Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

মেয়র আ জ ম নাছির বললেন মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মনে পড়ে

মেয়র আ জ ম নাছির বললেন মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মনে পড়ে
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম: ছয় মাস আগে গত বছরের ডিসেম্বরে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন চট্টগ্রামের আওয়ামী রাজনীতির কিংবদন্তি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। রাজনীতির মাঠে, সামাজিকতায়, আপ্যায়নে, সংগঠনকে সংগঠিত করা ও মানুষকে কাছে টানা একই সঙ্গে ভালোবাসবার এক অসাধারণ আর বিরল মনের অধিকারী ছিলেন তিনি।

মহিউদ্দিনের অনুসারীই হয়ে রাজনীতি শুরু করেছিলেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। নেতায় নেতায় বিভাজনের রাজনীতিতে অনেক ঘটনা প্রবাহের পর নাছির চলে গেলেন প্রয়াত শিল্পপতি ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর কাছে। কয়েকবছর পর সেখানেও টানাপড়েন। নাটকীয়ভাবেই আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আ জ ম নাছিরকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করলেন। মেয়র মনোনয়ন দেওয়ার পর নাছির এখন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রও।

১৭ বছর  টানা মেয়র ছিলেন এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। বয়স ও বার্ধক্য এ বিবেচনায় মনোনয়ন পাননি তিনি। পেয়েছেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। জীবদ্দশায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের গৃহকর নিয়ে প্রথম প্রতিবাদ করেন দলীয় মেয়রের বিরুদ্ধে মহিউদ্দিন চৌধুরী। তখন মেয়র হলেন আ জ ম নাছির।

তাঁর সেই প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত গৃহকর বাড়ানোর উদ্যোগ থেকে সরে আসে করপোরেশন। মহিউদ্দিন চৌধুরী মারা যাওয়ার ছয় বছর আগে দেশের শীর্ষ স্থানীয় ও মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এক প্রভাবশালী শিল্পপতি বলেছিলেন,  চৌধুরী না থাকলে চট্টগ্রাম আসলে অভিভাবকহীন হয়ে পড়বে।’

মহিউদ্দিন চৌধুরীকে এখনও মনে রেখেছে চট্টগ্রামবাসী। অন্যদের মতো তাঁর (মহিউদ্দিন চৌধুরী) কথা মনে পড়ে মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনেরও। সে কথাই বার্তা২৪ এর সঙ্গে ছোট এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে গত বুধবার রাতে বলেছেন আ জ ম নাছির উদ্দীন।

প্রশ্ন : মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মনে পড়ে আপনার?

আ জ ম নাছির : মনে পড়বে না কেন, খুব মনে পড়ে। কত স্মৃতি, কত কথা। সুসময়-দুঃসময় পার করেছি। তিক্ততাও ছিল। অস্বীকার করারও উপায় নেই যে তিনি আওয়ামী রাজনীতির একজন বটগাছ ছিলেন। বিন্দু থেকে নিজেকে সিন্দুতে পরিণত করেছেন।

প্রশ্ন : জীবদ্দশায় আপনার সঙ্গে তো দূরত্ব ছিল, ছিল বিরোধও?

আ জ ম নাছির : এ বিরোধ স্বার্থ নিয়ে নয়। মতভিন্নতা ছিল বিভিন্ন সাংগঠনিক ইস্যুতে। হয়তো আমাদের মধ্যে ইনফরমেশন গ্যাপ ছিল। দুজনের শুভাকাক্সক্ষীরাই এ বিরোধ তৈরি করেছে হয়তো নিজেদের স্বার্থের জন্য অথবা নেতার প্রিয়ভাজন হওয়ার জন্য। আমিতো শেষ দিন পর্যন্ত একই সঙ্গে রাজনীতি করেছি, কর্মসূচি পালন করেছি।

প্রশ্ন : মহিউদ্দিনের কোন গুণ আপনাকে আকৃষ্ট করে, প্রেরণা জোগায়?

আ জ ম নাছির : মানুষকে কাছে টানার এক অদ্ভুত গুণ ছিল তাঁর। বকা দিয়েছেন ঠিকই আবার পরক্ষণে কাছে টেনে নিয়েছেন নেতাকর্মীদের। বকা যে দিয়েছেন সেটি শতভাগ যৌক্তিক ছিল-এটা বোঝা যেত অনেক পরে। এতটাই বিরল গুণের অধিকারী ছিলেন মহিউদ্দিন ভাই। আর দলকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতাও ছিল অপরিসীম।

প্রশ্ন : মহিউদ্দিন চৌধুরী মানুষকে খুব খাওয়াতে পছন্দ করতেন। ইদানিং আপনার ভেতরেও এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে?

