Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ডার্ক সার্কেলের সমস্যাকে দূরে রাখুন

ডার্ক সার্কেলের সমস্যাকে দূরে রাখুন
নিয়ম মেনে চললেই প্রতিরোধ করা সম্ভব ডার্ক সার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

চোখের নিচের অংশে কালচে ছোপ দেখা দেওয়া খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। যাকে বলা হয় ডার্ক সার্কেল। একটা বয়সের পর প্রায় প্রতিটি নারী-পুরুষের চোখের নিচেই ডার্ক সার্কেলের সমস্যা দেখা দেয়। অনিয়ম, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব সহ নানান কারণেই ডার্ক সার্কেল দেখা দেয়। তবে শুধু এই দুইটি কারণেই বিব্রতকর এই সমস্যা দেখা দেয় না, এর সাথে থাকে আরো বেশ কয়েকটি কারণ।

ডার্ক সার্কেল দেখা দেওয়ার কারণ

১. রোদের আলোতে বেশি সময় থাকার ফলে শুধু সানবার্ণ নয়, ডার্ক সার্কেলের সমস্যাও তৈরি হয়। রোদের আলোর এক্সপোজারের ফলে ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। চোখের নিচের অংশের ত্বক তুলনামূলক নমনীয় হওয়ায় সেখানে মেলানিন তৈরির হার থাকে বেশি। ফলাফলে দেখা দেয় ডার্ক সার্কেলের সমস্যা।

২. অকারণে চোখ চুলকানোর কিংবা কচলানোর অভ্যাস থাকে অনেকের। এর ফলে চোখের নিচের অংশের চামড়ায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। যা থেকে ধীরে ধীরে ডার্ক সার্কেল তৈরি হয়।

৩. অ্যালার্জি ও একজিমার সমস্যার ফলে ত্বকে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এই প্রদাহ থেকে দেখা দেয় ডার্ক সার্কেল।

৪. বয়সের সাথে সাথে ত্বকে ফ্যাট ও কোলাজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতেও দেখা দেয় ডার্ক সার্কেলের সমস্যা।

৫. অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপানও ডার্ক সার্কেল তৈরির জন্য দায়ী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/03/1535970134423.jpg

ডার্ক সার্কেল প্রতিরোধের উপায়

ডার্ক সার্কেল অবশ্যই অবশ্যই প্রতিরোধ যোগ্য। এর জন্য খুব সহজ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। সাথে নিতে হবে নিজের যত্ন

১. পর্যাপ্ত ঘুম হলো সবচেয়ে বেশি জরুরি ডার্ক সার্কেল প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য। নিয়মিত আট ঘন্টার ঘুম শুধু শরীরের জন্য নয়, চোখের বিশ্রামের জন্যেও জরুরি। সারাদিনের কাজের চাপ ও স্ক্রিন টাইমের জন্য চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়ে। যে কারণে চোখ ও চোখের আশেপাশের অংশের উপর চাপ পড়ে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম এই ক্লান্তিভাব ও চাপ দূর করে।

২. খেয়াল করেছেন কি, অতিরিক্ত লবণযুক্ত কোন খাবার তথা ফাস্ট ফুড খাওয়ার পরের দিন সকালে চোখমুখে ফোলাভাব দেখা দেয়। কারণ হলো অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ। লবণে থাকে সোডিয়াম। যা চেহারার মাঝে ফোলাভাব তৈরি করে এবং ত্বক শুষ্ক ও অনমনীয় করে তোলে। ঠিক একইভাবে চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল তৈরি করে সোডিয়াম।

৩. রাতে অবশ্যই মেকআপ ভালোমতো তুলে এরপর ঘুমাতে হবে। মেকআপের কেমিক্যাল প্রভাব ত্বকের উপর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে। যা থেকেই দেখা দেয় ডার্ক সার্কেলের সমস্যা।

৪. যেহেতু অ্যালার্জির সমস্যা ডার্ক সার্কেলের সমস্যা তৈরি করে, তাই পরীক্ষা করে দেখতে হবে নিজের অ্যালার্জির সমস্যা আছে কিনা। যদি থাকে তবে চেষ্টা করতে হবে অ্যালার্জিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার।

৫. ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফর্নিয়ার ডার্মাটোলজি বিভাগের অ্যাসিস্টেন্ট ক্লিনিক্যাল প্রফেসর জেসিকা উ. জানান, ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধোয়ার ফলে ডার্ক সার্কেল কমে যায়। এমনকি ডার্ক সার্কেলের সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভবনাও কমে যায় তুলনামূলক অনেকটা।

এছাড়াও প্রতিদিন পর্যাপ্ত (৮-১০ গ্লাস) পানি পান, ফ্রেশ সবজী ও ফল খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। মনে রাখতে হবে- কনসিলারের সাহায্যে চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল সাময়িক সময়ের জন্য ঢেকে রাখা গেলেও, এই সমস্যাটি সম্পূর্ণভাবে দূর করার জন্য প্রয়োজন সঠিক নিয়ম ও খাদ্যাভাস।

আপনার মতামত লিখুন :

খালি পেটে কফি পান নয়

খালি পেটে কফি পান নয়
ছবি: সংগৃহীত

বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই, কফির সুঘ্রাণ ও সুস্বাদের সাথে দিনের শুরু হওয়া অনেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক যেন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, কোন খাবার না খেয়েই কফির পেয়ালায় চুমুক বসান। কিন্তু একদম খালি পেটে কফি পান করা কতটা উপকারী? খালি পেটে কফি পানে কি তার উপকারিতাগুলো শরীর পরিপূর্ণভাবে পায়?

