Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সংসদ নির্বাচন করবেন আইসিটি প্রসিকিউটর বাদল

সংসদ নির্বাচন করবেন আইসিটি প্রসিকিউটর বাদল
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর প্রসিকিউটর, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান বাদল নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের প্রেস্টিজ আসন নামে পরিচিত কিশোরগঞ্জ-২ নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়নে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বার্তা২৪.কমকে জানায়, দলীয় নির্দেশে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা পূরণের জন্য তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন।

যোগাযোগ করা হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর অন্যতম প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জেয়াদ আল মালুম বার্তা২৪.কমকে বলেন, 'তিনি যুদ্ধাপরাধী বিচারের অন্যতম প্রধান আইনী সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের একজন সাহসী ও পরীক্ষিত কান্ডারি। আমরা আশা করি, তার মতো একজন আদর্শিক নেতার সরকার ও সংসদে থাকা উচিত। তাহলে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে পরিচালিত যুদ্ধাপরাধ, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, কালো টাকা ও মাদক বিরোধী তৎপরতা আরও বেগবান হবে।'

উল্লেখ্য, আইসিটি-এর প্রসিকিউটর, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান বাদল যুদ্ধাপরাধের স্পর্শকাতর মামলাগুলোতে সরকার পক্ষের কৌশলী ছিলেন। তিনি কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, নিজামী, মুজাহিদের মামলার আইনজীবী টিমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

আওয়ামী আইনজীবীদের বিভিন্ন ফোরামের নেতৃত্বে আসীন অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান বাদল পঁচাত্তর-পরবর্তী দুঃসময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, 'স্বাধীনতার পর থেকেই আমার নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-হোসেনপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে অংশ নিয়েছি। এখন স্থানীয় আওয়ামী লীগে আমার চেয়ে সিনিয়র আর কোনও নেতা না থাকায় আমি নিজেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।'

বার্তা২৪.কমকে অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান বাদল আরও বলেন, 'আমার রাজনৈতিক জীবন ও আদর্শ সব সময়ই স্পষ্ট। কঠিন সময়ে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জীবন বাজি রেখে কাজ করছি। হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীদের কবল থেকে দলকে রক্ষা করে দলনেত্রী পরিচালিত যুদ্ধাপরাধ, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, কালো টাকা ও মাদক বিরোধী সংগ্রামকে সফল করতে চাই।'

জানা গেছে, কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-২ নির্বাচনী আসনটি আওয়ামী লীগের কাছে বরাবরই প্রেস্টিজ ইস্যু। কারণ এ আসনে অতীতে আওয়ামী লীগের হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এক সময়ের মন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতা আসাদুজ্জামান খান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক গোলাপ মিয়া। আসনটি আওয়ামী লীগের জন্য প্রেস্টিজ ইস্যু আরও একটি কারণে যে, একদা কটিয়াদী থেকে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর এবং পরবর্তীতে সিনিয়র নেতা অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান খান চুন্নু মিয়া নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী মিলে একটি আসন হলেও উভয় উপজেলার আওয়ামী লীগ আসনটি দখলে রাখাকে ঐতিহ্য ও প্রেস্টিজ ইস্যু বলে মনে করে।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন জাতীয় পার্টি থেকে দলে এসেছেন। তাছাড়া পুলিশের সাবেক আইজি নূর মোহাম্মদও এ আসনে নির্বাচন করার ইচ্ছায় কাজ করছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বার্তা২৪.কমকে জানায়, 'আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর প্রসিকিউটর, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান বাদল নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছে। ভোটের ময়দানেও তৈরি হয়েছে আলোড়ন।

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদ শুধু ভাই না, আমার পিতা ও শিক্ষক ছিলেন

এরশাদ শুধু ভাই না, আমার পিতা ও শিক্ষক ছিলেন
গুলশান আজাদ মসজিদে প্রয়াত এরশাদের কুলখানি/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শুধু আমার বড় ভাই ছিলেন না। উনি আমার পিতা উনি আমার শিক্ষক ছিলেন। ওনার কোলে চড়ে সিনেমা দেখেছি, হাতে ধরে চামুচ দিয়ে খাওয়ায় এবং কিভাবে টাই বাঁধতে হয় শিখিয়ে দিয়েছেন।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেলে গুলশান আজাদ মসজিদে প্রয়াত এরশাদের কুলখানিতে কাতর কণ্ঠে  তিনি এমন মন্তব্য করেন।

