Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

টকদই কেন খাবেন নিয়মিত?

টকদই কেন খাবেন নিয়মিত?
সুস্বাস্থ্যের জন্য টকদই খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

ছোটবেলায় দেখতাম মা-ফুফুরা বিভিন্ন ধরণের মাসিক পত্রিকা পড়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকতেন। মাসের শুরুতে নতুন পত্রিকা হাতে আসা মানেই আগামী কয়েকদিনের জন্য বিবিধ বিষয়ে পড়ার খোরাক। মা ও ফুফুর আগ্রহের ছিটেফোঁটা নিজের মাঝেও চলে আসতো স্বাভাবিক ভাবেই। যে কারণে ছোট থাকতেই পত্রিকা নাড়াচাড়ার অভ্যাসটা গড়ে উঠেছিল। সেই সময়ে দেখতাম বিভিন্ন নামজাদা মডেলদের খাদ্যাভাসের বিবরণ তুলে ধরা হতো বিশদভাবে। খেয়াল করে দেখতাম, প্রায় সবারই প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে টকদই থাকত। ছোট এক বাটি টকদই থাকা পানি পানের মতোই বাঞ্ছনীয় যেন!

তখনও টকদই খাওয়ার প্রচলন খুব একটা দেখা যেত না। একইসাথে জানা ছিল না টকদই খাওয়া কতোটা গুরুত্বপূর্ণ! সময়ের সাথে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ জানতে পারলেন নিয়মিত টকদই খাওয়ার অভূতপূর্ব স্বাস্থ্য উপকারিতা। যার ফলে এখন নিয়মিত টকদই খাওয়ার চেষ্টা করেন অনেকেই।

তবে ব্যতিক্রম আছে এখানেও। টকদই খেতে পছন্দ করেন না বিধায় অনেকেই এড়িয়ে যান স্বাস্থ্যকর এই খাবারটি। দারুন এই খাবারটির দুর্দান্ত স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো জানা থাকলে নিশ্চিতভাবে তারাও উদ্যত হবেন টকদই খাওয়ার জন্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/02/1535877653769.jpg

পাকস্থলীর স্বাস্থ্য ভালো রাখে

যেহেতু ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে দুধ থেকে টকদই তৈরি করা হয়, এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ল্যাকটোব্যাসিলি (Lactobacilli) ব্যাকটেরিয়া। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলীর জন্য উপকারী। এমনকি এই ব্যাকটেরিয়াকে প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াও বলা হয়। কারণ ল্যাকটোব্যাসিলি পাকস্থলিস্থ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে সরিয়ে দেয়। যার ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমে যায় এবং শরীরে ভিটামিন-কে তৈরি হয়।   

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

ভিটামিন-কে তৈরির পাশাপাশি ল্যাকটোব্যাসিলি মানবদেহে বি ও টি লিম্ফোসাইটসের পরিমাণ বৃদ্ধিতে কাজ করে। এই লিম্ফোসাইটস শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

ত্বক সুস্থ ও সুন্দর রাখে

বিভিন্ন ধরণের ফল ও সবজী সাথে এখন থেকে টকদই রাখুন। নিয়মিত টকদই খাওয়া হলো সবচেয়ে সহজ ও দ্রুত উপায়, যা ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। কেন টকদই ত্বকের জন্য উপকারী? কারণ টকদইতে থাকে ভিটামিন-ই, জিংক, ফসফরাস ও অন্যান্য মাইক্রো-মিনারেলস। যা ত্বকে ব্রণের প্রাদুর্ভাব ও বলীরেখা দেখা দেওয়ার প্রক্রিয়া শ্লথ করে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।

হৃদরোগ প্রতিরোধ করে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/02/1535877609184.jpg

নিয়মিত টকদই খাওয়ার ফলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। ফলে আর্টারিতে ব্লক হতে পারে না। একইসাথে উচ্চরক্ত চাপ ও হাইপারটেনশন কমায় টকদই। যে কারণে হৃদযন্ত্র দীর্ঘদিন পর্যন্ত সুস্থ থাকে।

সারাদিনের পুষ্টি যোগান

ভিটামিন-কে, ই এর পাশাপাশি টকদইতে আরো থাকে ভিটামিন-বি১২, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিংক। যার ফলে দিনের শুরুতে এক বাটি টকদই খাওয়ার ফলে শরীর তার প্রয়োজনীয় মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট তথা পুষ্টি পেয়ে যায়।

ওজন কমায় টকদই

টকদই রক্তের কর্টিসলের মাত্রা কমায়। এই কর্টিসল হলো এক প্রকারের হরমোন, যা তলপেট ও হৃদযন্ত্রে ফ্যাট জমায়। এছাড়া নিয়মিত টকদই খাওয়ার ফলে জাংক ফুড খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায় অনেকখানি। যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

