে খাওয়ার পর কেন ঘুম পায়?

দুপুরে খাওয়ার পর কেন ঘুম পায়?
দুপুরে খাবার খাওয়ার পরেই দেখা দেয় ঘুম ভাব। ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

দুপুরে পেটপুরে খাওয়ার পর ঘুমে চোখ খুলে রাখাই কষ্টকর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

এদিকে ক্ষিধে ভাব নিয়েও বেশিক্ষণ থাকা সম্ভব নয়। তরকারি-ডাল-ভাত কিংবা বার্গার, পিৎজা যাই খাওয় হোক না কেন, কিছুক্ষণ পর থেকেই চোখ আপনাআপনিই বন্ধ হয়ে আসবে ঘুমের প্রাবল্যে। সে এক ভীষণ বিশ্রী অবস্থা!

দুপুরে খাবার খাওয়ার পর চোখে ঘুম এসে ভর করলে কোনভাবেই সেই ঘুম তাড়ানো সম্ভব হয় না। বাসাতে থাকলে না হয় ঘন্টাখানেক ঘুমিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু অফিসে তো তার অবকাশ নেই। হাজার কাজের ব্যস্ততা মাথায় চেপে থাকা পরেও, ঘুম ভাবের জন্য কাজে মনোযোগ দেওয়া খুবই চ্যালেঞ্জিং বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

কেন এমনটা হয়?

বিব্রতকর এই সমস্যাটি দেখা দেওয়ার কারণ সম্পর্কে বলেছেন ডায়েটেশিয়ান ও স্পোর্টস নিউট্রিশনিস্ট রবি ক্লার্ক। তিনি জানান, দুপুরে খাওয়ার পর ঘুম ভাব দেখা দেওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। এমনটা হওয়ার মূল কারণ হলো খাদ্য পরিপাক হওয়া।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/06/1536225971057.jpg

তিনি বলেন, ‘শরীরের কার্যকারিতা ও বেঁচে থাকার জন্য আমাদের শক্তি প্রয়োজন। এই শক্তি আমরা পরিপাককৃত খাবার থেকেই পাই। খাবার পরিপাক হয়ে গ্লুকোজ ও অন্যান্য ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টে পরিণত হয়। মূলত পরিপাক ক্রিয়া আমাদের শরীরের এই ধরণের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে’।

দুপুরে খাওয়ার পর ঘুম ভাব দেখা দেওয়ার অন্য আরেকটি কারণ হলো, মিষ্টি জাতীয় খাদ্য গ্রহণ। মিষ্টি খাবার গ্রহণের পর রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়। যা এসেনশিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড ট্রিপটোফেনকে সরাসরি মস্তিষ্কে পাঠিয়ে দেয়। মস্তিষ্কে পৌঁছানোর পর সেরোটোনিন ও মেলাটোনিনের নিঃসরণ বৃদ্ধি করে। এই দুইটি হরমোন ‘আনন্দ ভাব’ ও ‘ঘুম ভাব’ তৈরির জন্য দায়ী।

আরো একটি কারণ হলো, অনেক সময় আমরা দুপুরে পরিমাণ ও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেয়ে ফেলি। যা শরীরে অস্বস্তি ও ক্লান্তিভাব এনে দেয়। যে কারণে বলা হয়ে থাকে, পেট কিছুটা খালি রেখে খাবার খাওয়ার জন্য।

কীভাবে এড়ানো যাবে এই সমস্যাটি?

বিরক্তিকর এই সমস্যাটি এড়াতে কিছু টিপস জানিয়েছেন রবি ক্লার্ক। চটজলদি দেখে নিন টিপসগুলো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/06/1536225991528.jpeg

১. সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া যাবে না। সকালে পুষ্টিকর খাবার শরীরের ক্লান্তিভাব দূর করে। পাশাপাশি সকালে খালিপেটে থাকার ফলে দুপুরে বেশি খাওয়া হয়। ফলে দেখা দেয় ঘুম ভাব।

২. সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। একবারে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। রবি পরামর্শ দেন, সবুজ সবজি ও রঙিন ফল বেশি খাওয়ার জন্য।

৩. যদি সম্ভব হয় তবে ঘরে বা অফিসের কক্ষে বসে খাবার খাওয়ার পরিবর্তে খোলা কোন স্থানে বসে খাবার খেতে হবে। এতে মন চনমনে থাকবে। যা ঘুম ভাব তৈরি হতে বাধা দেবে। ঘরের বাইরে খাবার খাওয়া সম্ভব না হলেও, খাবার পর বাইরে থেকে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে আসতে হবে। এতে ঘুম ভাব দেখা দিলেও সেটা কেটে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :

দইয়ের ড্রেসিংয়ে সবজি ও কুইনোর সালাদ

দইয়ের ড্রেসিংয়ে সবজি ও কুইনোর সালাদ
সবজি ও কুইনোর সালাদ, ছবি: সংগৃহীত

গরমে খাবারে ভীষণ অরুচি দেখা দেয়।

পেটে ক্ষুধাভাব থাকলেও কিছু খেতে ইচ্ছা হয় না। প্রিয় মাছ-মাংসও খেতে রুচি হয় না একদম। গরমে উদর পূর্তিতে সবজি ও ফলের মিশেলে সালাদ হলে সবচেয়ে ভালো হয়। সাথে যদি থাকে কুইনো ও টকদই এর উপস্থিতি, তবে তো কথাই নেই।

গরমে রাতের খাবার হিসেবে পারফেক্ট এই সালাদটি স্বাস্থ্য সচেতনেরাও খেতে পারবেন পেট ভরে। স্বাদু ও স্বাস্থ্যকর সালাদের রেসিপিটিতে চোখ বুলিয়ে নিন।

সবজি ও কুইনোর সালাদ তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561368811677.JPG

১. তিনটি ছোট আকৃতির বিট।

২. পাঁচটি ছোট-মাঝারি আকৃতির গাজর।

৩. তিন চা চামচ তেল।

৪. ১/২ কাপ কুইনো।

৫. এক কাপ চিকেন ব্রথ (না থাকলে পানি)

৬. চারটি টমেটো টুকরো করে কাটা।

৭. ১২টি আঙ্গুর।

৮. ১/৪ কাপ আখরোট।

৯. এক চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া।

১০. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

১১. ১/২ চা চামচ লবণ।

১২. কয়েক টুকরো পনির।

সালাদ ড্রেসিংয়ের জন্য যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561368831052.JPG

১. ১/২ কাপ টকদই।

২. দুই টেবিল চামচ অলিভ ওয়েল।

৩. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

৪. আধা চা চামচ লবণ।

৫. ১/৪ কাপ ফ্রেশ ধনিয়া পাতা কুঁচি।

সবজি ও কুইনোর সালাদ যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561368844826.JPG

১. ওভেন ৪০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রায় প্রি-হিট করতে দিয়ে বিটগুলো অলিভ অয়েলে মাখিয়ে ফয়েল পেপারে মুড়িয়ে ৪০ মিনিট চুলায় পুড়িয়ে নিতে হবে। পোড়ানো শেষে ওভেন থেকে বের করে ঠাণ্ডা করতে হবে এবং চার টুকরা করে বিটগুলো কেটে নিতে হবে।

২. গাজর ছোট টুকরো করে কেটে বেকিং শিটের উপরে বিটের সাথে ছড়িয়ে রাখতে হবে এবং তার উপরে দুই চা চামচ তেল, মশলার গুঁড়া ও লবণ ছিটিয়ে দিতে হবে। এবারে বিট ও গাজর প্রি-হিটেড ওভেনে ২৫ মিনিট বেক করে নিতে হবে।

৩. এর মাঝে কুইনো রেঁধে নিতে হবে। প্রথমে কুইনো ভালোভাবে পানিতে ধুয়ে, পানি ঝরিয়ে পরিমাণমতো ব্রথের পানি দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। ব্রথে লবণ থাকলে আর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। না থাকলে আধা চা চামচ দিতে হবে। কুইনো হয়ে গেলে নামিয়ে নিতে হবে।

৪. এখন সালাদ ড্রেসিং তৈরি করতে হবে। ড্রেসিং তৈরির জন্য একটি পাত্রে দই, তেল, ধনিয়া পাতা, জিরা গুঁড়া ও লবণ একসাথে নিয়ে ভালভাবে হুইস্ক করতে হবে। সকল উপাদান মিশে ঘন পেস্ট তৈরি হলেই সালাদ ড্রেসিং তৈরি হয়ে যাবে।

৫. সবজিগুলো বেক করা হয়ে গেলে ওভেন থেকে বের করে নিতে হবে। এবারে সালাদ পরিবেশনের বড় প্লেট বা ট্রের উপরে প্রথমে কুইনোর স্তর দিতে হবে। তার উপরে রোস্টেড বিট, গাজর ও গাজর, টমেটো টুকরা। তার উপরে পনির ও ড্রেসিং দিয়ে সবশেষে আখরোট ছড়িয়ে পরিবেশন করতে হবে একেবারেই হালকা ধাঁচের এই সালাদটি।

আরও পড়ুন: ঘরে তৈরি সবজি সিঙ্গারা

আরও পড়ুন: মটরশুঁটিতে তৈরি ভিন্নমাত্রার মটর-পরোটা

শিশুদের আত্মার খোরাকে সাহিত্য, শিল্পকর্ম ও সংগীত!

শিশুদের আত্মার খোরাকে সাহিত্য, শিল্পকর্ম ও সংগীত!
গল্পের বইয়ের কল্পিত রাজ্যে শিশুরা খুঁজে পাবে অনাবিল আনন্দ, ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে শিশুদের স্কুল ব্যাগের ওজন বাড়তে থাকে পাল্লা দিয়ে।

পাঠ্যবইয়ের ভিড়ে, পড়ালেখার চাপে নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয় হয় একদম ছেলেবেলা থেকেই। স্কুল, কোচিং, হোম টিউটর, হোমওয়ার্ক, পড়ালেখার ব্যস্ততার ভিড়ে নিজের জন্য শিশুদের আলাদা সময় কই!