জিএম কাদের বলেন, আমি যখন রাজনীতিতে আসি তখন কিভাবে পরিবেশ ট্যাকেল দিতে হয়, সংকট মোকাবেলা করতে হয় শিখিয়েছেন। আমাদের মাথার উপর ছাতাটি সরে গেছে, বট গাছটি আর নেই। আপনারা ওনার জন্য দোয়া করবেন।

কাদের বলেন, আজকে খেলার যে অর্জন তার বীজবপন করেছেন উনি বিকেএসপি প্রতিষ্ঠা করে। আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই ওনার বীজটাকে লালন করার জন্য। আওয়ামী লীগ গ্রামকে শহর করার কথা বলছে এর গোড়াপত্তন করেছেন এরশাদ উপজেলা প্রতিষ্ঠা করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563368275716.jpg

তিনি বলেন, একটি মানুষের অবদান অর্জন বুঝা যায় তার মৃত্যূর পর জানাজায় লোক সমাগম দেখে। ওনার চারটি জানাজা হয়েছে কোনটিতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। একটির চেয়ে আরেকটি সমাগম বেশি হয়েছে। এতে বুঝা যায় ওনার নীতি কর্ম মানুষ গ্রহণ করেছিলেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, আমার ভাই যখন হাসপাতালে তখন প্রতি ঘণ্টায় খোঁজ খবর নিয়েছেন। সম্মিলিত সমারিক হাসপাতালের ডাক্তাররা রাতদিন কাবার করে কাজ করেছে। ওনারা নিজের বাবার মতো করে সেবা করেছেন।

কুলখানিতে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ. নাসিম, সালমান এফ রহমান, নুরে আলম সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ এবং প্রয়াত এরশাদের দুই পুত্র এরিক এরশাদ, সা'দ এরশাদ।

জাতীয় পার্টির নেতাদের মধ্যে ছিলেন, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুহুল আমিন হাওলাদার, মসিউর রহমান রাঙ্গা, কাজী ফিরোজ রশিদ, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, আবু হোসেন বাবলা প্রমুখ।

১/১১ -এর ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি

১/১১ -এর ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

২০০৭ সালে ১/১১ ঘটনার মাধ্যমে যারা দেশে সেনাসমর্থিত অগণতান্ত্রিক সরকার আনতে বাধ্য করেছিল, সেই ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা।

দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে বুধবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে স্বপ্ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সিনিয়র কয়েকজন নেতা এ দাবি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ’১/১১ -এর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে অন্যায়ভাবে তাকে জেলে পাঠানো হয়ে হয়েছিল। যারা এ ষড়যন্ত্রে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিৎ।’

আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দেশের বাইরে এখনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এসব ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না। দেশের মানুষ শেখ হাসিনার সরকারের সাথে আছে। দেশের মানুষের সমর্থন আছে বলেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো দেশ পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ।

২০০৭ সালে সালে মাইনাস টু নয়, মাইনাস ওয়ান ষড়যন্ত্র হয়েছিল দাবি করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, কেবল শেখ হাসিনাকে দেশর জনগণ ও রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে ৭১-এর শত্রু ও তাদের মিত্ররা এ ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছিল।

তিনি দাবি করেন, জনগণ উদগ্রীব ছিল বলে জনদাবির মুখে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন সেনা সর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে হানিফ বলেন, তিনি কেবল আইনি প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুবাদে মুক্তি পেতে পারেন। আন্দোলন করে লাভ হবে না।

সভায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ২০০৭ ও ২০০৮ সালে সংস্কারের নামে অওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতা সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সহযোগিতা করে দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে নির্লজ্জভাবে সরাতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য দলের অনেক সিনিয়র আইনজীবীও কোনো প্রচেষ্টা চালাননি। সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ জুনিয়র বেশ কিছু আইনজীবী নিয়ে অইনি লড়াই চালিয়ে যান।

সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, দেশের জনগণ চেয়েছিল বলেই ১/১১ -এর সেনাসমর্থিত সরকার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন রুহুল, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সেনাসর্থিত তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র