উত্তরে বলতে হবে, না। একদম খালি পেটে নয়, কফি পান করতে হবে হালকা কোন খাবার খাওয়ার পরেই। একদম খালি পেটে কফি পানের ফলে শরীরে কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কর্টিসল শরীরের মেটাবলিজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563462138926.jpg

এখন প্রশ্ন হলো, কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কি সমস্যা হবে? এখানে উত্তরে বলতে হবে, হ্যাঁ। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খালি পেটে কফি পানের ফলে কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ তৈরি করে ও বাড়িয়ে দেয়।

এতে করে খুব দ্রুত মুড বদলে যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়া কফি পাকস্থলিস্থ অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। যা অ্যাসিডিক প্রভাব তৈরি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

নিজেকে চাঙা রাখতে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও কফির উপকারিতাগুলো পেতে চাইলে সকালে নাশতা সেরে অথবা হালকা কিছু খেয়ে তবেই কফি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক কফি পানে ওজন কমে?

আরও পড়ুন: কতটুকু কফি পান নিরাপদ?

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
পানি জমলেই জন্ম নেবে মশা, ছবি: সংগৃহীত

মায়ের শীতল হাতের ছোঁয়া আর মমতামাখা ভালোবাসার চাদর জড়িয়েও কমানো যাচ্ছে না তিন বছর বয়সী ঐশীর জ্বর। হাসপাতালের বারান্দায় স্থান হয়েছে ঐশীর, অথচ মা কখনো তাকে খালি পায়ে মেঝেতে নামতে দিত না। ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে আসছে ঐশীর চেহারা, মাঝে মাঝে বমি করছে। অস্থির মা বারবার ছুটে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। মেয়ের পাশে অসহায় পিতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, বেদনায় পাণ্ডুর মুখ কিন্তু কাঁদতে পারছে না মেয়ের কষ্ট দেখে।

অথচ মায়ের সচেতনতার কমতি ছিলো না কিছুতেই। জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলে তিনিও সচেতন হয়ে উঠেন। সকাল সন্ধ্যা স্প্রে এবং সন্তান ঘুমালে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া তার আহার্যের মত নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। কিন্তু সাধের বারান্দাতে বাহারি ফুল গাছের সম্ভার তৈরি করেছিলেন। সেখানেই জন্ম নেয় ঘাতক এডিস মশা।

সেক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অ্যারোসল স্প্রে বা মশার কয়েলের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে মশারি। দুপুরের ভাতঘুমে আলসেমি করে মশারি ব্যবহার করে না অনেকেই। এই প্রথার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সাথে সন্ধ্যায় হতেই বন্ধ করে দিতে হবে জানাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563457264592.jpg

শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। নিজের ঘর ও উঠান থেকে শুরু করতে হবে পরিচ্ছন্নতা। কোন স্থানে কিছুতেই জমতে দেওয়া যাবে না পানি। জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যাক্ত ড্রাম, ফেলে দেওয়া বোতল, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে এক বা দুই দিনের জমে যাওয়া পানিতে জন্ম নেয় মশার লার্ভা। আর এক সপ্তাহের ভেতর হয়ে উঠে ঘাতক।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এডিস মশাবাহী ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। ৯৩ জন মারা যায় সেবার। সকলে সচেতন হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।

কিন্তু গত বছর থেকে আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু জ্বর। সরকারি হিসাবমতে গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর মাঝে মারা যায় ২৬ জন।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর একটু ভিন্ন। শক্তিশালী স্টেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত তৃতীয় প্রজাতির এডিস মশা ছড়াচ্ছে। জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ৫ মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ইতোমধ্য সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার সহাস্রাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারা গিয়েছে তিন জন। বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুন বেশি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিগতবার থেকে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেমন বেশি তেমনি রয়েছে ভিন্নতা। আগে ডেঙ্গু জ্বর হলে মাথা ব্যথা, চোখের পেছন অংশে ব্যথা হত। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন, ধরতেও সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

তাই সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিস, লিভার, কিডনী ও রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হলে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্য রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। বেশি করে পানি ও তরলজাত খাবার দিতে হবে রোগীকে।

এছাড়া এসপেরিন বা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেতে হবে। পান করতে হবে ডাবের পানি ও স্যালাইন।

সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন কিছু নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র