Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

দুপুরে খাওয়ার পর কেন ঘুম পায়?

দুপুরে খাওয়ার পর কেন ঘুম পায়?
দুপুরে খাবার খাওয়ার পরেই দেখা দেয় ঘুম ভাব। ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

দুপুরে পেটপুরে খাওয়ার পর ঘুমে চোখ খুলে রাখাই কষ্টকর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

এদিকে ক্ষিধে ভাব নিয়েও বেশিক্ষণ থাকা সম্ভব নয়। তরকারি-ডাল-ভাত কিংবা বার্গার, পিৎজা যাই খাওয় হোক না কেন, কিছুক্ষণ পর থেকেই চোখ আপনাআপনিই বন্ধ হয়ে আসবে ঘুমের প্রাবল্যে। সে এক ভীষণ বিশ্রী অবস্থা!

দুপুরে খাবার খাওয়ার পর চোখে ঘুম এসে ভর করলে কোনভাবেই সেই ঘুম তাড়ানো সম্ভব হয় না। বাসাতে থাকলে না হয় ঘন্টাখানেক ঘুমিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু অফিসে তো তার অবকাশ নেই। হাজার কাজের ব্যস্ততা মাথায় চেপে থাকা পরেও, ঘুম ভাবের জন্য কাজে মনোযোগ দেওয়া খুবই চ্যালেঞ্জিং বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

কেন এমনটা হয়?

বিব্রতকর এই সমস্যাটি দেখা দেওয়ার কারণ সম্পর্কে বলেছেন ডায়েটেশিয়ান ও স্পোর্টস নিউট্রিশনিস্ট রবি ক্লার্ক। তিনি জানান, দুপুরে খাওয়ার পর ঘুম ভাব দেখা দেওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। এমনটা হওয়ার মূল কারণ হলো খাদ্য পরিপাক হওয়া।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/06/1536225971057.jpg

তিনি বলেন, ‘শরীরের কার্যকারিতা ও বেঁচে থাকার জন্য আমাদের শক্তি প্রয়োজন। এই শক্তি আমরা পরিপাককৃত খাবার থেকেই পাই। খাবার পরিপাক হয়ে গ্লুকোজ ও অন্যান্য ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টে পরিণত হয়। মূলত পরিপাক ক্রিয়া আমাদের শরীরের এই ধরণের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে’।

দুপুরে খাওয়ার পর ঘুম ভাব দেখা দেওয়ার অন্য আরেকটি কারণ হলো, মিষ্টি জাতীয় খাদ্য গ্রহণ। মিষ্টি খাবার গ্রহণের পর রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়। যা এসেনশিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড ট্রিপটোফেনকে সরাসরি মস্তিষ্কে পাঠিয়ে দেয়। মস্তিষ্কে পৌঁছানোর পর সেরোটোনিন ও মেলাটোনিনের নিঃসরণ বৃদ্ধি করে। এই দুইটি হরমোন ‘আনন্দ ভাব’ ও ‘ঘুম ভাব’ তৈরির জন্য দায়ী।

আরো একটি কারণ হলো, অনেক সময় আমরা দুপুরে পরিমাণ ও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেয়ে ফেলি। যা শরীরে অস্বস্তি ও ক্লান্তিভাব এনে দেয়। যে কারণে বলা হয়ে থাকে, পেট কিছুটা খালি রেখে খাবার খাওয়ার জন্য।

কীভাবে এড়ানো যাবে এই সমস্যাটি?

বিরক্তিকর এই সমস্যাটি এড়াতে কিছু টিপস জানিয়েছেন রবি ক্লার্ক। চটজলদি দেখে নিন টিপসগুলো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/06/1536225991528.jpeg

১. সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া যাবে না। সকালে পুষ্টিকর খাবার শরীরের ক্লান্তিভাব দূর করে। পাশাপাশি সকালে খালিপেটে থাকার ফলে দুপুরে বেশি খাওয়া হয়। ফলে দেখা দেয় ঘুম ভাব।

২. সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। একবারে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। রবি পরামর্শ দেন, সবুজ সবজি ও রঙিন ফল বেশি খাওয়ার জন্য।