এভাবেই বেড়ে উঠছে এখনকার সময়ের বেশিরভাগ শিশুরা। গল্প ও কবিতার বই পড়া, গান শোনা, সাহিত্য সম্পর্কে জানা, চিত্রকর্মের সাথে পরিচিত হওয়ার সময় নেই একদম। সময় স্বল্পতা ও সন্তানদের পড়ালেখার বাড়তি চাপের দরুন অভিভাবকেরাও যেন নিরুপায়। পড়ালেখার পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ের সাথে তাদের পরিচিতি ঘটানোর বিষয়গুলোতে হয়তো তারাও তাই গুরুত্ব দিতে পারেন না।

অথচ একটি শিশুর পরিপূর্ণভাবে বেড়ে উঠতে বিশুদ্ধ বাতাস, স্বাস্থ্যকর খাবার ও খেলাধুলা যতখানি প্রয়োজন, ঠিক ততখানি প্রয়োজন গল্প ও কবিতার বই, গান, সাহিত্য ও শিল্পকর্ম। এই বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে অস্ট্রিড লিন্ডগ্রেন মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত ইংলিশ উপন্যাসিক স্যার ফিলিপ পালম্যান জানিয়েছেন, শিশুদের বিকাশের জন্য এই বিষয়গুলোও সমানভাবেই প্রভাব রাখে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561357170717.jpg

খুব সহজ ও চমৎকার উদাহরণের সাহায্যে তিনি এই বিষয়টি বোঝাতে চেষ্টা করেছেন। পালম্যান বলছেন, ‘আপনি যদি আপনার সন্তানকে খাবার ঠিকমতো না দেন, তবে তার প্রভাব খুব দ্রুত দেখা দেবে। যা হবে দৃশ্যমান। এদিকে আপনি যদি তাকে বিশুদ্ধ বাতাস ও উন্মুক্ত স্থানে খেলতে না দেন, তার ক্ষতিটাও হবে দৃশ্যমান। তবে সেটা চট করে ধরা যাবে না। ঠিক একইভাবে শিশুদের যদি ভালোবাসা ও স্নেহ না দেওয়া হয়, তার প্রভাব কয়েক বছরের মধ্যে দেখা না দিলেও, একটা সময়ে ঠিকই দেখা দেবে। যা একেবারে স্থায়ী।’

‘কিন্তু শিশুদের যদি সংগীত, সাহিত্য, শিল্পকর্মের সাথে পরিচিত না করানো হয়, তার ক্ষতিটা সহজে বোঝা যাবে না। কিন্তু খুব গভীরে সে ক্ষতিটা রয়ে যাবে। এই সকল বিষয়ের সাথে পরিচিত না হওয়া শিশুরাও সুস্থ শরীরে বেড়ে উঠবে, ঘুমাবে, দৌড়ঝাঁপ করবে, দুষ্টামি করবে আর দশটি সাধারণ শিশুর মতোই। কিন্তু খুব গভীরে সেই শিশুটির মাঝে কিছু একটার অভাব থেকেই যাবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561357191115.jpg

এই কিছু একটার অভাব হলো নিজ সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কের অভাব, তার সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠার অভাব, তাকে আপন করে নেওয়ার জন্য ভালোবাসার অভাব।

নিজ সংস্কৃতির চাইতে ভালোবাসার ও প্রিয় আর কিছু হতেই পারে না। সেই সংস্কৃতির সাথে ছেলেবেলা থেকে পরিচিতি না ঘটলে তার অভাবতি সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়।

বড় হওয়ার পর বা প্রাপ্তবয়স্ক হলে সংস্কৃতির নানান শাখার সাথে নিজ থেকে পরিচিতি ঘটবে। কিন্তু হুট করে এমন বিস্তৃত একটি বিষয়ের সাথে পরিচিত হওয়া ও ছোট থেকে সেটা জেনে ও বুঝে বড় হওয়ার মাঝে তফাৎ থেকেই যায়।

সংগীত, সাহিত্য, শিল্পকর্ম শুধুই সংস্কৃতির সাথে পরিচয় ঘটায় না, আত্মাকেও শুদ্ধ করে, আত্মার খোরাক যোগায়।

প্রতিটি বাবা-মা চান তার সন্তানকে পরিপূর্ণভাবে বড় করে তুলতে, জ্ঞানে ও বিদ্যায়। সেক্ষেত্রে শুধু পাঠ্যবইয়ের মাঝে শিশুদের আবদ্ধ না রেখে তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে বর্ণীল এই জগতের। যেখানে ভালোলাগা ও জ্ঞানের চর্চা থাকে সমান্তরালে।

আরও পড়ুন: শিশুদের জন্য খেলাধুলা কেন প্রয়োজন?

আরও পড়ুন: বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়াতে পারে সন্তানের ওজন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র