দাঁত ও হাড় ভালো রাখে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/02/1535877631059.jpg

আগেই বলা হয়েছে টকদইতে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস। এই দুইটি মিনারেল দাঁত ও হাড়ের সুস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম জরুরি উপাদান। জাপানের একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে প্রতিদন পরিমাণ মতো টকদই খাওয়ার ফলে অংশগ্রহনকারীদের দাঁত ও দাঁতের মাড়ির স্বাস্থ্য পূর্বের তুলনায় অনেকটা ভালো হয়েছে। এমনটা হবার কারণ, টকদই খাওয়ার ফলে মুখের ভেতর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না। যা দাঁতকে সুস্থ রাখে।

যে খাদ্য উপাদানটিতে এতো উপকার একসাথে পাওয়া যায়, সেই খাদ্যকে এড়িয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয় একেবারেই। তাই নিয়মিত টকদই খাওয়ার অভ্যাস করুন ও সুস্থ থাকুন।

আপনার মতামত লিখুন :

ঘরে তৈরি গরম ও মুচমুচে জিলাপি

ঘরে তৈরি গরম ও মুচমুচে জিলাপি
জিলাপি, ছবি: সংগৃহীত

পছন্দের ও পুরনো ঘরানার মিষ্টান্নের মাঝে প্রথমেই মাথায় আসবে জিলাপির কথা।

রসে টইটম্বুর, গরম ও মুচমুচে জিলাপির তুলনা হয় না। অনেকে মিষ্টি ঘরানার খাবার মাঝে শুধু জিলাপি খেতেই পছন্দ করেন।

কিন্তু মনমতো জিলাপি খুঁজে পাওয়াও বেশ ঝক্কির কাজ। খোঁজাখুঁজি বাদ দিয়ে ঘরেই কিন্তু তৈরি করে নেওয়া যাবে গরম গরম জিলাপি। একদম পারফেক্ট ও সুস্বাদু জিলাপি তৈরির জন্য দেখে নিন আজকের রেসিপিটি।

জিলাপি তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561554595535.JPG

১. এক কাপ ময়দা।

২. দেড় টেবিল চামচ কর্ন ফ্লাওয়ার।

৩. দেড় টেবিল চামচ ময়দা।

৪. দুই টেবিল চামচ ঘি।

৫. এক চিমটি লবণ।

৬. এক চা চামচ চিনি।

৭. এক চা চামচ ইস্ট।

৮. এক কাপ পরিমাণ গরম পানি।

৯. কমলা ফুড কালার (ঐচ্ছিক)

চিনির সিরা তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561554614844.JPG

১. দেড় কাপ চিনি।

২. এক কাপ পানি।

৩. তিনটি লবঙ্গ।

৪. দুইটি এলাচ গুঁড়া।

৫. এক চিমটি পরিমাণ জাফরান (ঐচ্ছিক)

জিলাপি যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561554627238.JPG

১. আধা কাপ পরিমাণ গরম পানিতে চিনি ও ইস্ট মিশিয়ে ঢেকে রেখে দিতে হবে।

২. বড় একটি পাত্রে ময়দা, বেসন ও লবণ একসাথে মেশাতে হবে। এতে ঘি মিশিয়ে পুনরায় মেশাতে হবে। এতে ইস্ট মিশ্রিত পানি মিশিয়ে হুইস্ক করতে হবে। এতে গরম পানি মিশিয়ে প্যানকেকের মতো স্মুদ ব্যাটার তৈরি করতে হবে। এতে যদি ফুড কালার যোগ করতে চান তবে এক-দুই ফোঁটা ফুড কালার দিয়ে মিশিয়ে তুলনামূলক উষ্ণ স্থানে গাঁজনের জন্য ২-৩ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, এই সময়টুকুর মাঝে পাত্রটি একেবারেই নাড়াচাড়া করা যাবে না।

৩. ব্যাটারে গাঁজন হয়ে গেলে চিনির সিরা তৈরি করতে হবে। একটি সসপ্যানে চিনি, পানি, লবঙ্গ, এলাচ গুঁড়া ও জাফরান একসাথে মিশিয়ে মাঝারি তাপে ৭-১০ মিনিট জ্বাল দিতে হবে। চিনির সিরা খুব বেশি ঘন ও স্টিকি হবে না।

৪. এবারে জিলাপি ভাজার পালা। সমান্তরাল ফ্রাইং প্যানে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল নিয়ে গরম করে তেলের তাপমাত্রা মাঝারি আঁচে রাখতে হবে। জিপলক ব্যাগে জিলাপির ব্যাটার নিয়ে ব্যাগের এক কোনার অংশ অল্প একটু কেটে নিতে হবে।