৩. যদি সম্ভব হয় তবে ঘরে বা অফিসের কক্ষে বসে খাবার খাওয়ার পরিবর্তে খোলা কোন স্থানে বসে খাবার খেতে হবে। এতে মন চনমনে থাকবে। যা ঘুম ভাব তৈরি হতে বাধা দেবে। ঘরের বাইরে খাবার খাওয়া সম্ভব না হলেও, খাবার পর বাইরে থেকে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে আসতে হবে। এতে ঘুম ভাব দেখা দিলেও সেটা কেটে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :

ঠোঁটের সৌন্দর্যে দারুচিনি

ঠোঁটের সৌন্দর্যে দারুচিনি
ছবি: সংগৃহীত

ত্বকের পরিচর্যা ও যত্নের পাশপাশি ঠোঁটের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

সঠিক যত্ন যেমন  ঠোঁটকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে, ঠিক তেমনভাবে অযত্নে ঠোঁটে দেখা দিতে পারে নানাবিধ সমস্যা। তবে আজকের ফিচারটি মূলত ঠোঁটের যত্ন নিয়ে নয়, প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহারে কীভাবে ঠোঁটকে আকর্ষণীয় দেখানো যাবে সেটাই জানানো হয়েছে।

প্রাকৃতিক উপাদানের মাঝে দারুচিনি ঠোঁটকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। প্রাকৃতিক এই উপাদানে থাকে ক্যাসিয়া অয়েল (Cassia Oil), যা একধরণের প্রশান্তিদায়ক এবং ত্বকের জন্য নিরাপদ উপাদান। তবে এটা ব্যবহারে ঠোঁটের রক্ত চলাচলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে ঠোঁট উজ্জ্বল, লালচে ও ফোলা দেখায়।

তাই দারুচিনিকে সবচেয়ে নিরাপদ, সহজলভ্য, সস্তা ও প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ধরা হয় ঠোঁটের সৌন্দর্যবর্ধক উপাদান হিসেবে। জেনে নিন দারুচিনি ব্যবহারে ঠোঁটের সৌন্দর্যবর্ধনে তিনটি ভিন্ন লিপ স্ক্রাব তৈরির প্রক্রিয়া।

দারুচিনি ও চিনির লিপ স্ক্রাব

এই লিপ স্ক্রাবটি তৈরিতে প্রয়োজন হবে এক টেবিল চামচ দারুচিনি পাউডার, এক টেবিল চামচ চিনি, এক টেবিলচামচ অলিভ অয়েল অথবা নারিকেল তেল। এই উপাদানগুলো মিশিয়ে নিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে চিনি যেন সম্পূর্ণ গলে না যায়। হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে এই স্ক্রাব ঠোঁটে ম্যাসাজ করে পাঁচ মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর পানিতে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

দারুচিনি ও আদার লিপ স্ক্রাব

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566463547394.JPG

এই লিপ স্ক্রাবটি তৈরিতে প্রয়োজন হবে এক-তৃতীয়াংশ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া, এক-তৃতীয়াংশ আদা গুঁড়া, এক ফোঁটা পিপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল, এক চা চামচ আমন্ড অয়েল। সকল উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই পেস্ট ঠোঁটে পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করে মিনিটখানেক রেখে দিয়ে এরপর ধুয়ে ফেলতে হবে।

দারুচিনি ও মধুর লিপ স্ক্রাব

এতে প্রয়োজন হবে এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া, আধা চা চামচ মধু ও আধা চা চামচ অলিভ অয়েল। উপাদান তিনটি একসাথে মিশিয়ে ঠোঁটে ম্যাসাজ করে দশ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কুসুম গরম পানিতে ঠোঁট ধুয়ে লিপবাম ব্যবহার করতে হবে।

আরও পড়ুন: যেমন হওয়া প্রয়োজন স্পর্শকাতর ত্বকের যত্ন

আরও পড়ুন: ত্বকের তিন যত্নে টমেটোর রস

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস
আঙুরের রস

মৌসুমি ফলগুলো বছরের শুধু নির্দিষ্ট একটি সময়েই পাওয়া যায়।

সেদিক থেকে আঙুর প্রাধান্য পাবে অনেক বেশি। পুরো বছর জুড়ে সহজলভ্য এই ফলটি শুধু খেতেই সুমিষ্ট ও সুস্বাদু নয়, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও ত্বকের জন্যেও চমৎকার উপকারিতা বহন করে।

গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে জানা যায়, আঙুর থেকে পাওয়া যাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও। সেদিক থেকে আঙুরের রসকে বলা যেতে পারে আধুনিক সময়ের ডিটক্স ড্রিংক।

প্রায় ৬০০০ বছর আগে থেকেই আঙুর তার ঔষধি গুণাগুণের জন্য পরিচিত। এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হয় মিশরিয়দের। তারাই প্রথম আঙুর, আঙুরের রস, আঙুরের মদ ও তার গুণাগুণের সাথে পরিচিত করায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455706012.jpg

আঙুরের রসের উপকারিতাগুলো কী?

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান সমৃদ্ধ আঙুরের রস হাইপারটেনশন ও চেহারায় বয়সের ছাপ দেখা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্লথ করে দেয়। এমনতর আরও বহু উপকারিতা রয়েছে এই ফলের রসে, যার মাঝে প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

দূরে রাখে হৃদরোগ

শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে, আঙুরে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এছাড়া রয়েছে কোয়েরসেটিন, প্রোসায়ানাইডস, ট্যানিন ও স্যাপনিনসের মতো ফাইটোকেমিক্যালস। এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে থেরাপিউটিক প্রক্রায়ার মতো কাজ করে বলে জানাচ্ছে বেশ কিছু গবেষণা।

বিশেষ করে লাল আঙুর রক্তের ভালো কোলেস্টেরল (HDL) এর মাত্রা বৃদ্ধিতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) এর মাত্রা হ্রাস করতে কাজ করে। এতে করে খুব সহজেই হৃদযন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি হারানোর প্রক্রিয়া স্লথ করে

আঙুরের রসের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান নিউরনাল সিগন্যালে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে কাজ করে। নিয়মিত আঙুরের রস পানে ডিমেনশিয়ার সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাকে হ্রাস করে। রেসভারট্রল এর মতো অ্যাকতিভ পলিফেনল মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং নতুন তথ্য শেখা, মুড ভালো করা ও স্মৃতিশক্তিকে প্রখর করায় সাহায্য করে।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হলো ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার অন্যতম বড় একটি কারণ। পরিমিত মাত্রায় আঙুরের রস পানে ইনস্যুলিন রেসিস্ট্যান্সের মাত্রা হ্রাস করে। এতে থাকা ফ্ল্যাভনোলস, রেসভেরাট্রল ও ফেনলিক অ্যাসিড হলো প্রধান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455724535.JPG

এতে রয়েছে অ্যান্টি-ক্যানসার উপাদান

লাল আঙুরের রস ডিএনএর ক্ষতির মাত্রা কমাতে কাজ করে, যা থেকে ক্যানসার দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোরিয়াতে হওয়া একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে, নিয়মিত লাল আঙুরের রস মানে ডিএনএর অক্সিডেটিভ ড্যামেজের মাত্রা কমে যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

শুধু তাই নয়,  আঙুরের ফাইটোকেমিক্যালস কোলন ক্যানসারের কোষ ধ্বংসে কাজ করে। কেমোথেরাপি চলাকালীন সময়ে ফ্ল্যাভনয়েড সমৃদ্ধ আঙুরের রস কেমোর সাইড ইফেক্ট তথা- বমিভাব, মাথাঘোরানো কমাতে সাহায্য করে।

সুস্থ রাখে পাকস্থলী

প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে আঙুরের রস যোগ করার ফলে পাকস্থলীর মাইক্রোবিয়াল পরিবেশ পরিবর্তন করে দেয়। আঙুরের রসের পলিফেলনস প্যাথোযেনস, অক্সিডেন্টিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ থেকে পাকস্থলিকে রক্ষা করে। এছাড়া এতে থাকা আঁশ খাদ্য পরিপাকে সহায়ক।

আরও পড়ুন: মৌসুমি ফল জামের সাত উপকারিতা

আরও পড়ুন: আট উপকারিতার আতা ফল

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র