আ জ ম নাছির : চট্টগ্রামবাসী অতিথিপরায়ণ। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও রেওয়াজ। মহিউদ্দিন চৌধুরী এক সঙ্গে রীতি ও রেওয়াজকে যেমন গুরুত্ব দিয়েছেন তেমনি আপ্যায়নের এ কৌশলও অবলম্বন করেছেন। এক বেলা ভাত খাইয়ে একজন মানুষের মন সহজেই জয় করে ফেলা যায়। হয়তো টাকা দিয়েও সেটি আপনি পারবেন না। তিনি আজীবন দল আর মানুষের জন্য নিবেদিত ছিলেন। এটা কেউ স্বীকার করুক আর নাই করুক তাতে কিছু যাবে আসবে না।

প্রশ্ন : তার মানে মহিউদ্দিনের পথেই আপনি এগুতে চান?

আ জ ম নাছির : শোনেন, আওয়ামী লীগ একটি মাল্টিক্লাস পলিটিক্যাল পার্টি। অনেক মত-পথের মানুষ নিয়ে আমাদের চলতে হয়। চট্টগ্রামে দলকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে মহিউদ্দিন চৌধুরী যা করেছেন যা দেখিয়ে গেছেন সেটিইতো আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমি চেষ্টা করছি আমার সামর্থ্যের মধ্যে মানুষকে আপ্যায়ন করবার। চট্টগ্রামে আওয়ামী রাজনীতির মহীরূহ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। দলের ভালো চাইলে তাঁর পথ অনুসরণ করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

অ্যাড. মনিরের বহিষ্কারাদেশ তুলে নিল বিএনপি

অ্যাড. মনিরের বহিষ্কারাদেশ তুলে নিল বিএনপি
অ্যাড. মনির হোসেন/ ছবি: সংগৃহীত

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সহ-সভাপতি অ্যাড. মনির হোসেনের বহিষ্কারাদেশ তুলে নিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের চিঠির অনুলিপি হাতে পেলেও গত ১১ জুলাই বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী এতে স্বাক্ষর করেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দলের গঠনতন্ত্রের ৫ (গ) ধারা মোতাবেক মনির হোসেনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। মহাসচিবের নির্দেশক্রমে এ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলো।’

প্রসঙ্গত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির গত ১৩ ও ১৪ মার্চের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের বাইরে স্বতন্ত্র সম্পাদক প্রার্থী হন অ্যাড. মনির হোসেন। দলের সমর্থিত প্যানেলের বাইরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় গত ১২ মার্চ আইনজীবী মনির হোসেনকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

গৌরীপুরে ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলের দাবিতে একাংশের অবস্থান

গৌরীপুরে ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলের দাবিতে একাংশের অবস্থান
গৌরিপুর ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির অবস্থান, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা ও পৌরশাখা ছাত্রলীগের নতুন দুটি কমিটি বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সদ্য সাবেক হওয়া কমিটির নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকালে পৌর শহরের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলক বিজয় একাত্তর প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সদ্য সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জিল্লুর রহমান।

এর আগে দুপুরে উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলের দাবিতে গৌরীপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি ওয়াসিকুল ইসলাম রবিনের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগের একাংশ।

উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, 'গঠনতন্ত্র অমান্য করে বয়স্ক, বিবাহিত, ইউনিয়নের বাসিন্দাকে পৌর কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি ও হত্যা মামলার আসামি দিয়ে ছাত্রলীগের উপজেলা ও পৌর শাখার দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছি। অচিরেই কমিটি বাতিল না হলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব আমরা।'

উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি আল মুক্তাদির বলেন, 'নতুন কমিটি ঘোষণার পর দলের ৯০ ভাগ নেতাকর্মী আমাদের সাধুবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। অথচ সাবেক কমিটির একটি পক্ষ ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে কমিটি নিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা চালাচ্ছে।'

প্রসঙ্গত, গত ৯ জুলাই গৌরীপুর উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে আল মুক্তাদির ও সাধারণ সম্পাদক পদে ইমতিয়াজ সুলতান জনি, পৌরশাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে আল হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক পদে মোফাজ্জল হোসেন মনোনীত করে কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র