৫. তেল সঠিক মাত্রায় গরম হয়ে গেলে তেলের উপরে জিপলক ব্যাগ ধরে ধীরে ধীরে ব্যাগ চাপ দিয়ে ব্যাটার তেলে ছাড়তে হবে। ব্যাটার তেলে ছাড়ার সময় জিপালির মতো গোলাকৃতির প্যাঁচ তৈরি করতে হবে।

৬. প্রতিটি জিলাপি ভাজা হতে বড়জোর ৫-৬ মিনিট সময় লাগবে। জিপালি উজ্জ্বল বাদামী বর্ণ ধারণ করলে তেল থেকে তুলে সরাসরি চিনির সিরাতে দিয়ে দিতে হবে।

চিনির সিরায় মিনিট দুয়েক ভিজিয়ে উঠিয়ে নিয়ে গরম গরম পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: মিষ্টি মুখে আমের রসগোল্লা

আরও পড়ুন: দশ মিনিটে বাদামের স্বাদে কুলফি মালাই

বাস্তবেই রয়েছে কল্পনার ‘জর্স’

বাস্তবেই রয়েছে কল্পনার ‘জর্স’
জর্স, ছবি: ক্যারিনা মেইওয়াল্ড

ছোটবেলায় কল্পনার জগতে ঘোড়া ও জেব্রার মিশেলে হাইব্রিড ও কাল্পনিক এক প্রাণীর কথা ভেবে আনন্দ পেতাম আমরা অনেকেই।

ইউনিকর্নের মতোই এমন ধরণের প্রাণী শুধু কল্পনার জগতেই বন্দী থাকবে, এমন ধারণা বদ্ধমূল হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছে ঘোড়া ও জেব্রার হাইব্রিডে জন্ম নেওয়া, অবাক করে দেওয়ার মতো প্রাণী ‘জর্স’। জেব্রা ও হর্স এর মিশেলে রাখা হয়েছে এই প্রাণীটির নাম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561546232830.jpg

জার্মানির ঘোড়া বিষয়ক ফটোগ্রাফার ক্যারিনা মেইওয়াল্ডের ক্যামেরায় ধরা পরে জর্সের উপস্থিতি। তার তোলা ছবিগুলো প্রকাশিত হওয়ার পর পুরো ইন্টারনেট জগত অবাক ও বিস্মিত হয়ে পড়েছে।

জেব্রা স্ট্যালিওন ও হর্স মের এর মাঝে হাইব্রিড তথা শংকরের ফলে জন্ম নেয় ছবির জর্স, যার নাম জুরি। প্রায় ছয় বছরের বেশি সময় ধরে ঘোড়াদের ছবি তোলার কাজে সময় ব্যয় করা ক্যারিনা জানান, দেড় বছর বয়সী জুরির ছবি তুলতে গিয়ে সে বুঝতে পেরেছেন- ঘোড়াদের চাইতে স্বভাবে ও আচরণে অনেকটা ভিন্ন হয়ে থাকে জর্স।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561546264018.jpg

নতুন এই প্রাণীটির মধ্যে বন্য প্রাণীর সহজাত স্বভাব প্রকট আকারে দেখা যায়। যে কারণে শক্তিশালী এই প্রাণীটির ছবি তলার জন্য ক্যারিনাকে নতুন পদ্ধতি বের করতে হয়েছিল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561546289760.jpg

যেখানে ঘোড়া বেশ হালকা চালে থাকার মতো প্রাণী, সেখানে জর্স যেন লড়াই করার জন্য সদা প্রস্তুত। ঘোড়াদের মাঝে আগ্রহভাব কাজ করে। এদিকে জর্স ঠিক তার উল্টো। তারা খুব সহজেই বিরক্ত হয়ে যায়। মূলত এ কারণেই জর্সদের ছবি তোলার বিষয়টি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল।

আফ্রিকার দুর্গম স্থানগুলোতে ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে জিনিসপত্র আনা নেওয়ার কাজের জন্যেই জর্স ব্রিড করা হয়। শক্তিশালী, হালকা খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত ও প্রবল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ঘোড়া ও জেব্রার মিশেল জন্ম নেওয়া জর্স চমৎকার একটি প্রাণী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561546301758.jpg

ক্যারিনা জানান, আফ্রিকার বাইরে খুব সীমিত কিছু অঞ্চলে জর্সের দেখা পেয়েছেন তিনি। তবে এই ব্রিড খুবই দুর্লভ হওয়ায় এদের দেখা সচরাচর পাওয়াই যায় না।

আরও পড়ুন: কল্পনা নয়, বাস্তবেই মিলবে যে সকল প্রাণীর খোঁজ!

আরও পড়ুন: যে পাখিগুলো কাগজে তৈরি!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র